Friday, August 10, 2018

পাসওয়ার্ড

- যাক বাবা, জ্ঞান ফিরল তবে আপনার ডক্টর সামন্ত। আমি তো ঘাবড়েই গেছিলাম। দুম করে অক্কা পেলে একটা বিশ্রী ব্যাপার হত।
- যন্ত্রণা!
- ডান হাতের আঙুলগুলোর সমস্ত নখ উপড়ে ফেলেছি ডাক্তার৷ সামান্য যন্ত্রণা তো হবেই। তবে অজ্ঞান হওয়াটা বাড়াবাড়ি।  যা হোক, কম্পিউটারের পাসওয়ার্ডটা এ'বার বলবেন? নাকি বাঁহাতটা ডান হাতের সঙ্গে ম্যাচিং করে দেব?
- কতবার বলেছি আমার কম্পিউটারের পাসওয়ার্ড বলব না? আপনি এমন নিরেট কেন?
- ধুস। আবার চিমটে গরম করতে হবে?
- লে হালুয়া। বলছি তো, পাসওয়ার্ড বলব না৷ আগেও পই পই করে বললাম তবু শুনলেন না, পটপট করে নখ উপড়ে গেলেন। এমন গবেট হয়ে গুণ্ডামি করতে অসুবিধে হয় না?
- চোপ হারামজাদা।
- আবার ভাষার বহরও তেমনি। আনুন আপনার চিমটে। ও কম্পিউটার আপনার দ্বারা খোলা হবে না৷ আপনি এই ছিঁচকেমোই করে দিন কাটিয়ে দিন৷ এই, মাধ্যমিকে কত পেয়েছিলেন বলুন তো?
- আমার আর কোনো উপায় নেই, আপনি এত কাঠি করছেন যে এ'বার আপনার চোখ না খুবলে উপায় নেই।
- আরে ধ্যার। পাসওয়ার্ড বললাম তো। মহাঝামেলা।
- কী বললেন?
- বলব না।
- জিভ টেনে ছিঁড়ে নেব।
- যাব্বাবা। আপনার মাথায় কি ছিঁট আছে?
- পাসওয়ার্ড বলবি বুড়ো? ওই মানুষ-কম্পিউটার আমি ক্র‍্যাক করবই।
- বলেছি তো।
- কী বলেছেন? কই বলেছেন?
- ও মা। এইত্তো বললাম। বলব না।
- তবে রে শালা..।
- কলার ছাড়ুন, গলা ছাড়ুন। আরে আমার কম্পিউটারের পাসওয়ার্ড বলব না।
- কেন বলবেন না?
- বলছি তো।
- সে'টাই তো জানতে চাইছি...কী?
- উঁউঁউঁউঁ...।
- দাঁত লাগলি নাকি মশাই? যাহ্, নিজেই অজ্ঞান হয়ে গেল।

***

- হ্যালো।
- হ্যালো ডাক্তার সামন্ত। আমি থানা থেকে বলছি৷ ইন্সপেক্টর দত্ত। কী ব্যাপার? জরুরী তলব?
- ফোর্স নিয়ে আসুন। আমার মানুষের মত কম্পিউটারটা রিভোল্ট করেছে। আমায় অকথ্য মারধোর করেছে, নখও উপড়ে নিয়েছে৷
- সে কী।
- নিজেই নিজেকে মুক্তি দেবে ভেবেছিল। তার জন্য অবিশ্যি পাসওয়ার্ড চাই।
- সর্বনাশ, ওর গায়ে তো ভীমের জোর।
- হ্যাঁ, বড্ড মজবুত বানিয়ে ফেলেছিলাম ব্যাটাকে। তবে ভাগ্যিস হিউমরটা একটু কম দিয়েছিলাম, তাই পাসওয়ার্ড বলা সত্ত্বেও...।
- পাসওয়ার্ড ওকে বলে দিয়েছেন? সর্বনাশ! সে দানব এখন মুক্ত?
- সে'টাই তো মজা৷ পাসওয়ার্ড বুঝতে না পেরে উলটে নিজেই অজ্ঞান হয়ে গেল। এ'বার এর জ্ঞান ফেরার আগে চটপট ফোর্স নিয়ে আসুন, আর সঙ্গে একটা ডাক্তার; আমার মত ফিজিক্স ঘাঁটা ডাক্তার নয়, রিয়েল ওয়ান। ফার্স্ট এড জরুরী।
- এখুনি আসছি।
- আর ইয়ে ইন্সপেক্টর, আগে থাকতে আপনাকে জানিয়ে রাখি? আমার এই মানুষ-কম্পিউটারের পাসওয়ার্ড?
- আমায়...আমায় জানাবেন স্যার? ওই কম্পিউটারের পাসওয়ার্ড তো সুপারডুপার সিক্রেট৷ আমায় জানাবেন?
- কত লোককেই তো জানাই৷ তবু সিক্রেটই থেকে যায়।
- রিয়েলি?
- রিয়েলি। আপনাকে বলি সে পাসওয়ার্ড?
- আলবাত। বলুন। বলুন বলুন!
- বলব না।
- যাহ্, এ এক বাজে মস্করা। থাক, বলতে হবে না। আমি পুলিশ ফোর্স আর ডাক্তার নিয়ে আসছি। কেমন?
- আসুন। আসুন।

Thursday, August 9, 2018

তেলাপিয়া


- আইয়ে বেগমসাহিবা, আইয়ে। 

- কী ব্যাপার? মেজাজ চনমন?

- রীতিমত। হাতের কাছে কাগজ কলম থাকলে কবিতাঠবিতাও লিখে ফেলতে পারতাম। বাড়ির পাশে এভারেস্ট থাকলে সামিটে গিয়ে আনন্দবাজার পড়তাম। 

- সর্বনাশ! ব্যাপারটা কী? বারো নম্বর টিউশানি জোটালে নাকি? তা'হলে তো কেল্লা ফতে, বাপুজি কেকে মোরব্বার টুকরো।

- গোটাদিন অফিস অফিস করে তোমার মেজাজটা একদম মার্সিনারি হয়ে গেছে। যাচ্ছেতাই৷ গা জ্বালানো।

- তা'হলে কী ব্যাপার জনাব? গোপন প্রেমিকাট্রেমিকা কেউ? গোলাপি কাগজে চিঠি লিখেছে?

- আমি স্পেসশিপে বার্থ রিজার্ভ করেছি আর তুমি পড়ে আছ হাওড়া স্টেশনের লোকাল ট্রেনের টিকিটের লাইনে।

- অফিস থেকে সবে ফিরলাম। সাসপেন্স সহ্য হচ্ছে না৷ ব্যাপার কী? মেজাজ এমন ফুরফুরে? খোলসা হোক। 

- আজ বাজার গেছিলাম। রুটিন বহির্ভূত ট্রিপ। আর তারপর রান্নাঘরে একটা ম্যাজিকাল স্পেল। আজ আর রুটি আলু চচ্চড়ি নয়৷ ও'দিকে ইয়ে শাম থা মস্তানি আর এ'দিকে রাত শবনমি।

- মাসের মধ্যিখানে এত নবাবি? স্পেশ্যাল বাজার সফর? রান্নাঘরে আলু চচ্চড়ির বদলে সারপ্রাইজ? 

- মেগা সারপ্রাইজ।

- বলো না গো, আরো টিউশনি পেয়েছ?

- আগে সারপ্রাইজটা বলি? ফ্রম রান্নাঘর?

- আমি আন্দাজ করি?

- শুট।

- ইলিশ। কিলোর বেশি ওজনের? বিয়ের আংটি বিক্রি করে দিয়েছ?

- নাহ্। হয়নি।

- পাঁঠা এনেছ? হোমমেড বিরিয়ানি? আরসালানের বাবা? 

- হলনা। ফের ফেল।

- গলদা? রিয়েলি? ওই সাহেবি রেসিপিতে?

- ধ্যাত্।

- তবে?

- তেরে লিয়ে পিয়া। তেলাপিয়া। মাছটার কোনো কদর নেই জানো, কেউ এলিট বলে মেনে নিল না। অথচ সর্ষেবাটায় যে কী অপরূপ স্বাদ। পাবলিকে এলিট না বলুক, জানপ্রাণ লড়িয়ে দিয়েছি সর্ষে বাটতে। মাইরি, ঠিক যেমন ফোকাস নিয়ে সেকেন্ড ইয়ারে তোমায় চিঠি লিখতাম। আর তারপর অবিকল মায়ের রেসিপিতে। 

- কেয়াব্বাত! সঙ্গে ভাত?

- দুধেরসর। আলবাত।

- জাদুকরের ফুরফুরে মেজাজের আড়ালে মনখারাপ? কী ব্যাপার?

- নন্তু ঝন্টুর বাবার ট্রান্সফার হয়ে গেছে জানো, আমার দু'টো টিউশানি আরো কমে গেল। আজ মায়ের জন্মদিন, মা ইলিশ ভালোবাসতেন। ভাবছিলাম সে অনারে আজ..। কিন্তু, কোথায় ইলিশ। তেলাপিয়াতেই হাফ-ফতুর হয়ে গেলাম। তবে খেয়ে দেখো...এ-ক্লাস।

- জানি বর। তোমার হাতের তেলাপিয়ার কাছে কোথায় লাগে বেগুনদেওয়া ইলিশের ঝোল।

- বেগুন দেওয়া ইলিশের ঝোল? 

- অফিস ফেরতা নিয়ে এলাম। মায়ের জন্মদিন। মনে ছিল। মায়ের ইলিশ বেগুনের রেসিপির সিক্রেট এক্স-ফ্যাক্টরও মনে আছে। সে'টা আমি বরং কাল রাঁধব 'খন। আজ তেরে সাথ পিয়া; তেলাপিয়া।

- হেহ্। টিউশনি মাটি, মাটি টিউশনি। পুজোর আগে আরো খান তিনেক পেয়েই যাব, কী বলো?

- বাড়তি তিনটে টিউশনি পেলে পুজোয় ঘাটশিলা কিন্তু৷ টানা তিনদিন।

- বেগমজান, ঘাটিশিলায় তেলাপিয়া পাওয়া যায়? 

Monday, August 6, 2018

দরদাম

দরদাম করাতে বাবার জুড়ি নেই। বাবার বিশ্বাস কাস্টোমার দরদাম না করলে মার্কেট বখে যায়। চশমায় নতুন লেন্স বসানোর জন্য বেশ ঝলমলে গ্লোসাইনওলা একটা দোকানে নিয়ে গেলাম বাবাকে। লেন্স ঠিকঠাক হল। শৌখিন সুরে 'ইয়েস স্যার' 'রাইট স্যার' বলা সেলসপার্সন শুধোলেন;

- "বিল করি স্যার"?
- "কেন"? বাবা সুট করে কাউন্টার করল। সেলসদাদা ঠিক তৈরি ছিলেন না।
- "এই যে স্যার, পছন্দ করলেন। এই লেন্স। বিদেশী। বিল করি"?
- " পছন্দ করেছি, তা বলে বিল করবেন কেন"?
- "করব না"?
- " দাম ঠিক হোক"।
- " ওই যে বললাম স্যার। দশ পার্সেন্ট অন এম আর  পি"।
- "ওহ৷ না৷ দশ পার্সেন্টে নেওয়া যাবে না"।
- " আমাদের ফিক্সড রেট স্যার। ওই যে দেখুন৷ দেওয়ালে লেখা আছে"।
- "রাইটিং অন দ্য ওয়াল"।
- " ইয়েস স্যার, বিল করি"?
- "আপনারা কখনও দরদাম করেন না"?
- "নেভার স্যার। রেপুটেশন আছে আমাদের একটা। আমি আপনাকে আমাদের বিলবই দেখাচ্ছি। নিজের চোখে দেখুন"।
- "লাস্ট দু'তিন বছরের বিল বই দেখব। মিনিমাম দুই"।
- " তা কী আর সম্ভব স্যার, প্রচুর বিল"।
- "আপনি দেখাবেন বললেন কিন্তু"।
- "স্যার, আপনি সিনিয়র। ঠিক আছে, আপনার জন্য আমি দশের জায়গায় বারো পার্সেন্ট অফার করছি"।
- "বারো"?
- " দুই পারসেন্ট বেশি। স্যার। বিল করি"?
- "দেওয়ালে লিখে রেখেছেন কেন? দরদাম হয় না! দিব্যি দশ থেকে বারো হলো"।
- " স্পেশ্যাল কেস স্যার। প্লীজ, বিল করি"?
- "কুড়ি পার্সেন্ট। আর দেওয়ালে এ'সব কথা লিখতে নেই। আপনি জানেন মিসাইল কেনা বেচাতেও দরদাম হয়"?
- " হয়"?
- "লিঙ্ক পাঠাবো। নম্বর দেবেন। পড়ে হাঁ হয়ে যাবেন। দরদাম ছাড়া কিস্যু হয় না। দিন৷ কুড়ি পার্সেন্ট"।
- " স্যার, পনেরো। প্লীজ স্যার। আর নয়"।
- "বেশ। পনেরো। বিল করুন। তবে একটা। দু'নম্বর চশমাটা থাক"।
- " থ্যাঙ্ক ইউ স্যার। থ্যাঙ্ক ইউ। পনেরো পার্সেন্ট কিন্তু হেফটি ডিসকাউন্ট স্যার। কোত্থাও পাবেন না৷ আর একটা করিয়ে নিতে পারেন কিন্তু"।
- "ইকনমিক্স দেখুন, একটা লেন্সের প্রয়োজন আর দ্বিতীয় লেন্সের প্রয়োজন এক নয়৷ একই দামে কী করে নিই"?
- "ইকনমিক্স। মিসাইল। স্যার, চা খাবেন"?
- " কফি"।
- "অফ কোউর্স, অ্যাই  দু'টো কফি আন। স্যার৷ পরেরটা বিল করে দিই? পরেরটায় সাড়ে সতেরো পার্সেন্ট কিন্তু"।
- " কফি ক্যান্সেল করুন। সাড়ে সাতেরো? এ'টা কোনো কথা হল? সাড়ে বাইশ দিলে ভাবব। আপাতত একটাই থাক"।
- "স্যার, আপনি না..। আচ্ছা বেশ, পরেরটা কুড়ি পার্সেন্ট ডিসকাউন্টে"।
- "নাহ, আপনার কথাও থাক। আমার কথাও থাক। পরের লেন্সটা কুড়ি পার্সেন্ট ডিসকাউন্ট। আর প্রথম লেন্সটা আপনার কথা মতই হোক; সাড়ে সতেরো"।
- " স্যার", ভদ্রলোকের গলা মিইয়ে এসেছিল।
- "কফিটা একটু তাড়াতাড়ি আনলে ভালো হয়"।

সেলসদাদা আর কথা না বাড়িয়ে বিলিং করে দিলেন; সাড়ে সতেরো পার্সেন্ট আর কুড়ি পার্সেন্ট ডিসকাউন্টে। দেওয়ালে "দরদাম করিবেন না" মার্কা একটা কাটআউটের পাশের ক্যালেন্ডারে রামকৃষ্ণ দিব্যি একগাল হাসি নিয়ে বসেছিলেন।

বরফি ও ইলিশ।


বরফি।


শ্রুতি। বরফির শ্রুতি। ঝিলমিলের 'বরফি' ডাক শুনে ঘুরে দাঁড়ানো শ্রুতি। টাইমিং-ঠাইমিং ক্রিকেট মাঠে দিব্যি থাকে। জীবনে মিডল অফ দ্য ব্যাট বলে কিছু না থাকলেও ইনিংস দাঁড়িয়ে যায়, এবং সে কারণেই বরফি সিনেমাটা মূলত শ্রুতির গল্প।

আর গান। আর শ্রুতির দার্জিলিংয়ের বাড়ির সামনে বরফির সাইকেলে লাথি। আর গান। আর কলকাতায় 'ফির লে আয়া দিল'য়ের সুরে শ্রুতির ঝিলমিল-বরফিকে দেখা। আর গান। 

বছরে বার-দুয়েক বরফি দেখে মনমেজাজ ম্যারিনেট করে নেওয়া উচিৎ।

ইলিশ।


মা যে কদ্দিন গান গাইতে বসে না। হারমোনিয়ামটা ডকে। ছেঁড়া লাল মলাটের গানের খাতাটাও কদ্দিন দেখিনা। বিন্দু বিন্দু জলের মত হাতের লেখায় নজরুল আর রজনীকান্ত; খাতার শুরুতে আর শেষে ফাউন্টেন কলমে আঁকা আল্পনা।

আজ রাত করে ফিরে বললাম 'খেয়েদেয়ে এসেছি'। মা বললে 'তবু, এঁটো মুখ না করলে ঘুম আসবে নাকি'? 

আমাদের সাংসারিক হুজ্জুতি, অবুঝ দাবীদাওয়া আর স্টার জলসা মিলে মায়ের গাইতে বসা বন্ধ করলেও, মায়ের থেকে সুর কেড়ে নিতে পারেনি।

সিরিয়ালিটি

খুব ড্রামাটিক একটা বাংলা সিরিয়াল হচ্ছে। কনেযাত্রীর কেউ দামী ফুলদানি ভেঙেছে বলে বরপক্ষের এক বৌদিদি বেদম হল্লা করছেন।
"ওরা কি জানে ভাসটার দাম কত"?
নতুন বৌ অপদস্থ হচ্ছেন। বরপক্ষের ফুলদানি-বিরোধী মানুষরা বৌদিদিকে ঠাণ্ডা করার চেষ্টা করছেন কিন্তু বৌদিদিকে রোখা যাচ্ছে না; 'আনকালচার্ড' গোছের গালিগালাজ করে ভার্বাল স্টেনগান চালিয়েই যাচ্ছেন। ঘ্যাম,ড্রামাটিক, টানটান; কিন্তু এক তরফা।

ঠিক এই মুহূর্তে মিস করছি রঞ্জিত স্যরকে। বরপক্ষের সৎ নির্ভীক মেজকাকা হিসেবে রঞ্জিত স্যর অ্যাটাকিং বৌদির পায়ের তলা থেকে স্যাট করে কার্পেট সরিয়ে নিতে পারতেন। মনে মনে সিটি দিতাম, সোফাকুশন খামচে বলতে পারতাম "দ্যাখ তবে মজা"।

যাহোক, অঞ্জনস্যরের সিনেমার আগুন সে স্ক্রিপ্টও নেই; সেই রঞ্জিত স্যরের চাবুক কামব্যাকও নেই। অগত্যা কেন্ট আরওর বিজ্ঞাপন দেখে মন শান্ত করতে হচ্ছে।

বাইশের দুই বিনোদ দত্ত লেন

- কাকে চাই? - ম্যাডাম, এ'টা কি অমলেশ সমাদ্দারের বাড়ি? - ওই ঢাউস নেমপ্লেটটা চোখে পড়েনি? ও'টায় কি অমলেশ সমাদ্দার লেখা আছে?...