Wednesday, October 31, 2012

যেহেতু

যেহেতু এখন রাত এবং যেহেতু এখন অল্প শীত, এবং যেহেতু আমার গায়ে নরম কাঁথা, এবং যেহেতু আমার ঘুম আসছে না, এবং যেহেতু এক জাগতে কেমন লাগে, এবং যেহেতু আমার মন কেমন করে আসছে, এবং যেহেতু বাইরের অন্ধকার ঘরের ভিতর ছড়িয়ে পড়ে আমায় জাপটে ধরছে, এবং যেহেতু ভয়ের কোনও নিয়ম-কানুন হিসেব-কীতেব মেনে চলার রীতি নেই; সেহেতু আমি মায়ের কথাই ভাববো

যেহেতু অফিসে বেদম চাপ এবং যেহেতু বসের মেজাজ নিপাট আগুন, এবং যেহেতু সহকর্মীরা নিশ্চিন্তে খোঁচা মারছে, এবং যেহেতু ভীষণ একা হয়ে পড়েছি, এবং যেহেতু কপালের ঘাম ঘন ঘন মুছতে হচ্ছে, এবং যেহেতু গলাটা থেকে থেকেই শুকিয়ে আসছে; সেহেতু আমি মায়ের কথাই ভাববো

নয়তো, ফুর্তি-চিন্তায় আরামসে কেটে যায় দিন-দুপুর, সকাল-সন্ধ্যে-রাত। প্যাভলভ ব্যাটা শুধু গলা বেয়ে উঠে আসা কান্নার সাথে মায়ের হাসি-মুখ জুড়ে রেখে গ্যাছে।

Tuesday, October 30, 2012

মিউট বোতাম

মিউট বোতাম যে কী গভীর, কী উত্তাপ-ময়কানে শুধু মিঠে শব্দই মধু ঢালে না, নিস্তব্ধতাও হিমসাগরের মত মখমলে হতে পারে। মিউজিক সিস্টেম, রেডিও, টিভির বেয়াড়া-পনা কী স্বচ্ছন্দে স্তব্ধ করে দেওয়া যায়; বুড়ো আঙ্গুলের আলতো চাপে রেডিমেড স্তব্ধতাএ জিন্দেগিতে মিউট বোতামের যদি আরও ব্যাপ্তি থাকতো, তবে মাখনে ছুরির মত চলতো লাইফ

নাগরিক হৃদয়ের কোলেস্টেরল মাখা খাঁজ থেকে উঠে আসা বিবিধ মিউট বোতামের চাহিদাগুলো সাজিয়ে দেওয়া হলো:

স্ত্রীর বালুচরী-মুখী ঘ্যানর-ঘ্যানর মিউট করে দেওয়ার বোতাম

২। বসয়ের অমুক হয়নি-তমুক হয়নি-কিস্যু হয়নির ফিরিস্তি বন্ধ করে দেওয়ার মিউট বোতাম

৩। গড়িয়াহাটের মোরের বেদম ট্র্যাফিকি হই-হল্লা ঘ্যাচাং করার জন্যে বোতাম

৪। শাশুড়ির উপদেশের রেশন-দোকান মিউট করে ফেলার মিউট-অস্ত্র

৫। রবিবার সকল নটা পর্যন্ত কলিং বেল মিউট করার বোতাম

৬। বাথরুমে আয়েস করে দু-দন্ড নিজের রেওয়াজ সারার সময় বাথরুমের দরজার দুম-দুম ধাক্কাকে মিউট করে দেওয়া অতি জরুরি

৭। কোলেস্টেরল বিরোধী , আনন্দ-ধর্ষণকারি ডাক্তারদের বিজ্ঞ টিপ্পনী মিউট করে দেওয়ার বোতাম।

৮। সর্বোপরি, নিজের মাথার ভেতর যে আওয়াজটা মাঝে মাঝেই হুমকি দেয় “এত বদ কাজ করিসনে পচা, করিস নে, বাপ-মায়ের শিক্ষা কে অবহেলা করে স্বার্থ সর্বস্ব জানোয়ার বনে যাসনি”, তাকে মিউট করে কোতল করে দেওয়া; ফুর্তি-ময় জীবনের জন্যে অতি জরুরি

Thursday, October 11, 2012

পুজোর ছক

পুজো ইজ হিয়ার
মেদু-বৌদি হিল স্টেশন ও বালুচরীর প্ল্যানে মশগুল
মেদু-পুত্র বিল্টা লজিষ্টিকাল ছক কষছে রকমারি রকমারি রেস্তের রেষ্টুরেন্ট গমনের।  
মেদু-কন্যা গোপন দশমী ডেট ও মিনিতর মিনি-স্কার্টের প্রতি নিবেদিত প্রাণ।

তামাম বুদ্ধি একজোট হয়ে  পুজো ব্লু-প্রিন্ট কনক্রিট:

চতুর্থী শপিং।
পঞ্চমী তো অষ্টমি দার্জিলিং এন্ড ব্যাক টু ক্যালক্যাটা।  
অষ্টমী ডিনার টু দশমী লাঞ্চ তক আরসালান-মোকাম্বো-ট্যাঙ্গরা থেকে পিটার ক্যাট।
দশমী রাত্রে কন্যার অভিসার।
গিন্নী ঝকমক। পুত্র-কন্যা ডগমগম্যাডক্স স্কোয়ারে গ্রুপ ফটোমেদুদা এন্ড ফ্যামিলি- সহাস্যইস্টম্যান কালার মাখা পুজো মস্তি।

শুধু মেদুদার প্ল্যানটুকু আর খোলসা করা হলো না কারুর কাছে। মেদুদার ভারী ইচ্ছে ছিলো ভদ্রেশ্বরে পৈত্রিক ভিটেতে গিয়ে গোটা পুজোটা গ্যাট হয়ে বসে থাকা।

বাবার স্মৃতিমায়ের নরম আঙ্গুলে চুলে বিলি কেটে যাওয়ামায়ের হাতের ঝিঙ্গে পোস্ত, লাউ চিংড়ি। 
ছেলেবেলার পুজোর গন্ধপাড়ার আদুরে মণ্ডপচেনা মুখ চারিদিকেতুমি-তুই-আপনিতে জমজমাট। মণ্ডপ চত্তরে স্টেজ বেঁধে নাটক, খিচুড়ি ভোগ, অঞ্জলি, সন্ধি-পুজো, প্ংক্তি ভোজন, ধুনুচি নাচ, আড্ডা, বারোয়ারী বেগার খাটা, ভোগ পরিবেশন, সিদ্ধি, হাড়ি ভাঙ্গা প্রতিযোগিতা,  বিসর্জনের নাচ: শৈশব, কৈশোর এবং ফেলে আসা সহজ সরল ভালোবাসাগুলো। 

প্রতি বছরের বুক মুচড়ে ওঠা পুজোর প্ল্যান মেদুদারকোনও বারই খোলতাই করে ছেলে-মেয়ে-বউ কে বলে ওঠা হয় নাবাকি সবার কত রকমারি প্ল্যান। কত প্রস্তুতি
প্রতি বছর পুজোর ফ্যামিলি-ফটোতেনিজের শহীদ-শারদ-ইচ্ছেগুলোকে ছয় সেন্টিমিটারের ক্যামেরা-অনুগত হাসিতে ঢেকেবুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন মেদুদা
বয়েস মা আমি তোমার কাছে যাবোবলার অধিকার,  বহু আগেই লোপাট করে দিয়েছে 

বাইশের দুই বিনোদ দত্ত লেন

- কাকে চাই? - ম্যাডাম, এ'টা কি অমলেশ সমাদ্দারের বাড়ি? - ওই ঢাউস নেমপ্লেটটা চোখে পড়েনি? ও'টায় কি অমলেশ সমাদ্দার লেখা আছে?...