Saturday, November 18, 2017

কাগজের টুকরো

অন্তত পনেরো বছর পর বাপ্পাদার সঙ্গে দেখা।

দক্ষিণ পাড়ার সর্বকালের সেরা অফ স্পিনার বাপ্পাদা। বিনি পয়সায় পাড়ার কুচেকাঁচাদের অঙ্ক আর আঁকা শেখানো বাপ্পাদা। বুল্টিদির এক ধমকে চেনস্মোকার থেকে চুইংগাম সর্বস্ব বাপ্পাদা। পুজোয় ধুনুচি নাচ, ভোগ বিতরণ আর লক্ষ্মী পুজোয় আলপনা স্পেশালিস্ট বাপ্পাদা। ছোটদের থিয়াটারের ডিরেক্টর বাপ্পাদা।

সব ঠিকঠাক ছিল। ইনকাম ট্যাক্স ডিপার্টমেন্টে একটা চাকরী পেয়েছিল, বুল্টিদির সঙ্গে বিয়ে ঠিক। সাজানো গোছানো ছিমছাম। রঙ ওঠা ফ্যাকাসে গোলাপি বালিশের ওয়াড়ের মত ভালোলাগা চারদিকে।  আমরা মাঝেমধ্যেই বাপ্পাদার কাছে বৌভাতের মেনুর খোঁজখবর নিচ্ছি আর ওর থেকে "ডেঁপো ছেলের দল" মার্কা এন্তার কানমলা খাচ্ছি। ইন্টার-পাড়া ক্রিকেটে বাপ্পাদা উইকেট নিলেই বুল্টিদির ফর্সা কান দুটো টকটকে লাল হয়ে উঠছে।

আমরা সবাই বাপ্পাদা হতে চাইতাম। আমরা সবাই স্বপ্ন দেখতাম আমাদের লেখা কবিতার চিরকুট বুল্টিদির মত কারুর কেমিস্ট্রির বইয়ের বুকমার্ক হবে।

বাপ্পাদা-বুল্টিদির বিয়ে জানুয়ারিতে হবে বলে ঠিক ছিল। নভেম্বরের শেষের দিকে বাপ্পাদার বাবা স্বদেশ জ্যেঠু মারা গেলেন। সেরিব্রাল। আমরা বাপ্পাদাকে কাঁদতে দেখিনি; আগেও না, সে'দিনও না।

স্বদেশ জ্যেঠুকে পোড়ানো শেষ হয়েছিল সন্ধে সাতটা নাগাদ। বাপ্পাদা গোটা রাত গঙ্গার ধারে কাটিয়েছিল। সঙ্গে ছিলাম আমরা দু'তিনজন।
মাঝরাতের পর বাপ্পাদা গেম থিওরি নিয়ে ঘণ্টাখানেক আলোচনা করেছিল। ভোর তিনটে নাগাদ "চলি" বলে ঘাট ছেড়ে গেছিল, তারপর থেকে পনেরো বছর পাড়ার কেউ ওর দেখা পায়নি।

সেই বাপ্পাদা। হঠাৎ আবার। হাড় জিরজিরে চেহারা, একমুখ দাড়িগোঁফ। গলার স্বর ক্ষীণ।

আমায় চিনতে ওকে নিশ্চয়ই বেগ পেতে হয়নি। তবু প্রথম ঘণ্টাখানেক কোনও কথা বলেনি। দু'জনে চা খেলাম, ডিমভাজা কিনে অফার করতেও আপত্তি করলে না। বাড়ি ফিরেছে কিনা জিজ্ঞেস করাতে মাথা নেড়ে না বললে।

অনেকক্ষণ পর জিজ্ঞেস করল "তুই কেমন আছিস"?

সেই বাপ্পাদা। আমায় অঙ্কে ঠেলেঠুলে পাশ করানো বাপ্পাদা। সোমাকে লেখা গোপন চিঠির বানান ঠিক করে দেওয়া বাপ্পাদা। "তুই কেমন আছিস"টুকুতে গলার কাছে দলা পাকিয়ে ওঠাটা অস্বাভাবিক নয়।

অথচ বাপ্পাদার চোখে যেন কাচ বসানো। স্থির, অবিচল।
নিজের চাকরীর কথা জানালাম। ঘাড় নাড়া দেখে মনে হল অখুশি হয়নি।
"ট্যাক্স ফাঁকি দিস না কোনওদিন",  বেমক্কা জোর দিয়ে বলে ডিমভাজার প্লেটটা খটাস করে নামিয়ে রাখল মধুদার দোকানের বেঞ্চিতে।

"কোথায় চললে বাপ্পাদা? বৃষ্টি পড়ছে তো। অন্তত আমাদের বাড়ি চলো আজ"।

"উপায় নেই"।

"বাপ্পাদা প্লীজ, একবার ক্লাবে যাবে না? রুরু, তপুরা তোমায় দেখলে..."।

"চারদিকে ফড়ফড়িয়ে টেবিল ফ্যান চলছে রে"।

"টে...টেবল ফ্যান"?

"টেবিল ফ্যান। ফুলস্পীডে ঘুরছে। আর আমি...কাগজের টুকরো। যা বুঝলাম, বাবা পেপারওয়েট ছিল রে। বাবা যাওয়ার পর, আমার ভেসে যাওয়া ছাড়া উপায় ছিল না"।

"বুল্টিদি এখন ক্যানাডায়। ওর বর ওখানে..."।

"পেপারওয়েট। বুল্টি বেচারিও চিরকুট, তবে সে কাগজের গায়ে দামী ফাউন্টেন পেনে দরদী হাতের লেখায় কীটস কোট করা। আমার মত হিজিবিজি বাজারের ফর্দ নয়। আর যে'টা বললাম মনে রাখিস, ট্যাক্স ফাঁকি দিস না কোনওদিন। আর বানান ভুল নৈবচ। ডিমটা বড় ভালো ভেজেছিল মধুদা। তোর অ্যালজেব্রা আর ব্যাটিং স্টান্সের ঋণ শোধ হল। আসি, কেমন"?

মুখোমুখি বসিবার

- এক্সকিউজ মী!

- আমায়? আমায় বলছেন কিছু?

- আরে ক'টা লোক আছে এখন মেট্রোতে?

- অদ্ভুত। তাই তো। এই মাত্র ভিড় ছিল। এখন শুধু আপনি আর আমি।  স্ট্রেঞ্জ। 

- খবরের কাগজে মুখ গুঁজে থাকলে ওই হবে। ভিড়  আচমকা গায়েব। কামরায় শুধু আমরা দু'জনে। আর সমস্যাটা সে'খানেই...। 

- ওহ মাই গড! 

- যাক, ধরতে পেরেছেন তা'হলে!

- অবিশ্বাস্য! অভাবনীয়! 

- নয়ত আপনাকে ডাকলাম কেন বলুন!। 

- আপনি...আপনি অবিকল আমার মত।

- অথবা আপনি অবিকল আমার মত। 

- আমার দু'জনেই...। 

- সেম টু সেম। 

- ভাবা যায়?

- দশ মিনিট আগেও ভাবতে পারতাম না । কিন্তু এখন স্পষ্ট দেখতে পারছি। 

- অবিকল এক চেহারা। শুধু তাই নয়। একই পোশাক। একই চশমার ফ্রেম। আপনার গাল দেখে মনে হচ্ছে দাড়ি দু'দিন আগে কামিয়েছেন। 

- পরশু সকালে। করেক্ট। আটটা নাগাদ। 

- একদম তাই। গত পরশু সকাল আটটা নাগাদ। ভুল রেজার চালানোয় থুতনির কাছের কাটা দাগটা এখনও টাটকা আমার চিবুকে। 

- আমারই মত। আর আপনার বুকপকেটে ডালের ছিটে। 

- আপনার বুকপকেটের মতই । তাড়াহুড়োয় লাঞ্চ করতে গিয়ে...। 

- এগজ্যাক্টলি। তা'হলে কী বুঝছেন?

- দাঁড়ান। একটু ভেবে উঠতে দিন...মেট্রোটা কালীঘাট পেরোতেই...। বিস্ফোরণ। 

- ওহ হো!। মনে পড়েছে। ঠিক। বিস্ফোরণ। তবে কালীঘাট পেরোনোর পরে নয়, কালীঘাট ঢোকার মুখে। 

- না না, স্পষ্ট মনে আছে। কালীঘাট পেরোনোর পর। 

- ধুর। তা হবে কী করে? আমি রোজ সন্ধেবেলা টালিগঞ্জ থেকে চাঁদনী চক ফিরে যাই, কালীঘাটের ওপর দিয়ে। 

- এই সেরেছে। এ'টা তো মিলল না। আমি ফিরি কালীঘাটের ওপর দিয়েই তবে চাঁদনী চৌক  থেকে কালীঘাট। রিভার্স ডাইরেকশন।  

- লে হালুয়া! তা'হলে আমরা এক নই, আর আমাদের মেট্রো ট্রেন দু'টোও আলাদা। 

- মহামুশকিল। অথচ বাকি সব মিলে যাচ্ছে। আর দু'টো মেট্রোয় একই সময়ে বিস্ফোরণ! এত বড় কোইন্সিডেন্স? 

- বিস্ফোরণ বলে বিস্ফোরণ! আরডিএক্সে কাঁপিয়ে দিয়েছে মাইরি। 

- আরডিএক্স?

- টুয়েন্টি ফার্স্ট সেঞ্চুরিতে আপনি আরডিএক্সের নাম শোনেননি? টেররিস্টরা শুনলে কষ্ট পাবে। 

- টেররিস্টরা আরডিএক্স ব্যবহার করে বিস্ফোরণ ঘটায়? মানুষ মারতে?

- অবভিয়াসলি। হাফ কিলো আরডিএক্সে শুনেছি খান চারেক পাড়া নিকেশ হয়ে যেতে পারে। 

- গুলিয়ে যাচ্ছে মশাই। আরডিএক্সের নাম অবশ্যই শুনেছি। কিন্তু ও জিনিস তো আমরা লুচির পর খাই; মিনিমাম দেড়বাটি। মর্নিং ডেজার্ট আর কী। তবে আরডিএক্স পচে গেলে একটা বিশ্রী ব্যাপার ঘটে বটে...। 

- আরডিএক্স ডেজার্ট? গুল দেওয়ার একটা লিমিট থাকবে তো? 

- ওহ হো। গুল নয় স্যর। গুল নয়। এ'বার স্পষ্ট হচ্ছে ব্যাপারটা। 

- আপনি আরডিএক্স খান এ'টা আমায় বিশ্বাস করতে হবে?

- আলবাত। জলের মত স্পষ্ট তো। আমি আপনি একই তবে আমাদের পৃথিবী আলাদা। সমস্তই এক, শুধু পৃথিবী আলাদা। আর স্রেফ প্যারালালই নয়। কন্ট্রাস্টিং অর্থাৎ দু'টো দুনিয়া বিপরীত দিকে দৌড়চ্ছে । আপনার মেট্রোর রুট আমার উলটো। খেয়াল করে দেখুন আপনার দাড়ি কাটতে গিয়ে কেটেছে থুতনির ডান দিক, আমার ঘা বাঁ দিক। 

- বুক পকেটের দাগ যে একই দিকে। 

- আপনি কোন ডাল খেয়েছেন?

- আমি? মুসুরি। 

- আমি মুগ। 

- প্যারালাল ওয়ার্ল্ড?

- ওই যে বললাম জলের মত। আমার দুনিয়ায় আমিই আপনি। আপনার দুনিয়ায় আপনিই আমি। 

- বড্ড ঘোড়েল। তা ভিড় মেট্রোয় সেই ভয়াবহ বিস্ফোরণের পর কী হল?

- অত্যন্ত সরল! বিস্ফোরণের চোটে আমাদের দু'টো দুনিয়া ওয়ার্ম হোলে দলা পাকিয়ে গেল। এই আমি আর আপনি এখন মুখোমুখি। 

- আর আপনার পৃথিবীতে সবাই লুচির পর বাটি বাটি আরডিএক্স সাঁটায়? 

- আরডিএক্স নিয়ে কবিতা লিখতে লিখতে আমাদের কবিরা কেঁদে ভাসিয়ে দিচ্ছেন মশাই। রোম্যান্সের নদী বয়ে চলেছে আরডিএক্স নিয়ে। 

- তাহলে আপনাদের টেররিস্টরা বিস্ফোরণ ঘটান কী দিয়ে?

- পচা মিহিদানা, অফ কোর্স। দেড়শ গ্রাম পচা মিহিদানা চার্জ করে আমাদের নবালিতা জঙ্গি গোষ্ঠীরা একটা ট্রেন উড়িয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। 

Monday, November 13, 2017

গামছা

- শুনুন!
- কী চাই?
- অমন ধমকে কী চাই বলছেন কেন স্যর?
- আমায় স্যর বলার কী আছে? একে পাখি তায় আবার ফিঙে। কী চাই?
- যদি অভয় দেন তো বলি!
- ওরে আমার ন্যাকা রে। ক্যুইক। টেলিগ্রাফের তারে বসে আমার ন্যাকামি বরদাস্ত হয় না। ক্যুইক।
- বলছিলাম যে আপনার ল্যাজটা কি ফাঁকা আছে? গামছা মেলার ছিল। ভেজা।
- আমার ল্যাজে ভেজা গামছা?
- ভরসা বলতে তো ও'টুকুই।

**
খোকা রোজ দেখে বাবা অফিস থেকে ফিরে ভিজে গামছায় গা মুছছে। মিনিট দশেক লাগে সে গামছা চৌবাচ্চার জলে ভিজিয়ে রাখতে, মিনিট পাঁচেক গা মুছতে।
সবুজ লাল চেক গামছা। দেখেই মনে হয় কী মোলায়েম, কী আদুরে। কিন্তু গা মোছার পর বাবা গামছাটা যে কোথায় মেলেন সে'টা কিছুতেই ঠাহর করতে পারে না খোকা।

বাবাকে বেশ ম্যাজিশিয়ান মনে হয়। ভেজা গামছা গায়েব, শুকনো গামছা ওয়াপস। রোজ।

বাবা মাঝেমধ্যেই বলেন; "যারা ভিজে গামছা বরদাস্ত করতে পারে না, তাঁদের কিছুতেই ভরসা করবি না। সে ব্যাটারা দিব্যি মানুষ খুন করে গজল গাইতে পারে"।

Wednesday, November 8, 2017

ছুঁচ

মেজমামা থাকলে বলতেন "ইট ইজ আ বিউটিফুল মর্নিং"। আরও দু'একটা মন ভালো করা কঠিন ইংরেজি শব্দও থাকত বোধ হয়।

শুভেন্দুরও ঠিক তেমনটাই মনে হচ্ছিল। হাওয়ায় তিরতিরে শীত। কফির মনোরম উষ্ণতায় সেঁকে নেওয়া হাতের তালু। আকাশের নীলে রোদের সেলোফেন। নিখুঁত; ঠিক যেমনটা হওয়া উচিৎ। এফএমে কোন চ্যানেল যেন 'কোন সে আলোর স্বপ্ন নিয়ে' চালিয়েছে।

দীপার কপালে এলোমেলো চুল, চোখে অল্প ঘুমের রেশ তখনও লেগে রয়েছে। ভালো লাগার গ্যাস বেলুনে ঝুলে ভেসে যেতে ইচ্ছে করছিল শুভেন্দুর। 'আহা' না বলে 'অহো' বলতে ইচ্ছে করছিল।

ঠিক তখনই। বেলুনে ফুস শব্দে ঢুলে গেল ছুঁচ আর কফিতে পড়ল চোনা। আকাশের মন কেমনের নীল কেউ যেন বাথরুম-ফ্লোর-ক্লীনার ঢেলে ফ্যাকাশে করে দিল।

ছুঁচ কাম চোনা কাম ফ্লোর ক্লীনার মার্কা প্রশ্নটা ছিল দীপার।

- আচ্ছা শুভেন্দু, আমি কি ইরিপ্লেসেবল?
- উঁ?
- আমি কি ইরিপ্লেসেবল?
- আমায় জিজ্ঞেস করছ গো?
- এখানে আর কে আছে বসে?
- আই সী। আমায় জিজ্ঞেস করছ।
- আমি কি ইরেপ্লেসেবল? আমার অভাব কি তোমার অপূরণীয় মনে হবে?
- অফ কোর্স। অবশ্যই। ডেফিনিটলি। নিঃসন্দেহে।
- রিয়েলি?
- আলবাত। তাছাড়া একজন মানুষ কখনও রিপ্লেসেবল হতে পারে?
- ও। তাহলে কেউই তোমার কাছে রিপ্লেসেবল নয়।
- হ্যাঁ। মানে হিউম্যান এলিমেন্ট, দোষে গুণে সকলেই ইউনিক পারমুটেশন।
- বুঝলাম।
- ইয়ে দীপা, অমন রাগ করে 'বুঝলাম' বলার কী আছে!
- রাগ? রাগের কী আছে? তবে আমার ব্যাপারে তোমার পারসেপশনটা স্পষ্ট হল।
- তোমার ব্যাপারে আমার ইয়ে? তেমন কিছু বললাম নাকি?
- ন্যাকা সেজো না।  খুব সাটল কিন্তু স্পষ্ট ভাবে বলেছ। কেউই রিপ্লেসেবল নয়। প্রত্যেক মানুষের অভাবই অপূরণীয়। আর আমিও তোমার কাছে আর পাঁচটা মানুষের মতই।
- যাহ্। এ'টা কখন বললাম? এক্স প্লাস ওয়াই আর এক্স মাইনাস ওয়াই কে মিশিয়ে সাইমালটেনিয়াস ইকুয়েশন কষা সম্ভব। এক্স প্লাস ওয়াই আর জেড মাইনাস ডাব্লু মেশালে কিস্যু পাবে না গুরু।
- প্রথমত, আমি তোমার কাছে আর পাঁচ জনের মতই। দ্বিতীয়ত আমি তোমার মত ম্যাথেম্যাটিকালি করেক্ট নই।  কেন সকাল সকাল আমার সঙ্গে বসে সময় নষ্ট করছ শুভেন্দু?
- না মানে ইয়ে...।
- ইয়ে কী?
- তোমার প্রতি আমার এই যে অপত্য স্নেহ...।
- স্নেহ? তুমি বাবলুকে স্নেহ কর..।
- বাবলু আমার ভাইপো..।
- মিঠুকে স্নেহ কর..।
- মিঠু পাশের বাড়িতে থাকে, ক্লাস ফাইভে পড়ে। আমি ওকে অঙ্ক পড়াই।
- তো? আমি সবার মতই। তুমি রাম শ্যাম যদুকেও স্নেহ কর, আমার ভাগ্যেও তোমার স্নেহর কিছুটা অ্যালোকেট করা আছে। তোমার স্নেহের স্টকে এক্স কিলো থাকলে আর তোমার পরিচিত মানুষের সংখ্যা এন হলে আমার কপালে জুটবে এক্স বাই এন পরিমাণ স্নেহ। আর পাঁচজনের মতই। তোমার হোমোজিনিয়াস দর্শনের দেওয়ালে আমি একটা ইট মাত্র।
- না না..সেমান্টিক্সে কনফিউজড হচ্ছ।
- বেশ। আমার গুরুত্ব আর পাঁচজনের মতই। আমি অঙ্ক বুঝি না কাজেই আমার ইন্টেলিজেন্স কম। আমি সেমান্টিক্স নিয়ে ভির্মি খাই, অতএব আমার ভাষাজ্ঞানও হাস্যকর। আমার সঙ্গে কত কষ্ট সহ্য করে তোমায় থাকতে হচ্ছে, তাই না?
- যাহ্ শালা! সেমান্টিক্স মানে...। আরে স্নেহর ক্যাটেগরি আছে তো।
- তাই বলে আমার সঙ্গে খিস্তি দিয়ে কথা বলবে?
- শালাটা খিস্তি? বাপের জন্মে শুনেছ শালার মত হার্মলেস স্বগতোক্তিকে কেউ খিস্তি বলে রেফার করছে?
- তুমি আমার বাপ তুলে কথা বললে শুভেন্দু?
- আমি একটু বেরোচ্ছি, কেমন? হাওড়া থেকে  হিমালয় লোকাল যেহেতু এখনও চালু হয়নি, ভাবছি পার্ক থেকেই একটু হাঁটাহাঁটি করে আসব।

Tuesday, November 7, 2017

জালিম খাঁ

কয়েক হাজার বছর আগের কথা। ভাগ্যিস নিউমোদক স্যুইটসের ফুলকপি-শিঙাড়ার তেলে ল্যাপ্টানো আঙুলে হিস্ট্রি বইয়ের পাতা ওল্টাতে গিয়ে সেই গোপন চ্যাপ্টারটার পৌঁছনো গেছিল। ভাগ্যিস।

নয়ত কুমার জালিম খাঁর খবরাখবর পাওয়া হত না।

চারদিকে রক্তারক্তি অবস্থা। দুশমনিস্তানের বিরুদ্ধে শত্রুপুরের এন্তার খুনোখুনি চলছে দেড়শো বছর জুড়ে।   যুদ্ধের ইন্ট্রারভ্যালে কুমার জালিম খাঁ এক বাটি চানাচুর নিয়ে বসেছিলেন  যুদ্ধক্ষেত্রের এক নিরিবিলি কোণে। বাতাসে বারুদ, বালি আর লেবুপাতা ঘষা সুবাস। জালিম খাঁ মনে মনে সুরে ধরেছিলেন;

"মহব্বত মে নহি হ্যায় ফর্ক জিনে অউর মরনে কা, উসি কো দেখকে জিতে হ্যায় জিস কাফির মে দম নিকলে, হজারো খোয়াইশে অ্যাইসি কি হর খোয়াইশ মে দম নিকলে"। গানের কথা তো আর তলোয়ার নয় আর সুরও বল্লম নয় যে জালিম খাঁর হুকুমে তাদের নড়নচড়ন। চানাচুর মুখে বেশ নাস্তানাবুদ হচ্ছিলেন ভদ্রলোক।

ঠিক তখনই ভসভসে স্টোভ জ্বালানোর গন্ধে খাঁ সাহেবের গান থামল। ডিমের মুণ্ডুপাত করে যে যেন চাটুতে ঢেলেছে।  কুচো পেঁয়াজের অভাবেই স্পষ্ট; শত্রুপুরের খুনে দৃষ্টির থেকে এত সহজে রেহাই মিলবে না।

স্যান্ডো গেঞ্জির বর্মেও ভয় ঠেকাতে পারলেন না বাহাদুর জালিম খাঁ।

- সুর ঠিকঠাক লাগেনি, তাই না গো?
- আমার কান বেয়ে রক্ত ঝরছে, তা'তে তোমার কী?
- আসলে দু'দিন আগে বাথরুমে সুরটা অবিকল খাপে খাপ বসে গেছিল। গড প্রমিস। আজ তোমার সামনে একটু নার্ভাস হয়ে..।
- আমি তোমায় নার্ভাস করি?
- ইন আ ভেরি স্যুইট ওয়ে অফ কোর্স।
- বটে? বেশ। নোটেড।

কুমার জালিম খাঁর নোটেড গাছটি সে'খানেই মুড়িয়েছিল কিনা, সে বিষয়ে খোলাখুলি কিছু না বলে দেখা যাচ্ছে ইতিহাস মুখে কুলুপ এঁটে বালিশে মুখ গুঁজে উপুড় হয়ে শুয়ে রয়েছে। ইতিহাসের চোখ ছলছল, আঁচল দুরমুশ, হাতের মুঠোয় ঝগড়াহত সিনেমার জোড়া টিকিট।
জালিম খাঁয়ের মুখে চানাচুর আর লে হালুয়া।

Monday, November 6, 2017

ক্রিফ্যাবাবুর গল্প

- আরে ক্রিফ্যাবাবু যে!

- চিনতে পেরেছেন স্যার?

- না চিনে আর উপায় কী বলুন। বিষমে বিষমে বেঁধে রেখেছিলেন যে এদ্দিন। তা ক্রিফ্যাবাবু, একটা কথা বলুন। বছর দশেক আগে যখন দেখেছিলাম তখন তো দিব্যি নাদুসনুদুস ছিলেন, এখন এমন হাড়গিলের মত চেহারা হল কী করে?

- ক্রিফ্যা তো আমি এক পিস নই স্যার। একপিস আমি হাড়গিলে হলে কী এসে গেল!

- এমন বিমর্ষ হাবভাব আপনাকে মানায় না ক্রিফ্যাবাবু। সে'বার কী ফুর্তি দেখেছিলাম আপনার মধ্যে।

- সেই অদ্দিন আগে? তখন আমার ভিটামিন, প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেটরা সবাই ছিলেন, আমিও ভুঁড়ি বাগিয়ে সুখে ছিলাম। শেষ পুষ্টির সোর্স আপনি পড়েছিলেন, সে জন্যেই এ দেহ নিয়ে কোনওক্রমে পড়েছিলাম...। এ'বার ইউথ্যানেসিয়া।

- ও কী কথা ক্রিফ্যাবাবু! আপনারাই তো সব, আমরা সবাই একে একে যাবই, যেতেই হবে। কিন্তু আপনাদের থাকতে হবে যে।

- বললাম যে স্যার, এক এক ক্রিফ্যার এক এক জাতের খাদ্য। আমাদের ব্যাচের পাতের পাশে প্লাস্টিক বাটিতে গরম জল আর কাগজের সাবান সার্ভ হয়ে গেছে। আপনি এদ্দিন ছিলেন, তাই পরের ব্যাচের হল্লা শুনেও চেয়ার ছাড়িনি...।

- কিন্তু এ'বার যে আমাকেও যেতে হবে ক্রিফ্যাবাবু।

- ক্রিকেটারদেরই শুধু রিটায়ারমেন্ট থাকে? আজ আপনার কাছে এলাম কেন? আপনি চললেন, আমার আর থেকে কী কাজ? এ'বার পরের ব্যাচ কবজি ডুবোবে। মহেন্দ্রবাবু, আজ্ঞা করুন; আপনার সঙ্গে এই আমি, বাবু ক্রিকেটফ্যান এইবারে মানে মানে কেটে পড়ি। একটা স্যুটকেস আমায় দিন দেখি মশাই!

Thursday, November 2, 2017

পঞ্চার এন্ট্রান্স পরীক্ষা

- কী রে পঞ্চা, নার্ভাস?
- না..ইয়ে..মানে বলাইদা, এত বড় এন্ট্রান্স...।
- এগজামিনেশনেই এত ভয়? এরপর গ্রুপ ডিসকাশন, ভাইবা। তখন তা'হলে কী করবি?  রিল্যাক্স।
- খুব খেটেছি বলাইদা, তুমিই তো কোচিং করালে। জানোই তো।
- সে জন্যেই বলছি। তোর প্রিপারেশন চমৎকার হয়েছে। স্পট-হিউমরের অব্জেক্টিভ টাইপ কোশ্চেনগুলো একটু মাথা ঠাণ্ডা রেখে হ্যান্ডেল করিস। কেমন?
- প্রচুর ক্যান্ডিডেট, তাই না বলাইদা?
- প্রতি বছর মড়ার সংখ্যা বেড়েই চলেছে। মেডিকাল সায়েন্সের প্রগ্রেসেও মহামারী যুদ্ধ আটকাচ্ছে না। আর মড়াদের ইন্টেলিজেন্সও বাড়ছে। আমার কোচিং সেন্টারেই দেখ না, পাঁচ বছর আগে দেড়শো মড়া নিয়ে শুরু করেছিলাম। এখন হাজার দুই, তিরিশটা ব্যাচ।
- একবার যদি লাগিয়ে দিতে পারি...।
- তাহলে একটা হিল্লে হলো আর কী! এস-ও-বি এন্ট্রান্স ক্লীয়ার করা ! এর মানে স্ট্রেট অফ ফেমে চলে যাওয়া। প্রতি বছর কয়েক লাখ ভূত এই পরীক্ষার জন্য মেহেনত করে। কোয়ালিফাই করে জনা দশেক। এস-ও কোয়ালিফায়েড ভূত চাঁদু, শুধু ভূতেরা নয়; মানুষও তেনাদের হিংসে করে।
- বলাইদা এস-ও কোয়ালিফাইড ভূতেরা নাকি রবি ঘোষের ডায়লগের মত? নতুন ছুরির মত ধারাল অথচ গুপ্তিপাড়ার মাখা সন্দেশের মত নরম?
- নিশ্চয়ই এ'সব বাজে এক্সপ্রেশন আঁশবাজার পত্রিকায় পড়েছিস? পত্রিকাটা কী ছিল আর কী হল! যাক গে, তবে এস-ও-বি'রাই শ্রেষ্ঠ। পূর্ণেন্দুবাবুর পোয়েট্রির চেয়েও লিরিকাল তেনারা, লক্ষণের ব্যাটের পেটির মত শানানো।  তোর মধ্যে এস-ও-বি এন্ট্রান্স ক্লীয়ার করার সমস্ত কোয়ালিটি আছে।
- জীবদ্দশায় সে ভদ্রলোকের স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী চোর হতে পারলাম না। সে দুঃখ যাওয়ার নয়। বলাইদা, আশীর্বাদ কর মড়া হয়ে  অন্তত যেন শীর্ষেন্দু-অদ্ভুতুড়ে-ভূত এন্ট্রান্স ক্লীয়ার করে সেল্ফ অ্যাকচুয়ালাইজেশন স্পর্শ করতে পারি।

Friday, October 27, 2017

হরিহরবাবুর ডানা



১। 

- গোবিন্দদা! বড্ড বিপদে পড়ে এলাম এত রাত্রে। 
- হরিহর নাকি?
- হ্যাঁ। 
- তা কী ব্যাপার? তোমার গলা শুনতে পাচ্ছি দেখতে পাচ্ছি না কেন?
- কারণ আমি আকাশে! উড়ছি। এই দেখুন। 
- উড়ছ? সে কী ! সত্যিই ভাসছ তো দেখছি। 
- দিব্যি ছাতে গিয়ে পায়চারি করছিলাম। আচমকা কথা নেই বার্তা নেই দুই বগলের নিচ দিয়ে দু'টো ডানা বেরিয়ে এলো। চমকে গিয়ে যেই ঝটপট করেছি অমনি ভেসে উঠলাম আকাশে। সেই থেকে উড়ছি। 
- তা সমস্যাটা কোথায়?
- মানুষ হয়ে উড়ব গোবিন্দদা? 
- তা ঠিক। তবে...। 
- তবে কী গোবিন্দদা?
- বুঝে গেছি হরিহর! কোনও চিন্তা নেই। 
- কী বুঝলেন?
- এ'টা স্বপ্ন। স্বপ্ন ছাড়া মানুষ উড়তে পারে না। 
- কার স্বপ্ন? 
- আমার। আমি আসলে জানালার ধারে বসে বিড়ি খাচ্ছি না। ঘুমিয়ে আছি। স্রেফ স্বপ্নে এমনটা মনে হচ্ছে। 
- বলছেন? আমি রিয়েলি উড়ছি না?
- মানুষ তো। উড়বে কী করে?

২। 
- পঞ্চা! আজ স্কুল ছুটি!
- গরম গরম রুটি রে বিশু। 
- কিন্তু ইয়ে, নোটিশ ঠিক পড়লাম তো?
- আলবাত! আর তা ছাড়া হেডস্যার নিজে আমায় বললেন তো। হরিহর কাকা আকাশে উড়ে বেড়াচ্ছে। মানুষ কি উড়তে পারে? তা'হলে নিশ্চয়ই এ'টা স্বপ্ন। কার স্বপ্ন এ'টা নাকি এখনও বোঝা যায়নি। অনেকে দাবী করছে এ স্বপ্ন তাঁদের। কিন্তু যা হোক, স্বপ্নই যখন; তখন স্কুল খুলে রেখে কী হবে! 
- স্বপ্ন হলেও। ফুটবল খেলতে তো ক্ষতি নেই রে পঞ্চা। চ' ভাই। 

৩। 

- কী মুশকিল বলো হাবিলদার! স্বপ্নেও ডিউটিতে আসতে হলো! 
- যা বলেছেন দারোগা স্যার। স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে মালদহের হরিহর পুরকায়স্থ আকাশে উড়ে বেড়াচ্ছে ডানা ঝাপটিয়ে। খবরের কাগজে পর্যন্ত পড়লাম যে হরিহরের উড়ে চলাই প্রমাণ করছে যে আমরা সবাই স্বপ্নের মধ্যে আছি। তবুও সকালে উঠে বাজারে যেতে হল। মাগুর মাছ কিনে আনতে হল। ডিউটিতে আসতে হল। 
- সব ব্যাগার খাটুনি। কোন ব্যাটা যে স্বপ্ন দেখছে কে জানে। দেশ শুদ্ধু লোককে নাকে দড়ি দিয়ে ঘোরাচ্ছে। যাক গে, হাজতের দরজা খুলে দাও। কেউ তো আর আদত আসামী নয়। সব স্বপ্ন। 
- যো হুকুম। 

৪। 

- প্রধানমন্ত্রীজী!
- অমন ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে আছেন কেন বলুন তো স্পীকারদা?
- এ আমি কী দেখছি! আপনি লুঙ্গি আর স্যান্ডো গেঞ্জি পরে পার্লামেন্টে এসেছেন?
- আরে ধুর। এ'তো স্বপ্ন। দেখেননি আকাশে ওই হরিহর নামের লোকটা কেমন পতপত করে উড়ছে?
- কিন্তু তাই বলে...পার্লামেন্টে লুঙ্গি আর স্যান্ডো গেঞ্জি পরে?
- গামছা পরে এলেও ক্ষতি হত না স্যার। সবটাই তো স্বপ্ন। 
- দু'দিনে জিডিপি ডকে উঠেছে! সে খেয়াল করেছেন? বিরোধীরা আপনার কলার টেনে ধরবে বলে বসে আছে। 
- যেমন কুকুর তেমনি মুগুর। প্রধানমন্ত্রীর কলার ধরবে, ধর এবার স্যান্ডো গেঞ্জির কলার। ন্যাকামো। যাক গে, জিডিপি নিয়ে চাপ নেব কেন? এ'টা তো স্রেফ স্বপ্ন। 
- লোকে না খেতে পেয়ে মারা যাচ্ছে!
- স্বপ্নে বিরিয়ানি খেয়েই বা হবে। হরিহরবাবু উড়ছেন। 
- সীমান্তে সেনাবাহিনী ঘুমোচ্ছে। 
- আমিই বলেছি। পরের স্বপ্নে জেগে কুচকাওয়াজ করে কী লাভ? আমি সেনাপ্রধানকে বলেছি স্বপ্ন না ভাঙা পর্যন্ত সেনাবাহিনীর ছুটি। 

৫। 

কবিতার খাতাটা নদীর বুকে ছুঁড়ে ফেললেন কবি। একটানা স্বপ্নবাসে ক্লান্ত হয়ে উঠেছিলেন। 
যুদ্ধ নেই। 
মতান্তর নেই। 
মন কষাকষি নেই। 
কফি হাউস বন্ধ। 

শুধু অপেক্ষা। স্বপ্ন শেষ হওয়ার অপেক্ষা। উড়ন্ত মানুষটার নেমে আসার অপেক্ষা। 

৬। 

খবরের কাগজের পাঁচের পাতার নিচের দিকে 'চাকরী গেল ঈশ্বরের' হেডলাইন দেখে বেশ ভেবড়ে গেলেন মনোজবাবু। ইভোলিউশনারি চমক দিতে গিয়ে নাকি ভদ্রলোকের চাকরী গেছে, ভাবা যায়? আর সে খবর বেরিয়েছে কলকাতার খবরের কাগজে। ভাবা যায়?  

তবে ভেবে না ওঠার কোনও কারণ নেই। স্বপ্নে কী না হয়। মানুষ ওড়ে, ঈশ্বরের চাকরী যায়। হতেই পারে। 

Wednesday, October 25, 2017

বেরাদরি

- ব্রাদার! পেরেছি!

- এত রাত্রে...এত হাঁকডাক বিগ-বেরাদার...?

- রাত কোথায় ব্রাদার? ভোর। শুরু। আলো। নতুন। এই তো সময়। পেরে ওঠার। আমি পেরেছি।

- পেরেছ? যন্তর তৈরি?

- না হলে ডাকলাম কেন? যন্তর রেডি। তুমিই প্রথম সাবজেক্ট ব্রাদার।

- ওহ। এ যন্ত্র পারবে গো বিগবেরাদার? মন খারাপ বুঝতে?

- চটপট। তুরন্ত। এই মনখারাপ হল, হুই ডাক এলো।

- মাইরি? এ যন্তর হাঁক দেবে?

- নয়ত আর বানালাম কী! ডাকেই অ্যান্টিসেপ্টিক।

- তাতেই মনখারাপ গায়েব?

- মনখারাপ ইজ আ ফর্ম অফ এনার্জি ব্রাদার। এনার্জি গায়েব হয় না। এক ফর্ম থেকে অন্য ফর্মে কনভার্ট হয়। মনখারাপ টু মনকেমন। মনকেমন টু কবিতা। চটপট। তুরন্ত। দুরন্ত।

- কবিতা? আমি বুঝি না।

- যন্তর। বুঝিয়ে দেবে।

***

'কী রে! ভাবছিস কী? বললি না তো আমার বানানো।নাড়ু কেমন খেলি'? যন্তরের চোপায় চমকে ওঠে পিলে।

তাই তো। বিগ-বেরাদার তবে মিথ্যে বলেননি। আঁচলের খসখসে ছ্যাঁতছ্যাঁতে কবিতা টের পেয়ে বিগবেরাদারের প্রতি সামান্য গলে পড়তে ইচ্ছে হল।

Sunday, October 22, 2017

মাঝরাত্রের স্কুলবাড়ি আর দাসগুপ্তবাবু



- আসুন মিস্টার দাসগুপ্তা। ওয়েলকাম। ওয়েলকাম টু দ্য ফার্স্ট ডে অফ স্কুল।

- ধন্যবাদ। কিন্তু মানে...আমি ঠিক...।

- বুঝতে পারছেন না? ন্যাচরালি, ন্যাচরালি। ক্লাসরুমে নিয়ে যাওয়ার আগে তাই দেখা করতে এলাম..। আমি এ'খানকার হেডমাস্টার। ইয়ে, শিক্ষক বলতেও আমিই..।

- কিন্তু আমি কিছুই বুঝতে পারছি না...এত রাত্রে আমি এই সাতপুরনো ভাঙাচোরা স্কুলবাড়িতে কী করছি? এলামই বা কী করে? 

- ভূতের স্কুল তো পোড়ো স্কুলবাড়িতেই হবে।

- কী? আমি মৃত? 

- অফ কোর্স। আপনি মৃত! আমি বা এ'খানের সমস্ত ছাত্ররা, সবাই...।

- আমি মারা গেছি?

- নিঃসন্দেহে। শুধু মড়ারা এই স্কুলবাড়িটা দেখতে পায়।

- আমি মারা গেছি! ব্যারাকপুরের অরিন্দম দাসগুপ্ত মারা গেছে! 

- আপনি মারা গেছেন! অরিন্দম দাসগুপ্ত মারা যাবেন কেন? তিনি এই মাত্র ইয়ারবাড খুঁজে না পেয়ে "ধ্যারশ্লা" বলে ফের শুতে গেলেন।

- আমিই তো অরিন্দম দাসগুপ্ত।

- মিস্টার দাসগুপ্তা। রিল্যাক্স। ইউ আর নট হিম। ইউ আর জাস্ট আ ডেড ড্রীম অফ মিস্টার দাসগুপ্তা। আপনি দাসগুপ্তবাবুর সদ্য মৃত স্বপ্ন। এ'টা মড়া স্বপ্নদের স্কুল মিস্টার দাসগুপ্ত। 

- ওহ...আমি তাহলে...।

- আচমকা ছুটি নিয়ে দেশের বাড়িতে গিয়ে মাকে চমকে দেবেন ভেবেছিলেন। আজ সন্ধেবেলা পৌঁঁছনোর কথা ছিল। ভেবেছিলেন মাকে জড়িয়ে ধরবেন। পাড়ায় হাঁটতে বেরোবেন। দত্তবাজার থেকে ট্যাংরা কিনে এনে মাকে বলবেন ঝাল করতে। রাতে মায়ের পাশ ঘেঁষে শুয়ে কত গল্প। পুরনো পাশবালিশের কাচা ওয়াড়ের সুবাস। শোওয়ার ঘরের জানালার পাশে গন্ধরাজ গাছ। যেই গাছের আশেপাশে দত্তবাড়ির মিতুল ঘোরাঘুরি করত। সে'সব ছোটবেলার কথা ভাবতে ভাবতে আপনার ঘুমিয়ে পড়ার কথা ছিল। আপনি সেই স্বপ্নের মিস্টার দাসগুপ্ত,  আপনি মারা গেছেন। মারা গেছেন।

- তা'হলে...।

- যা হয়। মিস্টার দাসগুপ্তার মিসেস ভ্যাকেশন প্ল্যান করে ফেলেছিলেন। প্লাস ফিরে এসেই অফিসের রিভিউ।  দেশের বাড়িমুখো স্বপ্নের মিস্টার দাসগুপ্তা হ্যাড টু ডাই। দেশের বাড়ির স্বপ্নের মিস্টার দাসগুপ্তা বা আপনি না মরলে আদত দাসগুপ্ত ছিন্নভিন্ন হতেন। এই কিছুক্ষণ আগেই আদত দাসগুপ্ত দেশের বাড়ি ফেরার টিকিট ক্যান্সেল করেছেন।

- অর্থাৎ সে টিকিট ক্যান্সেল করে আদত দাসগুপ্ত আমায় খুন করেছেন। আর আমি ওর মৃত স্বপ্নের ভূত।

- প্রিসাইসলি। তবে মনখারাপ করবেন না। আপনার ক্লাসে অসংখ্য মৃত স্বপ্নের ভূত, ইন ফ্যাক্ট ব্যারাকপুরের অরিন্দম দাসগুপ্তর প্রচুর মড়া স্বপ্ন আপনার ক্লাসমেট হতে চলেছে। ওদের সঙ্গে আলাপ হলে আপনার ভালো লাগবে।

- ইয়ে, আপনার পরিচয়টা হেডমাস্টার স্যার? ক্লাসও তো আপনিই নেবেন?

- ক্লাস আমিই নেব। আমার ডাকনাম সুগা।

- সুগা?

- পুরো নাম সুমনবাবুর গান! 

- ওহ! যাক। ক্লাসরুমটা কোনদিকে সুগাবাবু?

- আসুন আমার সঙ্গে। আর হ্যাঁ, মিতুলদেবীর একটা মড়াস্বপ্ন আপনারই ক্লাসে রয়েছেন, "অরিন্দম একদিন অন্তত জোর গলায় বলবে 'তুই অন্য কাউকে বিয়ে করবি না' " গোছের একটা স্বপ্ন। মরে কাঠ হয়ে ছিল। আমি এই ক্লাসে ভর্তি করিয়ে নিয়েছি। আপনার ইন্টারেস্টিং লাগতে পারে, তাই বললাম। এ'বার চটপট আসুন দেখি, ক্লাস শুরু হতে দেরী হচ্ছে।

Saturday, October 21, 2017

সকলই তোমারই


- মন্টুদা! 
- উঁ।
- ও মন্টুদা! 
- কী! ঘ্যানঘ্যান করছিস কেন।
- এ'বারে ভাসাতে হবে তো।
- মনে সুরটা এখনও ফ্লোট করছে রে..।
- সুর?
- আমার মায়ের পায়ের জবা হয়ে ওঠ না ফুটে মন। গায়ে কাঁটা দিচ্ছে।
- সুর বোধ হয় না মন্টুদা, বিলু বলল গাঁজার ডোজটা একটু কড়া হয়ে গেছিল নাকি...। আর গায়ে কাঁটা দিচ্ছে ঠাণ্ডায়, গঙ্গার ভেজা হাওয়া তো।
- গঞ্জিকা বল। ভক্তিভাব থাক।
- ভাসাতে হবে যে এ'বার।
- রংমশালগুলো কই?
- মিঠুদা ফুলবেলপাতার ঝুড়ির সঙ্গে তুবড়ি রংমশালের পেটিটাও জলে দিয়ে দিয়েছে।
- আহাম্মক।
- ঠিক।
- তবে মিঠু কবিতা লেখে ভাই। মিঠুকে আহাম্মক বললে ধর্মে সইবে না।
- স্কাউন্ড্রেল বলো। ম্লেচ্ছ খিস্তি হিন্দু শাস্ত্রে ইন্টিগ্রেট করা নেই বোধ হয়। এ'বার চলো, তুমি না এলে ভাসান লীড করার কেউ নেই।
- মন রে এমএস এক্সেল জানো না...মন রে...।
- ক্লার্কপ্রসাদী মন্টুদা?
- হেহ্, তুই বুঝিস। আরে ভাসাতে যাব! ভাসালে তো ভেসেই গেল। মা দু'চার মিনিট প্ল্যাটফর্মে ওয়েট করছেন,  করুন। সী অফ করতে এসে অত লাফালাফি করলে হয় না। আমরা পান্নালালের জাত, মিউজিক ইজ আওয়ার ধর্ম। চাই না মা গো রাজা হতে, রাজা হওয়ার সাধ নাই মা গো, দু'বেলা যেন পাই মা খেতে।
- আহা, তোমার গলায় মায়া আছে মন্টুদা। চোখে জল আসে।
- একটান দিবি নাকি?
- আমার আবার সয় না।
- শিবের চ্যালাগিরি না করে মায়ের পেয়ারের ছেলে হওয়া যায় না। সয় না আবার কী?নে টান।
- কড়া! 


- কেমন?
- মন্দ না। মন্টুদা, ভাসাবে না?
- কালো মেয়ের পায়ের তলায়, দেখে যা আলোর নাচন!
- আহা! আর দু'টান দাও দেখি।
- মায়ের রূপ দেখে দেয় বুক পেতে শিব যার হাতে মরণ বাঁচন।
- দেখে যা আলোর নাচন। আহা, মন্টুদা, আমায় দীক্ষা দাও।
- আমি দীক্ষা দেব রে? আমি কে? সকলই তোমারই ইচ্ছা, ইচ্ছাময়ী তারা তুমি...।
- মায়ের মেসেজ ট্রান্সমিট করে দিও। তাহলেই হবে।
- কয়েকটানেই বেশ ফ্লোট করছিস।
- প্লাস গায়ে কাঁটা। 
- গুড বয়। নে, কল্কেটা দে।
- আর দু'টান।
- মায়ের একটা মেসেজ এসছে, তোর জন্য।
- কমিউনিকেট গুরুদেব।
- কালীপুজোর ভাসানে গাঁজা টানার বান্দা তো তুমি নও চাঁদু! 
- ইচ্ছে। ইচ্ছে।
- ইচ্ছে? তা ইচ্ছে কি গতকাল লাল পেড়ে গরদের শাড়ি পরে মণ্ডপে এসেছিল? 
- গরদ দেখলে? জ্বলজ্বলে বিলিতি বর দেখলে না? গরদের ডান পাশ আলো করা?
- পান্নালালে ইন্ডাক্ট না হতে পেরেই তোদের জেনারেশন ধুয়েমুছে সাফ হয়ে গেল। ফলপ্রসাদ সাজানোর সময় তোর দিকে এক জোড়া ছলছলে চোখ ঠায় তাকিয়ে রইল সে'টা ক্যাপচার করতে পারলি না। ক্রিমিনাল। 
- আসলে...। ইয়ে, আর দু'টান যদি...!
- কত রাত হল দেখেছিস! এখন না ভাসালেই নয়। চল, ক্যুইক! এ'বার কালী তোমায় ভাসাবো, বলো, এ'বার কালী তোমায় ভাসাবো! 

Thursday, October 19, 2017

সতীনাথ ও ঘুগনির বাটি

স্টিলের প্লেটে এক বাটি ঘুগনি আর দু'টুকরো পাউরুটি। ঘুগনিটা সামান্য আলুনি, তবে ধোঁয়া ওঠা গরম; তাই দিব্যি। পাউরুটি চুবিয়ে প্রথম কামড় দিতেই মনঃপ্রাণ জুড়ে সে কী আরাম। বুদ্ধি করে দোকানির থেকে সামান্য পেঁয়াজ-লঙ্কা কুচি চেয়ে নিয়েছিলেন সতীনাথ। আর প্লেটের কোনে ছোট্ট এক ঢিপি ফাউ বিট নুন। দোকানি বলতে বছর সাতেকের একটা ছেলে, যে একটানা বাসন মেজে যাচ্ছিল। খালি গায়ে কালো হাফ প্যান্ট পরে দিব্যি সামাল দিয়ে যাচ্ছে। বাপ নাকি বিড়ি খেতে গেছে। চটপটে আর শশব্যস্ত বাচ্চা ছেলেটা হাল ধরে রেখেছে।  

স্বাদে গলে পড়তে ইচ্ছে হচ্ছিল। আহ, কদ্দিন পর সামান্য ঘুগনি আর পাউরুটি। এর সঙ্গে একটা ডিম সেদ্ধ পেলেই সতীনাথের চোখে জল আসত। কত দিন পর। 

নীল রঙ করা কাঠের বেঞ্চিতে যে আরও একজন বসে রয়েছে সে'টা খেয়াল হল মিনিট খানেক পর। ততক্ষণে আরও দু'টো পাউরুটি চেয়ে নিয়েছে সতীনাথ। পরনে সাদা ফতুয়া আর সবুজ-নীল লুঙ্গি। গালে খোঁচা দাড়ি, ঝিমনো ঢুলঢুলে চোখ।

সুট করে প্লেট নামিয়ে রেখে সরে পড়তে চেয়েছিলেন সতীনাথ। লাভ হল না। হাত টেনে ধরলেন সাদা ফতুয়া। 

- আধ বাটি ঘুগনি পড়ে রইল যে, খেয়ে যাও!
- না মানে...আমি আসি। 
- যেতে চাইলেই কী যাওয়া যায় সতীনাথ?
- আপনি...কে...কে বলুন তো?
- ঘুগনি ঠাণ্ডা হচ্ছে যে ভাই। 
- আমি আসি...। 
- কোথায় যাবে?
- তা'তে আপনার কী? আপনি কে?
- আহ্‌, হুড়মুড় কেন। আর এক বাটি ঘুগনি বলি? তোমার জন্য?
- আমায় যেতে দিন ওস্তাদ। 
- এই যে বললে চিনতে পারনি? 
- আসলে...আসলে...আমায় যেতেই হবে।
- যাবে তো বটেই। তোমাকে নিতেই তো এসেছি আমি। 
- না মানে...ফেরত যাওয়ার কথা বলছি না। আমায় একটু টালিগঞ্জে যেতে হবে। 
- সতীনাথ। তুমি জান সে'টা হওয়ার নয়। বছরে একটি বার একদিনের জন্য ছাড়। সে ছাড় আজ সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গেই ফুরিয়েছে। এ'বার ফেরত যাওয়া। 
- ওস্তাদ। ওস্তাদ। এমন করে বোলো না। গতকাল...গতকাল...। 
- তোমার খোকার সঙ্গে দেখা হয়েছে। তুমি আইসক্রীমওলা সেজে ওকে আইসক্রীম বিক্রি করেছ। বছরের এই দিনটা ভূতেরা সাপের পাঁচ পা দেখে। আর দেখবে নাই বা কেন। এক দিনের জন্য এই দুনিয়ায় এসে মানবদেহ ধারণ করা যায়। ভূতদেরও শখ আহ্লাদ থাকবেই। সে জন্য আমি তোমায় দোষ দিই নি। তুমি যখন মারা গেলে তখন খোকার বয়স কতই বা...। 
- দু'বছর দেড় মাস। 
- রাইট। পাঁচ বছর পর শখ হওয়াটা ভুল নয়। কিন্তু পরলোকের নিয়ম অমান্য করবে হে? এমন বেহেড বেআক্কেলে কাজ করবে? ভূতচতুর্দশী খতম হওয়ার পরেও তুমি আমাদের স্পেসে ফিরে গেলে না? ধর্মে সইবে? তুমি জানো না এর ফলাফল কী? এখনও গ্রেস পিরিয়ড আছে। চুপচাপ ফিরে চলো। নয়ত কেলেঙ্কারি ঘটবে আর তখন আমার কিছু করার থাকবে না। 
- ওস্তাদ! প্লীজ। আর একটা দিন। আর এক দিনের জন্য খোকাকে দেখব। 
- দেখে?
- আজ্ঞে?
- দেখে কী হবে সতীনাথ? তোমাদের দুনিয়া আলাদা! আর তুমি তো জানো। ভূতচতুর্দশীর গ্রেস পিরিয়ড পেরিয়ে গেলেও এ'দিকে পড়ে থাকার পরিণতি ভয়ানক। অতৃপ্ত আত্মা হয়ে এ দুনিয়ায় ঘুরে বেড়ানো। অসম্ভব যন্ত্রণা। ছটফট। ফিরে চলো সতীনাথ। খোকা ভালো আছে। এমনিতেও মা ন্যাওটা ছিল চিরকাল। আর তাছাড়া এখন ও যাকে বাবা বলে চিনেছে সে তোমার মত বেহেড বেআক্কেলে ইডিয়টের চেয়ে অনেক বেশি ব্যালান্সড। খোকা ভালো আছে সতীনাথ। নিজের জেদের বসে ওকে নষ্ট করো না। যদি অতৃপ্ত আত্মা হয়ে থেকে যাও তাহলে দুঃস্বপ্ন হয়ে বার বার ওর  আশেপাশে ঘুরতে শুরু করবে তুমি, সে'টাই তুমি চাও? 
- ওস্তাদ। খোকা। আমার খোকা। এতোটুকুন খোকাকে বুকে জড়িয়ে দুলে দুলে ঘুরতাম। 'আমি যে জলসাঘর'য়ের টিউনটা বেশ ঘুমপাড়ানির কাজ করত। 
- সতীনাথ। ঘুগনি শেষ করো। এ শরীর এ'বার ঝেড়ে ফেলতেই হবে।  নয়ত মুশকিল...।
- কিন্তু খোকা? ওস্তাদ?
- ও ভালো আছে। ওকে ভালো থাকতে দাও। চলো এ'বার। আর আমার তো আর কাজের শেষ নেই। শুধু তোমাকে নিয়ে গেলেই হবে না। আর এক ব্যাটাচ্ছেলেও সময়মত পরলোকে ফেরেনি, তাকেও না নিয়ে গেলে নয়। 
- কে?

সতীনাথ অবাক হয়ে দেখলে ওস্তাদ বেঞ্চি ছেড়ে উঠে গিয়ে বাসনের স্তূপের মধ্যে থেকে দোকানি খোকার হাত টেনে ধরলেন। 
"এই যে বাবলুবাবু, ইনি ফি বছর বাপকে দেখতে ফেরত আসেন আর সময় শেষ হওয়ার পরেও ফেরার নামটি নেন না। প্রতি বছর এই সময় ওর বাপ অবাক হয়ে ভাবে থরে থরে বাসন কোন জাদুমন্ত্রবলে আপনা থেকে মাজা ধোয়া করে গুছিয়ে রাখা হচ্ছে। যাকগে, এ'বার দু'জনেই ওয়াপস চলো দেখি। আমার অনেক কাজ পড়ে রয়েছে"। 

"বাবা বিড়ি কিনে ফিরুক গো ওস্তাদ , আর একবার অন্তত দেখি। ওস্তাদ গো। আর একটু সময় ওস্তাদ"। বাবলুর কান্নাকাটি ওস্তাদকে স্পর্শ করল না, ওর ডান হাত ওস্তাদের নির্মম মুঠোয় বন্দী। 

বাবলুর বাঁ হাতটা নরম করে ধরলেন ঘুগনি তৃপ্ত সতীনাথ।