Saturday, July 28, 2007

চলে যাওয়া

চলে যাওয়ায় স্পর্শ আছে, দু;এক আউন্স ভালোবাসা থাকলেও থাকতে পারে। 

সেই ভালোবাসাটা মাঝেমধ্যে অনুভব করার চেষ্টা করেন তপন হালদার।  ছোটবেলায় যখন শীতের রাত্রের ছাদে দাদু কস্টেলেশন চেনাতেন, তখন টের পেতেন দাদুর মৃদু কণ্ঠস্বরের বাইরে একটা জমজমাট নিস্তব্ধতা আছে। সেই নিস্তব্ধটা অনুভব করতে চেষ্টা করছিলেন তিনি।

তখন ফার্স্ট ইয়ারে। পাড়ার গুরুতুতো দাদা মান্তু এক বিকেলে দড়াম করে পিঠে চাপড় মেরেছিল। গুরুস্নেহ মনে করে সে'সব আলপটকা চাপড় মাঝেমধ্যেই হজম করতে হত। সে'দিন আচমকা মান্তুদা জানান দিয়েছিল "চললাম রে, পাশটাশ করিস ঠিকমত। আর ইয়ে, বোলিংয়ের লাইন লেন্থ একটু ঠিক কর। গাঁকগাঁক করে বল ছোঁড়া মানেই বোলিং নয়"। "কোথায় চললে" জিজ্ঞেস করায় মিইয়ে গেছিল মান্তুদা। বিপ্লব ছাড়া চলবে না, চাকরী না করলে চলছে না, সংসারে বড়  অভাব, বৌদি আর দাদার চোপা আর বরদাস্ত করা যাচ্ছে না; এ'মন সাতপাঁচ মিশিয়ে কিছু একটা বলেছিল। মান্তুদার সঙ্গে সেই শেষ দেখা।  মান্তুদার আপত্তি উড়িয়ে দিয়ে স্টেশন পর্যন্ত গেছিল তপু। সমস্তিপুর ফাস্ট প্যাসেঞ্জারের ভিড়ে মান্তুদা মিলিয়ে যাওয়ার সময় বড় অসহায় লেগেছিল। স্ট্যাটিস্টিক্সে মান্তুদা ছাড়া পাস করব কী করে? নতুন গল্পের বইয়ের হদিস কে দেবে?

মায়ের যাওয়াটাও হঠাৎ। রোজ ভোরে উঠতেন, একদিন উঠলেন না। ফুলে ফুলে ঢাকা মাকে দেখেও মনে হয়নি মা ঘুম থেকে উঠবেন না। আগের দিন গোটা রাত বৃষ্টি হয়েছিল। সোঁদা গন্ধে এখনও মায়ের না থাকা ফেরত আসে। বার বার।

আজ আবার সেই রাতের ছাদের স্তব্ধতা বুকের মধ্যে দলা পাকিয়ে উঠছিল। ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে তপনবাবু দিব্যি টের পাচ্ছিলেন স্টেশনের হাঁসফাঁস, সমস্তিপুর ফাস্ট প্যাসেঞ্জার এলো বলে। খটখট দুপুরেও ব্যালকনি সোঁদা গন্ধে ভারি হয়ে উঠেছিল।  পাড়ার থিয়েটারে একবার তিন ডায়লগের দারোগার রোল পেয়েছিল তপু; "খেল খতম, হ্যান্ডসাপ"; এ'টা বলেই তার স্টেজে তেজীয়ান প্রবেশ ছিল, মান্তুদার স্ক্রিপ্ট অনুযায়ী। তপু অবশ্য হোঁচট খেয়ে বলেছিল "হ্যান্ডস্খতম, খেল্সা‌প"।

মিতার সুটকেস গোছানো হয়ে গেছে। নিচে ট্যাক্সি দাঁড়িয়ে আছে। সব রইল, মিতা ছাড়া।  এরপর হয়ত কোর্টের চিঠি। দাদু নেই, মান্তুদা নেই, মা নেই।  আরও একটা "নেই"য়ের তাজা গন্ধে বাতাস ভরে উঠেছিল। পকেটে একটা জবরদস্ত সাত পাতার "যেওনা প্লীজ" মার্কা চিঠি ছিল। শত চেষ্টাতেও সে'টা বের করতে পারলেন না তপন হালদার; ততক্ষণে তার মাথার মধ্যে কেউ চিৎকার শুরু করে দিয়েছে;
"হ্যান্ডস্খতম, খেল্সা‌প"।

ঠিক তখনি নিচে দাঁড়ানো ট্যাক্সির হর্নটা মান্তুদার আগুন গাঁট্টার মত তপনবাবুর মাথাটা ঝনঝনিয়ে দিল।  

Monday, July 23, 2007

Yes Sir

Ek dol maanush achhen jara holen jaake bole Inside Out Hyper Realist. Realist ei jonnyei je era bojhen modhhyobitty'er protibaad'e Politics hoy , Coffe House hoy, Kobita hoy, Aspirin
hoy kintu kaaj'er kaaj kissu hoyna; Net Output constant zero.

Eder dhaal bolun talowar bolun sob'i saahebi ketay jhokjhoke, to the point : "Yes Sir".

School e tukli korbaar jonnye ektaana 3 din kneel down!
"Yes Sir"
Ekbaar'o mukh fute berlona je tukechhe onnyo keu, je ekhon bijoyi haashi haschhe.


Baajar'er taaka haat-safai'er daay'e Pitaa'r kachhe bedhorok Bokuni
"Yes Sir"
Bola holo na je Takaa ta ek Bondhu ke na dile tar ma'er jonnye osudh kena hoto na.


Premikaa'r Pitaa'r charom hoomki "Stay away from my Daughter, you Scoundrel"
"Yes Sir"
Bola holo na je Bhalobaashi eke-oporke, nipaat, nikhaad Bhalobaasha!


Office e Boss'er bharikki gola, "Compromise korte sekho, akhere labh hobe"
"Yes Sir"
Bola gyalona je akher gochhanor concept ekhono mojjay built in hoyni.


Songsar shar-bostu. Eta chai Ota chai, Give Me More concept: sahoj sarol.
"Yes Sir"
Bola gyalona aamaro kicchu adure swapno achhe.



Achomka ek dupur thele niye aasha Briddhyashrom.
"Yes Sir"
Bola gyalona je jekhaan theke chole aasha tar sob kichhu amaari gore tola.

Ekla bridhhyo raatri jure sudhu ekta easy chair,daaba'r ghuti aar chholchhol chokhe dyakha
akaash....akaash jure ma'er mukh...chhelebela aar Ma...bhalobaasha jorano koto
nishwas...samosto jhor-jhapta dribble kore ma'r kol e maatha.....Ashroy!!

Ar bhalo lagena...Kachhe tene nao na Ma...Sei anchol'er jhapta.. Sei Gaan..Chhelebela...

Wednesday, July 4, 2007

বাপটুদার প্রেম

এক সময়ে অনেকের প্রেমে পড়া দেখেছি। স্কুলে কলেজে তিন ভাগের দু'ভাগ ছেলেরা যেমন ভাবে বাকি এক ভাগের প্রেমে সাঁতরানো দেখে মুখে বাহবা আর মনে মনে দুয়ো দেয় আর কী; সে'ভাবেই। 

সুগন্ধি চিঠি, 'দিল' চিহ্ন দেওয়া ফ্রেন্ডশিপ ব্যান্ড, কাচের বুদ্বুদে বলডান্স করা দম্পতি থেকে পালিয়ে হাফ বিয়ে, ব্লেডে হাত কেটে নাম লেখা। কিন্তু সে সব প্রেম বাপটুদার সঙ্গে পাল্লা দিতে পারেনি। বাপটুদা আমার চেয়ে মাত্র দু'ক্লাসে ওপরে পড়ত,  এবং আমায় নিয়ম করে কেমিস্ট্রি পড়াত। বলা ভালো আমায় টেনেটুনে পাস করাত। 

সেই বাপটুদার চাবুক কলেজ প্রেম নিয়ে চারটে কথা টুকে রেখে দেওয়া উচিৎ।  ওর বাইশ নম্বর চিঠি যখন নিমকি-দি না ছিঁড়ে মিচকি হাসল, সে'দিন থেকেই বাপটুদা বাউল বনে গেছিল। মাঝেমধ্যেই অন্যমনস্ক হয়ে সোফার কুশন-কভার চিবিয়ে মায়ের কাছে বিস্তর গাঁট্টা খাচ্ছিল। আমায় বলে দিয়েছিল "কেমিস্ট্রিফেমিস্ট্রি পড়ে কী হবে রে? পূর্ণেন্দু পত্রী পড়। সময় কম। পড়ে ফেল"। বুঝেছিলাম কেমিস্ট্রিতে পাস করার ব্যাপারটা ঝুলে গেল। 

যা হোক। বাপটুদার মুখে সেই প্রথম শুনেছিলাম "ফোকাস ছাড়া প্রেম দাঁড়াবে না। কমিটমেন্টে এস্পারওস্পার নেই"। সমস্ত বন্ধু ত্যাগ করেছিল। নেহাত কেউ পাশে না থাকলে প্রেমিকের কোটগুলো নোট করার কেউ থাকবে না, তাই বোধ হয় আমি আশেপাশে ঘুরঘুর করলে বিরক্ত হত না। 

বাপটুদার প্রেম-ফোকাসের প্রথম শহীদ আমার কেমিস্ট্রি। এর পর পাড়ার নাটক। বাপটুদার "বিবাহ বিভ্রাট"য়ে হিতেন হওয়ার কথা ছিল। দেড় মাস রিহার্সালের পর দল ছেড়ে দিল। এই সময় নাকি মনে "পজিটিভ ভাইব" পোষা উচিৎ; "বিবাহ বিভ্রাট" নামটা অত্যন্ত গোলমেলে। তাছাড়া প্রেমিকের স্পন্টেনিটি নাকি পার্ট মুখস্থ করলে নষ্ট হবে। নিমকি-দি "ওগো হ্যাঁগো" শুরু করলে তো বাপটুদা পাশে প্রম্পটারকে পাবে না।   নিমকিদির স্বপ্নে বিভোর বাপটুদার পান্তুয়া খাওয়া অসম্ভব বেড়ে গেছিল। আর যে'টা আমার জন্য কেমিস্ট্রির চেয়েও চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল সে'টা হল বাপটুদা ওর বাবার পকেট মারা বন্ধ করে দিয়েছিল। মন-চুরিতে হাতেখড়ির পর নাকি এ;সব ছিঁচকে চুরি আর সাজে না। এ'দিকে বাপটুদার বিবেকানন্দবাজিতে আমার বিকেলের  ফ্রী ফুলুরি জলে যাওয়ার উপক্রম। 

বাপটুদাকে ডি-ফোকাস করার জন্য ফলাও করে ক্লাবের পিকনিকের মেনু শুনিয়েছিলাম। পাঁঠার কালিয়া, মুর্গি ভাজা শুনে বলল "নিমকির কপালে ছোট্ট টিপ বড় মানায়। সে'টা নিয়ে একটা কবিতা লিখতে হবে। পিকনিকটিকনিকে কবিরা তাস খেলে, হুল্লোড় করে; নষ্ট হয়"। 

মোদ্দা কথা চোখের সামনে দেখছিলাম বাপটুদা মহাপুরুষ বনে যাচ্ছে অথচ ওকে বাঁচাতে চেয়েও আমি কিছু করতে পারছিলাম না। নিমকি-দির ওপর বড় রাগ হচ্ছিল। বাপটুদা সবে টেবিল টেনিস খেলা শেখাতে শুরু করেছিল, বিকেলের সেই সময়টা এখন সে নিমকিদির টিউশন থেকে ফেরার রাস্তায় অপেক্ষা করে থাকে। নিমকিদি লেডিবার্ড সাইকেলে চেপে আলতো হাসি ভাসিয়ে বেরিয়ে যাবে, সেই কয়েক সেকেন্ডের আবেশের জন্য ঘণ্টা দেড়েক দাঁড়িয়ে থাকে। 

বাপটুদা একরকম হাতের বাইরে চলেই গেছিল। আর কোনও উপায় নেই দেখে কেমিস্ট্রির খান দুই গাইড বই জোগাড় করে ফেলেছিলাম। পাড়ার পিকনিকের জন্য বিস্তর ছোটাছুটিও শুরু হয়ে গেছিল। আচমকা এক বিকেলে বাপটুদা বাড়ি এসে হাজির। পিকনিকের মাংস কে রাঁধছে সে খবর নিলে, কেমিস্ট্রি বই খুলে দু'একটা প্রশ্ন করে কান মুলে দিলে। ঠাহর করতে পারলাম শেষ পর্যন্ত ওর বাইশ নম্বর চিঠিটা বোধ হয় নিমকিদি ছিঁড়ে ফেলেছে। আপদ চুকেছে ভেবে নিজেই নিজের মনের ভিতর খানিকটা লাফিয়ে নিলাম। মুখে অবশ্য বললাম  "আহা বাপটুদা, তোমার কী কষ্ট"। 

"কষ্ট? কষ্ট কীসের? সমস্ত কষ্টের ওষুধ এখন আমার পকেটে। বাবা গতকাল মাইনে পেয়েছিল বোধ হয়। কড়কড়ে দু'টো একশো টাকার নোট সরিয়েছি। আজ আর ফুলুরি নয়। রুটি, ডিম তড়কা, ডিম ভুর্জি আর থামস আপ। তারপর এক জোড়া হরিদার নারকোলের সন্দেশ। কেমন"?

"নিমকিদি না করেছে তো? বল্টেদার সঙ্গে ঘুরছে নাকি"?

"বল্টেকে বাগে আনা আমার বাঁ হাতের খেল"। 

"তোমার বাইশ নম্বর চিঠি নিমকিদি ছিঁড়ে ফেলেনি? আগের একুশটার মত"?

"না। ছিঁড়ে ফেলেনি। উলটে উত্তর দিয়েছে। গদগদ উত্তর"। 

"তাহলে? আমায় কেমিস্ট্রি পড়া ধরছ যে বড়"?

"নিমকির সে প্রেমের চিঠিময় বানান ভুলের ল্যান্ডমাইন ছড়ানো রে! আর রজনীকান্তের লাইন রবীন্দ্রনাথে গুলিয়েছে। প্রেম করব না টিউশনি পড়াব? টিউশনির জন্য এই তুই তো আছিস, প্রিমিয়াম কেমিস্ট্রি গাধা"। 

পরে পাড়ার কিছু দুর্জনে রটিয়েছিল বল্টেদার প্রভাবেই নিমকি মুচমুচিয়ে গুঁড়োগুঁড়ো হয়ে গেছিল। আমি অবশ্য বাপটুদার কাছে বাইশ নম্বর চিঠির উত্তর হাতেকলমে দেখতে চেয়ে কেমিস্ট্রি পাস  ডকে তুলতে চাইনি। এমন কী বাপটুদার আচমকা গুরু দত্ত ভক্তির কারণও খুঁজতে যাইনি; ফ্রী ফুলুরির মায়া বড় মায়া।