Saturday, September 23, 2017

আড়াই সেকন্ড

আমি চারদিকে অন্ধকার দেখতে পাচ্ছি। 

না মানে, আমি বলতে চাইছি যে আমি কিছুই দেখতে পাচ্ছি না। 
নিকষ। 
নিশ্ছিদ্র। 
কানে যে গম্ভীর শব্দের ঝমঝমে শব্দের আসা যাওয়া, সে'টা নিশ্চয়ই সমুদ্রের ঢেউ। 

মুখে ফুরফুরে হাওয়া। অল্প ভেজা। 
পায়ের নিচে বালি। তা'তেও সামান্য ভেজা ভাব।  সৈকত। বেশ। বেশ। 

যাক। স্পষ্ট হচ্ছে ব্যাপারটা। পায়ের পাতায় বার বার জল ছুঁয়ে যাচ্ছে, পায়ের তল থেকে বারবার বালি সরে যাওয়ার অদ্ভুত শিরশিরানি। 

অন্ধকারের গুমোট কালচে ভাবটা কেটে গিয়ে তা'তে নীল মিশতে শুরু করেছে। কানেও ঢেউ বাদ দিয়ে অন্যান্য শব্দ ঢুকতে শুরু করেছে:

গেলাসে ডিম ফাটিয়ে চামচ দিয়ে নাড়ার খটখট শব্দ। 
"আপনার হাতে কি ও'টা আনন্দবাজার নাকি"? 
"পইপই করে বলেছিলাম মাদুর ক্যারি করতে"।
"বাবু, চা দিব"? 
"ঢাইকিড়িকিড়ি"।   

অন্ধকারের বেলুন ফুটো করে দু'টো একটা আলোর দানা ভেসে উঠতে শুরু করেছে। নিথর ঠাণ্ডা অনুভূতিটা কেটে গিয়ে বুকের ভিতরের আনচানটা টের পেতে শুরু করেছিলাম সবে। পিঠে একটা জব্বর ধাক্কা এসে পড়াতে অন্ধকারটা এক ধাক্কায় উবে গিয়ে চোখ ঝলসে গেল। 

পায়ের টনটনে ব্যথাটা ফেরত এলো। ঘামের গন্ধ। ঢেউয়ের শব্দ উবে গেল মাইকের কড়া আওয়াজে; 
"আমাদের পুজো কমিটির পক্ষ থেকে, দূরদূরান্ত থেকে আগত সকল দর্শনার্থীকে জানাই আন্তরিক শারদ শুভেচ্ছা..."! 

লাইন ফের এগোতে শুরু করেছে। আমি আড়াই সেকন্ডের ঝিমটিতে হাফ পদক্ষেপ পিছিয়ে পড়ায় লাইনে আমার পিছনে দাঁড়ানো ভদ্রলোক ভারি মনঃক্ষুণ্ণ হয়েছেন বোধ হয়। । 

আর ভাই।

Note to self. 

পুজোর ছুটি টুক করে শেষ হয়ে যাবে ভাই।

ফলত;

১. অফিসের পেন্ডিং ফাইলপত্তরগুলো মা ট্রাঙ্কে করে হিমালয় নিয়ে যাবেন না।

২. পুজোর ছুটির পর বস ডেস্কের ওপর নারকোল নাড়ু সমেত টিফিন বাক্স রেখে অপেক্ষা করবেন না।

৩. অফিসের কোনও কল্যিগ এগিয়ে এসে বলবেন না "পুজোর ক'দিন খুব লম্ফঝম্প গ্যাছে, তাই না ভাই? একটু জিরিয়ে নাও।  এক্সেল ফাইলটা আমি সামলে নিচ্ছি। আমি বরং তোমার জন্য একটু ডাবের জল আনিয়ে দিই। কেমন"?

৪. অফিসটাইমের ভিড়ে শিউলির গন্ধ লেগে থাকবে না।

৫. কাশফুলের জেপেগ ইমেজ দেখে অফিস ইনবক্সের আনরেড ইমেল সংখ্যা কমানো যাবে না।

অতএব।

"পুজো আসছে, আই ক্যান্ট কীপ কূল" বলে কলার তুলব না।

Friday, September 22, 2017

পুরনো লেখা।

চিঠি লেখাটা অম্লানের অভ্যাস ও বাতিক।

ডিনারের পর। রোজ।
মিনিমাম দু'টো। ম্যাক্সিমাম চারটে।

সমস্তই সুতপার জন্য লেখা। সবগুলোই পোস্ট হয় রাতের ছাতের কোণ হতে নিচের ফুটপাথের দিকে। যেমন সুতপা নেমেছিল বছর কয় আগে। সে অবিশ্যি চিঠিদের মত ভেসে ভেসে নামেনি, সে নেমেছিল এক ঝপাতে। শেষ ঝপাতে।

খামে লেখা নাম ঠিকানা;

সুতিদেবী

ফুটপাথ, ল্যাম্পপোস্ট আর শিবুর পান দোকানের মাঝামাঝি, কলকতা ৭০০০৬৮।

তবে।
অভিমান কি সহজে ভোলার? রোজ আসেন সুতপা। চিঠি পোস্টের সময় যদি অম্লানকে ঠেলে ফেলে দেওয়া যায়, ছাত থেকে ওই ফুটপাথে।
ল্যাম্পপোস্ট আর শিবুর পান দোকানের মাঝামাঝি।

কিন্তু রোজকার লোভ আটকে দেয় সুতপাকে।

কালকের চিঠিতে কী কান্না বেশি না খুনসুটি? দুপুরের স্মৃতি? রাতের গল্প? সঞ্জীব কোটেশনে না বাউল সুরের গল্পগাছা?

চিঠির লোভে ক্রমশ পিণ্ডদান অনুভব করে চলে সুতপা।
প্রতি চিঠি ভাসিয়ে দেওয়ার সময় ঘাড়ে শীতল স্নেহ অনুভব করে অম্লান।

টুথপিকিফিকেশন

- মিস্টার ডেথ!

- কী চাই?

- টুথপিক হবে?

- কী? টুথপিক?  আপনি আমার কাছে টুথপিক চাইছেন চোক্ক? আমি অন্ধকার! আমি বরফশীতল। আমিই আবার গনগনে আঁচ। আমি খুনে। আমি রক্তমাখা। আমি...।

- অথচ টুথপিক নেই? মাইরি!

- বাইপাসের পেশেন্ট হয়ে রাতে মাটন ঠেসে শুয়েছেন! অথচ আমার কাছে কিনা...।

- আছে? টুথপিক?

- প্রাণ ক্যাপচার করে ঘুড়ির মত ওড়াই তাহলে?

- প্রাণ সটকে নিলে আর টুথপিকের দরকার কিসের? আমার উইন উইন। আছে টুথপিক? না থাকলে আই ডেয়ার ইউ...।

- ডেয়ার কীসের!

- প্রাণ সরিয়ে নিন। মাইরি, জিভ পড়ছে একটা দাঁত অথচ আঙুল সেই দাঁত শুধু আঙুলে লোকেট করা যাচ্ছে না। আছে নাকি ভাই? টুথপিক? না থাকলে তুলে নাও।

- আমি এখনও ভাবতে পারছি না। আমার কাছে টুথপিক চাওয়া?

- নেই, তাই না ভায়া?

- না নেই!

- খুনে অথচ কী ইনএফিশিয়েন্ট।

- সরি চক্কোত্তিদা। আপনার ছেলের ঘরে আছে? তাহলে খুঁজে এনে দিই।

- ওর বিছানার মাথার কাছের দেরাজের নিচের ড্রয়ারে। কেমন?

- আচ্ছা।

- ও কী ভাই! অমন মন খারাপ করে যাচ্ছ কেন? টুথপিক এনে দিয়ে না হয় আমার হাপিস করে দিও। একটা টুথপিক ছাড়া এ জীবনে আর কিছুই চাহিদা ছিল না।

- নাহ। আজকে আপনার আত্মা নেওয়ার প্ল্যান ড্রপড। টুথপিক এনে দিয়ে আমি চলে যাব। আপনার তো সবে নাইনটু ট্যু চলছে, বছর পাঁচেক পরে আসব'খন।

- চেঞ্জ অফ মাইন্ড? হঠাৎ?

- আমার কেন রাত্রে টুথপিকের জন্য মন হুহু করে না চক্কোত্তিবাবু? আমার খুব চিন্তা হচ্ছে, আমি কি জ্যান্ত? কোনওদিনও জ্যান্ত ছিলাম? একটা টুথপিকের জন্য প্রাণপণ কেন করতে পারি না? ইন্ট্রোস্পেকশনে চললাম। আপনি আমার ক্লায়েন্ট। অন্য কোনও ডেথ এজেন্ট আপনকে টাচ করবে না আমি ফেরা না পর্যন্ত।

- ও কী ভাই বরফশীতল ডেথ? তুমি নিজেকে টুথপিকিফাই করতে পারোনি বলে কাঁদছ? এ কী বাবু!

Thursday, September 21, 2017

বাবায় বাবায়

- ক'টা বাজে স্যার?
- ইয়ে, বাবা!
- ক'টা বাজে?
- ক'টা বাজে বলো তো?
- ঝাপসা লাগছে? ঘড়িটা? ইডিয়ট!
- সরি।
- ছিঃ ছিঃ ছিঃ!  তোর এদ্দূর অধঃপতন রে বিল্টে?
- না মানে...।
- রাত একটায় মদে টং হয়ে বাড়ি ফিরেছিস? এই দিনও আমায় দেখতে হল?
- সরি।
- আজ তোরই একদিন কি আমারই একদিন!
- বাবা! জলের বোতলটা এগিয়ে দেবে?
- তোমায় চৌবাচ্চায় নিয়ে গিয়ে চুবিয়ে আনব। বাপকে অর্ডার করা হচ্ছে?
- প্লীজ।
- এই নে। গেল্! আর একদিন যদি দেখি তাহলে বাড়ি থেকে বের করে দেব!
- বুবলু ঘুমিয়েছে?
- নয়ত কি তোমার বেলেল্লাপনা দেখার জন্য জেগে বসে থাকবে? পিঠের চামড়া তুলে নেওয়া উচিৎ তোমার!
- বাবা! বুবলু জেগে যাবে।
- সরি।
- জানো বাবা!
- জুতোটা খুলছি। একটু কুওপরেট করুন স্যার।
- বাবা।
- ডিনার করেছিস?
- ইয়েস বস।
- আজ সোফাতেই শুয়ে থাক। কাল ভোরে উঠে ডেটলে স্নান করবি।
- থ্যাঙ্কস। বাবা...।
- ইয়েস বল্টে!
- আজ ফাইনাল হয়ে গেল।
- জানি। মিতুল আমায় ফোন করেছিল। পরশু আসছে বুবলুকে নিতে।
- কোর্টে দেখা হল। ও কাঁদল। কিন্তু কিছুতেই ওর সামনে আমি কাঁদতে পারলাম না।
- কিন্তু নবাবপুত্তুর মদটা বেশ গিলতে পারলে!
- আসলে...বুঝতে পারছিলাম না। বিশ্বাস হচ্ছিল না যে বুবলু থাকবে না...।
- দিব্যি থাকবে। মিতুল তোর চেয়ে অনেক বেশি রেস্পন্সিবল। আমাদের দু'জনের আন্ডারে থাকলেই বরং ছেলেটা ক্যালাস তৈরি হত।
- হুঁ। আসলে মিতুল যদি একটু বুঝতে পারত...।
- আই সাপোর্ট মিতুল ওভার অ্যান অ্যাস্পায়ারিং মাতাল। এনি ডে।
- সপ্তাহে একদিন ওর সঙ্গে দেখা হবে।
- আমার একটাই চিন্তা রে বিল্টে। মিতুলের বাড়ির রান্নার কোয়ালিটি এমন টেরিবল। ছেলেটার টেস্ট বাডগুলো ব্ল্যান্ড হয়ে যাবে।
- হ্যাঁ। সে'টাই যেন একমাত্র সমস্যা!
- সিগ্নিফিকেন্ট সমস্যা। তোর শাশুড়ির হাতের আলুপোস্ত খেয়েছিস তো। স্ক্যান্ড্যালাস। পুলিশে দেওয়া উচিৎ ভদ্রমহিলাকে।
- এক্স-শাশুড়ি। আর বাবা প্লীজ।
- হুঁ। এক্স।
- আমার বুবলুর জন্য বেশ কষ্ট হবে জানো। হি ইজ দ্য বেস্ট।
- আমার তোর জন্য কষ্ট হচ্ছে। তবে সরি, ইয়ে, বুবলু ইজ ভেরি গুড বাট নট দ্য বেস্ট। বুবলুর বাপ মাতাল, তোর বাপ রান্না-শিল্পী। তোর দিকে অ্যাডভান্টেজ।
- হেহ্।
- আমার খাটে গিয়ে শুয়ে পড়। আমি বুবলুর পাশে যাই। যেত পারবি না এসকর্ট করতে হবে রে রাস্কেল?
- পারব।
- বিল্টে।
- ইয়েস ফাদার?
- পরশু বুবলু যাওয়ার পর আমায় একটা বারে নিয়ে যাবি?
- তোমার তেমন অধঃপতনে আর কেউ না হোক মিতুল দুঃখ পাবে।
- হুঁ। তাহলে শ্যামল মিত্রই ভালো। নেহ্, শুয়ে পড়।

Tuesday, September 19, 2017

ফার্স্ট ফ্লাইট

- নমস্কার।
- হুঁ।
- তুমি নমস্কার বললে না তো?
- জ্বালিও না খোকা।
- ম্যানার্স শেখোনি?
- ভারি ডেঁপো খোকা তো! যাও যাও। জ্বালিও না।
- তুমি এত রেগে আছ কেন?
- তা'তে তোমার কী? এত্তটুকুন ছেলে, গুরুজনদের রেস্পেক্ট দিয়ে কথা বলতে শেখোনি?
- এতটুকুন? আমি এতটুকুন? আমি তোমার চেয়ে কত্ত বড়!
- সে তো সাইজে। দশাসই চেহারা থাকলেই বড় হওয়া যায়? তোমার বাবা মা তাই শেখাচ্ছে বুঝি?
- না তা নয়। আচ্ছা, আমার বয়স নয় বছর। তোমার বয়স কত?
- আট।
- তা'ও বলবে তুমি আমার গুরুজন?
- আচ্ছা মুশকিলে পড়া গেল। এক ঘটি জল কি আধ বালতির চেয়ে বেশি?
- না তা নয়...।
- তুমি মানুষ, আমি পাখি। তাও বদ্রি পাখি। আমার আট মানে তোমার আশি। আমি মানুষ হলে তোমায় বলতাম ছুট্টে  গিয়ে আমার জন্য চশমা আর খবরের কাগজ নিয়ে আসতে। আমার বয়সে এসে তুমি খিটখিটেমোর এভারেস্ট হয়ে উঠবে।
- সরি। কিন্তু তুমি এত ছটফট করছ কেন?
- সে আমার দরকার আছে।
- কীসের?
- বড় প্রশ্ন করে তো ছেলে। এত জেনে তোমার কী হবে?
- কীসের অপেক্ষা?
- উড়ব।
- বেশ তো! খাঁচা খুলে বের করে দিই তোমায়?
- ভারি বদ ছেলে তো তুমি!
- যাব্বাবা। ভালো করতে চাইলাম তো।
- বাপের জন্মে উড়েছি? এই যে ডানা জোড়া দেখছ, এ' তোমাদের খবরের কাগজের মত; জঞ্জাল। খাঁচার বাইরে বেরিয়েছি কী হুলোর পিকনিক! জন্মেছি খাঁচায় রাখা মাটির পাত্রে। খাঁচাই আমার পৃথিবী। তোমার যেমন কলকাতা। বা কাবুলিওলার যেমন খোঁকি। বা অর্জুনের যেমন কৃষ্ণর আড়াল।
- তা'হলে উড়বে কী করে?
- কাল স্বপ্ন দেখলাম।
- কী স্বপ্ন?
- জঙ্গল, সবুজে সবুজ! বড় গাছের পাতা কালচে সবুজ,  মাঝারি গাছের পাতা ফ্যাকাশে সবুজ আর ঘাসেরা  উজ্জ্বল। জঙ্গলের গা বেয়ে সরু নদী বয়ে চলেছে, তিরতিরে স্বচ্ছজল। বাতাসে শ্যাওলা আর ভেজা মাটির গন্ধ। স্পষ্ট দেখছিলাম, শুঁকছিলাম! অথচ এগুলো আমার দেখার কথা নয়। আমি তো ব্যালকনির খাঁচাতেই কাটিয়ে দিলাম জীবন।
- তারপর? আর কী দেখলে?
- আকাশ! নীল! ঝকঝকে নীল! চোখ ধাঁধানো নীল। আরও কী দেখলাম বলো তো খোকা?
- কী?
- দেখলাম আমার ডানায় রোদ্দুর, নখের তলায় হাওয়া! হাওয়া! ভাবতে পারছ? আমি ভাসছি,হাওয়ায়! নিজের ডানার শব্দ নিজের কানে ঝাপ্টা মারছে। উড়ছি! উড়ছি! আর...আর..।
- আর? পাখি?
- আমি একা নই!
- একা নও?
- না! আমারই পাশে পাশে যে উড়ছে সে আমারই মত, একই মুখ প্রায়। পালক আমারই মত হলুদ। শুধু আমার চাইতে ভালো। কী ভালোই না সে। মনখারাপ করা ভালো।
- পাখি? কাঁদছ? কষ্ট হচ্ছে?
- খোকা, চারদিকে সবুজ। আর সে সবুজের মাথায় ঝকঝকে নীল। সেই শ্যাওলা আর ভেজা মাটি মেশানো গন্ধ...।
- এ'খানে তো এখন মেঘলা আকাশ, মেঝে সদ্য মোছা হয়েছে, ফিনাইলের গন্ধ।
- খোকা,আমি পাচ্ছি। দেখছে পারছি, স্পষ্ট। উড়তে পারব এ'বার খোকা। মা এসেছে..। মা। আকাশের মত।
- পাখি?
- খোকা,অনেক অনেক দিন পর আবার তোমার সঙ্গে দেখা হবে। কেমন? যখন তোমার মাথার আকাশ ঝকঝকে নীল, তাকিয়ে দেখো। আমি আর মা, সেই আকাশে ঠিক থাকব। এ'বার আসি।

Monday, September 18, 2017

ফুলের ভয়

- আপনার ফুলের ভয় আছে?
- আমায় বলছেন?
- অফ কোর্স।
- আপনি আমায় চেনেন?
- অচেনা মানুষের থেকে প্রশ্ন এক্সেপ্ট করেন না?
- প্রশ্নটা কী যেন?
- আছে? ফুলের ভয়?
- ইউ মীন, বোকাদের ভয়?
- না। ফ্লাওয়ার। ভয় করে না?
- সে কী! কেন করবে?
- করে না?
- কোন ফুল?
- র‍্যান্ডম। যে কোনও ফুলের ভয় হতে পারে।
- করে না। কী অদ্ভুত খারাপ প্রশ্ন!
- কী বিশ্রী মিথ্যে কথা।
- এক্সকিউজ মি?
- বিশ্রী। মিথ্যে কথা।
- আমি ফুলে ভয় পাই?
- দীপকবাবু, পান। ডেফিনিটিলি পান।
- যত্তসব আপদের পাল্লায় পড়তে হয়।
- গন্ধরাজ গাছটা দীপকবাবু। সে'খানে আপনার ফেরত যাওয়ার কথা ছিল।
- আপনি কে?
- মিথ্যে কথা মোটে কাজের কথা নয় দীপকবাবু।
- আপনি কে?
- সে বড় একা দীপকবাবু। আপনার ফেরত যাওয়ার কথা ছিল। বিকেলবেলা। সেপ্টেম্বরই ছিল বোধ হয়।  গন্ধরাজ গাছটার ও'খানে। সে অপেক্ষা করছিল।
- আপনি..আপনি ওকে চিনলেন কী করে? আপনি কে? দেখুন...!
- সে ভালো নেই। আর আপনি একটা ইউসলেস। আর ভীতু। সেই, ফুলের ভয়। গন্ধরাজের ভয়।
- আপনি কে?
- বাগানটার জায়গায় এখন ফ্ল্যাটবাড়ি দীপকবাবু। গন্ধরাজ গাছ সাফ।
- আপনি...আপনার গায়ের পারফিউমটা...আপনি?
- আমি ওকে চিনি, আপনার ভয়কে চিনি। আপনার কলার টেনে ধরতে এসেছি।
- কে আপনি?
- গন্ধরাজের ভূত হতে নেই দীপকবাবু?

Sunday, September 17, 2017

মহারাজ ও নিমুভূত

- রাজামশাই!
- কে?
- আমি নিমু।
- নিমু কে?
- ভূত।
- ভ..ভূত?
- আজ্ঞে।
- তা আমার শোয়ার ঘরে আসার গুস্তাখি কেন?
- তা ভূতের আবার গুস্তাখি কী! হাওয়া ভেসে বেড়াই তো।
- তুমি জানো আমি তোমায় কোতল করাতে পারি?
- ভূতকে কোতল?
- যাহ্। তাই তো। বন্দী করে রাখতে হবে।
- হাওয়া তো। দিব্যি গলে যাবো।
- চোপ! যত বড় মুখ নয় তত বড় কথা! গলে যাবো! আর কোথায় আছিস রে তুই?  দম থাকলে সামনে আয়! অ্যাই সান্ত্রী!
- আমি স্কন্ধকাটা,  মাথাই নেই তো মুখ। আর সান্ত্রীকে ডেকে লাভ নেই।
- লাভ নেই মানে?
- আপনি ঘুমিয়ে। স্বপ্ন দেখছেন। আমি দুম করে মানুষের সামনে উদয় না হয়ে স্বপ্নে আসি। সুবিধেজনক।
- হোক স্বপ্ন। রাজার স্বপ্ন বলে কথা। সহবতে ফাঁকফোকর দেখলেই চট করে বন্দী। তারপর নির্মম অত্যাচার।
- বেশ বিপদে ফেললেন দেখছি।
- রাজার স্বপ্নে বা শোওয়ার ঘরে কোনও চালাকি নয়।
- তা'হলে আসি।
- রুকো!
- ডাকলেন? রাজামশাই?
- এসেছিলে কেন ভাই?
- আপনি গান ভালোবাসেন?
- চুপ! চুপ!
- সে কী! কেন?
- কে তুই বেয়াদপ? বেসুরবেগান রাজ্যের রাজাধিরাজের সামনে তুই গানের কথা বলছিস? অ্যাইই জল্লাদ!
- স্বপ্ন তো। আপনার স্বপ্ন। সে'খানে শুধু আপনি, এই বিছানা আর আমি; নিমু। জল্লাদ পাবেন কই?
- স্কন্ধকাটা নিমু।
- ঠিক।
- ভাই নিমু, স্কন্ধকাটারা কথা বলে কী ভাবে? মুখ যেহেতু নেই..।
- মুখ না থাকলে বুঝি কথা বলা যায় না?
- যায়?
- আপনি যে মনে মনে একটানা গুনগুন করে যান, সেই বেলা?
- গান? বেসুরবেগানের রাজার বিরুদ্ধে গান গাওয়ার অভিযোগ? সেনাপতি!  অ্যাই সেনাপতি! সৈন্যবাহিনীকে হুকুম দাও নিমুর বিরুদ্ধে যুদ্ধে যাবে।
- আরে স্বপ্নে আপনি সেনাপতিকে পাচ্ছেন কোথায়? ধ্যাত্তেরি। যাক গে, আমি চলি।
- খবরদার! আমি অনুমতি দিয়েছি যাওয়ার? রাজার হুকুম ছাড়া কাজ? এত সাহস? তোর ঘাড়ে ক'টা মাথা রে বেয়াদপ?
- বলব? আমার ঘাড়ে ক'টা মাথা?
- ওহ হো। কিছু মনে করলে ভাই?
- কিছু বলবেন?
- ওই গান নিয়ে কী বলছিলে যেন?
- ভালোবাসেন? গান?
- গানের কথা শোনাও যে পাপ! এ দেশে কেউ গান গাইলে কোতল করার আইন আছে।
- আপনি তো রাজা। আইন আপনার।
- পাগল নাকি! এ রাজ্যে কারুর গলায় সুর নেই। সবাই মিলে গান ধরলে পাশের রাজ্যে ভূমিকম্প হয়, তারা সেনা পাঠিয়ে আক্রমণ করে! কামানের গোলায় দেশ উজাড় করে দেয়।
- কামানের গোলার ভয় গান ছাড়বেন? মহারাজ?
- আমাদের সুর নেই যে!
- গান তো আছে। বেসুর হোক, আপনাদেরই তো। গান ছাড়লে রইবে কী?
- গা...গান ছাড়ব না?
- মায়ের হাতের মাছের ঝোল মুখে রোচে না বলে মাকে হিমালয়ে পাঠিয়ে দেবেন?
- গান। মা।
- তাই তো!
- বেশ করব বেসুরে গাইব। আমরা সবাই বেসুরে গাইব, কার বাপের কী? আমার গান আমি গাইব!
- মহারাজের জয়! গানের অভাবে এ রাজ্য থেকে ভালো ভূতেরা পালিয়ে যাচ্ছিল। আমিও যেতাম, তবে পালানোর আগে ভাবলাম একবার দেখা করে আসি গিয়ে।
- ভালো ভূত?
- গানের বেসুরে যাদের টিকে থাকা। দুপুরের আয়েসি মেজাজের বেম্যদত্যি, বিকেলের মনখারাপি আনচানের শাঁকচুন্নি, রাতের ঘুম না আসার এ'পাশ-ও'পাশের স্কন্ধকাটা!
- আমি থাকতে আমার রাজ্য থেকে ভালো ভূতেরা বিদেয় নেবে? এত সাহস?
- ধরবেন? গান?
- মহামন্ত্রী! তুরন্ত একটা হারমোনিয়ামের ব্যবস্থা করো!
- স্বপ্ন মহারাজ! এ'টা স্বপ্ন! ঘুমটা ভাঙুক আগে।

**

- বাবা! সকাল সকাল কোথায় চললে? আজ রোববার তো!
- জরুরী কাজ!
- কী কাজ?
- হারমোনিয়াম খরিদেগা বিলু।
- সে কী! তুমি ফের গান গাইবে? মা মামাবাড়ি চলে যাবে আমায় নিয়ে, ও'দিকে একতলার মন্টুকাকা বলেছে ফের তোমায় গাইতে শুনলে পুলিশে খবর দেবে।
- বিলু! তুই ক্লাস সেভেনে উঠেও থার্ড ম্যান আর গালি গুলিয়ে ফেলিস, তাই বলে কি আমি তোকে হস্টেলে রেখে এসেছি?
- কীসের সঙ্গে কীসের তুলনা!
- বিলু রে, আমার ভিতরের ভূতগুলো সুটসাট্ কেটে পড়ছে রে। গান আমায় গাইতেই হবে।
- ভিতরের ভূত?
- তোর সঙ্গে নিমুর আলাপ করিয়ে দেব একদিন। এখন আসি। কেমন?

Wednesday, September 13, 2017

কিছুই না


কিডনি মিমগুলো কাশফুলের মত মাথা দোলাচ্ছে আইফোনএক্স না কিনতে পারার হুহু বাতাসে। জানালার গ্রিলে গাল লেপ্টে এমন ভাবে উদাস হতে ইচ্ছে করছে যাতে মনে হয় কত জন্ম জুড়ে আমি বাঙালি হয়ে আছি। 

মনখারাপ হলে পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন বানিয়ে ফেলা উচিৎ চটপট। টাইটেল স্লাইড; আ ব্রীফ ওভারভিউ অফ ধুরকাঁচকলাইজড মাইন্ড। তারপর ফ্লো অফ প্রেজেন্টেশন; হোয়াট ইজ ধুরকাঁচকলাইজড মাইন্ড, সিম্পটমস আর রিমেডিস।

সেই পিপিটি অটো-প্লেতে চালিয়ে, কম্পিউটারের সামনে বসে হারমোনিয়াম বাজিয়ে শিব্রামগীতি ধরা উচিৎ। হারমোনিয়াম বাজাতে জানতেই হবে এমন কেউ দিব্যি দেয়নি, তবে রিডে হাত রাখলে কনফিডেন্স আসে। মনে হয় গিলোটিনের গায়ে গেঞ্জিজাঙিয়া শুকোতে দেওয়ার দম রাখি কলজেতে।


- কাকা, দু'টো চা।
- একা আছো তো!
- দু'টো চা। আমার জন্য। এক কাপে রিফিল নয়। ট্যু সেপারেট গেলাসেস। একটা বিস্কুট ডুবিয়ে খাওয়ার, অন্যটা ডাইরেক্ট।
- ডেলি প্যাসেঞ্জারি করে তোমার মাথাটা গেছে।

এ এক অদ্ভুত রোগ। সবসময় যেন কেউ পিছন থেকে 'এই যে বাবা রবার্ট ব্রুস'' বলে ডাকছে। ঘাড় ঘুরিয়ে তাকালেই দেখা যাবে নীল চেক হাফশার্ট আর খয়েরি প্যান্টের মাঝবয়সী ভদ্রলোক, উষ্কখুষ্ক চুল, গালে দিন চারেকের না কামানো দাড়ি।
আকাশ থেকে পড়তে হবে আমায় ; "আরে! বুম্বাদা না"?

"যাক চিনতে পেরেছিস" বলে বুম্বাদা পিঠে জমকালো থাবড়া বসাবে। পাপাইয়ের খবর শুনে মুখ কালো হয়ে যাবে। স্ট্র‍্যান্ড ঘাটের আড্ডার কথা শুনে নিঃস্পৃহ 'চুক্' শব্দ করবে। জানাবে সিগারেট এ'বারে সত্যিই ছেড়েছে। পুরনো ঠাট্টার কথা মনে করে 'হো হো'র বাড়াবাড়ি করবে।

অথচ। ঘাড় ঘোরানো গেল না এতদিনেও। যদি বুম্বাদার বদলে পিজির ডাক্তার বেরিয়ে এসে বলে 'অনেক তো চেষ্ট হল'?

Friday, September 8, 2017

বল্টের প্রশ্ন

- আচ্ছা বাবা...।
- চুপ। মেডিটেট করছি।
- ইউটিউবে গান চালিয়ে?
- জগজিৎ তো মেডিটেশনের প্রপ। কোই ইয়ে ক্যায়সে বতায়ে কানে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে চারপাশের কোলাহল ডিসল্ভ করে যাচ্ছে।
- প্রশ্নটা দরকারি ছিল।
- বল্টে। চোপ্।
- জেনুইন কোশ্চেন।
- আমি জেনুইনলি নিজের সাবকনশাসের সুইমিং পুলে সাঁতার কাটতে চাইছি।
- বাবা...।
- তখন থেকে ব্যাব্যা ব্যাব্যা ব্যাব্যা! ক্লাস নাইনে আছিস তাই টিকে আছিস। অফিসে বস কান মুলে সিলিং ফ্যানে যখন টাঙাবে, তখনও ব্যাব্যাকে খুঁজবি?
- কিন্তু সমস্যাটা এত প্রেসিং...।
- প্রেসিং? কথায় কথায় এত ইংরেজি ঝাড়ার কী আছে? আর্জেন্ট বলতে পারিস না?
- আর্জেন্ট বাংলা?
- ওহহো। আর্জেন্টের বাংলা কী যেন রে বল্টে?
- আমি করি ফেলি? প্রশ্নটা?
- কথায় কথায় খালি প্রশ্ন। গুরুজনরা সামান্য রিল্যাক্স করে দেশের কথা দশের সমস্যা নিয়ে ভাববে তার উপায় নেই...।
- আমারই একটা সমস্যা ছিল।
- এ'সব মাইক্রো প্রবলেমে আমায় ইনভল্ভ করিস না বল্টে। ম্যাক্রো ভাব। দেশ, দশ।
- আমিও দেশের একজন। দশের একজন।
- জগজিৎ সিংয়ের শিষ্যদের এমন বেয়াদপ ছেলে জোটাটা ভারি অন্যায়।
- জিজ্ঞেস করি?
- ক্যুইক।
- কাল তো আমরা চন্দননগর যাচ্ছি। তিন দিনের জন্য।
- তোমার মেশো যতই ইউজলেস হোন না কেন, সূর্য মোদকের শহরে বাস করেন। ওর নিমন্ত্রণ পায়ে ঠেললে লেনিন পাপ দেবেন। কিন্তু এ'টা তো প্রশ্ন হল না বল্টুকুমার, স্টেটমেন্ট হলো।
- আমাদের আজকের ডিনার সারা।
- কাল চন্দননগর,  আজ ডিনার ওভার। ডিসজয়েন্ট স্টেটমনেট ডিয়ার জগজিৎ কিলার।
- তিন দিন বাড়িতে থাকব না। ফ্রিজ বন্ধ করে যাওয়াটা উচিৎ হবে।
- তোমায় মায়ের অকারণ গেরস্থালীস্ক স্কেপ্টিসিজম তুমি ইনহেরিট করেছ। তিনটে আনরিলেটেড স্টেটমেন্ট, প্রশ্ন নেই। আমার মেডিটেশন গামছা পরে রেডকার্পেটে হাঁটছে চাঁদু।
- বলছিলাম আচমকা নজরে পড়ল ডিপফ্রীজে একটা বাটিতে কিছুটা মাছের ডিম রয়েছে। অল্প পেঁয়াজ লঙ্কা। সামান্য টমেটো। তাই জিজ্ঞেস করছিলাম যে...।
- তোর মধ্যে একটা স্পার্ক রয়েছে বল্টে। সেই স্পার্কটা ধরে রাখতে হবে।
- বলছিলাম যে রাঙাপিসির বলা রেসিপিতে কাতলা মাছের ডিমের আলহাবিবিটা ট্রাই করব?  পোস্ট ডিনার বাড়াবাড়ি হবে? সে'টাই জানার ছিল।
- তোর মাকে পইপই করে বলেছিলাম তোর ভালো নাম হওয়া উচিৎ গজল চ্যাটার্জি। কেন যে বেমক্কা একটা বোরিং নাম বসিয়ে দিয়েছিল তোর বার্থ সার্টিফিকেটে।
- কিচেনে যাই?
- এগিয়ে যা, আমি সেটআপ তৈরি রাখছি। মাছের ডিম... তা'হলে জগজিৎ থেকে পান্নালালে শিফ্ট করতে হবে।
- ওউক্কে।
- আর ইয়ে, বল্টে...।
- কী?
- গোটা দুনিয়া চাইবে তোর প্রশ্ন করার অধিকারকে কান মুলে নীল ডাউন করিয়ে রাখতে। ডু নট লেট ইওর কোশ্চেনস ডাই।
- যাই? রান্নাঘরে?
- ক্যুইক। তুরন্ত। এখুনি।

Thursday, September 7, 2017

পুজো পুজো ভাব। 

পুজো পুজো ভাব। 

ঝকঝকে নীল আকাশের মত খাঁখাঁ ব্যাঙ্ক ব্যালেন্স। সাদা তুলোর বলের মত নার্ভাসনেস; পুজোয় যথেষ্ট ফুর্তি হবে তো?

ফুর্তি কী? চারিদিকে বাঁশ, হোর্ডিং। পা মাড়ানো সরি আর গুঁতোগুঁতির এক্সকিউজ মী। ঘাম আর কাবাবের সুবাস মেশানো মাথা ঝিমঝিম নিয়ে রেস্তোরাঁর সামনে অর্ধেক রাত অপেক্ষা।

আর একটানা চিন্তা।

মজা কি একটু কম হচ্ছে? বীরেন্দ্র ভদ্রের চেয়ে  টনি গ্রেগের কণ্ঠে অ্যাকশন বেশি ছিল বলে মনে হচ্ছে? যতটা ভাবা গেছিল ততটা আলোর বেণু বাজছে না? খবরের কাগজের বিজ্ঞাপনে কাশফুল দেখলেই পেন্ডিং ফাইলগুলোর কথা মনে পড়ছে?

"পুজো আসছে" ফ্লেভারটা দিব্যি। মনে হয় ল্যাজে সুড়সুড়ি লাগছে, বুকে ফুরফুরে হাওয়া। সপ্তমীতে ল্যান্ড করলেই মালুম হয় ল্যাজট্যাজ সব ফাঁকি; বন্যেরা বনে সুন্দর; লাফালাফি প্ল্যানিংয়ে।

ইয়ে পুজোর গ্লুকনডি ঝুঠা হ্যায় জনাব। ঝুঠা হ্যায়।

হ্যাপিনেস্

- আর ইউ হ্যাপি?

- আজ্ঞে? গুরুদেব?

- আর ইউ হ্যাপি?

- এই রে।

- আর ইউ নট?

- আসলে এই সেপ্টেম্বরের অকাল ঘামাচি এত ট্রাবল দিচ্ছে..।

- কলকাতায় তো ঘামাচিই নয়নতারা হে। গোটা বছরই সীজন। ও'টা ডিসকাউন্ট করে। হ্যাপি?

- ও'টা বাদ দিয়ে? তা মোটের ওপর ঠিকঠাক।

- ঠিকঠাক কি হ্যাপিনেস?

- এই রে। নয়?

- শাঁকালু কি হিমসাগরের সাবস্টিটিউট?

- ও। না মানে...বোনাস্ ঢুকলো বলে। ছেলেটার হাফ ইয়ার্লি রেজাল্ট মন্দ হয়নি। বৌয়ের অ্যপেন্ডিক্সটা সাইড করে দিয়েছি। সবেই মোটের ওপর স্টেবল।

- স্টেবলিটি কি হ্যাপিনেস?

- নয়? গুরুদেব?

- মিনিবাসের সীট কি ছাতে পাতা মাদুর ভাই?

- ও। হোয়াট ইজ রিয়েল হ্যাপিনেস? গুরুদেব?

- বলি সকাল সকাল খবরের কাগজ পড়ার বিষাক্ত অভ্যাসটা ছাড়তে পেরেছ চাঁদু? কী টূ রিয়েল হ্যাপিনেস?

- বেশ। তাহলে আশ্বিনের একটা ভালো দিন দেখে...।

Wednesday, September 6, 2017

ক্যানিবাল

ইভোলিউশনে একটা মেজর ফাঁক রয়ে গেল। শেষমেশ মানুষ ক্যানিবাল হলে অনেক সমস্যা এড়িয়ে থাকা যেত। 

আমরা সবাই নরখাদক নরখাদকেরই দুনিয়ায়।

যে'খানে সবচেয়ে বড় সুবিধে;
যদ্দিন মানবসমাজ থাকবে তদ্দিন খাদ্যাভাব থাকবে না। আর খাওয়ার চিন্তা না থাকলে তো সবই জলবৎ।

খুনোখুনিতে একটা সিস্টেম তৈরি হবে। খুনের মধ্যে থেকে খুনে ভাবটাই গায়েব হয়ে যাবে।

বন্যা বা অন্যান্য দুর্যোগে খাদ্যসামগ্রী পাঠানোর দায় বেশ সহজ হয়ে যাবে। সরকার স্রেফ দু'চারটে বোমারু বিমান বন্যাদুর্গত রাজ্যে পাঠিয়ে দিলেই ঝামেলা চুকে যাবে।

পোষা গুণ্ডাদের দুষ্টুমিতে দু'একটা লাশটাশ পড়ে গেলে সরকারবাহাদুর দিব্যি বলে দিতে পারতেন "দুঃখজনক, তবে ইলিশের দাম যে'হেতু কমছে না, নরদেহর সাপ্লাই  বেড়ে চলা মানে ফুড-ইনফ্লশন বাগে আনা"।

যুদ্ধটুদ্ধ বন্ধ হয়ে যেত। যুদ্ধজয় মানেই শত্রুদের খাবার সাপ্লাই দেওয়া। জিতলেও হার, হারলেও কেলো। যুদ্ধের কন্সেপ্টটাই বাদ যেত।

তাছাড়া গডসে টু আধুনিক চাপাতিওলাস; সবার পপুলার ফুডব্লগ থাকত।

চুমু খুব রিস্কি ব্যাপার হত অবশ্য। তবে পার্ফেক্ট কোন সিস্টেম কোথা কবে।