Monday, December 24, 2007

পিতা পুত্র

রাত দু'টো। ডিসেম্বর। 

পরের দিন অঙ্ক পরীক্ষা। বাতাসে কেমন পানিপত পানিপত গন্ধ। হাফ ইয়ার্লিতে নাকটা ঘ্যাচাং করে উড়ে গেছিল। ফাইনালে গোলমাল বাঁধলে বোধ হয় বাবা মাথা আস্ত রাখবে না। বাকি সব সাবজেক্ট তাও গোঁজামিলে উতরে যাওয়া যায়। কিন্তু অঙ্কে বারফাট্টাইয়ের সুযোগটুযোগ তেমন নেই। বাঘের চেয়ে ট্রিগোনোমেট্রি কামড়ালে বেশি রক্ত ঝরবে, এ আমি নিশ্চিত। 

নেমন্তন্ন বাড়িতে পনীরের কোপ্তা আর ভেজ মাঞ্চুরিয়ান দিয়ে সোনামুখ খেয়েদেয়ে ওঠা তাও সম্ভব, কিন্তু বাবার কাছে অঙ্ক ফেলের খবর নিয়ে হাজির হওয়ার চেয়ে বেশি গিলোটিনিও কাজ আর কিছু নেই। বাবা মাঝেমধ্যেই দরাজ গলায় বলেন, "যে অঙ্ক বোঝেনা, সে পৃথিবীর বোঝা। যার নম্বর নিয়ে  হাবুডুবু খায়, তারা এস্কেপিস্ট, যে কোনও দিন কোনও ডেসট্রাক্টিভ ডায়রেকশনে ঝুলে যাবে"। 

নিজের মুখে নিজের ডেস্ট্রাক্টিভ ডিরেকশনে যাওয়ার খবর বাবাকে জানাতে বুকের পাটা লাগে। হাফইয়ার্লির মার্কশিট বাবার হাতে দিয়ে দৃষ্টিকে বাঁ পায়ের বুড়ো আঙুল আর ডান পায়ের বুড়ো আঙুলের মধ্যে অসিলেট করাচ্ছিলাম। বাবা টেবিল চাপড়ে বলেছিল;
"আমার ছেলে অঙ্কে ফেল? একশোয় বাইশ? তুমি একটি জেনেটিক এমব্যারাসমেন্ট। হাজার সিসির মোটর ইঞ্জিনে জুড়ে দেওয়া কাঠের চাকা"।

সেই অঙ্ক পরীক্ষা ওয়াপস এসেছে। সেই অঙ্ক পরীক্ষা। এ'বার ফাইনাল। 

মাঝেমাঝেই মাথার মধ্যে ইকো শুনতে পাচ্ছি'; "জেনেটিক এম্ব্যারাসমেন্ট"। 
রাত বাড়ছে আর ওদিকে চোখের সামনে সাইন কস মিলে জট পাকিয়ে নাচানাচি করছে। শুনেছি আফ্রিকায় এক ধরনের উপজাতি বন্দীদের কোতল করার আগে তাঁদের সামনে উদ্দাম নাচানাচি করে, তেমনই কিছু হবে হয়ত ব্যাপারটা। 

তখনই দরজার খটখট। বাবার গলায় "কী রে"!

বুঝলাম, বলির আগে পাঁঠার গর্দানের ফ্লেক্সিবিলিটি চেক করতে এসেছেন। 

দরজা খুলতেই হল। 

- এত রাত্রে তুমি? ঘুমোওনি বাবা?
- ঘুম আসছিল না। কাল নাকি তোর অঙ্ক পরীক্ষা?
- হ্যাঁ। 
- অঙ্ক। অঙ্কে তোর একটা ন্যাচুরাল ন্যাক আছে। সে'দিন স্কুলের মাঠে তুই অফ সাইডের ফিল্ড বাইসেক্ট করে যে'ভাবে কাটগুলো মারছিলিস, আমি নিশ্চিত। 
- ইয়ে, অঙ্কে আমার ন্যাক?
- স্পষ্ট। 
- গতবার ফেল করেছিলাম। বাইশ, একশোতে। 
- আমায় মার্কশিট দেখাস না। মার্কশিটের দৌড় আমার দেখা আছে। এই তোর দিদিকে দেখ, হিস্ট্রিতে ফার্স্টক্লাস। ইতিহাসে বস্তা বস্তা নম্বর পেয়েও ওর সোশ্যিও পলিটিকাল সেনসিটিভিটি কত কম! খবরের কাগজের পলিটিকাল খবর আর শেয়ার মার্কেটের হিসেবেকিতেব নিয়ে দিন কাটিয়ে দিচ্ছে। কাজেই মার্কশিট দেখাসনি, বুঝলি? 
- বুঝলাম। 
- গুড। 
- না, আসলে গতবার রেজাল্ট বেরোনোর পর...। 
- আমি তোকে বকেছিলাম? বেশ করেছিলাম। ও'টা আমার প্রডাক্ট স্পেসিফিকেশনকে অনার করে। 
- প্রডাক্ট?
- প্রডাক্ট, যার নাম ফাদার। পিতা। বাপ। আমার স্পেসিফিকেশনে পড়ছে যে সন্তান রেজাল্টে ধ্যাড়ালে চেঁচিয়ে বাড়ি মাথায় তুলতে হবে। ফের রেজাল্ট খারাপ করলে ফের চেল্লাবো। ওই যে। প্রোডাক্ট স্পেসিফিকেশন। 
- ওহ্‌, আচ্ছা।
- ইয়ে। একটা বিয়ন্ড স্পেসিফিকেশন কথা বলার ছিল। 
- হুঁ? ওহ। বলো। 
- ডু নট শীল্ড ইওরসেলফ বিহাইন্ড নাম্বার্স। স্কোরবোর্ড সিন্ড্রোম থেকে বেরোও। কন্সটেলেসন চিনতে শেখো। গোলাপ চাষ শেখো। আর ইম্পর্ট্যান্ট ট্রিভিয়াগুলো জিভের ডগায় রাখো। যেমন গীতবিতানের প্রথম গান কী? 
- আমি ঠিক শিওর না...। 
- শেম শেম। ট্রিগোনোমেট্রি তো টার্শিয়ারি নলেজ্‌ ভাই। প্রাইমারিতে তোমার জানা উচিত ছিল যে গীতবিতানের প্রথম গান হচ্ছে কান্না হাসির দোল দোলানো। 
- ওহ। 
- এ'বার শুয়ে পড়। 
- না মানে, আর কয়েকটা টেস্টপেপার...। 
- জাগতে ইচ্ছে হলে গীতবিতান লাও। লিভিং রুমের বইয়ের শোকেসের নিচের খোপে। নয়ত ঘুমোও। 
- আচ্ছা। 
- আর ইয়ে। মা'কে আবার নেকু সেজে বলতে যেও না যে আমি বলেছি যে পরীক্ষায় নম্বর ইম্পর্ট্যান্ট নয়। আর রেজাল্ট বেরোলে আবার চিৎকার চ্যাঁচামেচি করব, কেমন? নতুন স্ক্রিপ্ট রেডী রেখেছি। 
- ওহ। আচ্ছা। 
- গুডনাইট খোকা। 

Sunday, December 16, 2007

Ek Muhurte


Jompesh Jagojhampo, shnai shnai roshnai, naari-naavi, Scotch-Vodka-Murgi-Mutton, DJ domadom: Party All Night...gurudeb byapar maairi! Bangali chha-posha'r kopale je emon mammoth big bang jhulchhe ta ke jaanto!

Kothay shei dor-kocha mara mukhgulo, kothay shei modhyo-bitwo kyancho-knochor..hi-fi career e jhule sci-fi society te tarzanio jhnaap!Petty-patty bong background ghyachang fu!

Mom-Paalish maara degree theke; akaash byakano chaakri hoye; vodka haat'e, hill tola choti paa e Bou:
Dear God, Thank you!


Sahor'er samosto aalo sudhu dum kore nibhe jaay kono ek aluthaalu muhurte ..kaalo akaash jure sahosha bheshe othe ma'er holud maakhaa anchol aar mombaati'r moto chholchhole ek jora chokh: koishor'er,bhaalobaashar, oshaar ashwash'er!

Saturday, July 28, 2007

চলে যাওয়া

চলে যাওয়ায় স্পর্শ আছে, দু;এক আউন্স ভালোবাসা থাকলেও থাকতে পারে। 

সেই ভালোবাসাটা মাঝেমধ্যে অনুভব করার চেষ্টা করেন তপন হালদার।  ছোটবেলায় যখন শীতের রাত্রের ছাদে দাদু কস্টেলেশন চেনাতেন, তখন টের পেতেন দাদুর মৃদু কণ্ঠস্বরের বাইরে একটা জমজমাট নিস্তব্ধতা আছে। সেই নিস্তব্ধটা অনুভব করতে চেষ্টা করছিলেন তিনি।

তখন ফার্স্ট ইয়ারে। পাড়ার গুরুতুতো দাদা মান্তু এক বিকেলে দড়াম করে পিঠে চাপড় মেরেছিল। গুরুস্নেহ মনে করে সে'সব আলপটকা চাপড় মাঝেমধ্যেই হজম করতে হত। সে'দিন আচমকা মান্তুদা জানান দিয়েছিল "চললাম রে, পাশটাশ করিস ঠিকমত। আর ইয়ে, বোলিংয়ের লাইন লেন্থ একটু ঠিক কর। গাঁকগাঁক করে বল ছোঁড়া মানেই বোলিং নয়"। "কোথায় চললে" জিজ্ঞেস করায় মিইয়ে গেছিল মান্তুদা। বিপ্লব ছাড়া চলবে না, চাকরী না করলে চলছে না, সংসারে বড়  অভাব, বৌদি আর দাদার চোপা আর বরদাস্ত করা যাচ্ছে না; এ'মন সাতপাঁচ মিশিয়ে কিছু একটা বলেছিল। মান্তুদার সঙ্গে সেই শেষ দেখা।  মান্তুদার আপত্তি উড়িয়ে দিয়ে স্টেশন পর্যন্ত গেছিল তপু। সমস্তিপুর ফাস্ট প্যাসেঞ্জারের ভিড়ে মান্তুদা মিলিয়ে যাওয়ার সময় বড় অসহায় লেগেছিল। স্ট্যাটিস্টিক্সে মান্তুদা ছাড়া পাস করব কী করে? নতুন গল্পের বইয়ের হদিস কে দেবে?

মায়ের যাওয়াটাও হঠাৎ। রোজ ভোরে উঠতেন, একদিন উঠলেন না। ফুলে ফুলে ঢাকা মাকে দেখেও মনে হয়নি মা ঘুম থেকে উঠবেন না। আগের দিন গোটা রাত বৃষ্টি হয়েছিল। সোঁদা গন্ধে এখনও মায়ের না থাকা ফেরত আসে। বার বার।

আজ আবার সেই রাতের ছাদের স্তব্ধতা বুকের মধ্যে দলা পাকিয়ে উঠছিল। ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে তপনবাবু দিব্যি টের পাচ্ছিলেন স্টেশনের হাঁসফাঁস, সমস্তিপুর ফাস্ট প্যাসেঞ্জার এলো বলে। খটখট দুপুরেও ব্যালকনি সোঁদা গন্ধে ভারি হয়ে উঠেছিল।  পাড়ার থিয়েটারে একবার তিন ডায়লগের দারোগার রোল পেয়েছিল তপু; "খেল খতম, হ্যান্ডসাপ"; এ'টা বলেই তার স্টেজে তেজীয়ান প্রবেশ ছিল, মান্তুদার স্ক্রিপ্ট অনুযায়ী। তপু অবশ্য হোঁচট খেয়ে বলেছিল "হ্যান্ডস্খতম, খেল্সা‌প"।

মিতার সুটকেস গোছানো হয়ে গেছে। নিচে ট্যাক্সি দাঁড়িয়ে আছে। সব রইল, মিতা ছাড়া।  এরপর হয়ত কোর্টের চিঠি। দাদু নেই, মান্তুদা নেই, মা নেই।  আরও একটা "নেই"য়ের তাজা গন্ধে বাতাস ভরে উঠেছিল। পকেটে একটা জবরদস্ত সাত পাতার "যেওনা প্লীজ" মার্কা চিঠি ছিল। শত চেষ্টাতেও সে'টা বের করতে পারলেন না তপন হালদার; ততক্ষণে তার মাথার মধ্যে কেউ চিৎকার শুরু করে দিয়েছে;
"হ্যান্ডস্খতম, খেল্সা‌প"।

ঠিক তখনি নিচে দাঁড়ানো ট্যাক্সির হর্নটা মান্তুদার আগুন গাঁট্টার মত তপনবাবুর মাথাটা ঝনঝনিয়ে দিল।  

Monday, July 23, 2007

Yes Sir

Ek dol maanush achhen jara holen jaake bole Inside Out Hyper Realist. Realist ei jonnyei je era bojhen modhhyobitty'er protibaad'e Politics hoy , Coffe House hoy, Kobita hoy, Aspirin
hoy kintu kaaj'er kaaj kissu hoyna; Net Output constant zero.

Eder dhaal bolun talowar bolun sob'i saahebi ketay jhokjhoke, to the point : "Yes Sir".

School e tukli korbaar jonnye ektaana 3 din kneel down!
"Yes Sir"
Ekbaar'o mukh fute berlona je tukechhe onnyo keu, je ekhon bijoyi haashi haschhe.


Baajar'er taaka haat-safai'er daay'e Pitaa'r kachhe bedhorok Bokuni
"Yes Sir"
Bola holo na je Takaa ta ek Bondhu ke na dile tar ma'er jonnye osudh kena hoto na.


Premikaa'r Pitaa'r charom hoomki "Stay away from my Daughter, you Scoundrel"
"Yes Sir"
Bola holo na je Bhalobaashi eke-oporke, nipaat, nikhaad Bhalobaasha!


Office e Boss'er bharikki gola, "Compromise korte sekho, akhere labh hobe"
"Yes Sir"
Bola gyalona je akher gochhanor concept ekhono mojjay built in hoyni.


Songsar shar-bostu. Eta chai Ota chai, Give Me More concept: sahoj sarol.
"Yes Sir"
Bola gyalona aamaro kicchu adure swapno achhe.



Achomka ek dupur thele niye aasha Briddhyashrom.
"Yes Sir"
Bola gyalona je jekhaan theke chole aasha tar sob kichhu amaari gore tola.

Ekla bridhhyo raatri jure sudhu ekta easy chair,daaba'r ghuti aar chholchhol chokhe dyakha
akaash....akaash jure ma'er mukh...chhelebela aar Ma...bhalobaasha jorano koto
nishwas...samosto jhor-jhapta dribble kore ma'r kol e maatha.....Ashroy!!

Ar bhalo lagena...Kachhe tene nao na Ma...Sei anchol'er jhapta.. Sei Gaan..Chhelebela...

Wednesday, July 4, 2007

বাপটুদার প্রেম

এক সময়ে অনেকের প্রেমে পড়া দেখেছি। স্কুলে কলেজে তিন ভাগের দু'ভাগ ছেলেরা যেমন ভাবে বাকি এক ভাগের প্রেমে সাঁতরানো দেখে মুখে বাহবা আর মনে মনে দুয়ো দেয় আর কী; সে'ভাবেই। 

সুগন্ধি চিঠি, 'দিল' চিহ্ন দেওয়া ফ্রেন্ডশিপ ব্যান্ড, কাচের বুদ্বুদে বলডান্স করা দম্পতি থেকে পালিয়ে হাফ বিয়ে, ব্লেডে হাত কেটে নাম লেখা। কিন্তু সে সব প্রেম বাপটুদার সঙ্গে পাল্লা দিতে পারেনি। বাপটুদা আমার চেয়ে মাত্র দু'ক্লাসে ওপরে পড়ত,  এবং আমায় নিয়ম করে কেমিস্ট্রি পড়াত। বলা ভালো আমায় টেনেটুনে পাস করাত। 

সেই বাপটুদার চাবুক কলেজ প্রেম নিয়ে চারটে কথা টুকে রেখে দেওয়া উচিৎ।  ওর বাইশ নম্বর চিঠি যখন নিমকি-দি না ছিঁড়ে মিচকি হাসল, সে'দিন থেকেই বাপটুদা বাউল বনে গেছিল। মাঝেমধ্যেই অন্যমনস্ক হয়ে সোফার কুশন-কভার চিবিয়ে মায়ের কাছে বিস্তর গাঁট্টা খাচ্ছিল। আমায় বলে দিয়েছিল "কেমিস্ট্রিফেমিস্ট্রি পড়ে কী হবে রে? পূর্ণেন্দু পত্রী পড়। সময় কম। পড়ে ফেল"। বুঝেছিলাম কেমিস্ট্রিতে পাস করার ব্যাপারটা ঝুলে গেল। 

যা হোক। বাপটুদার মুখে সেই প্রথম শুনেছিলাম "ফোকাস ছাড়া প্রেম দাঁড়াবে না। কমিটমেন্টে এস্পারওস্পার নেই"। সমস্ত বন্ধু ত্যাগ করেছিল। নেহাত কেউ পাশে না থাকলে প্রেমিকের কোটগুলো নোট করার কেউ থাকবে না, তাই বোধ হয় আমি আশেপাশে ঘুরঘুর করলে বিরক্ত হত না। 

বাপটুদার প্রেম-ফোকাসের প্রথম শহীদ আমার কেমিস্ট্রি। এর পর পাড়ার নাটক। বাপটুদার "বিবাহ বিভ্রাট"য়ে হিতেন হওয়ার কথা ছিল। দেড় মাস রিহার্সালের পর দল ছেড়ে দিল। এই সময় নাকি মনে "পজিটিভ ভাইব" পোষা উচিৎ; "বিবাহ বিভ্রাট" নামটা অত্যন্ত গোলমেলে। তাছাড়া প্রেমিকের স্পন্টেনিটি নাকি পার্ট মুখস্থ করলে নষ্ট হবে। নিমকি-দি "ওগো হ্যাঁগো" শুরু করলে তো বাপটুদা পাশে প্রম্পটারকে পাবে না।   নিমকিদির স্বপ্নে বিভোর বাপটুদার পান্তুয়া খাওয়া অসম্ভব বেড়ে গেছিল। আর যে'টা আমার জন্য কেমিস্ট্রির চেয়েও চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল সে'টা হল বাপটুদা ওর বাবার পকেট মারা বন্ধ করে দিয়েছিল। মন-চুরিতে হাতেখড়ির পর নাকি এ;সব ছিঁচকে চুরি আর সাজে না। এ'দিকে বাপটুদার বিবেকানন্দবাজিতে আমার বিকেলের  ফ্রী ফুলুরি জলে যাওয়ার উপক্রম। 

বাপটুদাকে ডি-ফোকাস করার জন্য ফলাও করে ক্লাবের পিকনিকের মেনু শুনিয়েছিলাম। পাঁঠার কালিয়া, মুর্গি ভাজা শুনে বলল "নিমকির কপালে ছোট্ট টিপ বড় মানায়। সে'টা নিয়ে একটা কবিতা লিখতে হবে। পিকনিকটিকনিকে কবিরা তাস খেলে, হুল্লোড় করে; নষ্ট হয়"। 

মোদ্দা কথা চোখের সামনে দেখছিলাম বাপটুদা মহাপুরুষ বনে যাচ্ছে অথচ ওকে বাঁচাতে চেয়েও আমি কিছু করতে পারছিলাম না। নিমকি-দির ওপর বড় রাগ হচ্ছিল। বাপটুদা সবে টেবিল টেনিস খেলা শেখাতে শুরু করেছিল, বিকেলের সেই সময়টা এখন সে নিমকিদির টিউশন থেকে ফেরার রাস্তায় অপেক্ষা করে থাকে। নিমকিদি লেডিবার্ড সাইকেলে চেপে আলতো হাসি ভাসিয়ে বেরিয়ে যাবে, সেই কয়েক সেকেন্ডের আবেশের জন্য ঘণ্টা দেড়েক দাঁড়িয়ে থাকে। 

বাপটুদা একরকম হাতের বাইরে চলেই গেছিল। আর কোনও উপায় নেই দেখে কেমিস্ট্রির খান দুই গাইড বই জোগাড় করে ফেলেছিলাম। পাড়ার পিকনিকের জন্য বিস্তর ছোটাছুটিও শুরু হয়ে গেছিল। আচমকা এক বিকেলে বাপটুদা বাড়ি এসে হাজির। পিকনিকের মাংস কে রাঁধছে সে খবর নিলে, কেমিস্ট্রি বই খুলে দু'একটা প্রশ্ন করে কান মুলে দিলে। ঠাহর করতে পারলাম শেষ পর্যন্ত ওর বাইশ নম্বর চিঠিটা বোধ হয় নিমকিদি ছিঁড়ে ফেলেছে। আপদ চুকেছে ভেবে নিজেই নিজের মনের ভিতর খানিকটা লাফিয়ে নিলাম। মুখে অবশ্য বললাম  "আহা বাপটুদা, তোমার কী কষ্ট"। 

"কষ্ট? কষ্ট কীসের? সমস্ত কষ্টের ওষুধ এখন আমার পকেটে। বাবা গতকাল মাইনে পেয়েছিল বোধ হয়। কড়কড়ে দু'টো একশো টাকার নোট সরিয়েছি। আজ আর ফুলুরি নয়। রুটি, ডিম তড়কা, ডিম ভুর্জি আর থামস আপ। তারপর এক জোড়া হরিদার নারকোলের সন্দেশ। কেমন"?

"নিমকিদি না করেছে তো? বল্টেদার সঙ্গে ঘুরছে নাকি"?

"বল্টেকে বাগে আনা আমার বাঁ হাতের খেল"। 

"তোমার বাইশ নম্বর চিঠি নিমকিদি ছিঁড়ে ফেলেনি? আগের একুশটার মত"?

"না। ছিঁড়ে ফেলেনি। উলটে উত্তর দিয়েছে। গদগদ উত্তর"। 

"তাহলে? আমায় কেমিস্ট্রি পড়া ধরছ যে বড়"?

"নিমকির সে প্রেমের চিঠিময় বানান ভুলের ল্যান্ডমাইন ছড়ানো রে! আর রজনীকান্তের লাইন রবীন্দ্রনাথে গুলিয়েছে। প্রেম করব না টিউশনি পড়াব? টিউশনির জন্য এই তুই তো আছিস, প্রিমিয়াম কেমিস্ট্রি গাধা"। 

পরে পাড়ার কিছু দুর্জনে রটিয়েছিল বল্টেদার প্রভাবেই নিমকি মুচমুচিয়ে গুঁড়োগুঁড়ো হয়ে গেছিল। আমি অবশ্য বাপটুদার কাছে বাইশ নম্বর চিঠির উত্তর হাতেকলমে দেখতে চেয়ে কেমিস্ট্রি পাস  ডকে তুলতে চাইনি। এমন কী বাপটুদার আচমকা গুরু দত্ত ভক্তির কারণও খুঁজতে যাইনি; ফ্রী ফুলুরির মায়া বড় মায়া।  

Saturday, June 23, 2007

পিতা-কন্যা

এ'দিকে পিতা, ও'দিকে কন্যা


পিতা ক্লাসিকাল; নিয়ম-কানুন, মর্নিং ওয়াক, ক্যালকুলাস, সর্ষের-তেল স্নান, নিম-বেগুন, আর্নিকা, সতিনাথ ভাদুড়ী, ভীম সেন যোশী মেশানো প্রাচীন বাঁধুনি
কন্যা পোস্ট-মডার্নজিন্স, শুক্তো, হার্ড রক , সন্ধ্যা মুখার্জী, ডট কম , ফেমিনিজ্ম, ও শক্তি চাটুজ্যের সম্মিলিত লাবড়া।বারান্দায় শরতের আদুরে রোদের মত ছলছলে।
প্রাচীন অঙ্ক মেনেই; যেই কন্যা জীবনমুখী; অমনি পিতা রথের চাকা বসে যাওয়া সৈনিক। 
কন্যা প্রেমে হাবু-ডুবু, পিতা অক্সিজেনের নল-কাটা ডুবুরি।
তবুও: পিতার হালুম , কন্যার আধো-ম্যাও


পিতা : প্রেম করছ ?
কন্যা: ওই আর কী। 
পিতা: ল্যাঙ্গুয়েজ নিয়ে ডজ করবে না...। 
কন্যা: হ্যাঁ প্রেম।
পিতা: শেম!
কন্যা: বাবা!
পিতা: বুচি!
কন্যা: আই অবজেক্ট।
পিতা: ওভাররুলড।
কন্যা: আগে শুনবে তো.... 
পিতা: কী শুনবো ? প্রেম-ট্রেম গুরুপাক ব্যাপার। আমি ভেটো করছি। যার ডিমাণ্ড কার্ভ আঁকতে গেলে এখনো হাত কাঁপে , সে করবে প্রেম ? পাগল না পার্লামেন্ট ?
কন্যা: তুমি আনরিসনেবল হচ্ছো।
পিতা: আন-রিসনেবল ? আমি আনরিসনেবল? প্রুফ দাও নয়তো স্টেটমেন্ট উইথড্র করো। রাইট নাউ!
কন্যা: আমার সব বুঝিয়ে বলার একটা সুযোগ তো পাওয়া উচিত?
পিতা: বাপের সঙ্গে ডেমোক্রেসি ফলাচ্ছো ? ঔক্কে! বোঝাবার সুযোগ দিলাম। তবে নেকু সেন্টিমেন্ট নয়, বেফালতু চিত্‍কার নয়, বিধানসভার ওয়াক-আউট নয়তর্কে যুক্তির ব্যবহার করবে, টু দি পয়েন্ট রিপার্টি দেবে; ভুলে যেয়ো না তুমি কোন বাড়ির মেয়ে। এবার বলো। হু ইস দিস হতচ্ছাড়া!
কন্যা: হতচ্ছাড়া? এটা কী ঠিক হলো বাবা ?
পিতা: হয়নি বুঝি ? বেশ, আই উইথড্র, বলে যাও।
কন্যা: ইয়ে বাবা, ছেলেটা কিন্তু বেশ ভালো...। 
পিতা: উফ! এই তোমার সাইন্টিফিক মাইন্ড ? না! এইটা আমার ফেইলিওর। শেম ওন মি!
কন্যা: আবার কী হলো ?
পিতা: কী হলো ? ক্যালমিটি! বিজ্ঞান আগে অবজার্ভ করে, তারপর কনক্লুসন টানে! ছেলেটা যে বেশ ভালো সেটা তুমি কনক্লুড করার কে ? তুমি ওর যাবতীয় কোয়ালিটি আমায় খোলতাই করে বলবে, আর আমি বুঝে নেবো ও কেমন ছেলে।
কন্যা: বেশ, ওর নাম চিত্রক খাসনবিস।
পিতা: এটা নাম না হাইড্রো-কার্বন ? রিজেক্ট!
কন্যা: টু মাচ! অসহ্য!
পিতা: আহ:, তর্ক করার সময় মেজাজ হারালেই ক্যালামিটি। আমি এখন তোমার প্রতিদ্বন্দী; আমি তোমায় উস্কে দিতে চাইবই,  তাই বলে তুমি ফাঁদে পা দেবে ? ভুলে যেও না তুমি আমার মেয়ে! কিপ ইয়োর কুল।
কন্যা: বেশ। ও আমার চেয়ে তিন বছরের বড়
পিতা: দাঁড়াও, তুমি কী একটা মানুষ কে বিচার করতে আগে তার বয়স দ্যাখো?
কন্যা: পয়েন্ট, তাহলে কী ভাবে বলবো বলো ?
পিতা: ভাবো। ভাবো। তোমার চ্যালেঞ্জ হচ্ছে আমায় কনভিন্স করা। নিজের ম্যাও নিজে সামলাও, আমার কাছে টিপস চাইলে চলবে কেনো ?
কন্যা: ধুর!
পিতা: ধৈর্য্য!পেশেন্স! বুক ভরে দুবার নিশ্বাস। গুড। এবার বলো, ক'বছরের আলাপ?
কন্যা: তিন মাস
পিতা: তিন মাস ? হোয়াট? জিরো পয়েন্ট ট্যু ফাইভ ইয়ার্স ? টু লেস, ক্যানসেল।
কন্যা: কী ক্যানসেল ?
পিতা:  এই হাইড্রোকার্বনটি, হি ইজ নট ওয়ার্থ ইউ।

এর বেশ কিছু বছর পর। যখন পিতার সঙ্গী ইজি-চেয়ারটুকু আর কন্যার সঙ্গী সেই হাইড্রোকার্বনটি।
বৃদ্ধ পিতার চশমার কোনে স্মৃতি চিক চিক করে ওঠে, কন্যার বিয়ের দিনটি। লোকজন-সানাই-ব্যস্ততা-ছুটোছুটি আর সব কিছুর মাঝে কনে সেজে সেই ক্লাস সেভেন জ্যামিতিতে ফেল করা বুচি। যাওয়ার সময় যখন বুচির চোখ জলে টলটল, পিতার শান্ত হাতে কন্যার গাল টিপে ধরেছিলেন:
“ ইকোনোমাইজ ইওর টিয়ার্স বুচি, ভুলে যেওনা তুমি আমার মেয়ে”। 

Tuesday, June 19, 2007

রিটায়ারমেন্ট


অনুপবাবু চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইলেন। পাশে তখন সহকর্মীরা একে একে স্যালুট জানিয়ে চলেছে।  এই গতকাল পর্যন্ত যারা পিছন পিছন কাঠি হাতে ঘুর ঘুর করেছে তাঁদের গলা আজ বুজে আসছে। 


কেউ বুঝল না। কেউ চিনল না। অনুপবাবুর বুক হুহু করে ওঠে। সদ্য পাওয়া শালটা খামচে ধরে নিজেকে সামলে নেন তিনি। গাড়ি নাকি এক ড্রাইভারের হাতে থাকলে সুস্থ থাকে, অথচ আজ মনে হচ্ছে বহু হাত ঘোরা হয়ে গেছে। অফিস গসিপ, বসের খিচিরমিচির, সম্পর্কগুলোর থেকে মিউচুয়াল মাখন দেওয়ানেওয়া; আচমকা অফিসের দেওয়াল ঘড়িতে বিকেল পাঁচটার ঘণ্টা শুনে বড় মন কেমন হয়ে গেল। 


প্রভিডেন্ড ফান্ড ব্যাপারটায় যে কত ধানে কত চাল সে'টা এবার ঠাহর হবে। সকাল বেলা বাস ট্রামের ভিড়ে হদ্দ হতে হবে না সে'টা ভেবে কিছুদিন বেশ চনমনে লাগছিল বটে। কিন্তু চোখের সামনে হঠাৎ হাজার হাজার রোববার দেখতে পেয়ে কেমন অস্বস্তি শুরু হল। ডিমিনিশিং মার্জিনাল ইউটিলিটি এমন ভাবে কলার টেনে ধরলে যে বুকের মধ্যে হঠাৎ একটা বিশ্রী হাঁসফাঁস শুরু হল। ওদিকে তখন হিউম্যান রিসোর্সের শেখরবাবু "শেখরবাবুকে ছাড়া আমাদের অফিস অন্ধকার" বলে একটা মায়া জড়ানো আবহাওয়া তৈরি করে ফেলেছেন। অনুপবাবুর কিছুতেই মনে করতে চাইলেন না যে গত সপ্তাহেই শেখরবাবু তাঁকে "হাড় জ্বালানো বুড়ো" বলেছিলেন। 

অনেক কিছু ভেবে রেখেছিলেন অনুপবাবু। 

রিটায়ারমেন্টের পর গোপালপুরে একটা মাই ডিয়ার ছাদওলা বাড়ি কিনবেন। সেই ছাদে বেতের চেয়ার টেবিল। টেবিলের ওপর ধবধবে চায়ের কাপ প্লেট। একটা বাটিতে অল্প ঝাল চানাচুর। বিকেলের ফুরফুরে হাওয়া, সমুদ্রের কানে আরাম দেওয়া গর্জন আর পাশে গিন্নীর গুনগুনে নজরুল। 

এই ভাবে টুপটাপ কেটে যাবে। তারপর চুপচাপ বেরিয়ে যাওয়া, তখন মুখে বুদ্ধের হাসি। 


কিন্তু সব মোটামুটি গুবলেটে এসে ঠেকেছে। 

কলকাতার ভিড়ের বাইরে গেলেই বাড়তি অক্সিজেনের ঠেলায় বুকে কষ্ট হয়।
গড়িয়াহাটের ভিড়ে হপ্তায় একবার চুবনি না খেলে গিন্নীর অম্বলের হোমিওপ্যাথিক ওষুধ হজম হয় না। 


গোপালপুর নিয়ে দু'চারটে দীর্ঘশ্বাস ফেলতেই শেখরবাবু কাঁদো কাঁদো গলায় ডাকলেন;
"এইবার আমি অনুরোধ করব আমাদের সবার প্রিয় দাদা আর একজন বড় মাপের মানুষ; অনুপদাকে দু'টো চারটে কথা বলতে"। 

হঠাৎ একটা ফিক হাসি এসে অনুপবাবুর মুখের তেতো ভাবটা উড়িয়ে দিল। 

তিনি বলতে শুরু করলেন; 

"হিউম্যান রিসোর্সের শেখরের খিস্তি, ডাক্তারের কানমলা আর কলকাতার ক্যাঁচরম্যাঁচরে থিতু হয়ে গেছিলাম। তিনটে পিলারের একটা আজ ধসে গেল শেখরের কান্নায়। তবু, বাকি দু'টো নিয়ে আশা করি বাকি দিনগুলো কাটিয়ে দিতে পারব"। 

জনশ্রুতি এই যে প্লাস্টিক হাসির আড়ালে "ঢ্যামনা" ডাক চেপে রাখাটা শেখর সমাদ্দার দিব্যি রপ্ত করেছেন। সে কারণেই মাত্র বেয়াল্লিশ বছর বয়সেই এত বড় কোম্পানিতে হিউম্যান রিসোর্সের হোতা হতে পেরেছেন। অনুপবাবুর বক্তব্য শেষ হতে বিসলারি ভেজানো রুমালে নিজের চোখ মুছলেন তিনি।  

Friday, June 15, 2007

শহরে বৃষ্টি

প্রবল গরম ধুয়ে মুছে সাফ করে দেওয়া বৃষ্টি। 
মিনিবাসের ঠাসাঠাসি সব মাথায় "ঝর ঝর মুখর বাদর দিনে" লেভেল বৃষ্টি। 
বাতাসে ডাব-সরবতি ফ্লেভার এনে দেওয়া বৃষ্টি। 
খিচুড়ি মামলেটের ক্লিশেতে মন দোলানোর বৃষ্টি। 
ইলিশের কার্পেটে মাছের বাজার মুড়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি বয়ে আনা বৃষ্টি। 

সব মিলে মাখনের ঢিপির মধ্যে দিয়ে মখমলে ছুরির ডগা বেশ তরতর করে এগিয়ে যাচ্ছিল বটে, শুধু ঠোক্কর খেল উত্তর কলকাতার হাঁটু জলে। কলেজ স্ট্রীট টু হ্যারিসন রোড, সর্বত্র নাকানিচোবানি। কলেজ স্ট্রিটের ফুটপাতে দাঁড়ানো উচিৎ না ভাসা উচিৎ সে'টা নিয়ে ভেবে মিনিট দুই থুতনি চুলকানো যেতেই পারে।  তবে ইয়ে, আমাদের ক্ষমতা আছে হাঁটুজলের ঘায়ে নস্টালজিয়ার বোরলিন লাগানোর। 

ইনফ্রাস্ট্রাকচার করে বেশি লাফালাফি করলে রোম্যান্সে চোনা পড়তে পারে। অন্তত তেমনটাই বলেছেন দিল্লী প্রবাসি বান্ধবি। কফি হাউস  থেকে কাটলেটি মেজাজ নিয়ে বেশ মৌজ করে বেরিয়েছিলেন। আমি ভাবলাম লম্বা স্কার্ট রাস্তার জলে ছপরছপর করলেই মুডের ফুরফুর চুপসে যাবে। 

কিন্তু ওই। নস্টালজিয়ার বোরোলিন। 
ভাসা ভাসা চোখ নিয়ে তিনি জানালেন; "আমার বড় ইচ্ছে এমন জলজমা রাস্তার ধারে একটা পুরনো বাড়িতে সংসার পাতব। এমন হাউসবোট পেলে এই কলেজস্ট্রীটই আমার ভূস্বর্গ হয়ে থাকবে"। 

স্বল্প আলাপে "অসহ্য ন্যাকামো" কথাটা দুম করে বলা যায় না বোধ হয়। 

Sunday, June 10, 2007

মিস্ড কল









মিস্‌ড কলকে অনেকে বেশ মর্সকোডের মত ব্যবহার করছেন। অবশ্য টকটাইম কিনতে গেলে যে ভাবে পকেট টকে যাচ্ছে, তা'তে এই দুরন্ত ইনোভেশনে নিজেদের সঁপে না দিয়ে কোনও উপায় নেই।

বিশেষত পড়ুয়া প্রেমিক প্রেমিকারা মিস্‌ড কলকে অন্য পর্যায় নিয়ে যেতে পেরেছেন।
সমস্ত কল কোডেড।
ভর দুপুরে হাফ-বার বেজে থেকে গেল। প্রেমিকা নির্ঘাত খটমট মেজাজে। 
বার চারেক বাজল। প্রেমিক নিশ্চয়ই ভর দুপুরে পার্কের বেঞ্চে অপেক্ষা করে করে হদ্দ হয়ে পড়েছে।
রাতের বেলা মিস্‌ড কলে বালিশের তলায় রাখা ফোন একবার ভাইব্রেট করে চুপসে গেল। প্রেমিকার মন কেমন।
মিনিবাসের ভিড়ে নকিয়া টিউন টুপ করে বেজেই স্পীকটি নট। সেও ফুলবাগান পৌঁছল বলে।

প্রত্যেক জোড়ার আলাদা আলাদা ম্যানুয়াল।
রাত দু'টোর সময় যে মিস্‌ড কল আদতে এনকোডেড গোপন চুমু, ভরদুপুরে সেই মিস্‌ড কলই বিকেলের হাঁটতে যাওয়ার প্রপোজাল।

মাঝেমধ্যে গোলমাল পাকিয়ে যায় বটে। এই যেমন সে'দিন। মান্তুদা বড় রাস্তার মোড়ে চিতপটাং হয়ে শুয়ে। বুকে মাঝে মধ্যেই নীল মোবাইলটা কেঁপে কেঁপে উঠছে। নীলাদির দুদ্দাড় মিস্‌ড কল, ওর টিউশন শেষ হয়ে গেছে। এ'বার ঘাটের দিকে দেখা হওয়ার কথা।

এ'দিকে বেরসিক ট্রাকটা অমন দুম করে এসে না পড়লে মান্তুদার পক্ষীরাজ হারকিউলিস সাইকেল এতক্ষণে ঘাটের পাশের নিমগাছটায় হেলান দেওয়ানো থাকত। নির্ঘাত। 

Sunday, May 20, 2007

বং প্রেম




প্রেম ব্যাপারটা বাঙালি চিরকালই ভুল এক্সেকিউট করে এসেছে। রবীন্দ্রনাথ থেকে শক্তি টেনে হিঁচড়ে, নন্দন টু নলবন এফোঁড়-ওফোঁড় করে, ইন্টারনেটের পিণ্ডী চটকে - ছিমছাম একটা প্রেম আমরা ম্যানেজ করতে চাই বটে কিন্তু ছাদনা তলায় ল্যান্ড করার আগেই কত বিলিয়ন প্রেম যে লটকে যায় তার ইয়ত্তা নেই। 

তাও বুঝতাম গলাগলি থেকে গোলা-গুলি মার্কা ঝগড়াঝাঁটিতে প্রেম গচ্চা গেল; বাঘের বাচ্চার মত প্রেম-ট্র্যাজেডি; তা নয়। বাঙালির মধ্যে প্রেমে সস্তা-শহীদ বনে যাওয়ার যে কি মারাত্মক টেন্ডেন্সি আছে; ওই ল্যাদেই দেশ ঝুলে গেল। কেন জানি মনে হয়, উত্তম-সুচিত্রার এ দেশে, পার ক্যাপিটা ইলোপমেন্ট রেট হয়তো দুনিয়ার যে কোন প্রান্তের চেয়ে কম। মনে হয়। অমিত রে রা গান-কবিতা বেঁধেই খালাস হলে, বানভাসি হতে পারলে না। 

উদাহারণ স্বরূপ - পাড়ার হুতুমদা। মিন্টুর চায়ের দোকানে বসে চা খাচ্ছিলাম। পাশেই খোলা বুথে দাঁড়িয়ে হুতুমদা ফোনে ফ্যাঁসফেসিয়ে কথা বলে যাচ্ছিল। অন্যপ্রান্তের কথা অবশ্যই কানে আসছিল না, শুধু হুতুমদার হাহাকারটুকু বুকে সেঁধিয়ে গেছিল। 



হ্যালো ? হ্যালো ?

হ্যালো ? ধুত্তোর, লাইনটা বার বার ঝুলে যাচ্ছে। তোমাদের ওদিকে সিগন্যালের এত প্রবলেম না। ইয়ে মাইরি। বারান্দায় এসো না। অ্যাই...প্লিজ এসো...

হ্যালো...হ্যা...এ...এ...এবার শুনতে পাচ্ছি। স্পষ্ট। 

হুঁ ? হুঁ। না গো। হলো না। ইন্টারভিউটা মনে হল সাজানো ছিল। কোন বড়সাহেবের ভাগ্নে না ভাইপোর খুঁটি আগে থেকেই বাঁধা ছিল সেখানে।  

ভাত? ভাতের হোটেলে খরচ করলে এ ফোনটা তোমায় করতে পারতাম ? ওই পাউরুটি আলুর-দম খেয়েছি তো। লল্কা'র দোকানে যা বানায় না... 

তোমায় একটু ফাঁসিয়ে দিলাম বুঝতে পারছি...তবে টেনসন নেবে না বুঝলে...বাচ্চাদের জামাকাপড়ের ডিলারশিপে আজকাল হেবি পয়সা আছে। টার্নওভারও ঘ্যাম। খালি ক্যাপিটালটা ম্যানেজ করতে পারলেই হত। মেজদা অফার করেছিল দশ হাজার একবার, পরে বোধ হয় মেজবৌদির কথায়...সে যাকগে...

আরেকটা বিজনেসও ভেবেছিলাম বুঝলি ? লটারির দোকান...ইনভেস্টমেন্ট কম...এদিকে ক্যুইক ভাগ্যের ডিমান্ড দারুণ।

অ্যাঁ? ও। আচ্ছা। সেই ছেলেটা ? ইঞ্জিনিয়ার না ? 

ও। ও। ও আচ্ছা। তা তোমার বাবা কি বললেন ? ও। ও। 

কমিট করে দিলেন ? 

আর তুমি ? আহ, তো কি হয়েছে...

আসলে আর দুটো মাস যদি পেতাম গো...একটা কিছু অন্তত ঠিক ম্যানেজ করে...ওহ!

তোমার বাবার হার্টের ব্লকটা কি বেড়েছে না? 

হ্যাঁ? ও। ও। ওহ। বৈশাখ। এটা হল গিয়ে চৈত্র। তাই না?

ওই হল। ওই হল। 

হ্যাঁ? অ্যাঁ ? না না। ঠান্ডা গরম লেগেছে আর কি...তাই একটু...ধুর বোকা...তেমন কিছু নয় বলছি...

আরে শোন না...আমি বলছি...

এমনটি করে না...লক্ষ্মীটি...মাইরি...আমার কিন্তু...না মানে...আহঃ...কি মুশকিল...দ্যাখো কাণ্ড

কেঁদো না প্লিজ। অ্যাই...ওই দেখ...আরে শোন...

দেখো, ইঞ্জিনিয়ার বর তোমায় হেবি ভালোবাসবে...পুজোয় বালুচরি আর ডিসেম্বরে পুরী বাঁধা রইল...হে হে 

আরে...

যা, আমি কি করলাম

দেখো আমি ঠিক সামলে নেবো। পুরুষ মানুষ বলে কথা, এসবে টলে গেলে চলবে নাকি ?

ইয়ে, তুমি কি কাল একবার পার্কের পূব দিকের হলুদ বেঞ্চিটার পাশে আসতে পারবে? সন্ধ্যাবেলা ? না মানে এরপর তো আর হয়তো...

ধুর পাগলি



আচ্ছা আচ্ছা। আরে হ্যাঁ গো। নো প্রবলেম। বুঝি আমি। এমনিতেই আমি ভাবছিলাম কাটোয়ায় যাব একবার কাল। মামা বলছিল কয়েকদিন ধরেই, বয়েস হচ্ছে, দোকান ঠেলতে পারছে না...ভাবছি ওখানেই...

না না...এ মা...পালাতে যাব কেন ?

এমনটি করো না প্লিজ। পায়ে পড়ি তোমার...

অ্যাঁ? 

ধ্যাত, আমি আবার কোথাকার গুরুজন। 

দু;খ আবার কি ? দেখবে...তুমি দারুণ সুখী হবে। আরে আমি স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি। ব্রাহ্মণ কি না, একটা দিব্য দৃষ্টি মাঝে মাঝে কাজ করে। এই আমি বলে রাখলাম। দেখো। আচ্ছা, তোমরা মাঝে মাঝে ম্যাটিনি শোয়ে যাবে বল ? 

না না। মাইরি বলছি কাঁদছি না। দ্যাখো কাণ্ড। মেজপিসি পইপই করে বলে দিয়েছেন সন্ধ্যে বেলা কারোর নামে দিব্যি না কাটতে...যাক গে শোন...এখন রাখতে হবে...কেমন? পকেটে পয়সা নেই বিশেষ। 



***

হুতুমদাকে সেই আমি শেষ দেখি আমাদের পাড়ায়। তারপর থেকে কেউই তাকে আর পাড়ায় কোনদিন দেখেনি। এমনকি কাটোয়া পর্যন্ত খোঁজ করেও তার কোন হদিস মেলেনি। 

Saturday, May 19, 2007

ব্লগ-বাজ


আর চিন্তা নেই
বাঙালিকে আর রোখা যাবে না
আর সামান্য (এবং কিঞ্চিত গোলমেলে ) কবিতা ছাপাবার জন্যে সম্পাদককে তোল্লাই দিতে হবে না
আর প্রেমে লটর-পটর হয়ে ডায়েরি লিখে প্রাণপাত করতে হবে না।
পলিটিক্স কে পাবলিক-জণ্ডীস বলে গাল পারতে আর “প্রিয় সম্পাদক” বলে আনন্দবাজারের ঠ্যাং ধরতে হবে না।

কেন ? হাউ ?
বাঙালি ব্লগিং শিখে গ্যাছে। ঘ্যাচাং ঘ্যাচাং করে শাণিত তলোয়ারের মত পোস্ট”-সমূহ জন-ইণ্টেলেক্ট এসপার-ওসপার করে দেবে; হাতে-গরম গায়ে-কাঁটা। বাঙালি মননের নব্য জি-স্পট ; ব্লগ-স্পট

কে বলে যে ব্রিগেডে বুক্তুনি ঝেড়ে আর ফুটবল মাঠে খেউড় করে খতম হয়ে গ্যাছে ? কে কয় যে বাঙালির ঘিলু কফি হাউসে ভাত ঘুমে মগ্ন ?

বাঙালিকে একবার ব্লগ-খোর হতে দিন, সমস্ত অভিযোগ ভ্যানিস হয়ে যাবে
পোপ থেকে পরশুরাম ;
ডেঙ্গু থেকে মশাগ্রাম; বং-ব্লগের দাপট রইবে সর্বত্র
বাঙালির সমস্ত আশা-ভরসা-জিজ্ঞাসা এইবারে ব্লগ মারফত্‍ পৌছে যাবে ট্যাঙ্গরা ট্যু টেক্সাস

তোপসে মাছে স্প্যানিশ ঝোলের রেসিপি কী ?
বাঙাল-ঘটি মিল মহব্বত-হয়ে গেলে কী বাঙ্গালিয়ানা চটকে যাবে ?
নেতাজী কী এখনো বহাল তবিয়তে তিব্বতে বসে স্যুপ খাচ্ছেন ?
সমস্ত আলোচনা রক-রান্নাঘর থেকে উড়ে এসে পড়বে ব্লগ-কুয়োতে
এই সুযোগ...
জয় মা বলে ঝাঁপ দিলাম।