Tuesday, April 24, 2018

খুচরো দুই

১- ক্যালামিটি।

অমিত রায়ের হাবেভাবে গায়ে পড়া ঘ্যানঘ্যান না থাকা,

উত্তমের উৎপল-কণ্ঠী ওথেলোতে সুচিত্রার চোখ ছলছল না থাকা,

আজহারের ব্যাটিং স্টান্সে গলার তাবিজের দুলুনি না থাকা,

আনন্দের শায়রির ডায়েরিতে শুকনো ফুলের স্মৃতি-ফসিল না থাকা,

'বুঝলে ভায়া'র আরামে পাহাড়ি সান্যালিস্ট আশ্বাস না থাকা,

আর

রাতের ফ্রীজে ক্ষীরকদম না থাকা।

***

২- সজনে।

সর্ষে পোস্ত দিয়ে জমাটি ভাবে রাঁধা সজনে চিবুতে পারায় রয়েছে স্বর্গসুখ।

রাতে খেতে বসার আগে লেবু সাবানে স্নান করে, গায়ে পাউডার ছড়িয়ে, ফতুয়া চাপিয়ে তবে সজনের বাটি নিয়ে বসা উচিৎ।

মনে থাকবে মৃদু গুনগুন;
সজনা হ্যায় মুঝে সজনে কে লিয়ে,
সজনা হ্যায় মুঝে সজনে কে লিয়ে।

জোড়া খুচরো

১- কর্পোরেট কনক্লেভ।

- একটা কর্পোরেট কনক্লেভে আপনাকে ইনভাইট ছিল আপনার জন্য। আমরাই অর্গানাইজ করছি।

- কনক্লেভ? কর্পোরেট?

- হুজ হু অফ ইন্ডাস্ট্রি থাকবে।

- থীমটা কী?

- বিসনেস চ্যালেঞ্জেস ইন দি নিউ...।

- ধুর, লাঞ্চে কী? কন্টিনেন্টাল? ইন্ডিয়ান? চাইনিজ?

***

২- খাবার অর্ডার

- অর্ডার লিখে নিন।
- বলুন।
- মটন কষা এক প্লেট। মটন রোগনজোশ এক প্লেট। আটটা পরোটা। একটা থামস আপ এক লিটার।
- পয়লার বাজার; দেরী করে ফেলেছেন। তবে চিন্তা নেই। চিকেন দোপেঁয়াজা আছে, চিকেন টিক্কা মশলা আছে, চিকেন ভর্তা...।
- রিভিশন।  লিখে নিন। দু'টো ডিম তড়কা। এক্সট্রা ডিম। আটটা রুমালি। একটা ফ্যান্টা, এক লিটার।
- আহ্, চিকেনে আরো আছে। হরিভরি মুর্গ, চিকেন লাবাবদার...।
- পয়লাতে ব্রয়লার খেয়ে চোয়াল ইনজিওর করব, এমন গবেট নই। ক্যুইক স্যর, তড়কা-রুটি-ফ্যান্টা।

হোমওয়ার্ক

- একটা হোমওয়ার্ক দিচ্ছি তোকে।

- এই বয়সে হোমওয়ার্ক দেবে মামা?

- হোয়াই নট?

- শুনি।

- মতপার্থক্য প্রকাশে কোনো সিলিং নেই। এমন কী অমুকের অভিনয় বা তমুকের ব্যাটিং ভালো লাগে না; এমনটাও যত খুশি যতবার খুশি বলতে পারিস। কিন্তু রাগ বা হিউমর ঝাড়তে গিয়ে একটা ব্যক্তিগত খিস্তি দিতে হলে, অন্তত তিনজনের ব্যাপারে মন খুলে সবার সামনে প্রশংসা করতে হবে। ও হ্যাঁ, এমন তিনজনের গুণ গাইবি যাদের ব্যাপারে এর আগে পাবলিকলি তুই যথেষ্ট প্রশংসা করিসনি।  থ্রি ইস টু ওয়ান রেশিও মেন্টেন করতে হবে। অ্যাট অল টাইমস।

- বেশ। তা'হলে শোনো। বিমল জ্যাঠা চমৎকার রিদমে খৈনি ডলেন, ট্রীট ফর দ্য আইজ অ্যান্ড ইয়ার্স। মেজপিসি পনীর কুচিয়ে ভেজে তাতে পাঁপড় মিশিয়ে একটা ঝাল ঝাল রান্না করে, টেরিফিক। অখাদ্যকে উপাদেয় করে তুলতে মেজপিসিই পারে। পাশের পাড়ার গণেশ মাতাল গোপনে গান লেখে, বেশ জুতসই। এই গেল তিনটে প্রশংসা। আর এই তুমি, তোমার ভীমরতি হয়েছে। বুঝেছ মামা? ভীমরতি।

ইন্টারনেট আর মহাভারত



- মহারাজ ধৃতরাষ্ট্রের জয় হোক!
- আর ভাই সঞ্জয়! জয়ফয় বলে লেগপুল কোরো না। কুরুসেনা যে হারে প্যাঁদানি খাচ্ছে..।
- সবে তো শুরু মহারাজ। অত ইম্পেশেন্ট হলে চলবে কেন? গুড নিউজ আছে। কুরুক্ষেত্রে ট্রেন্ড পাল্টাচ্ছে।
- বটে? কী'রকম?
- শেষ খবর অবশ্য দু'ঘণ্টা আগে পেয়েছি মহারাজ। আজ পিতামহ মোমেন্টাম ঘুরিয়ে দিয়েছেন। পাণ্ডব সৈন্য পালাবার পথ পাচ্ছে না। অর্জুন নিজে ভি-তে না খেলে বাধ্যে হয়ে দিলস্কুপ গোছের এলোপাথাড়ি তীর ছুঁড়ছে, তা'তেও লাভ হচ্ছে না। কৃষ্ণ রাগে ফেটে পড়ছে।
- পিজে টাইম, কৃষ্ণ রাগে ফেটে পড়লে কি ওকে ফাটাকেষ্ট বলে ডাকা যাবে?
- এল ও এল। এল ইউ এল জেড।
- যাক গে, দু'ঘণ্টা আগের খবর কেন? যুদ্ধ তো এখনও চলছে। স্ট্র‍্যাটেজিক টাইম আউট নিয়েছে একটা বড় জোর। লেটেস্ট স্টেটাস কী?
- ক্ষমা করুন মহারাজ। ব্যাসদেবের ব্রডব্যান্ড কনেকশন ডাউন চলছে। 
- সর্বনাশ কাণ্ড। বলো কী? ইন্টারনেট ডাউন? রাউটারে থাবড়া মেরে রিস্টার্ট করে দেখেছ?
- লাভ হয়নি। কাস্টোমার কেয়ারে কম্পলেন করেছি, কিন্তু এখনও সুরাহা হয়নি।
- ব্যাসের যত বাতেলা। এত ডাউনলোড স্পীড রে, হ্যান রে, ত্যান রে। ধ্যার।
- স্যাড স্মাইলি ইনসার্ট করতাম চ্যাট উইন্ডো হলে।
- যাক গে। ব্রেইল পাশার সেট তৈরি হয়েছে কি? জলদি করো, ওই খেলা শুরু করতেই হবে। নয়ত একদিকে গান্ধারীর পলিটিকাল করেক্টনেসের স্টেনগান আর অন্যদিকে ওই বিদুরের চিকেন স্যুপ ফর সোল মার্কা লেকচার; আর নেওয়া যাচ্ছে না।

মিস্টার স্মিথ



বড় হওয়ার প্রসেসে একটা জব্বর 'বাগ' রয়েছে। মাঝেমধ্যেই মনে হয় 'অ্যাই যে, এইবারে বেশ দাঁড়িয়ে গেছি। দেওয়াল ঘড়ির ব্যাটারি পাল্টাবো। চালানি কাতলা চিনে ফেলে নাক সিঁটকবো। খোকাটি পেয়ে শুকনো বাঁধাকপি গছিয়ে দেবে, তেমন বান্দা আর কেউ থাকবে না চারপাশে'। তখন মনে হয় বুড়োদের মাথায় হাত বুলিয়ে বলি; 'আরে আমি থাকতে তোমার সাতপাঁচ ভাবার আছেটা কী'? 

ঠিক তখুনি দুম করে একটা 'ভুল' ঢুকে পড়বে; আর সমস্ত গুবলেট, গোটা ইকুইলিব্রিয়াম জলে। পায়ের তলার মাটি ঝুরঝুরে হয়ে পড়বে, চেনা মানুষগুলোর গা থেকে পাওয়া যাবে অন্য গ্যালাক্সির গন্ধ। কিছু হাত নরম 'আছি তো'র সুরে পিঠে নেমে আসে, কিন্তু তবু ধুকপুকানি বাড়তে থাকে। সমস্ত মাটি করে ফেলার অপরাধবোধ গলা টিপে ধরে।

তখন এই দামড়ামোর খোলস ছেড়ে বেরোনো জন্য যে কী প্রাণান্তকর আইঢাই। আর এই দুর্বিষহ বয়স আর পাপ ঝেড়ে ফেলার একটাই জায়গা আছে বোধ হয়; মা-বাবা। ভুল স্বীকারের এমন নিশ্চিন্ত আশ্রয় আর নেই। কাঁধে বাপের হাতের মত সৎসাহস আর হয় না। 

র‍্যান্ডি পশ্ বলেছিলে সরি বলার তিনটে ভাগ আছে;
- দুঃখপ্রকাশ।
- দোষ নিজের কাঁধে তুলে নেওয়া।
- দোষগুলো শুধরে নেওয়ার জন্য সমস্ত কিছু করতে চাওয়া।

স্মিথের 'সরি' সে অর্থে 'কপিবুক'। আর সবচেয়ে বড় কথা;  স্মিথ ভেঙে পড়েছিলেন বুড়ো বাপের জন্য; লজ্জায়, দুঃখে, অনুশোচনায়। খোকার পাশে পাহাড় হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন বাবা; যদ্দিন তিনি দাঁড়িয়ে আছেন, তদ্দিন ঈশ্বরেরও ক্ষমতা নেই খোকার শৈশব কেড়ে নেওয়ার।

তবু। কোথাও কারুর হত মনে হবে গিমিক, সাজানো। জানি না। তবে আত্মসমর্পণের অন্ধকারে খোকার পাশে আলো হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন বাবা, আমার বাবা-বিশ্বাসী চোখে সে'টুকুই আশ্বাস। 
শাস্তিটুকু থাক, আর শাস্তির ও'পাশে থাকুক ভালোবাসায় মজবুত খোকা। 

ফিরে আসুন স্টিভ। ফর ইওর ওল্ড ম্যান। আমরা অপেক্ষায়।

গরম্য

এপ্রিল পেরোনোর আগেই কলকাতা তন্দুর সেঁকা হয়ে পড়বে। এ ভ্যাপসা গরম এমন বিটকেল যে প্রতিদিন নিয়ম করে শরীরের সমস্ত ঘ্যাম ঘামে শুষে নেয়।

হাতের পাঁচ বলতে মাঝেমধ্যে আইআরসিটিসিতে লগ ইন করে শেয়ালদা টু নিউজলপাইগুড়ির টিকিট দেখে কয়েক মুহূর্তের জন্য প্রাণ ঠাণ্ডা করা। গরম বাড়াবাড়ি রকমের দিকে গেলে অবশ্য উইকিপিডিয়ায় লাদাখের গল্প না পড়ে উপায় থাকে না। গুগল ইমেজেস আর ইউটিউবও যথেষ্ট কার্যকরী। গতবার আধঘণ্টা ধরে বরফে মোড়া কানাডায় ছবি ও ভিডিও দেখে সর্দি লেগে গেছিল।

অবস্থা আরো সঙ্কটজনক হলে অবশ্য দু'চার পেগ গেলা ছাড়া উপায় থাকেনা; বরফলেবুজলের পাতিয়ালা পেগ যে কত চিড়বিড়ে দুঃখকে চাবকে সোজা করার ক্ষমতা রাখে।

মূল সমস্যাটা শুরু হয় মে-মাসের মাঝামাঝি গিয়ে। গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের চোটে যা অবস্থা দাঁড়িয়েছে, ট্রাম্পবাবু আর বছর খানেক মন দিয়ে চেষ্টা করলেই নর্থ পোলের কোনো এক মোড়ে দাঁড়িয়ে দিব্যি ফতুয়া গায়ে ঘুগনি-ডিমসেদ্ধ খাওয়া যাবে। তা গতবছর বৌ বলল এই সময় ফ্লুইড ইনটেক না বাড়ালে সমস্যা হতে পারে। আমি মাথা নেড়ে সাজেশন দিয়েছিলাম এই হরেন্ডাস গরমের নিজেদের হাইড্রেটেড রাখতে কিছুদিন আমাদের উচিৎ এক বাটি মাংস প্রতি মিনিমাম দু'বাটি করে ঝোল খাওয়া। সম্পর্কে সেই থেকে একটা বিশ্রী চাপা অবিশ্বাস ঢুকে গেল।

বিনোদবাবুর অম্বল

- শুনুন।
- আমায় ডাকছেন?
- র‍্যান্ডম ফায়ার করেছিলাম। আপনি ঘাড় ঘুরিয়ে জানতে চাইলেন। তা'হলে আপনাকেই ডেকেছি।
- ভিড় প্ল্যাটফর্মে ইয়ার্কি পেয়েছেন?
- এই দমবন্ধ করা ভিড় আর ভ্যাপসা গরমে ইয়ার্কি? প্রাণে অত ফুর্তি থাকলে কবি হতাম যে মশাই।
- মাফ করবেন, আপনি কবিদের চেনেন না। তারা দিব্যি নিস্তেজ হয়ে পড়ে থাকতে পারে, দিনের পর দিন।
- আপনি কবি?
- পাগল নাকি! যাক গে, ডাকলেন কেন?
- তিন নম্বরের দিকে যাচ্ছেন?
- আপ কাটোয়া লোকাল তিনে দিয়েছে। অ্যানাউন্স করল তো। আপনার কি ওই লাইনেই?
- আমি? না। আমি কুদঘাট টু হাওড়া, হাওড়া থেকে ওয়াপস।
- হাওড়া? কুদঘাট থেকে? রেলের অফিসে চাকরী নাকি?
- না না, আমি রোজ স্টেশনে ঘুরতে আসি।
- স্টেশনে রোজ ঘুরতে আসেন?
- রোজ। সব প্ল্যাটফর্মে ঘুরি। বড় ঘড়ির তলায় দাঁড়াই। মাঝেমধ্যে পুরিভাজির দোকানের ব্যস্ততা দেখি। ঘণ্টা তিনেক পর ফের মিনিবাসে করে ওয়াপস।
- রোজ?
- অবভিয়াসলি রোববারে নয়। ওইদিনটা রেস্ট।
- আপনি তো নোবেলটোবেল পেয়ে যাবেন যে কোনো দিন।
- সারকাজম রয়েসয়ে ব্যবহার করতে হয়।
- গুল দিচ্ছেন না তো?
- গা ছুঁয়ে প্রমিস করব?
- অত বাড়াবাড়ির দরকার নেই।
- আমি অবশ্য চাইলেও গা ছুঁতে পারতাম না।
- মানে?
- আমার নাম রাধাকান্ত হাজরা। নিবাস, কুদঘাট। আগেই বলেছি। তা, আপনার নাম?
- বিনোদ দাস। বৈদ্যবাটি। ইয়ে চোরডাকাত নন তো? চেহারা দেখে তো তেমন মনে হয় না। তবে গা ছুঁতে পারবেন না কেন বলুন দেখি?
- আমার শরীর তো হাওয়া।
- ভূত?
- ধ্যাত্তেরি। সবেতেই বাঙালির ভূত ভূত বাতিক। হাওয়ার শরীর মানেই ভূত?
- যাব্বাবা, অশরীরী! ভূত নয়?
- আপনি কি ভূত? বিনোদবাবু?
- যাচ্চলে, আমি কি অশরীরী?
- আলবাত।
- ইয়ার্কি হচ্ছে?
- আপনার মূল দেহ আর আত্মা দু'টোই এখন কাটোয়া লোকালের হ্যান্ডেল ধরে হাফঘুমে ঢুলছে।
- আমার মাথা কেমন ঘোরাচ্ছে, নিজের গা হাত পা কেমন ছায়ার মত তিরতির করে কাঁপছে। আমি কি ভূত?
- ধুত্তোরিছাই। বললাম তো, আই রিপীট; আপনার আত্মা নিশ্চিন্তে আপনার দেহের মধ্যে রয়েছে। আপনার দেহ আপ কাটোয়া লোকালের চার নম্বর কামরায় দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ঢুলছে।
- সর্বনাশ, তা'হলে আমি কে রাধাকান্তবাবু?
- আপনি আদতে বিনোদবাবু পুরোটা নন। আপনি বৈদ্যবাটির বিনোদবাবুর পুষে রাখা দাঁতকিড়মিড়। এই যেমন আমি ঠিক রাধাকান্ত নই। আমি রাধাকান্তের পোষ্য অপরাধ বোধ।
- কেমন গা গুলোচ্ছে রাধাকান্তবাবু।
- গা থাকলে তবে তো গোলাবে।
- তা ঠিক! কিন্তু কেসটা কী?
- আজ থেকে দেড় বছর আগে, আমি যাচ্ছিলাম কাটোয়া, পিসিমার বাড়িতে নেমন্তন্ন ছিল। এই কাটোয়া লোকালে উঠে জানালার লোভে আমি আপনাকে ঠেলে ফেলে আপনার পা মাড়িয়ে গিয়ে জানালা দখল করি। লজ্জার সঙ্গে আজ স্বীকার করছি সে জানালা আপনার প্রাপ্য ছিল। অথচ আপনি প্রতিবাদ করতেই আপনাকে বাপ তুলে খিস্তি করি। আপনি ঘাবড়ে চুপ করে যান। জানালার আনন্দ অবশ্য তেমন ভোগ করতে পারিনি। অপরাধ বোধে দগ্ধ হতে থাকি। সেই থেকে আমার অপরাধ বোধ রোজ কুদঘাট থেকে হাওড়া এসে আপনার মনের সেই পুরনো ব্যথা আর দাঁতকিড়মিড়ের খোঁজ করতে থাকে। কত  আর্তি নিয়ে ডাকি; "শুনুন"। এদ্দিন পর আজ সাড়া পেলাম। তিন নম্বর প্ল্যাটফর্মের দিকে ছুটে যাওয়ার সময় আপনি  আমার হাঁক শুনতে পান। ব্যস,  শুনতে পেয়েই আপনার অন্তরের পোষা সেই আমি-ঘটিত ব্যথা-আর-দাঁতকিড়মিড় বেরিয়ে আসে। বহুদিন আপনার খোঁজ করেছি স্যর, রোজ, হপ্তায় ছ'দিন। আমায় এ'বার মাফ করুন। বিনোদবাবু প্লীজ। আমি জানোয়ারের মত কাজ করেছিলাম।
- আমি যে কী বলব রাধাকান্তবাবু, আমি অভিভূত।  আর রাগ রইল না।
- গা ছুঁয়ে প্রমিস?
- হে হে হে।
- হে হে হে।
- ও কী, আপনি আবছা হয়ে পড়ছেন যে!
- স্বাভাবিক,  এ'বার আপনারও আর থাকার দরকার নেই; আপনিও গায়েব হচ্ছেন। সে'টা টের পাচ্ছেন কি?

***

বেলুড় আসার পর লোকের ওঠা নামার ধাক্কায় হ্যান্ডেল ধরে ঝুলে থাকা হাফ ঘুমন্ত বিনোদ দাসের তন্দ্রা গেল চটকে।

আর ঠিক তখনি; একটা অদ্ভুত ব্যাপার খেয়াল করলেন ভদ্রলোক। এদ্দিনের চাপা অম্বল আর বুকজ্বালা ভাবটা  দুম করে গায়েব। খানিক আগেও ছিল, এখন নেই। নতুন হোমিওপ্যাথিক ডাক্তারটার এলেম নাকি?

Monday, April 23, 2018

রবি আর আলো

- মোমবাতিটা কোথায় রেখেছ পটাদা?
- ড্রয়ারে। পড়ার টেবিলের।
- নেই। ভালো করে মনে করো দেখি।
- তোমার সেই চার ব্যাটারির টর্চটা কী হল?
- ফেলে এসেছি। তাসের আড্ডায়।
- ভেবে কী হবে আর ভাই রবি। বাথরুমের রাস্তাটুকু মাপা। আর খানিক পরেই ভোর হল বলে। লোডশেডিংকে লাই দিয়ে মাথায় তুলতে নেই। শুয়ে পড়।
- আলোর সোর্স হাতের কাছে নেই ভাবলে বড় অস্বস্তি হয় পটাদা। ঘুম আসতে চায়না।
- মেসে নতুন তো, আর দু'চারমাসে আলোর বদ অভ্যাস কেটে যাবে।
- মোমবাতিটা নিশ্চয়ই কোথাও..।
- খুব ভয় লাগলে বোলো, সিগারেট ধরিয়ে নেব। লাইটার আমার বালিশের নীচেই আছে। লাইটারের ফস আর তারপর বেশ একদানা আলো বিউটি স্পটের মত ঘরের অন্ধকারে মিনিট তিনেক জ্বলবে। শুয়ে পড়ো, নতুন চাকরী; উঠতে দেরী হলে কেলেঙ্কারি হবে। সকালের বাথরুমের লাইন কেমন পড়ে তা তো দেখেইছ। আর চ্যাটার্জী মশাই একবার ঢুকলে হয়ে গেল। দশটার আগে শেয়ালদা পৌঁছতে পারবে না।
- তোমার এই মেসে অনেকদিন হল, তাই না?
- থার্ড ইয়ার থেকে। তারপর মাস্টার্স। তিন বছর চাকরী।  মেস ছেড়ে লম্বা ছুটিতে বের হলে বেশ হোমসিক ফীল করি।
- পটাদা, লাইটারটা দেবে একবার?
- আলোর জন্য? ভয়টয় পেলে নাকি হে?
- না। এমনি। আচ্ছা থাক।
- এই নাও, লাইটার।
- না না, থাক।
- রাখো রাখো।
- থ্যাঙ্ক ইউ। আমি বারান্দা থেকে আসছি। কেমন?
- গোপনে সিগারেট খেতে চাইছ? সে কী!
- না না। এমনি।
- মাঝরাতের বারান্দাটা দেখছি তোমার এক বাতিক হয়ে দাঁড়িয়েছে।

**

- আমি ভাবলাম আজ আর আসবে না...।
- আরে ধুস, ব্রীজের আড্ডায় টর্চটা ফেলে এসেছি। এ'দিকে মোমবাতিগুলো খুঁজে পাচ্ছি না। লাইটার দিয়ে ইন্টার গ্যালাক্টিক সিগনাল তৈরি করা কি চাট্টিখানি কথা?
- এই পাগলামি আর কদ্দিন রবি?
- যদ্দিন। তদ্দিন। ইলেয়া, এমন ভাবে জিজ্ঞেস করছ কেন?
- আমাদের গ্রহে টেকনোলজি আছে তাই তোমার সঙ্গে যোগাযোগ করে চলেছি। তোমায় শেখাতে পেরেছি আলোর ব্যবহারে সিগনাল ট্রান্সমিশন। তবুও, ব্যাপারটা আমার জন্য বেআইনি। আর, তাছাড়া...।
- সবই জানি, তবু...। ইলেয়া, প্লীজ।
- আমার আর তোমার সময় সম্পূর্ণ আলাদা। এক অন্য সময়ের আমার সঙ্গে এক অন্য সময়ের তোমার এই যোগাযোগ। প্রেম। ভালোবাসা। স্নেহ। সমস্তই আলোর যাত্রাপথের ভাঁওতা।
- কিন্তু ইলেয়া...।
- সময়ের একই বিন্দুতে দাঁড়ালে তোমার জগতে আমি মৃত। আমার জগতে তুমি সুদূর ভবিষ্যৎ।
- যোগাযোগ বন্ধ কোরো না ইলেয়া, প্লীজ।
- যোগাযোগ? এ'টা একধরনের প্ল্যানচেট রবি! প্ল্যানচেট।
- যেওনা। প্লীজ।
- যেতে যে আমায় হবেই। সে'টা বলতেই তোমায় ডাকা।

**

খানিক হলেও অপরাধবোধ কিছুটা লাঘব হল পটা ওরফে পটলকুমার দত্তর। ডিস্ট্যান্ট ভেন্ট্রলোকুইজমের আর্ট এ দেশে প্রায় মরতে বসেছে। নিয়ার-ভেন্ট্রলোকুইজমের মত পুতুলের ডামিকে কথা বলানো নয়, ডিস্ট্যান্ট ভেন্ট্রোলোকুইজমে মনে হয় শব্দের উৎস দূরে কোথাও; পটলবাবুর নিজেরই নিজের পালটানো কণ্ঠস্বর দূর থেকে ভেসে আসছে ভাবলে গায়ে কাঁটা দেয়। সত্যি কথা বলতে  পটলবাবুর মত ডিস্ট্যান্ট ভেন্ট্রোলোকুইস্ট ভূভারতে আর দু'টো নেই। তবে এই শিল্পকে অবশ্য বাণিজ্যিক ভাবে কোনোদিনও ব্যবহার করতে চাননি তিনি, শুধু মেসের নতুন বান্দাদের গোপনে একটু হয়রান করেই সামান্য তৃপ্তি লাভ হয়।

তবে এই রবি ছোকরা একটু সহজেই ভেসে যাওয়ার উপক্রম করেছিল। কাজেই মানেমানে ইলেয়াকে বিদেয় দেওয়া ছাড়া পটল দত্তর আর কোনো উপায় ছিল না।

Saturday, April 21, 2018

কোজাগর

- বাবু।
- কিছু বলছিলে বাবা?
- কেন এসেছিস?
- মানে?
- বাড়ি ফিরলি কেন?
- উফ, একদিন মাত্র দেরী হয়েছে। তার জন্য এত চোপা করবে? রোজ দিব্যি ছ'টার মধ্যে ঢুকে যাই।
- কেন ফিরলি?
- কী হয়েছে তোমার?
- কেন? ফিরলি কেন?
- জেনে গেছ?
- তোর অফিসের সুপ্রিয় ফোন করেছিল। ওকে পুলিশ জানিয়েছে।
- বডিটা?
- ঘণ্টা দুয়েকের মধ্যে এসে পৌঁছবে।
- ওহ।
- কেন এলি?
- কোজাগর। উপন্যাসটা খান পঞ্চাশেক পাতা বাকি ছিল। ওরা আসার আগেই...।
- আচ্ছা।

***
- বাবা?
- হুঁ? পড়া হল তোর?
- একটু বেশি সময় লাগল। কী ইচ্ছে হল, মাধুকরীটা নামিয়ে কয়েক পাতা পড়লাম। কী সুন্দর শব্দটা, তাই না বাবা?
- বটেই তো। তোর মায়ের খুব প্রিয় উপন্যাস ছিল।
- হুঁ। যাক গে, এ'বার আমায় যেতে হবে। ওই, কলিংবেল বাজছে। সুপ্রিয়দারা এসে গেছে, তোমার নাম ধরে হাঁকডাক শুরু হয়ে গেছে। তুমি দরজাটা খোলো। আমি আসি, কেমন?
- দরজা? দরজা খোলা হবে না যে। ওদের ভাঙতেই হবে। আমার বডিটা দোতলায়, টেলিফোনের ঘরেই পড়ে আছে। দরজা খুলবে কে?

কানমলা

- ব্রাদার, জব ডান। 
- যাক। ক'টা খরচ হল?
- তিনটে। 
- সে কী! দু'টো মানুষের জন্য তিনটে। 
- একটা বুলেট মাথার ডান দিক ঘেঁষে বেরিয়ে গেল। ব্লিডিং যা হচ্ছিল তা'তে রিস্ক নেওয়াই যেত, তবে...। আইপিএলের ম্যাচ চলছিল। গেইল প্যাঁদাচ্ছিল। তাই আর অপেক্ষা করতে ইচ্ছে হল না। দিলাম তিন নম্বর মাঠে নামিয়ে। 
- অপচয় হে জুনিয়র, অপচয়। নাইনটি থ্রীর দুর্ভিক্ষ দেখনি তো, তাই এত মেজাজ। গেইলের ব্যাটিং দেখতে গুলি নষ্ট। অথচ নাইনটি থ্রীতে আমরা মার্ডার টার্গেটের ইন্টারভিউ নিতাম, সে গুলির জন্য কোয়ালিফাই করছে কিনা দেখতে। নয়ত স্রেফ বাঁশ-পেটা করে কাজ সারতে হত। 
- ভয়ানক সময় তো। হিউমান রাইটস বলতে কিস্যু ছিল না ব্রাদার। 
- আর এখন আমরা গেইলের ব্যাটিং দেখতে খরচ করছি বাড়তি গুলি। 
- সরি ব্রাদার। 
- যাক গে, এক্সেল শিট আপডেট করে দাও। এ মাসের ট্যালি কত দাঁড়াল?
- বাহাত্তর জন। খরচ একাশি। 
- ওয়েস্ট। ওয়েস্ট। তা এ'টা কি গেইলের এ মাসের ন'নম্বর সেঞ্চুরি ছিল?
- তা কেন ব্রাদার। প্রেম করছি। তাড়া থাকে মাঝেমধ্যে। 
- ফের সেই নাইনটি থ্রির মন্বন্তরের গল্পই করি। তখন তুমি হামা দিচ্ছ। আমি তখন ওই আকালেও টপাটপ লাশ ফেলে বেড়াচ্ছি। রাঘববোয়ালের জন্য জমিয়ে রাখতে হয় বুলেট। তা একদিন আমার প্রেমিকা...। 
- তোমার প্রেমিকা ব্রাদার?
- কেন?
- তোমার দেখলে কেমন টেবিল চেয়ার মনে হয়। তোমার আবার প্রেম। 
- তখন দেখলে নার্ভাস হয়ে পড়তে জুনিয়র। সর্বক্ষণ বুকপকেটে রক্তের ছিটে। বুলেটের অভাবে সমস্ত সুপারিকিলার ছটফট করছে অথচ আমার পকেটে আধপেটা খাওয়া জোড়া পিস্তল। মাঝেমধ্যে নিজেকে আয়নার দেখে নিজেই ঢোক গিলতাম। 
- তা প্রেমিকার কেসটা কী হল?
- বারুইপুরে একটা পুরনো পেয়ারাবাগান কিনেছিলাম, লাশগুম করার একটা নতুন জায়গা দরকার ছিল। সে পেয়ারাবাগান প্রথমবার দেখতে গেলাম প্রেমিকাকে নিয়ে। প্রেমে কেমন লোকে মাথায় চড়ে বসে দেখো জুনিয়র, সে আমায় বলে কিনা বুলেটে ছুঁড়ে পেয়ারা পেড়ে দিতে? ওই বুলেট আকালের বাজারে? তবে প্রেমিকার কথা। ফেলতে পারিনি। পত্রপাঠ খরচ করেছিলাম একটা বুলেট। 
- একটা বুলেটে ক'টা পেয়ারা?
- জিরো। 
- সে কী! তুমি ক্র্যাকশট। এক বুলেটে পেয়ারা পাড়তে পারলে না?
- একটা বুলেট। জিরো পেয়ারা, একটা পেয়ার। 
- হুঁ? 
- প্রেমিকাকে দিয়েই সে লাশগুমস্থান পেয়ারাবাগানের উদ্বোধন করেছিলাম জুনিয়র। বললামই তো, দুর্ভিক্ষে মানুষ ক্যানিবালিজমের পর্যায় কী ভাবে নেমে আসে তা সে'বার বেশ টের পেয়েছিলাম। 
- আইব্বাস ব্রাদার। 
- তাই তো বলি জুনিয়র, রিসোর্স নষ্ট কোরো না। রিসোর্স নষ্ট কোরো না। তা সে বুলেট হোক বা প্রকৃতি। অনিষ্টকারীর কানমলা খেতে দেরী  হয় না। বুঝলে? 

Sunday, April 15, 2018

নব

- হ্যালো।
- হুঁ।
- বাবু!
- হুঁ।
- শুভ নববর্ষ।
- ন্যাকা।
- কেমন আছিস?
- বহুত খুব।
- পুরনো পাড়ায় যাস এখনও?
- নাহ্। সময় কই।
- ও। তা বটে। তুই কত ব্যস্ত।
- খুব ব্যস্ত। বড্ড দৌড়ঝাঁপ। হুড়মুড়।
- অফিসের খুব চাপ?
- ওই। তুই কেমন আছিস?
- দিব্যি। একটা নতুন অ্যাসাইনমেন্ট। বেশ ইন্টারেস্টিং জানিস।
- বাহ্।
- আমার সঙ্গে কথা বলতে ইচ্ছে করছে না?
- না।
- রাখি?
- রাখ।
- রাখব না।
- আচ্ছা।
- পাড়ায় ফিরিস না কেন?
- ওই যে। ব্যস্ত।
- ন্যাকা।
- ফোনটা রাখবি?
- ফিজিক্স টিউশনের পর রোজ বাদাম খাওয়াতাম তোকে। ঘাটের পাশে। দু'বছর ধরে। প্রতি শনি আর বুধ। মাঝেমধ্যে বোনাস হিসেবে বিপিনকাকার ঘটিগরম। নিজের টিউশনির টাকায়। ভুলে গেলি? নেমকহারাম! রাস্কেল!
- গাল পাড়তে ফোন করলি?
- বেশ করব। যাস না কেন? পাড়ায়?
- এমনি।
- ঘাটের আশপাশটা বড় দেখতে ইচ্ছে করে বাবু। কদ্দিন দেখিনা। তোর মনে পড়ে? ওই কচুবন আর গঙ্গামাটি মেশানো গন্ধ? মনে পড়ে তোকে প্রবাবিলিটি শিখিয়েছিলাম? এই রকমই, সংক্রান্তির বিকেলে।
- স্নব। তুই অঙ্ক স্নব।
- তাই কথা বলিস না আমার সঙ্গে?
- আমাদের কথা বলতে নেই।
- তোর মুণ্ডু।
- ফোন রাখবি এ'বার? আমি ব্যস্ত।
- বাজে কথা। পাড়ায় ফিরবি একদিন? ঘাটে যাবি বাবু? বলবি কতটা বদলে গেছে জায়গাটা? কচুবন আছে এখনও? বিপিনকাকা সাইকেলে ঘটিগরম নিয়ে ঘাটের পাশ দিয়ে যায়? তিন নম্বর সিঁড়িটা, যে'খানে আমরা বসতাম, সে'টা আগের মতই...।
- আমি এক কলিগের সঙ্গে আছি। খুব ব্যস্ত। রাখি?
- একদিন ঘাটে গিয়ে ফোন করবি আমায়? বাবু?
- না।
- তুই একটা ইডিয়ট! আস্ত গাধা!
- হোয়াট আর দ্য অডস?
- এ'রকম কেন করিস? কথা কেন বলিস না?
- কল্যিগ। অফিসের কাজ। রাখছি।
- আয়। সাবধানে থাকিস।
- হুঁ। শুভ। নববর্ষ।
- ন্যাকা। রাখ। দ্যাখ কল্যিগ কী বলছে। কাজ কর।

***

- কার ফোন ছিল গো?
- ভূতের।
- ঘাটে বসে আছ পা ছড়িয়ে, অথচ অফিসে আছ বললে। নির্জলা মিথ্যে।
- বিপিনকাকা, তুমি ঘটিগরমের ব্যাপারী,  ভূতের খবরে তোমার কাজ কী? আর এক ঠোঙা ঘটিগরম বানাও বরং। আর ইয়ে, প্রবাবিলিটির অঙ্ক জানো তুমি?

Friday, April 13, 2018

সুইসাইড নোট



নীল বিষের বড়িটার দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে মাথায় কেমন ঝিম ধরে গেছিল।
কী ভীষণ মায়া। কেমন ছায়াময় ভালো লাগা।

তবু। যেতেই হবে। নিজেকে খতম না করতে পারলে এ পাপের প্রায়শ্চিত্ত হবে না। হতে পারে না। মারা যযাওয়ার আগে পিতা পইপই করে বলেছিলেন সে ভয়ঙ্কর জিনিসপাতি না ঘাঁটতে। এত্তটুকুন দানা, সে'টুকু বুকপকেটে রেখে জীবন কাটিয়ে চলে যাওয়া। পড়ে থাকত অন্তত অন্ধকার আর সেই দানাটা।

কিন্তু ওই। একা থাকতে থাকতে বেয়াকুবের মত কাজটা করে ফেলেছিলেন তিনি। বুকপকেট থেকে দানাটা বের করে দু'আঙুলে চাপ দিতেই ঘটে গেছিল বিস্ফোরণ। সে এক চোখ ধাঁধানো মুহূর্ত।

প্রথম আলো দেখেছিলেন তিনি,
সে যে কী আনন্দ।

সেই প্রথম আলো দেখেছিলেন তিনি,
চোখ ধাঁধানো,
মনপ্রাণ ভাসিয়ে নেওয়া;

আলো।
পদার্থ।

তাঁর চোখের সামনে ভেসে উঠল আগামী;
প্রাণ, সুর, কথা, গান, কবিতা, ভোট, ট্যাক্স।
সমস্তটাই।
ক্রমশ চোখের সামনে আগামীর সিস্টেম গড়ে উঠিতে শুরু করল।

একবার মনে হল পিতা খামোখাই ভয় পাইয়েছিলেন। মন চনমন করে উঠেছিল। প্রাণের ফুরফুর, সুরের ঝরঝরানি, কথার কলকল, গানের ঝিরিঝিরি, কবিতার টুংটাং,  ভোটের ঠুকুরঠুক আর ট্যাক্সের ধুপুরধাপুড় মিলে সে এক মনোগ্রাহী সিস্টেম।

কিন্তু সে আনন্দ কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই মিলিয়ে গেল। দিব্য দৃষ্টিতে তিনি টের পেলেন এ ভালোমানুষি সিস্টেমের মূল অভিপ্রায় আসলে কী।

সমস্ত বোঝার পর পুড়ে ছারখার হয়ে যাওয়া ছাড়া কোনো উপায় ছিল না তাঁর। সমস্ত আলো আর সমস্ত পদার্থ মিলে যে ভালোমানুষি সিস্টেমের মায়াজাল; তার একটাই লক্ষ্য;
সেই খুকির লাশ। খুকির ছিন্নভিন্ন দেহ। তার থেঁতলে যাওয়া মাথা। তার গা মাথা থেকে চুইয়ে পড়া রক্তে মিশে যাওয়া  যত গান, কবিতা, ভোট আর ট্যাক্সের ময়লা

শিউরে উঠেছিলেন তিনি। ককিয়ে উঠেছিলেন।

সৃষ্টির গোড়াতেই অসহায় ঈশ্বর নিজের মুখে পুরেছিলেন সেই নীল বিষের পুরিয়া। অন্যহাতের মুঠোর ধরা ছিল আগামীর দিকে ভাসিয়ে দেওয়ার চিরকুট ;

"আমায় ক্ষমা করিস না খুকি।
আমিই খুনি"।

Wednesday, April 11, 2018

বালিশের ওয়াড়

বালিশের ওয়াড় হবে আবছা গোলাপি, তা'তে লাল সুতোর ডিজাইন।
ধবধবে সাদা বিছানার চাদর।
গায়ে দেওয়ার সাদা কালো চেক ভাগলপুরী চাদর।
বাটিক প্রিন্টের ওয়াড় দেওয়া পুষ্ট পাশবালিশ।
খাটের মাথার কাছে টেবিল। সেই টেবিলে কাঁচের গেলাস ভরা জল, কাঠের কোস্টারে ঢাকা। পাশে পুরনো কাচের স্কোয়্যাশ বোতলে জল।
জলের বোতলের পাশে এক শিশি মিষ্টি আমলকি।
আর বালিশের পাশে পকেট রেডিওতে নজরুল। 

আর বুকের ওপর সঞ্জীব।
মাথার ভিতর সদ্য পড়া 'রাবণবধ'।
হাতের নাগালে বেডস্যুইচ।

ভেবেটেবে

অনেক ভেবেটেবে দেখলাম।

ভালোলাগা গানের শেষের ফুড়ুৎ করে বেরোনো 'আহা',
হুড়মুড়ের মধ্যিখানে ফোনের ও'পাশে মায়ের 'খেয়েছিস?',
পুজো আসছের মন ফুরফুরে 'এইব্বারে জমবে',
জমাটি শীতের রাতে মনপসন্দ বইয়ের শেষে পাতায় পৌঁছনো 'আইব্বাস',
পুরী যাওয়ার ওয়েটলিস্ট টিকিট কনফার্ম হওয়ার 'ইউরেকা',
হাজারবার প্ল্যান করেও জমানো চিঠি ছিঁড়ে কুচিকুচি না করতে পারার 'ধ্যাত্তেরি',
ছোটবেলার ইয়ারদোস্তের গায়ে পড়া 'আরে বল না বে কী হয়েছে',

এ'গুলো কিছুতেই যাওয়ার নয়।

অতএব,
'সিটিসি'র পায়ে দড়ি পরিয়ে 'ছোটিসি আশা'র বাঁশের খুঁটিতে বাঁধতে পারলেই নিশ্চিন্দি।

(ইয়ে, 'বাঁশ'য়ের খুঁটির রেফারেন্স দিলাম কেন কে জানে)।

জ্ঞান দেব?

- জ্ঞান দেব?
- না।
- দিই?
- না।
- প্লীজ।
- আহ্। দাদা! বললাম তো। এখন না।
- প্লীজ। দু'একটা ভালো ভালো কথা। টুকটাক জেনারেল নলেজ। মাপা ইমোশন। হালকা হিউমর। আর এ সব কিছুর আড়ালে কিছু মেজর লার্নিং।
- এখান থেকে যাবি এ'বার?
- এত ইম্পেশেন্ট হচ্ছিস কেন বল তো? জ্ঞানে এত অনীহা কেন?
- আমাকেই কলার টেনে জ্ঞান দিতে হবে কেন?
- ওয়াইফাই চলছে না। ডেটা প্যাক শেষ। উপায় নেই ভাই। একটু শোন। পছন্দ না হলে 'লাইক' বলে উঠে যাস, কিছু মনে করব না। কেমন?

যিস কা কোই নহি


যার অঙ্কে লেটার নেই, তার কপালে মাঝরাত্তিরে গঙ্গার ধারে বসে  প্রবাবিলিটির মজা বুঝিয়ে দেওয়ার একজন দাদা গোছের মাস্টার থাকুক।

যার ব্যাঙ্ক বোঝাই টাকা নেই, তার অন্তত একটা মেডিকাল ইন্স্যুরেন্স থাকুক।

যার যুক্তিতে ধার নেই, তার মনে মধ্যে গজলের ঘুরঘুর থাকুক।

যার গল্প নেই, তার ভূতের ভয় থাকুক।

যার পিঠে চাপড় দেওয়া "কুছ পরোয়া নহি" বন্ধু নেই, তার জন্য নিরিবিলি ছাতের  কোণার নিশ্চিন্দিটুকু থাকুক।

যার কাছে "তুমি চিঠি লেখনা কেন?"র উত্তর নেই, তার বুকের মধ্যে পাহাড়িসান্যাল গোছের বোরোলিন গন্ধ থাকুক।

যার বাড়ি ফেরার তাড়া নেই, তার জন্য মেঘলা সন্ধ্যের ভিড় মিনিবাসে জানালা রাখা থাকুক।

যার কবিতা লেখার ক্ষমতা নেই, তার আচমকা মনখারাপে অচেনা ছোট স্টেশনে নেমে চা-ওলার খোঁজ করতে পারার দুঃসাহস থাকুক।

যার 'মা কই মা কই' মনখারাপ ভাগ করে নেওয়ার কেউ নেই, তার বালিশে সাদা ওয়াড়ে সেলাই করা নীল ফুল থাকুক। আর থাক শিয়রের কাছের জানালা বেয়ে আসা চুল ওড়ানো হাওয়া।

যার কেউ নেই, তার সঞ্জীব থাকুক।

অন্য রাত


সে এক অন্য রাত। সাজানো গোছানো। আয়েশে রাঙানো। মখমলের মত আদুরে।

চারিদিকে বালির ঢেউ। মধ্যিখানে মুক্তোর মালার মত সাজানো আলোর কিছু বিন্দু। বালির ওপর বেমানান শৌখিনতায় পাতা তোষক তাকিয়া, সে'খানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে শহুরে 'রিল্যক্সেশন'। অল্প আরাম ছড়ানো বাতাসের ফরফর মুখে। হিসেব করে খুলে রাখা পাঞ্জাবির বোতাম। সমস্তই মাপা পেগের মত নিখুঁত; ওয়েল অ্যাকাউন্টেড।

তবে ওই। 'পড়তে বস্'য়ের চাবুক ধমকে কেঁপে উঠতে উঠতে বড় হয়ে ওঠা কলজের ফুর্তি ধারণ করার ক্ষমতা কম। এ'খানে আকাশ নিষ্পাপ, বড্ড বেশি তারা। দাদু তারা তৈরি হওয়ার গল্প বলতেন। অঙ্ক ভালোবাসার গল্প বলতেন। অনেক দূরের তারার গা থেকে ঠিকরে পড়া আলোর, হাজার বছর পর আমায় গায়ে নেমে আসার গল্প বলে; গায়ে কাঁটা এনে দিতেন।

আকাশ চিরে সুর ভেসে আসে। অচেনা ভাষার খোলস ছিঁড়েখুঁড়ে বেরিয়ে আসে রাজস্থানি মাটি-মাখানো সুরের দরদ। গান। দাদু আর আমি একসঙ্গে সুমন শুনতে শুরু করেছিলাম। দুই ভাই, দুই ছাত্রের মত।
'এই লাইনটা মন দিয়ে শুনেছ দাদু'?
'ভাই, এই গানটা আর একবার রিওয়াইন্ড করো। নয়ত উপায় নেই'। 

গানের চেয়ে বড় গার্জেন হয় না। সব 'এই চললাম, কেমন?"য়ের কানমলা ফিরে আসে। সমস্ত 'না থাকা' জ্যান্ত হয়ে হাতের তালুতে আঁকিবুঁকি কাটে।

ভরা আকাশের নিচে এক ভাই একলা পড়ে। তার গান বোঝায় বিস্তর ফাঁকফোকর, তার অঙ্কে ভয়, তার পকেট ভর্তি লোক ঠকানো চালবাজি।

কিন্তু তার গানের প্রতি অসহায় ভালোবাসাটুকু আছে।
আর আছে দাদুর না-থাকাটুকু।

রোগনজোশ


আলজওয়াহরের মটন রোগনজোশ তাড়াহুড়োর মাথায় খেলে বোধ হয় মজাটাই মাটি। খানিক কাবাবটাবাব খেয়ে পেট আর জিভ তৈরি করে তবে রোগনজোশের বাটিটা টেনে নেওয়া উচিৎ। রুমালি রুটি সহযোগে, অবশ্যই।

কোমর বেঁধে ঝাল খাওয়াতে আমার কোনও আপত্তি নেই, তবে গাঁকগাঁক ঝালই যে মাংস রান্নার  শেষ কথা নয়, তা আলজওয়াহর জানে।

সেই রোগনজোশের নিখুঁত ভাবে কষানো, মাপা ঝাল দেওয়া ঝোল আর তা'তে অল্প টক হালকা মিষ্টি মিশেল। আহা, সেই তুলতুলে মাংসের টুকরো; রুটি-মাংসের দলা মেঘের মত জিভের ওপর চলা ফেরা করবে। হিংস্র মেজাজে গজগজ করতে করতে চেবানো এ ক্ষেত্রে পাপ। এ রোগনজোশে একটাই পলিসি: ধীরে ধীরে ধীরে বও ওগো উতল হাওয়া।

একসময় মনখারাপ বাসা বাঁধবে। যন্ত্রণা নয়, বুকে টনটন নয়; বরং খুব ভালো কিছুর মধ্যিখানে যেমনটা হয়। পুরনোর গানের খাতার শেষ পাতায় রেনল্ডস ডটপেনে আঁকা আলপনার মত। শরীর মন এলিয়ে পড়বে; ভালোবাসায়।

খাওয়া শেষে মৌরি মিছরিতে মেজাজ নষ্ট অবান্তর। পোস্ট-রোগনজোশ মুখশুদ্ধি একটাই; নজরুল;
'পূর্ণ চাঁদের এমন তিথি; ফুল-বিলাসী, কই অতিথি..."।

(রোগনজোশের বাটি আসার পর পকেটে রাখা মোবাইলের কথা মনে ছিল না, ছবি তোলা তো দূরের কথা। এমনই তার সুবাস)।

আংটি চ্যাটুজ্যের ভাই


টেকনিকালিটি না বোঝায় যে কী স্বস্তি। সিনেমার মাঝেমধ্যেই আহাউঁহু করে নড়েচড়ে বসা যায়। ক্রিটিসিজমের ভারি স্কুলব্যাগ পিঠে থাকে না, তুলনামূলক আলোচনার জ্যামিতির বাক্স হাতে হাবুডুবু খেতে হয় না। সে ভারি মজার।

'এই সিনেমাটা জব্বর'। 'ওই সিনেমাটা তেমন জমেনি'। আমার প্রাইমারি স্প্রেক্ট্রাম অফ সিনেমা।

আল্ট্রা-জব্বর আর ইনফ্রা-জমেনি মার্কা ব্যতিক্রমের লিস্টও অবশ্যই আছে। সেই আলট্রা লিস্টে যোগ হল 'পলাতক'।

অনুপকুমার। মৌচাক-গোছের চ্যাঁচামেচি রোলে নষ্ট হওয়া অনুপবাবু যখন এ'খানে বুক বাজিয়ে বলেন 'আমি আংটি চাটুজ্যের ভাই', তখন তাঁর দেমাকে টেকা দায়। আবার উড়ে এসে জুড়ে বসার জাদুতে তিনি ম্যান্ড্রেক। কাছে টেনে নেওয়ায় যেমন তিনি ওস্তাদ, তেমনি পাশ কাটিয়ে দুম করে বেরিয়ে যাওয়াতে তিনি নোবেল লেভেলের কিছু পাওয়ার দাবী রাখেন। অথচ তিনি বাউল নন; রীতিমত জড়িয়েটড়িয়ে থাকেন, কষ্ট পোষেন। আবার অন্যদিকে তিনি তাঁর আনন্দের ঝুলি থেকে টপাটপ বেড়াল বের করে উঠোন ভর্তি নার্ভাস পায়রাদের মধ্যে ছেড়ে চলেছেন। এমন তরতর করে মনকাড়া উপন্যাসের গতিতে সিনেমার চরিত্রকে বেড়ে উঠতে সচরাচর দেখা যায় না।

বসন্তের তথাগত হতে না পারার যাবতীয় উপাদান নিয়ে এই সিনেমা। বসন্তের ফিরে আসার গল্প আর ফিরতে না পারার গল্প মিলেমিশে যে সৌন্দর্য, তার তুলনা শুধু টলটলে দু'চোখের সন্ধ্যা রায়।

টেকনিকাল ভাষায় যাকে বলে 'মোস্ট জব্বর সিনেমা'।

ধনক


কতবার মনে হয়েছে শৈলেনবাবুর লেখা নিয়ে সিনেমা তৈরি হলে কেমন হত। সারল্য, রূপকথা আর গতির ও'রকম মিশেল লেখা থেকে সিনেমায় তুলে আনা কি আদৌ সম্ভব? সিনেমার ঘণ্টা দুয়েকের পরিসরে ওই গল্পগুলোকে একই রকম প্রাণবন্ত রাখা যাবে?

সমস্ত চিন্তা দূর করে দিলেন নাগেশ কুকনুর। ওই, আমার সিনেমার টেকনিকাল দিকগুলোর ব্যাপারে তেমন কোনও ধারণাই নেই। কিন্তু সিনেমা ভালো লাগার ব্যাপারে স্পষ্ট বেঞ্চমার্ক আছে (নিজের 'ভালো লাগা', আইএমডিবি রটেনটোম্যাটোর রেটিং নয়, ক্রিটিকাল রিভিউ পড়ে মাথা নাড়া নয়)।  ভালো লাগা সিনেমা শেষ হলেই মনে হবে দিব্যি একটা গল্পের বই শেষ হল।

এই যেমন 'ধনক' দেখে মনে হল। শৈলেন লেভেল গল্পবলা, মনখারাপে মনভালোতে মেশানো প্লট। আর অবিকল সেই সব ফ্রেম যা শৈলেনের গল্প পড়তে পড়তে মনের মধ্যে ভেসে ওঠা উচিৎ। ইউটোপিয়ান অথচ কী ভীষণ স্মার্ট; আগাগোড়া। অমন একটা দিদি আর ও'রকম একটা ভাই; শৈলেনবাবু দেখলে বড় খুশি হতেন। আর এ'দিকে নাগেশ কুকনুরকে শৈলেন পড়ানোর দায়িত্ব যদি কেউ নিত।

তাছাড়া এই সিনেমার গান! ওই গানগুলো বাদ দিলে গল্পটা পুরো বলাই হত না। আর আছে বলিউড। ভাষার তফাৎ আর গিজগিজে বিটিকেল জিনিসপাতি থাকা সত্ত্বেও বলিউড যে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের সঙ্গে কতটা নিবিড়ভাবে জড়িয়ে; তা স্বপ্নের মত মেলে ধরা হয়েছে।

( শৈলেনকে আমরা তেমন পাত্তাটাত্তা দেওয়ার প্রয়োজন বোধ করলাম না। বাংলা ভাষাটা টিকে থাকলে অন্য কোনো প্রজন্ম দেবে হয়ত। একটা ব্যাপার সদ্য জেনেছি, শৈলেন ঘোষের উপন্যাসগুলোর সংকলন অবশেষে বেরিয়েছ। সম্ভবত পারুল প্রকাশনী, চার খণ্ডে)।

মেমোরিস ইন মার্চ


মিসেস মিশ্র আর অর্ণব।

ওদের আবারও দেখা হবে। মাস তিনেকের মধ্যেই,  সম্ভবত দিল্লীতে।

মিসেস মিশ্র অ্যাকোয়ারিয়ামে রাখা মাছের খবর নেবেন।

অর্ণব ব্যস্ত হয়ে ঘুরে দেখবে মিসেস মিশ্রর বাড়ি, খবর নেবে কলকাতা থেকে বয়ে আনা বইগুলো কোথায় রাখা হয়েছে।

আবার ওরা নিজেদের তফাৎগুলো হাতড়ে মরবেন আর শেষ 'তা বেশ, এই ভালো' বলে থামবেন। 'এম্প্যাথি' ব্যাপারটা সেই সব মাতব্বরদের জন্য নয় যারা কথায় কথায় "আমি ঠিক" বলে অন্যের গলা টিপে ধরেন (সে মাতব্বর ঈশ্বরের মত নির্ভুল হলেও নয়)।

দু'জনে পুরনো অ্যালবাম উল্টেপাল্টে দেখবেন; পাশাপাশি বসে। মিসেস মিশ্রর আপত্তি অবশ্যই থাকবে না অর্ণবের বানানো কফিতে। আর অর্ণব? তিনি হো-হো হেসে সোফা থেকে কুশন-বুকে মেঝেতে গড়িয়ে পড়বেন; থেরাপিস্ট দেখানোর উপদেশ শুনে।

রাতের দিকে মিসেস মিশ্র টের পাবেন অর্ণবের এই সময় দিল্লী আসার কারণ। তাঁর মতই, অর্ণবও প্রিয় মানুষদের জন্মদিন গুলিয়ে ফেলেন না।

মিসেস মিশ্রর জন্মদিনের ডিনার বাইরেই সারার প্ল্যান হবে; অর্ণবের ট্রীট। ওদের সঙ্গে বেরোবে সিড।