Wednesday, December 31, 2025

২০২৫য়ের পড়াশোনা


অদরকারে বই পড়তে পারাটা একটা প্রকাণ্ড প্রিভিলেজ। সে প্রিভিলেজ আমার আছে। এমন কী শখের ধাক্কায় বই কিনে সে'গুলো না পড়ে ফেলে রাখতে পারি। তাছাড়া কেনা বই দু'দশ পাতা পড়ে 'তেমন জমছে না' বলে সরিয়েও রাখতে পারি। এ প্রিভিলেজটা ছিল বলে এ যাত্রা বেঁচে গেলাম। মনখারাপে বই পড়তে পারি, অস্বস্তি কাটাতে বই পড়তে পারি। একলা লম্বা জার্নি করতে দুশ্চিন্তা হয় না। রোজ ঘণ্টাখানেকের অফিস যাতায়াতে বিরক্ত হতে হয় না। ভালো বইয়ের দোকান দেখলে হুট করে ঢুকে পড়তে পারি। সবচেয়ে বড় কথা বই উপহার দিতে পারি। এক একটা বই পড়ে সে ব্যাপারে বিশদে লিখতে এক সময় বড় ভালো লাগতো। সে ভালো লাগা একান্তই নিজস্ব, একটা বইয়ের ব্যাপারে অন্যের কাঁচা মতামত মানুষের তেমন কোন কাজে হয়তো লাগে না। ক্রমশ লেখার চেয়ে আলস্যটা প্রাধান্য পেয়েছে বেশি; এটা খুব ভালো ব্যাপার কারণ বইয়ের রিভিউ লেখার থেকে নতুন বই ধরা বেশি উপকারী। তবু, প্রিয় বইয়ের ফর্দ শেয়ার করা একটা বেশ জমজমাটা কাজ। এই হয়তো কেউ বলে উঠলো "আরে ওই বইটা আমারও দারুণ লেগেছে" - ব্যাস, তাই নিয়ে তার সঙ্গে দু'টো গপ্প ফেঁদে নেওয়া যাবে। তাছাড়া এই লিস্ট করা ব্যাপারটা খানিকটা ইগো-বর্ধক ব্যাপারও বটে। তবে লিস্ট সাজানোটাও বেশ কষ্টসাধ্য ব্যাপার। তাই ফর্দে না গিয়ে বরং ২০২৫য়ের পড়াশোনা-বিষয়ক 'হাইলাইট'গুলো লিখে রাখি। অগোছালোভাবে পড়া বইগুলো নতুন ভাবে সাজিয়ে-গুছিয়ে পড়ার মধ্যে একটা ছেলেমানুষি আনন্দ আছে। সে আনন্দ তারিয়ে তারিয়ে উপভোগ করলাম শার্লক হোমসের পুরো সিরিজটা ক্রোনোলজিকাল হিসেবে পড়ে। ফেলুদাকে নিয়ে আমরা খামোখা গোঁসা করি ওঁর গল্পগুলোয় তেমন ধারালো 'ডিটেকশন' থাকে না বলে। শার্লকদার অনেক গল্পের ক্ষেত্রেই সেই একই অভিযোগ দিব্যি খাটে। কিন্তু হোমসের গল্পগুলোকে ডিটেকটিভ পাজল হিসেবে পড়তে চাওয়াটা যে কী বেরসিক। কনান ডয়েলের ভাষা, প্লট, বর্ণনা; বার বার পড়েও মুগ্ধতা কম হওয়ার কোন সুযোগ নেই। স্নেহ, প্রেম, বন্ধুত্ব, ঈর্ষা, ঘৃণা; যাবতীয় অনুভূতিগুলোকে যেন কনান ডয়েলের লেখার মধ্যে দিয়ে সহজেই ছুঁয়ে দেখা যায়। সেই সময়টাকে, সে সময়ের বিলেতকে চেনার নিরিখে এ সিরিজকে ঐতিহাসিক দলিল হিসেবেও চালিয়ে দেওয়া যায়। মাস তিনেক ধরে সমস্ত হোমস পড়েছি - পড়েছি অর্ধেক, আর শুনেছি অর্ধেক (স্টিফেন ফ্রাইয়ের কণ্ঠে); সবকটা উপন্যাস, সবকটা গল্পগুচ্ছ। সবই আগে পড়া তবে খাপছাড়া ভাবে। এইবারে সিস্টেম্যাটিকালি পড়ে এত আনন্দ হল, হোমস-ওয়াটসনের গোটা ক্যারেকটার আর্ক চোখের সামনে স্পষ্ট ভেসে উঠলো। ছেলেমানুষের মত মগ্ন ছিলাম কিছুদিন হোমসে। বছরখানেক যাক, আবার ফিরবো। গতবছর জিভসকে নিয়ে কেটেছে কিছুদিন। এ বছরের আমার শ্রেষ্ঠ উডহাউসিও আবিষ্কার হল (পি)স্মিথ (অভিদা বলেছে এভাবে লেখাটাই যুক্তিযুক্ত)। এমন চরিত্র বিশ্বসাহিত্যে বিরল। পাগলা দাশুর মধ্যে রবীন্দ্রনাথ আর রবি ঘোষ সেঁধিয়ে গেলে এরকম চরিত্র তৈরি করা যাবে কিনা কে জানে। উডহাউসের উপর প্রচণ্ড রাগ হলো মাত্র খানকয়েক বইয়ের পরিসরে (পি)স্মিথকে নিকেশ করে দেওয়ার জন্য। আমি শুরু করেছিলাম 'লীভ ইট টু (পি)স্মিথ' দিয়ে। ঘটনাচক্রে সেটা (পি)স্মিথ সিরিজের শেষ। দেখা গেলো প্রেমে পড়ে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার পর (পি)স্মিথের মত স্বভাবকবিকেও সাহিত্যজগৎ থেকে বিদেয় দেওয়া ছাড়া উডহাউসের কোনো উপায় ছিল না; গেরস্ত জীবন এতটাই বিষাক্ত (অন্তত উডহাউসের দুনিয়ায়)। যা হোক, উডহাউসের উপন্যাস তো, কাজেই সিরিজের শেষ বই দিয়ে শুরু করেও পিস্মিথে মুগ্ধতা ঠেকানো অসম্ভব। অতএব বাধ্য হয়ে পর পর পড়ে ফেলতে হলো; 'মাইক অ্যান্ড পিস্মিথ', 'পিস্মিথ ইন দ্য সিটি', আর 'জার্নালিস্ট পিস্মিথ'। পিস্মিথ কে? আমি লিখলেই ব্যাপারটা খেলো হয়ে যাবে। শুধু বলি যে পিস্মিথ হল ডগলাসে-অ্যাডামসিও বেয়াল্লিশের মানবরূপ। তাকে না জানলে আপনি ঠকবেন। আর চিনলে মনে হবে 'এতটুকুতে কি তোমায় চেনা সম্ভব গুরুদেব'? "লীভ ইট টু পিস্মিথ" উডহাউসের আর এক জাদু-জগতের খোঁজ পেয়েছি। ব্ল্যান্ডিংস ক্যাসেলের। ক্যাসেলের অধীশ্বর লর্ড এমসওয়ার্থ যদি দিন-ই-ইলাহি গোছের কোনো মতের প্রবর্তন করে যেতেন, আমি নিশ্চিন্তে সে'পথে নিজেকে সঁপে দিতাম। সাধক মানুষ; তাঁর দুনিয়াটাও বৈকুণ্ঠ ধামের মতই নিখুঁত। আর তার ওপর উডহাউসের হিউমর। ও জিনিস ডোভারলেনে আবৃত্তি করলে হারমোনিয়াম-তবলা-সেতার ফেল পড়বে। 'সামার লাইটিং' আর 'হেভি ওয়েদার' উপন্যাস শেষ করে ধীরেসুস্থে এগোচ্ছি ব্ল্যান্ডিংস ক্যাসেলের অন্যান্য গল্পগুলো নিয়ে। (লর্ড এমসওয়ার্থ আর পিস্মিথের দেখা হয়েছিল জানেন, সে এক ইতিহাস)। যারা পড়েছেন তারা জানেন কী বলছি। যারা পড়েননি, জেনে রাখুন আপনাদের জীবনটা জাস্ট মিথ্যে হয়ে যাচ্ছে। আবার দ্য গ্রেট এক্সপেকটেশনস পড়লাম। বছর তিনেক অন্তর একবার এটা পড়াও রুটিনের পর্যায় চলে এসেছে দেখছি। এটা পড়ি শ্রী আনন্দ মিত্রর জন্য, ভদ্রলোক আমায় ইংরেজি পড়াতেন। গ্রেট এক্সপেক্টেশনস পড়িয়েছেন। সন্ধেবেলা ওঁকে ঘিরে আমরা জনা ছয়েক বসে, উনি পিপ আর মিসেস হ্যাভিশামের চরিত্রের ওপর বেশ একটা জমাট লেকচার দিচ্ছেন, এটা আমার ছেলেবেলার অন্যতম জরুরী স্মৃতিগুলোর মধ্যে একটা। সে জন্যই বারবার এ বইয়ে ফিরে যাওয়া। আমি বোধ হয় পিপকে ভালোবাসি। ছেলেটা খুব একটা সুবিধের নয়, কিন্তু শত-ভুলের মধ্যে তার মধ্যে মায়া আছে। ভালোবাসা আছে। সে জন্যেই ভালোবাসা। পিপ আর অপু, এদের পাশাপাশি দেখার চেষ্টা করি। দুজনের ওপরই রাগ হয়, দুজনের জন্যই মন-কেমন। ফ্রাইসাহেবের বদান্যতায় গ্রিক মিথোলজির ওপর আগ্রহ গভীর হয়েছে। ওর মিথোস বইটা বার বার পড়া যায় (আমি অডিওবুক শুনেছি)। প্রকৃতির কত রহস্যের গভীরে আর ভাষার আনাচেকানাচে ছড়িয়ে রয়েছে গ্রীক মিথলজির জমজমাট সব গল্প। ফ্রাই সেসব গল্প যে কী দুর্দান্ত ভাবে সাজিয়েছেন। এ'বাদে ওঁর ট্রয় আর ওডেসিয়াস দুটোও মাস্ট-রীড লিস্টে থাকার কথা। এ বছর ক্রিকেট বিষয়ক কয়েকটা বইও পড়া হয়েছে বটে। রবিচন্দ্র অশ্বীনের "আই হ্যাভ দ্য স্ট্রিটস" সম্ভবত আমার পড়া সেরা ক্রিকেট জীবনী (ভারতীয় ক্রিকেটারদের মধ্যে তো বটেই)। অশ্বীনের চিন্তাভাবনা স্বতন্ত্র, ধারালো আর মারাত্মক ভাবে 'এন্টারটেনিং'; এই বইটাও আগাগোড়া তাই। একটানা পড়ে শেষ না করে থামার উপায় নেই; সহলেখক সিদ্ধার্থ মোঙ্গাকেও তাই সেলাম ঠুকতেই হবে। পিটার অবোর্নের 'উন্ডেড টাইগার - আ হিস্ট্রি অফ ক্রিকেট ইন পাকিস্তান' আমার পড়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেট বইগুলোর মধ্যে একটা। পাকিস্তান ক্রিকেটের ইতিহাস বাদ দিয়ে উপমহাদেশ কেন, ক্রিকেটের গল্পই বলা অসম্ভব। অবোর্ন সাহেব সে ইতিহাসকে যেমন বিশদে সাজিয়েছেন, তেমনই প্রায় সিনেমার মেজাজে সে ইতিহাসকে গল্পের মত বলেছেন। বইটা পেল্লায়, কিন্তু তরতরিয়ে এগিয়ে যাওয়া যায়। আর এ বছরের পড়া অন্যতম সেরা বই অভিষেক মুখার্জির "কট ইয়াপিং"। এই বই নিয়ে একটা ইয়াব্বড় রিভিউ লিখেছিলাম; সেটার লিঙ্ক রইলো কমেন্টে। এ'ছাড়া অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে 'টুটা হ্যায় গাব্বা কা ঘমন্ড' মার্কা যে ঐতিহাসিক সিরিজ-জয় (২০২০-২১), সে'টার ওপর লেখা ভারত সুন্দরেসন আর গৌরব যোশির লেখা 'মিরাকেল মেকারস' পড়লাম; ভালো লেগেছে। তবে কোথাও যেন ক্রিকেটের পরিমাণ সামান্য কম মনে হল। ইংরেজিতে একটা জবরদস্ত শব্দ আছে, 'আন্ডারহোয়েল্মিং'; আমার চোখে কথাটা এই বইয়ের ক্ষেত্রে কাটে। তবুও বলি; রেকমেন্ডেড। স্টিফেন কিংয়ের রিটা হেওয়ার্থ অ্যান্ড শশ্যাঙ্ক রিডেম্পশন পড়লাম। হাজারবার দেখা সিনেমা, তা সত্ত্বেও বইটা দারুণ লাগলো। বলাই বাহুল্য যে কিং-সাহেবের লেখা সিনেমার চেয়ে কোনো অংশে কম টানটান নয়। সামান্থা হার্ভের 'অর্বাইটাল' দিব্যি লাগলো, বিজ্ঞান-ভিত্তিক লেখা অথচ রূপকথার মত কল্পনার রঙে সুন্দর। লিজ ভার্কোর "দিস ইজ নট আ স্যাড বুক" বইটা শ্বেতা উপহার দিয়েছিল আমার ছেলেকে। সবার আগে পড়ে শেষ করলাম আমি। কিছু বই বয়সের অঙ্কের বাইরে, এ বই আমার ছেলের জন্য যতটা জরুরী, ততটাই জরুরী আমার জন্য। বইয়ের বিষয় দুঃখ। দুঃখ কী, কী ভাবে তাকে চিনতে হবে, কাছে টেনে নিতে হবে, আবার কী'ভাবে সে দুঃখকে বয়ে এগিয়ে যেতে হবে। লেখায় কোনো ওপর-চালাকি নেই, ছেলেভোলানো ভাষা নেই। সৎ, সোজা, কাজের লেখা। এবং বড় ভালোবেসে লেখা। ভালোবাসার বই; বার বার পড়ার মতো। এর পাশাপাশি পড়লাম মাইকেল স্যান্ডলের লেখা 'টিরানি অফ মেরিট'। এ বই অনেক জমে থাকা ভাবনার খোলনলচে পাল্টে দিয়েছে। মেরিট আর প্রিভিলেজ সম্বন্ধে আমাদের ধারণা যে কতটা কাঁচা আর গোলমেলে, সমাজ সম্বন্ধে আমাদের ভাবনাচিন্তা যে কী প্রবল অতি-সরলীকরণে দুষ্ট; এ বই পড়ে খানিকটা মালুম হল। বিল ব্রাইসনের "দ্য বডি" পড়ে যেমন সমৃদ্ধ হয়েছি, তেমনই এন্টারটেনড হয়েছি; ইয়াব্বড় বই ব্রাইসন-স্টাইলের ট্রিভিয়ায় ঠাসা, ভালো না লেগে উপায় কী। বেলা ম্যাকির "হোয়াট আ ওয়ে টু গো" অদ্ভুত এক নভেল। সাসপেন্স আছে, ভৌতিক ডাইমেনশন আছে। তবে কোথায় গিয়ে যেন একঘেয়ে হয়ে পড়লো। আর একটা গাব্দা বই তেমন পোষালো না তবুও কীভাবে যেন শেষ করলাম; জর্ডান পিটারসনের "দ্য টুয়েলভ রুলস অফ লাইফ"। এই বইয়ের ভারিক্কি ভাব কাটাতে চট করে পড়ে ফেলেছিলাম রোল্ড ডালের 'ফ্যান্টাস্টিক মিস্টার ফক্স'। ওই, ছোটদের গল্প ভাবতেই পারেন, কিন্তু আমি পড়লাম জমজমাট হিরো-ভিলেন মেশানো নভেল ফর অল হিসেবে। আমি ঠিক কেজো বই খুব একটা পড়ি না। তবে মর্গ্যান হাউসেলের লেখা আর ওঁর ফিনান্সিয়াল ফিলোসফি বেশ লাগে। ওঁর সাম্প্রতিক বই 'দ্য আর্ট অফ স্পেন্ডিং মানি' আমার বেশ লেগেছে। কাজের কথা সহজ গল্পে আর স্মার্ট স্টাইলে বলা, সে'টা ক'জনই বা পারে। কালকূটের 'অমৃতকুম্ভের সন্ধানে' বইটা আগে কেন পড়িনি কে জানে। অথচ বইয়ের তাকেই কত বছর ধরে ছিলো। চোখের জল, ভালোবাসা ছাপিয়ে মানুষের মানুষেমির মূলে আছে যে'টা আছে সে'টা হলো অন্য মানুষকে চেনার আগ্রহ। সেই আগ্রহ নিয়েই তিলে তিলে গড়ে উঠেছে মানুষের ইতিহাস, সাহিত্য, শিল্প, ধর্ম। সে আগ্রহের টানেই ভারতবর্ষকে চিনতে চেষ্টা করেছিলেন লেখক। বড় মন কেমনের লেখা। তা'ছাড়া এই বছর পুরীর সমুদ্র সৈকতে বসে গোটা 'হত্যাপুরী' এক সিটিংয়ে পড়েছি। এই নভেলটা সত্যিই জমজমাট। তাছাড়া টের পেলাম যে সত্যজিৎ যে পুরীর বর্ণনা দিয়েছেন, সেই বছর পঞ্চাশ আগের শহরটা এখনও দিব্যি টিকে আছে। অতএব দারুণ মজা পেলাম বইটা পড়ে। সমুদ্রের ধারে বসেই 'জয় বাবা ফেলুনাথ'টাও আর একবার পড়ে নিলাম, এতবার পড়ার পরেও গল্পটা এখনও জেট বাহাদুর লেভেলের সিনেম্যাটিক। বেনারসটা এ'বার ঘুরে আসতেই হবে দেখছি। আবার পড়া বইয়ের লিস্টে আবার ফিরলাম আরণ্যকে; আত্মার এমন আরাম আর মনের এমন শান্তি আর হয় না। আমাদের বিভূতিভূষণ আছে, এ গর্ব যে কোথায় রাখি। বছরের শেষ প্রান্তে এসে 'পাকদণ্ডী' ধরেছি। লীলা মজুমদার। তাঁকে ভালোবাসাটা দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। আর পাকদণ্ডী ধরে এগোতে এগোতে তাঁর প্রেমে পড়তে হয়। আর সম্মানে মাথা নুয়েও আসে। আমাদের লীলা মজুমদার আছে, সে গর্বই বা আমরা কোথায় রাখব। ২০২৬ আপনাদের ভালো কাটুক। ভালো বই পড়ুন। তার চেয়ে বড় কথা, ভালো বইরা যেন আপনাদের খুঁজে পায়।

ব্যালকনির ব্যবসা



বম্বের ঘুপচি ফ্ল্যাটে বাস। এ শহরে সুন্দর দরদী ব্যালকনি দেখলে মন উদাস হয়ে যায়। এ'খানে মিনিট কুড়ির স্লট হিসেবে ব্যালকনি ভাড়া দেওয়ার সিস্টেম শুরু করলে আমার মত অজস্র খদ্দের জুটে যাবে বলে আমার বিশ্বাস। পরিষ্কার মেঝে, একটা মোড়া আর এক কাপ চা দিলেই হবে। সে বাহানায় আবার ব্যালকনিটকে রেস্টুরেন্ট বানিয়ে দিলে চলবে না, ঘরোয়া আমেজ থাকতে হবে আর সে'খানে আমি একা বসে থাকবো। এই ধরুন ইচ্ছে হলো, একটা কমলালেবু বা এক প্যাকেট বাদাম নিয়ে চলে যাব, খানিকক্ষণ বসে পকেটে খোসা বা খালি বাদামপ্যাকেট চালান করে নেমে আসবো। 


একা মানুষের মৌজ করে বিকেল-সন্ধ্যেয় ব্যালকনিতে বসে চা খাওয়ার ইচ্ছেটা কি শুধু স্কোয়্যার ফিটের নির্মম অঙ্কে নষ্ট হবে? উচিৎ নয়।

যা কিছু আগুন

এ কফি ভালোই, তবে এর ৮০% দাম যায় দ্যাখনদারিতে।

শীতের বিয়েবাড়ির মেশিন থেকে জগঝম্প আওয়াজ তুলে যে কফি বেরিয়ে 'নেসকাপে' লেখা লাল-সাদা কাপে এসে পড়ে; সে'টাই হলো আসল আগুন। তার মধ্যে যে মেজাজ - সে'টা অতুলনীয়। মহাভারতের মহারথীরা সে'ধরণের কিছুতে চুমুক দিয়েই বোধ হয় মারকাটারি যুদ্ধে যেতেন।

মেজোপিসে ও শীতের দুপুর



শীতকালের ছুটির দুপুরে মেজপিসে খাওয়াদাওয়া সেরে ছাতে চলে যেতেন। সে'খানে একটা মাদুর পেতে বসে থাকা। ভালো করে পড়ুন কী লিখলাম, উনি বসে থাকতেন। স্রেফ বসে থাকতেন। বই পড়তেন না, গান শুনতেন না, ঘুমোতেন না, গল্প করতেন না, কমলালেবুর খোসা ছাড়াতেন না; স্রেফ বসে থাকেন। আমি একবার জিজ্ঞেস করেছিলাম; "পিসে, এই যে তোমার বসে থাকা, সে'টা কি মেডিটেশন"? অত্যন্ত বিরক্ত হয়ে উত্তর দিয়েছিলেন, "ভদ্রলোকের কি দু'দণ্ড আর কিছু না করে শুধু বসে থাকতে নেই?  বসে থাকাটা কি যথেষ্ট করা নয়? অন্তত মেডিটেশন করতেই হবে"? এমন খেপচুরিয়াস উত্তরের পর কথা এগোনো চলে না। আর এক ছুটির দুপুরে; মেজপিসে যখন হাফ-ছাতসমাধিতে, তখন একবার ভদ্রলোকের ছবি তুলব বলে মোবাইল তাক করেছিলাম। ভদ্রলোক এমন ধারালো দৃষ্টি হেনেছিলেন যে আমার হাত কেঁপে উঠেছিল, আঙুল ক্যাপচার বোতাম পর্যন্ত পৌঁছনোর সাহস পায়নি। পরে ভেবে দেখছিলাম ছবির জন্য পোজ দেওয়াটাও একটা কাজ, এবং সাধক গোত্রের মানুষের জন্য তা অন্ত্যন্ত হাড়-জ্বালানো ব্যাপার।

আজ বহুদিন পর ডিসেম্বরে মেজপিসের ছাত আলো করে বসার কথা মনে পড়লো।

মুখোমুখি বসিবার



পকেটে শ'দেড়েক টাকা। অথচ ডেটে ঘ্যামের ঘাটতি হলে চলবে না।  নিশ্চিন্তে মুখোমুখি বসার টেবিল থাকতে হবে। গল্প জমে আড্ডা হবে, চল্লিশ মিনিট কেটে যাবে চার সেকেন্ডেরও কম সময়ে। আর সে গল্প-আড্ডার পাশেপাশে স্বাদে কাটতি হলেও চলবে না।

অতএব; নরম হাতরুটি, টানটান ঝালনুনের ডিমতরকা। ফাউ পেঁয়াজ-লঙ্কা-বিটনুনের অভাব থাকবে না। 

আর মনের আড়ালে বসে থাকা কবি আওয়াজ দেবেন, "কেমন ভাইটু, ভালোবাসা ফ্লো করছে তো"?

অসোয়েটারের দেশে



বম্বেতে শীত পড়ে না। একটা বেয়াড়া রকমের ঢ্যাঙা গাছের মগডালে বসে সেই বোম্বাইয়া শীত পা দোলায় আর নীচের দিকে তাকিয়ে কপালের ঘাম মুছতে থাকে মানুষদেরকে মুখ ভ্যাঙায়।

এই অসোয়েটারের দেশের বেয়াদপ শীতকে তাই মাঝেমধ্যে নামানোর চেষ্টা করতে হয়। আর সে শীতব্যাটার ঠ্যাংজোড়া ধরে ঝুলে পড়ার শ্রেষ্ঠ উপায় হলো গিয়ে কড়াইশুঁটির কচুরি। এ কচুরি মিনিমাম ছ'পেগ, আলুর দমের চাখনা দিয়ে খাওয়াটাই নিয়ম; অন্তত আদত মাতালরা শুনেছি তেমনটাই বলে থাকেন।

গ্রাসেক্সেলেন্স



অফিস-বিষয়ক জরুরী ব্যাপার। লিঙ্কডইনে লেখার কথা ছিলো, আলসেমিতে এইখানেই রাখলাম।

অফিস ক্যান্টিনের বিরিয়ানির কোয়ালিটি গত দু'মাসে বেশ ইম্প্রুভ করেছে (বম্বের নিরিখে, পিওরিটির দিক দিয়ে বিচার করে হাহুতাশ করে লাভ নেই)।

হপ্তায় একবার সে বিরিয়ানি হচ্ছে আর সুমিতবাবু যত্ন করে তা টেবিলে সাজিয়ে রেখে যাচ্ছে।

মোদ্দা কথা হলো মোটিভেশন তুঙ্গে।
ওয়ার্কপ্লেস ডিলাইট দুদ্দাড় করে বেড়ে চলেছে।
প্রতি গ্রাসে এক্সেলেন্স।

বরফ-গলা



গোয়া। যে'খানে সে'খানে দু'পা এগোলেই বিভিন্ন সাইজের বার। আমি ঢুকলাম একটা ভাস্কোর বাজারের ছোট্ট সাউথ ইন্ডিয়ান রেস্টুরেন্টে। পঁচিশ টাকায় নেসক্যাফে, পনেরো টাকার চা, পঞ্চাশ টাকায় দোসা। স্থানীয় মানুষজন এসে বসছেন, গপ্প জুড়ছেন এবং কেউই তাড়াহুড়ো করছেন না।

আমি এক কাপ কফি অর্ডার করলাম। মিনিট কুড়ি সে'খানে বসলাম। এক অপরিচিত ভদ্রলোক পাঁচ মিনিটের আলাপে আমায় শিঙাড়া খাওয়ালেন। টের পেলাম মদের তুলনায় কফি শিঙাড়ায় আরও সহজে বরফ গলে।

লীলা মজুমদার

সকাল সাড়ে সাতটা।

প্লেন আর খানিকক্ষণ পরে বম্বেতে নামবে। আইল সীটে গা এলিয়ে বসে আছি, পাশের মিডল সীটখানা ফাঁকা তাই একটু ছড়িয়ে থাকা যাচ্ছে। উইন্ডো সীটে বসা বৃদ্ধ আধঘুমে ঢুলছেন। আর জানালা দিয়ে বড় চমৎকার নরম রোদ্দুর এসে পড়ছে আমার কোলের ওপর রাখা বইয়ের পাতায়।

লীলা মজুমদারের লেখাও ওই শীতের সকালের নরম রোদ্দুরের মত সুন্দর। ধবধবে সাদা চীনেমাটির প্লেটে রাখা আধখানা হাফবয়েল ডিমের মত ওম সে'খানে। আচ্ছা, লীলা মজুমদারকে ভালো না বাসা সম্ভব? লীলা মজুমদারের লেখা পড়তে পড়তে প্রেমে না পড়া সম্ভব? অবশ্য সস্তা নেশার টানে প্রেমের ডেফিনিশনটাই আমরা এত নষ্ট করে দিয়েছি; আমাদের গান সাহিত্য তাই সহজ হতে পারে না, গভীরে যেতে চায় না। লীলা মজুমদারকে সে সমস্ত নষ্টভাব ছুঁতে পারে না। এই প্লেনের জানালার ও'পাশের নীল আকাশের সাদা মেঘের টুকরো ভেদ করে আসা নরম রোদ্দুরের মত। বললাম তো, লীলা মজুমদারকে না ভালোবেসে থাকা যায় না।

হোমবাউন্ড



বয়স বাড়ার সব চাইতে তিতিবিরক্তিকর দিক হলে সব ব্যাপারে তিতিবিরক্তির কারণ খুঁজে পাওয়া, বিশেষত নিজের ও নিজেদের ব্যাপারে। হোমবাউন্ড বড় সুন্দর, গায়ে ছুরি চালানো সত্যিতে ঠাসা সিনেমা, গালে দু'চারটে চড়থাপ্পড় অনুভূত হওয়ার সিনেমাও বটে। আমি যেহেতু সিনেমা বুঝি না, কাজেই সিনেমা সম্বন্ধে কোনো কথা নিশ্চিত হয়ে বলতে পারি না। সিনেমাটা আদতে সত্যিই 'ভালো সিনেমা' হয়েছে কিনা, অভিনয়টা জোরালো হলো কিনা, সে'সব হলফ করে বলার দম আমার নেই। তবে আমার যে খুব ভালো লেগেছে সে সম্বন্ধে আমি নিশ্চিত। কিন্তু 'সিনেমাটা ভালো তাই দেখুন' এ কথা বলার মানে হয় না; আপরুচি খানার মতই আপরুচি নেটফ্লিক্স। তিতিবিরক্তির কথা বলছিলাম, সে'টাই বলি। সবটাই আমার মনের নেগেটিভিটিও হতে পারে, আজকাল বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তা মনে হয়।

গরীব, অনগ্রসর ও সংখ্যালঘু; এর যে'কোনো খোপে থাকাটাই বড় দূর্ভাগ্যের ব্যাপার। এর ওপর যদি গরীব সেটের সঙ্গে বাকি লেবেলগুলোর ওভারল্যাপ পাওয়া যায়, সে যন্ত্রণা বড় নির্মম। হোমবাউন্ড সে নির্মমতার গল্প। জমাট রিসার্চ আর খাটনির মাধ্যমে এই ধরণের সিনেমা তৈরি সম্ভব। অথচ এই পোড়া নেগেটিভ মনের মধ্যে কী বিশ্রী জ্বালাতন, বারবার মনে হচ্ছে এই সিনেমা যারা তৈরি করেছেন, কলাকুশলী অভিনেতা-অভিনেত্রী প্রোডিউসার-ডিরেক্টর সবাই মিলে; তাঁদের রিসার্চ লাজওয়াব, অধ্যাবসায় নিখুঁত কিন্তু সে নির্মম জীবনের থেকে তারা বহুদূরে অবস্থিত।  সিনেমাটা যারা দেখছেন, উপভোগ করছেন, দেখে যাদের চোখ ছলছল করে উঠছে; এই যেমন আমি ও আরো অনেকে; তাঁদের অ্যাপ্রিশিয়েশনে সামান্যতম খাদ নেই কিন্তু আমাদের জীবনও সে অন্ধকার থেকে বহু মাইল দূরে। নির্মমতার নিউক্লিয়াসের মধ্যে থেকে যারা এ মুহূর্তে শ্বাস নিচ্ছেন, তাঁদের কাছে খুব সম্ভবত এ সিনেমা পৌঁছবে না। আমরা আমাদের সাজানো বুদবুদের মধ্যে বসে এ'রকম সিনেমা তৈরি করবো, কনসিউম করবো, অ্যাওয়ার্ড দেবো কিংবা মুণ্ডুপাত করবো।

অবশ্য এই তিতিবিরক্তি শুধু এই সিনেমা নিয়েই নয়, আর্টের ইন্সপিরেশন আর কনসাম্পশন; বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই দু'টো উল্টো খাতে বয়। তেমনটাই হয়ে আসছে হয়তো চিরকাল। এ নিয়ে হঠাৎ "ধুত্তোর" বলার কিছু নেই। মোদ্দা কথা হলো সিনেমাটা আমার খুব ভালো লেগেছে।

৩১ ডিসেম্বর ও চল্লিশ+


এই যে চল্লিশ+ দাদাদিদিরা,
সব দেখছি কিন্তু..।
সব দেখছি।
কাল রাত্রের সাপের-পাঁচ-পা-দেখা প্ল্যান ভাজছেন তো?
লাভ নেই।
মন চাইছে সেলিব্রেশন? মন চাইছে পার্টি? মনকে হাবিজাবি যা ইচ্ছে চাইতে দিন।
নিজের আত্নাকে খোঁচালে বুঝবেন;
কাঁচকলার সেলিব্রেশন;
কাঁচকলার পার্টি।
জেনে রাখুন,
এক সন্ধ্যে লম্ফঝম্প করে কোনো লাভ নেই। পঁচিশে যে তালগোলের মধ্যে ছিলেন, ছাব্বিশেও সে'খানেই ঘুরপাক খেতে হবে। সম্ভবত আরো তলিয়ে যেতে হবে।
অতএব,
পারলে কাল রাত্তিরে চটজলদি ডাল-আলুভাজা-ডিমভাজা-বেগুনপোড়া দিয়ে ডিনার সেরে কম্বলমুড়ি দিয়ে ঘুমিয়ে পড়ার তাল করুন।
মনে রাখবেন,
অম্বলহীন থাকার চেয়ে বড় সেলিব্রেশন আর হয় না।
আর বাড়তি দু'ঘণ্টা ঘুমই হলো এ দুনিয়ায় সবচেয়ে জবরদস্ত 'পার্টি'।

শাসমলবাবু ও বম্বের আমেজ


- হ্যালো, শাসমলদা!
- আরে দত্ত যে। কদ্দিন পর ফোন করলে। তা তোমরা আছ কেমন সব কলকাতায়?
- এই চলে যাচ্ছে দাদা। আমাদের আবার থাকা আর না থাকা। আপনি বরং বম্বের খবরটবর বলুন..।
- বম্বে মানেই তো হাইভোল্টেজ অ্যাকশনের জায়গা ভায়া। ওই, হ্যাপেনিং যাকে বলে। এ তো আর ক্যালক্যাটা পাওনি যে সময় থমকে থাকবে। এ'খানে সময়ের দাম আছে।
- সে তো বটেই৷ তা ও'দিকে এখন ওয়েদার কেমন শাসমলদা? শীতটীত পড়েছে কি?
- শ..শী..শীত...ইয়ে মানে। বাতাসে একটা প্লেজ্যান্ট ইয়ে আছে কিন্তু। রাতে ফ্যানের স্পীড কমিয়ে দিতে হচ্ছে।
- বাহ্‌। বিউটিফুল। ওটাই আইডিয়াল বুঝলেন। এ'বার আবার কলকাতায় বেশ ঠাণ্ডা পড়েছে। এই দেখুন না এখনও শালমুড়ি দিয়ে বসে। এ'সব আবার বাড়াবাড়ি। বম্বের টেম্পারেচার ব্যালেন্সটা বেশ ঈর্ষনীয়।
- যাকেগ বাদ দাও সে'সব কথা। গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের যুগে আবার শীত কীসে।
- এটা একদম মোক্ষম কথা বলেছেন। এ শীত আজ আছে কাল নেই। এর আবার কী ভ্যালু। ফালতু যত জয়নগরের মোয়া বিক্রির মার্কেটিং গিমিক আর কী।
- অ। মোয়া উঠেছে বাজারে?
- আরে বেশিরভাগই ফ্রড। তবে বাধ্য হয়ে খুঁজেপেতে দু'এক বাক্স মাঝেমধ্যে আনছি। ওই, হুজুগ আর কী। তবে কলকাতার আর কিছু হওয়ার নয় কিন্তু বুঝলেন। ও'দিকে বম্বের যে একটা আমেজ..।
- ঠিক। ঠিক বলেছো দত্ত। আমেজ। একবারে আসো দেখি এ'দিকে। দেখে যাও আরবসাগরের চার্ম কাকে বলে।
- যাবো। নিশ্চয়ই যাবো। শুধু নলেনের সিজনটা কেটে যাক। বোঝেনই তো, আজকাল জেনুইন নলেনের উইন্ডো এত শর্ট। কলকাতা জাস্ট গোল্লায় গেছে। মাস দেড়েকের বেশ হাইকোয়ালিটি গুড়ের সন্দেশ আর রসগোল্লা পাওয়ার উপায় নেই। জাস্ট ফালতু জায়গা।
- নলেন৷ রসগোল্লা। হুম৷
- ও কী। কিছু ভাবতে বসলেন নাকি?
- না না। আমার আজকাল মিষ্টি তেমন পোষায় না বুঝলে। হেলথের ব্যাপারে একটু নজর দিচ্ছি কিনা।
- হক কথা। মিষ্টি তো নয়। বিষ বিষ। আমার গিন্নীর আবার এই এক রোগ বুঝলেন শাসমলদা। সোয়েটার ট্রাঙ্ক থেকে বেরোতে না বেরোতেই পিঠেপুলির বাই। আরে বাবা ঠাণ্ডা পড়েছে আর গুড়ের সাপ্লাই আছে মানেই কি সাপের পাঁচ পা দেখতে হবে নাকি? ডায়াবেটিস হলে কে দেখবে?
- দত্ত। তোমার সঙ্গে বাজে গল্পের সময় আমার নেই। কাজকর্ম নেই নাকি তোমার? অত খেজুরের সময় পাও কী করে? ফোন রাখো তো। যত সময় নষ্ট। এ'টা আমার এখন বড়াপাও খাওয়ার সময়। তুমি ফোন রাখো।
- ওহ। বড্ড হিংসে হচ্ছে শাসমলদা। কোথায় আপনার সেই ফ্যান্টাস্টিক বড়াপাও। আর কোথায় আমার সামনের এই বাটিতে রাখা সমরদার মিষ্টির দোকানের একজোড়া ফুলকপির শিঙাড়া। নাহ, মুখটা বিস্বাদ হয়ে গেলো।
- ব্যাটাচ্ছেলে দত্ত! তোমায় আমি জুতোপেটা করবো!

বেলডাঙা সংস্কৃতি মঞ্চের পক্ষ থেকে

- এই যে। আপনিই সমরবাবু?
- হ্যাঁ। কিন্তু আপনাদের তো ঠিক...।
- আমরা বেলডাঙা সংস্কৃতি মঞ্চের পক্ষ থেকে আসছি। আমি প্রেসিডেন্ট শ্যামল দত্ত। এরা ভলেন্টিয়ার। চাঁদু আর ভোম্বল।
- তা আমি বেলডাঙায় নতুন এসেছি। আপনারা হঠাৎ...। চাঁদাটাঁদা যদি কিছু লাগে..।
- না। তবে কিছু ব্যাপারে আপনাকে একটু সমঝে দিতে এসেছি।
- সমঝাবেন? আমায়?
- আপনার ব্যাপারে বেশ কিছু কালচারাল কম্পলেন এসেছে..। আপনার প্রতিবেশীরাই..ইয়ে। আপনি নাকি বেশ আনর্থোডক্স কথাবার্তা বলে থাকেন..। এই যেমন..।
- এক মিনিট। এক মিনিট। জ্ঞান দিতে এসেছেন?
- হ্যাঁ?
- জ্ঞান দিতে এসেছেন?
- এই! চালিয়াতি নয় কোনো সমরবাবু।
- ও মা। আপনি আমায় ভুল বুঝছেন। আমি তো বরাবরই জ্ঞান দেওয়ার পক্ষে। প্রাণপণে দেদার জ্ঞান দিন। তবে জ্ঞান দিতে হলে ভালো ভাবে দিন। নয়তো দামী দামী জ্ঞানগুলো জাস্ট জলে যায়। বিশ্বাস করুন..।
- এই দেখুন! এত বাজে কথা কিন্তু আমরা বরদাস্ত..।
- আপনি বলবেন ভালোভাবে জ্ঞান দেওয়ার মেথডটা কী? তাই তো? চিন্তা করবেন না। আমি বলে দিচ্ছি। ভেরি সিম্পল। সাকসেসফুলি জ্ঞান দিতে চাইলে আগে ভরপেট লুচি-আলুরদম অথবা মাংস-ভাত খাওয়ান।তারপর জ্ঞানের বাক্সের ডালাটা খুলুন।
- আমরা ওয়ার্নিং দিচ্ছি..!
- আমার কী বলা উচিৎ, কী দেখা উচিৎ, কী শোনা উচিৎ, কী পরা উচিৎ,কী পড়া উচিৎ, সে'সম্বন্ধে আপনি দু'ঘণ্টার টিউশনি নিতে চাইলে আমি বাধ্য ছাত্রের মত আপনার সামনে বসে থাকবো। তবে তার আগে, ওই। মাংস-ভাত। অথবা লুচি-আলুরদম। ভরপেট!
- ভালো হচ্ছে না কিন্তু..।
- দিব্যি ভালো ব্যাপারটা। আমি ডেমো দিই? আপনারা ভিতরে আসুন। আজ আমি বরং অর্ডার দিয়ে মাংস-ভাত আনাই। আর তারপর আপনাদের সংস্কৃতি নিয়ে খানিকটা জ্ঞান দিই। দেখবেন ভরা পেটে যে কোনো হাবিজাবি জ্ঞানও দিব্যি ডাইজেস্ট হয়ে যায়।
- সত্যি খাওয়াবেন?
- মাংস-ভাত। প্লাস রাবড়ি; সামান্য বোনাস জ্ঞানও দেব।
- মুর্গি খাওয়াবেন?
- তৌবা তৌবা। মুর্গি তো পাখি। আমি পাঁঠার কথা বলছি।
- বিউটিফুল। ইয়ে, আপনার প্রতিবেশীগুলো বড় ন্যাকা সমরবাবু। বাদ দিন তাঁদের কম্পলেন। আপনি মাংসভাত আনান। ততক্ষণ আপনাকে একটু কালটিভেট করা যাবে। আর হ্যাঁ, ওয়েলকাম টু বেলডাঙা।

তোমার পাহাড়

Uploading: 1098031 of 1098031 bytes uploaded.

- তোমার পাহাড় ভালো লাগে?
- হয়তো।
- না মানে, ভাবছিলাম আমাদের হানিমুনটা যদি পাহাড়ে কোথাও...। তা, ইয়ে। আপনার পাহাড় 'হয়তো' ভালো লাগে মানে?
- ম্যাগির প্যাকেট ছড়িয়ে থাকা পাহাড়, দিনে চারটে সাইট সিয়িংয়ের পাহাড় আমার সহ্য হয় না। আর সহ্য হয় না বড়লোকি রিসর্ট ঘেঁষা পাহাড়।
- ও। তা'হলে যা বুঝছি..।
- উড়িষ্যায়, রউরকেল্লা থেকে ঘণ্টাখানেক দূরে, সুন্দরগড় জেলায় একটা ছোট্ট আধমরা টাউন আছে। আশেপাশের পাহাড়ে লাইমস্টোন মাইনিং হয়। ধুলোমাখা পাহাড়, অল্প জঙ্গল। সেই ধুলোময়লা ছাড়িয়ে আর একটু ওপরের দিকে উঠলে একটা ছোট্ট পাহাড়ি কলোনি। এককালে মাইনিং কোম্পানিতে কর্মরত সাহেবরা সে'খানকার বাংলোগুলোতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকতেন। বর্তমানে সে'সবের বেশিরভাগই এখন পোড়োবাড়ি।৷ তবে দু'একজন অফিসার এখনও থাকেন সে'খানে। জায়গাটা বেশ সবুজ। একটা সুতোর মত নদীও আছে। আর আছে একটা গেস্টহাউস, সেই মাইনিং কোম্পানিরই। শুনেছি সঠিক লোককে ধরতে পারলে দু'তিন রাত্তিরের জন্য একটা মাথা গোঁজার আস্তানা জুটতে পারে সে'খানে। সেদ্ধভাত খেয়ে থাকা আর দিনরাত হন্টন। যাবেন সে'খানে?
- ইয়ে, সেফ হবে?
- আমার মত বদখত মেয়ের সঙ্গে ঘুরতে যাওয়াটাকে ঠিক সেফ বলা যায় না। আমার নানারকমের বদঅভ্যাস রয়েছে।
- না না। আসলে যা বলছো তা'তে আমার জায়গাটাকে তেমন টুরিস্ট ফ্রেন্ডলি বলে মনে হচ্ছে না। তুমি চাইলে আমরা অ্যাব্রডেও কোথাও..।
- ছড়িয়ে থাকা প্লাস্টিকের বোতল আর ম্যাগির প্যাকেট খোঁজাটা একটা নেশা, বুঝলেন। দেশে, বিদেশে, সম্পর্কে। ও'গুলো দৃষ্টিকটু, কিন্তু সেফটি মার্কার। ভিড়, তাই সেফ।
- আসলে ওই উড়িষ্যার জায়গাটা সম্বন্ধে আমি ঠিক নিশ্চিত হতে পারছি না। এই দ্যাখো, ইন্সটাগ্রাম সার্চ করেও কিছু পাচ্ছি না কিন্তু..।
- এই বিয়েটা সম্বন্ধেও আমার তাই মত কিন্তু।
- ম..মানে?
- ইন্সট্যাগ্রামে সার্চ করে আপনার প্রোফাইল দেখলাম সে'দিন। পাহাড়ে ঘুরছেন অথচ ছবিতে-ভিডিওতে শুধু ম্যাগি, হিন্দি গান, মেয়োনিজ দেওয়া মোমো, ডাম্ব শারাড, বনফায়্যার, কাবাব ইত্যাদি। সব আছে, শুধু পাহাড় নেই৷ কাজেই আপনাকে আর যাই হোক পাহাড় ফ্রেন্ডলি মনে হচ্ছে না বুঝলেন। আর এ দোষ তো মাদুলিটাদুলিতে কাটে না। কাজেই বিয়েটা যে হচ্ছেই সে'টা ভেবে নিশ্চিত হয়ে বসে থাকবেন না প্লীজ। কেমন?

পাওয়ার ফুড


লারেলাপ্পা খাবারদাবারে ভেসে না গিয়ে পাওয়ার-ফুড চিনতে শিখুন।

মনে রাখবেন:
সক্রেটিস বলে গেছেন যে ভালো ডিমভাজার সাপ্লাই থাকলে মানুষের পক্ষে টুথপিক দিয়ে পাহাড় থেঁতো করা সম্ভব।
আর সান জু'র সেই মহান বাণী তো আর সহজে ভোলার নয়, "আলুভাজার মুচমুচ পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ সঙ্গীত"।
অতএব এই কম্বিনেশনকে হেলাফেলা করবেন না। অন্তত শাস্ত্রে তেমনটাই বলা আছে।

ভালো লেখা

ভালো কোনো লেখা পড়তে পড়তে হাপুস-নয়ন হওয়াটা অনিন্দ্যবাবুর নতুন বদঅভ্যাস। এ'সব ঝ্যামেলা আগে ছিলো না, দিব্যি ক্রিটিকাল চোখে সমস্ত কিছু পড়ে অঙ্ক কষে বলে দিতে পারতেন কোন লেখাটা অনবদ্য আর কোন বইটা স্রেফ জঞ্জাল। শখের ক্রিটিক হিসেবে খানিকটা আলগা সুনামও অর্জন করে ফেলেছিলেন।

এই হপ্তাদুই ধরে যে কী হলো! যে বই পড়তে ভাল লাগছে না, তা মাঝপথেই নির্মোহ ভাবে সরিয়ে রাখছেন। ভালো লাগা হাসির বইয়ে মুখ গুঁজে এমন বিশ্রী ভঙ্গি ও শব্দে হাসছেন যে গোটা আইসিইউর নার্সরা ছুটে এসে তাকে নিরস্ত করছে। আর নিখাদ ভালো লেখা পড়লেই চোখে জল আসছে। অঝোর ধারায়। বহুবার পড়া আরণ্যক ধরে তো হাপুসনয়ন অবস্থা।

আজ সকাল থেকে লীলা মজুমদারে আটকে ছিলেন। পাহাড়ের বুকে এক ছবির মত বাড়ি, সে বাড়িটা ভালোমানুষে ভর্তি; এ'টুকুতেই অনিন্দ্যবাবুর হাউহাউ করে কান্না পেলো। বিকেলের দিকে ডাক্তার সান্যাল এসে দাঁড়িয়েছিলেন পাশে, তাঁর সেই একই বুলি, "মিসেস সেনের ভেন্টিলেটরের ব্যাপারে এ'বারে ডিসিশন নিয়ে ফেলতে হয়"।

গত দিন তিনেকের মত আজও সে প্রশ্নটা অনিন্দ্যবাবুর কানে গেলো না। ছলছলে চোখে তিনি জিজ্ঞেস করলেন, "ডাক্তারবাবু, আপনি চেরাপুঞ্জির মৌসমাই জলপ্রপাতের গল্প শুনেছেন"?

বিলিতি

- ভেরি স্যাড বুঝলে মেজমামা। এইসব বিলিতি উৎসব পালন করতে গিয়ে দেশটা জাস্ট উচ্ছন্নে যাচ্ছে।
- (কেকে ছোটো কামড় দিয়ে) ঠিকই বলেছিস ভটকে। ঠিকই।
- আরে, দেশে কি দেব-দেবী কম পড়েছে যে এখন যীশু পুজোয় আদেখলামো করতে হবে?
- (প্রকাণ্ড এক টুকরো কেক এ'বারে মুখের মধ্যে নিয়ে) ...বফেই ফো...বফেই ফো...ফিফই ফলেফিস...।
- কী?
- (কেক গিলে ফেলে) না মানে...বলছিলাম...বটেই তো...ঠিকই বলেছিস...।
- এই ক্রিশ্চান উৎসব নিয়ে মেতে থাকা, এ'টা একধরণের গোলামি...মনের গোলামি...।
- (কেকে আর একটা পেল্লায় কামড় দিয়ে)- ফিফ্‌। ফিফ্‌। (গিলে নিয়ে)...আই মীন...ঠিক। ঠিক।
- আমার জাস্ট গা রি রি করে এ'সব দেখলে। আজকাল আবার বাচ্চাকাচ্চাদের মধ্যে স্যান্টা ক্লজ নিয়ে কী বিস্তর ন্যাকামো। অথচ এদেরই মিনিট দশেক পুজোর আসরে ভক্তি নিয়ে বসতে বলো...দেখবে হাজারো অজুহাত...।
- (আর এক কামড় কেক...) গা... রি রি...করাই উচিৎ... (আরও বড় কামড়)...ফে ফ্যান্টা! ফাফতু ফত!
- আরে তোমার সঙ্গে কথা বলাই দায়।
- আহা, ভটকে। রাগ করিস না। এই প্লাম কেকটা ভীষণ টেস্টি। নেহাত তুই ক্রিসমাস বিরোধী তাই খাওয়াতে পারছি না। অবশ্য চিন্তা করিস না। তোর জন্য মামি সাবু মেখে রেখেছে। বেশ করে নুন লেবু দিয়ে...।
- সাবু মাখা?
- দু'টো তুলসী পাতা ফেলে দিতে বলবো তা'তে?
- না। থাক গে। আমার তেমন খিদে নেই।
- বিপ্লবী মানুষ তো তুই। তোদের অত খিদে পেলে চলবেই বা কেন। যাক গে, শোন। পুলিকে পাঠিয়ে দিস। বলিস মামা তলব করেছে।
- পুলি তো আর এক কুলাঙ্গার। সে নিজের বয়ফ্রেন্ডকে নিয়ে ব্যান্ডেল চার্চ ঘুরতে গেছিল কাল। এত করে বারণ করলাম, অথচ দাদা বলে মিনিমাম রেস্পেক্ট করলে না!
- পুলিটা একটা ইডিয়ট। তুই ওকে পাত্তা দিস না। শুধু বলিস, মামা ডেকেছে। একটা স্পেশ্যাল গিফট দেওয়ার আছে।
- গিফট? হঠাৎ?
- আরে। আর বলিস না। সে'দিন তুই বাইরে গেলি, আর বাড়ির সবাই সিক্রেট স্যান্টা খেলবে বলে লটারি করলে। আমি কত করে বারণ করলাম এ'সব থার্ডক্লাস জিনিসে সময় নষ্ট না করতে। কেউই আমায় বিশেষ পাত্তা দিলে না। এমন কি তোর বাবা-মাও পার্টিসিপেট করলে। তোর বাবা তো বললে ভটকেটাকে ভালো করে উত্তমমধ্যম না দিলে শোধরাবে না। তবে বিশ্বাস কর আমি প্রটেস্ট করেছি। যাক গে। কী আর করা যাবে। তা পুলির সিক্রেট স্যান্টা আমিই। গিফট কিনে রেখেছি। টিনটিনের বক্স সেট। ওকে পাঠিয়ে দিস।
- তুমি পুলিকে টিনটিনের বক্স সেট দিচ্ছ মামা?
- চিন্তা করিস না, সামনের পূর্ণিমা দেখে তোকে একটা পাঁচালিটাচালি কিনে দেব'খন।
- গা রিরি করছে মামা।
- কী করবি বল, এ পোড়া সমাজ তোর ইন্টেন্সিটিটাকে অ্যাপ্রিশিয়েট করতে পারলো না। ভেরি স্যাড।
- আছে নাকি মামা সামান্য কেক?
- সে কী রে!
- ধ্যাত্তেরি! দাও দেখি কেকের ডিবেটা।

মেরি ক্রিসমাস!


বাপুজি কেক কিনলে দুয়ের বদলে তিনটে কুমড়োর টুকরো যেন আপনার মুখে পড়ে।
সস্তায় পুষ্টিকর কনফেকশনারি, যার ম্যানেজার অদরকারী রকমের গপ্পিয়ে, যেন আপনার বাড়ির বারো-পা রেডিয়াসের মধ্যে গজিয়ে ওঠে।
ফ্লুরিজের টিনের ডিবের কেক যেন হঠাৎ কোনো অজানা কারণে ৭০% ডিসকাউন্টে বিক্রি হয়।
দুনিয়ার অর্ধেক ওল্ডমঙ্ক যেন রামকেকে গিয়ে মিশতে পারে।
আর, বুড়ো বয়সে পাড়ার ছেলেপিলেদের মধ্যে যেন "যখন-তখন-কেক-খাওয়ানো দাদু/দিদা" হিসেবে আপনার সুনাম রটে।

মেরি ক্রিসমাস!

লয়্যালিটি


- এ'টা কত করে?
- বারো টাকা পিস।
- আর এ'টা?
- দশ টাকা।
- টাটকা তো?
- সকালের।
- আজ সকালের?
- এক পিস খেয়েই দেখুন। কথায় আর কাজ কী।
- না না, ঠিকই আছে। দিন তবে দশ পিস।
- আর কিছু?
- আড়াইশো বোঁদে।
- আড়াইশো। বোঁদে। আর কিছু? ছানার জিলিপি? ক্ষীরকদম?
- একা মানুষের বাড়ি নিয়ে যাচ্ছি। অত দিয়ে হবেটা কী।
- বেশ।
- নোটটা ভাঙিয়ে দিন প্লীজ।
- আসুন। এই যে মিষ্টি। আর এই আপনার খুচরো।
- থ্যাঙ্কিউ। এই বেঞ্চিতে বসা যায়?
- ও'টা পাশের চায়ের দোকানের। তবে সে'টা এখন বন্ধ। নিশ্চিন্তে বসে পড়ুন।
- ধন্যবাদ।
***
- নাহ্‌, আপনার সন্দেশগুলো সত্যিই টাটকা। আর তেমনি স্বাদ। আপনার নীট অ্যান্ড ক্লীন সেট আপ দেখেই ভরসা পেয়েছিলাম বটে..।
- ও মা, আপনি এখানে বসে নিজেই খাচ্ছেন? আগে থেকে বললে তো দিব্যি প্লেটে সাজিয়ে দিতে পারতাম।
- বাক্স খুলে মিষ্টি খাওয়াতে যে কী তৃপ্তি। আর প্যাকেটখুলে বোঁদে খাওয়াতেও। মনে হয় বেশ একটা হইহইরইরই ব্যাপারের মধ্যে রয়েছি।
- একটু নিমকি দিই?
- দেবেন?
- আমি খাওয়াচ্ছি। দাম দিতে চাইবেন না যেন। এতগুলো মিষ্টির মধ্যে...।
- ইয়ে, না না। সব এখনই খাবো না। স্টেশনের দিকে যাওয়ার আগে এই দু'চার পিস খেয়ে নিচ্ছি আর কী। আর সন্দেশ যেহেতু শুকনো, তাই পাশাপাশি সামান্য বোঁদেটা বড় দরকার। তবে হ্যাঁ। জিভে মাঝেমধ্যে নোনতা পড়লে ভালোই হয়। এক কাজ করুন। ওই কুচোনিমকি আমায় একশোগ্রাম দিন। প্লেটে দেবেন না কেমন? ঠোঙায় দিন।
- তাই হোক। নিমকিটা কাল বিকেলের ভাজা। এই বয়ামে রাখলে অবশ্য দিনসাতেক তাজা থাকে।
- বহুত খুব। থ্যাঙ্কিউ। আপনি আমার লয়্যালিটি কিনে নিলেন। এরপর যতবার মানকরে আসব, ততবারে আপনার দোকানে আশ্রয় নেব।
- মনে রাখবেন স্যার, আপনি আমার লয়্যালটি কিনে ফেরত যাচ্ছেন। আসুন, এই আপনার ফ্রী নিমকি।