Tuesday, July 31, 2018

এপাশ ওপাশ

প্রবল বিরক্তি নিয়ে পাশ ফিরে শুলাম। কিন্তু তখনই গোলমালটা পাকালো।

কী নিয়ে বিরক্ত হয়েছিলাম? কিছুতেই মনে পড়ল না। পাশবালিশটা জাপটে ধরলাম, মাথা ঠাণ্ডা করতে হবে।

কেন বিরক্ত হয়েছিলাম? কার ওপর? কোন বিষয়ে? মহামুশকিল, কিছুতেই মনে পড়ছে না। আর তখনই টের পেলাম যে আরো অনেক কিছু মনে পড়ছে না।

এই যেমন শিয়রের খোলা জানালার ও'পাশে অন্ধকার দেখে সময়টা রাত মালুম হচ্ছে বটে কিন্তু এখন ঠিক ক'টা বাজে? নাহ্, খেয়াল করে দেখলাম আমার কোনো হাতঘড়ি নেই। খাটের পাশে একটা টেবিল আছে বটে কিন্তু কিন্তু তার ওপর কোনো ঘড়ি নেই। দেওয়ালে ঘড়ি আছে কি কোনো? বাতি জ্বালার চেষ্টা করব? নাহ, সাহস হল না। ঘড়ি বা স্যুইচ বোর্ড কোথায় আছে সে সম্বন্ধে আমার কোনো ধারনাই নেই কারণ এই ঘরটা আমার আদৌ চেনা নয়।

গলা শুকিয়ে আসছিল। জানালা দিয়ে বেশ ফুরফুর হাওয়া আসছে, অথচ আমি ঘেমে উঠছি। তারিখ দূরের কথা, এ'টা বছরের কোন সময় সে'টাও মনে করতে পারছি না। দমবন্ধ হওয়ার উপক্রম।

"ঘুম আসছে না বাবু"?

সম্বিত ফিরল পিঠে একটা নরম হাতের স্পর্শে। কণ্ঠ শুনে মনে হয় কোনো বাচ্চা মেয়ে। কিন্তু সে কণ্ঠ কী মিষ্টি, কী নরম। মনের বিরক্তি যেন উবে গেল। একবার মনে হল পাশ ফিরে দেখি খুকিটিকে। নিশ্চয়ই আমার খুব চেনা কেউ হবে। কিন্তু সাহসে কুলোল না। তাকেও চিনতে না পারলে একটা বিশ্রী ব্যাপার হবে। তবে এ'টুকু বুঝেছি যে আমার নাম 'বাবু'।

সেই নরম হাতের স্পর্শ এ'বার মাথায় টের পেলাম।
"ঘুমোও বাবু, ঘুমোও। এত রাত্তির পর্যন্ত জেগে থাকতে নেই। ঘুমোও। আমি মাথায় হাত বুলিয়ে দিই"।

কিছুক্ষণের মধ্যেই দু'চোখ জুড়ে ঘুমের ভার নেমে এলো। যাক বাবা, নিশ্চিন্দি।

***

- জানো বাবা, বাবু তো কালকে কিছুতেই ঘুমোচ্ছিল না। খালি এ'পাশ আর ও'পাশ। শেষ মাঝরাত্রে আমি ওর মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে তবে ঘুমোল।

- কে ঘুমোচ্ছিল না?

- বাবু।

- বাবু? সে কে?

- বাহ্ রে, কালকে নতুন যে টেডি বিয়ারটা কিনে দিলে; তার নাম আমি বাবু দিলাম না? এরই মধ্যে ভুলে গেলে?

Monday, July 30, 2018

চাঁদু ও দাদু।

- অ্যাই চাঁদু!

- এ কী দাদু, আপনি? এত রাত্রে? তাও আবার স্বপ্নের মধ্যে?

- তোর কপাল ভালো স্বপ্নে এসেছি। নয়ত বেধড়ক কানমলা খেতে হত।

- কী মুশকিল, হলটা কী?

- তুই বাঙালিকে পাঁঠা খেতে বারণ করেছিস?

- না মানে...ইয়ে। আসলে..।

- পাঁঠা আমাদের মা? এ'টা তুই বলেছিস?

- ওই যে, গান্ধীজি ছাগলের দুধ খেতেন যে। তাই বলছিলাম...।

-  গান্ধীজিকে কোট করে এমন কথা বলবি রে? এ'সব শুনলে বুড়ো মানুষটা তিন মিনিট অহিংসা ভুলে একটানা তোর মাথায় গাঁট্টা কষাতেন।

- শোনো...দাদু...প্লীজ..অত উত্তেজিত হতে নেই।

- উত্তেজনার এ আর কী দেখলি রে৷ ফের আগডুমবাগডুম বললে আর টেলিপ্যাথেটিকালি কনেক্ট করব না চাঁদু। স্ট্রেট হিমালয়ের গোপন গুহা থেকে নেমে এসে এ বাড়ির কলিংবেল টিপব।

Saturday, July 28, 2018

অলোক দত্তর থেরাপি

টেবিলের ওপর দুদ্দাড় করে একের পর এক ফাইল এসে পড়ছে; আর অলোক দত্ত ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে দেখছেন; ফাইলের ঢিপি তরতর করে বড় হচ্ছে। বড়বাবুর পাঠানো ফাইল; প্রত্যেকটার ওপর হলুদ স্লিপ সাঁটা; ড্যাবা ড্যাবা করে লেখা “আর্জেন্ট, প্রসেস্‌ বাই টুডে”। আজ অফিস থেকে তাড়াতাড়ি বেরবেন ভেবেছিলেন; সেই মত দু’দিন আগে বড়বাবুকে বলেও রেখেছিলেন, বৌ গড়িয়াহাটে আসবে; জরুরী কেনাকাটি।  কিন্তু টেবিলের বোঝা দেখে বুক ঠাণ্ডা হয়ে আসছিল দত্তবাবুর। ফাইলের ওপরে লেখা ‘আর্জেন্ট’ শব্দটা বারবার বুকে গোঁত্তা খাচ্ছিল, ও’দিকে এই মাত্র বৌয়ের এসএমএস এলো; “চারটের মধ্যে বেরিও, আমায় যেন ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা না করতে হয়”। বুকে মৃদু প্যালপিটেশন টের পাচ্ছিলেন দত্তবাবু। গত মাসে গড়িয়াহাটে যাওয়ার প্ল্যান তিন তিনবার ভেস্তেছে। নার্ভাসনেসটা কাটানোর জন্য পাড়ার হরি-চপওয়ালার টইটুম্বুর কড়াইটার কথা ভাবতে শুরু করলেন তিনি। মেঘলা বিকেল, তেলে টইটুম্বুর কড়াই; টগবগিয়ে রিদ্‌ম তৈরি হচ্ছে। সে মনমোহিনী কড়াইয়ে পাশাপাশি ভাসছে বেগুনি আর আলুর চপ; মন-কেমনের সুবাসে বাতাস ভারি হয়ে রয়েছে। স্যান্ডো গেঞ্জি আর নীল লুঙ্গি পরে নির্ভীক রাজপুতের মত বসে হরি সমাদ্দার, চোখ কড়াইয়ে, কিশোরকুমারের গানের কলি হরদম তার ঠোঁটের ডগায় তিরতির করে নাচে। ঝাঁঝরিতে চপ তোলার দৃশ্য চোখের সামনে ভেসে উঠতেই অলোক দত্ত টের পেলেন যে বুকের প্যালপিটেশনটা কমে এসেছে। এই থেরাপিটা বড্ড কাজে দেয়।

নাহ্‌, ফাইলের চাপে নুয়ে পড়লে চলবে না। বড়সাহেবের রুমে একবার একটু মিছরি ভেজানো গলায় রিকুয়েস্ট করতেই হবে। লাঞ্চের পর দস্তুর অ্যান্ড কোম্পানির রিকনসিলিয়েশন ফাইলটা নিয়ে দত্তবাবু সোজা ঢুকলেন বড়সাহেবের চেম্বারে।

- কী ব্যাপার দত্তবাবু?
- ইয়ে স্যার, এই দস্তুরের ফাইলটা রেডি।
- রেডি?
- রেডি।
- আমি তো চারটে ফাইল পাঠিয়েছিলাম আপনাকে। বাকিগুলোর কী হল?
- ইয়ে, আরও একটা অলমোস্ট তৈরি বুঝলেন। আর আধ ঘণ্টার মধ্যেই...।
- আর বাকি দু’টো?
- আজ্ঞে?
- বাকি ফাইল দু’টো?
- স্যার, আসলে একটা রিকুয়েস্ট নিয়ে এসেছিলাম...।
- রিকুয়েস্ট?
- আজ একটু তাড়াতাড়ি বেরোতে পারলে ভালো হত স্যার, একটা জরুরী কাজ ছিল...।
- আই সী। আই সী। তাড়াতাড়ি বেরোতে পারলে ভালো হত, তাই না? শুধু সে’টুকু কেন। আর কী কী করলে ভালো হত, সে’গুলোও বলে দিন। অফিস দেরী করে আসতে পারলে ভালো হত। লাঞ্চে আধ ঘণ্টার বদলে দেড় ঘণ্টা খেজুরে আড্ডায় নষ্ট করতে পারলে ভালো হত...।
- আজ্ঞে আসলে...।
- গোটা দিন মোবাইলে ক্রিকেট কমেন্ট্রি চেক করে মাস গেলে মোটা মাইনে পেলে ভালো হত। বসের মাথায় কাঁঠাল ভেঙে অফিসটাকে কফিহাউস বানানো গেলে ভালো হত। আর কী কী করলে ভালো হত দত্তবাবু?

এই। এই শুরু হল বড়সাহেবের দাঁত খিঁচুনি, মানসম্মানের বিরিয়ানিতে কারিপাতা-এলাচ না ঢালা পর্যন্ত তার স্বস্তি হয় না। মাথা নিচু করে অলোক দত্ত শুনে যাচ্ছিলেন, আর বড়সাহেব টেবিল চাপড়ে চোপা করে যাচ্ছিলেন। দত্তবাবু সাধারণত সবার আগে অফিসে ঢোকেন, সাধারণত সবার শেষে অফিস থেকে বেরোন; তবু। শুনে যেতে হচ্ছিল, বড়বাবু বলে কথা। বাল্মীকির সাজেশন উড়িয়ে দেওয়া যায়, কিন্তু বসের খিস্তি হজম না করলেই গোলমাল। ক্রমশ কান গরম হচ্ছিল, বুকের ঢিপঢিপ বাড়তে শুরু করেছিল, মাথার পিছন দিকে টিপটিপ। ঠিক্ তক্ষুনি অলোকবাবু নিজের মনটাকে থেরাপির দিকে ঠেলে দিলেন; চোখের সামনে ভেসে উঠলো স্টিলের থালায় বাটি বসানো ভাত; দুধের-সর চাল। ভাতের ঢিপি থেকে ধোঁয়া উঠছে, দৃষ্টি আদরে ঝাপসা হয়ে আসছে। থালার পাশে ছোট বাটিতে ইলিশ মাছের কালো জিরে কাঁচা লঙ্কা দেওয়া ঝোল, সঙ্গে দু’টুকরো বেগুন। রগরগে নয়, কেতদুরুস্ত নয়; অথচ মায়াবী, ভালোবাসার। ডান হাতের মধ্যমা আর তর্জনী দিয়ে ভাতের ঢিপির মাথায় ছোট্ট ডিপ্রেশন তৈরি করে ইলিশের বাটি উপুড় করা। অতটুকু ভাবতেই কান গরমটা কেমন কমে এলো, বুকের ঢিপঢিপ আর মাথার টিপটপ – দুটোই গন্‌। বড়সাহেবের কপালে চিন্তার ভাজগুলো নজরে পড়ল; আহা, ওঁরও তো ওপরওয়ালা আছে; ওঁর মাথায় তো আরও বেশি চাপ। বড়সাহেবের গিন্নীর কোনও একটা কঠিন অসুখ হয়েছে; তার জন্য বিস্তর দৌড়ঝাঁপ খরচাপাতি দুশ্চিন্তা লেগেই আছে। এর ওপর অফিসের হাজার রকমের টার্গেট। আহ্‌, না হয় লোকটা দু’একটা বাড়াবাড়ি রকমের কড়া কথা শুনিয়েছে; তাই বলে কি আর অভিমান করে বসে থাকলে চলে? বেশ একটা হাসি মুখে ‘সরি’ বলে বড়সাহেবের চেম্বার থেকে বেরিয়ে এলেন অলোক দত্ত। বেরোবার সময় বড়সাহেব একবার বাঁকা সুরে “যত্তসব” বলেছিলেন; তা সে’টা গায়ে মাখেননি দত্তবাবু।

নিজের টেবিলে ফিরে এসে নতুন উদ্যমে শুরু করলেন ফাইল দেখার কাজ, এ’গুলো আজকেই শেষ করে বেরোতে হবে। রাত একটু হবে বটে, তা হোক গে। তরতর করে কাজ এগিয়ে যাচ্ছিল। কাজের ফ্লোতে একটু রামপ্রসাদীর সুরও লেগে গেছিল; ছন্দপতন ঘটল সাড়ে তিনটে নাগাদ! বৌকে জানানো হয়নি যে, গড়িয়াহাট প্ল্যান আজ ক্যান্সেল। চটপট ফোন করলেন। বেশ মোলায়েম গলায় একটা “অ্যাই শুনছো” ভাসিয়ে দিলেন। অবশ্য এই এক্সট্রা-মখমলে “অ্যাই শুনছো” অবশ্য বৌ বেশ চেনে;
- কী ব্যাপার? ফোন করেছ কেন? কোনও ধান্দাবাজি নয়। চারটে বাজলেই অফিস থেকে বেরোবে।
- অ্যাই সুমি, ধান্দাবাজি আবার কী ধরণের ভাষা।
- আমায় আজ যদি ফের অপেক্ষা করিয়েছে, তখন দেখবে ভাষার টেম্পারেচার কী খতরনাক হতে পারে।  
- আজ ওয়েট করাব না।
- গুড।
- না গুড না।
- মানে?
- মানে,সমস্ত ব্যবস্থা করা ছিল জানো, বিশ্বাস করো। কিন্তু শেষ মুহূর্তে এতগুলো জরুরী ফাইল চলে এলো যে...।
- তুমি আসছ না?
- আজ নয়, তবে আগামীকাল বেরবোই! শিওর শট। দরকার হয় আমি আজই আগামীকালের হাফ ডে ছুটির দরখাস্ত দিয়ে বেরব।
- তুমি থামো। পাড়ার লোকজনের দরকারে হুট করে ঠিক অফিস থেকে বেরিয়ে পড়তে পারো। অফিস কল্যিগদের সঙ্গে দীঘায় গিয়ে ফুর্তি করার সময়টুকু ঠিক পেয়ে যাও। শুধু আমার দরকারের ব্যাপারেই যত শয়তানি, তাই না?

ব্যস। অমনি শুরু হল ফর্দ ফায়ার করা। কবে মুকুটমণিপুর ঘুরতে যাওয়ার প্ল্যান ক্যান্সেল হয়েছে, কবে শাশুড়িকে আনতে হাওড়া স্টেশন যেতে পারেননি, কবে ন নিজের বোকামির জন্য বৌকে তার বান্ধবীদের সামনে অপদস্থ করেছেন; সমস্ত। তাল তাল ইউরেনিয়াম যেন কেউ ড্যালা পাকিয়ে তার মুখে থেবড়ে চলেছে। সুমির ফায়ারিংয়ে কমা, ফুলস্টপ নেই; কাজেই দত্তবাবু কিছু বলতেও পারছেন না। দুম করে ফোন রেখে দিলে থানাপুলিশ হয়ে যেতে পারে। আর তখনই শুরু হল, বুকের ভিতর আনচান, পেটের ভিতর গুড়গুড়। ব্যাপারটা মাথা ঝিমঝিম পর্যন্ত গড়াতেই অলোক দত্ত সোজা গিয়ে ঢুকলেন থেরাপির মধ্যে। ভদ্রলোকের মনের মধ্যে নিমেষে তৈরি হল লোহার চাটু, তার ওপর খুন্তির খনখন। তেলের চড়চড়ে একটা পরোটা মজবুত হয়ে উঠছিল; আর তারপর জোড়া ডিম ফাটিয়ে দু’টো কুসুম ভাসিয়ে দেওয়া হল পরোটার বুকে। এরপর সেই কুসুম-জোড়া খুন্তির সূক্ষ্ম চাপে ঘেঁটে গিয়ে মিশে গেলে পরোটায়। এক মিনিটের মাথায় সেই মাপা হিসেব আর চাপা কবিতা বোঝাই পরোটা নেমে এলো চাটু থেকে। তারপর সৃষ্টি হল পেঁয়াজ কাঁচা লঙ্কা লেবু আর বিটনুনের পুর পাকানো রোল।
স্মিত হাসলেন অলোক দত্ত। তাঁদের যখন বিয়ে হয় তখন সুমির বয়স কত অল্প। পড়াশোনায় অলোকবাবুর চেয়ে হাজার-গুণে ভালো; কিন্তু আর পাঁচটা নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারে যা হয়। সুমির কোনোদিনও একটা কেরিয়ার হল না, হওয়া উচিৎ ছিল। অবশ্য এ নিয়ে সুমি কোনোদিন অভিযোগ জানায়নি, কিন্তু একটা চিনচিনে অপরাধ-বোধ মাঝেমধ্যেই অলোকবাবুর মাথায় ঘুরপাক খায়। মেয়েটা বড় অল্পে খুশি, গোটাদিন খেটে চলে; চিৎকার চ্যাঁচামেচি করে বটে; তবে মনটা বড় ভালো। কখনো কারুর অমঙ্গল কামনা করে না, লোভ নেই। সুমির তেমন বড় কোন শখ আহ্লাদও নেই; শুধু এই মাঝেমধ্যে বাজারঘাটে যেতে চায়; সে’টুকুও আসলে অলোকবাবুর সঙ্গে কিছুটা সময় কাটানোর জন্যেই। বেশ বুঝতে পারেন অলোকবাবু। অথচ বার চারেক প্ল্যান করেও সামান্য গড়িয়াহাট যাওয়া হয়ে উঠছে না। সুমির না রাগাটাই আশ্চর্যের। অলোকবাবু ঠিক করলেন আজ বরং বাড়ি ফেরার সময় সুমির জন্য এক জোড়া কানের দুল কিনে ফিরবেন, হালকা দেখে। একটা বেশ জব্বর সারপ্রাইজ হবে।

মিনিট  দশেক পর সুমি নিজেই ফোন কেটে দিল। বড্ড রেগে গেছে। সে’টা অবশ্য অলোকবাবু সামাল দিতে পারবেন। ফোন রেখেই ভদ্রলোক ফাইলে ডাইভ দিলেন। যখন ঘোর কাটল তখন সন্ধ্যে সাড়ে সাতটা। সমস্ত কমপ্লিট। বড়সাহেব অবশ্য বেরিয়ে গেছিলেন, সেক্রেটারি বললেন কোনও একটা পার্টি অ্যাটেন্ড করার জন্য অফিস থেকে আজ তাড়াতাড়ি বেরিয়েছেন তিনি। অগত্যা ফাইলগুলো বড়সাহেবের টেবিলে রেখে বেরিয়ে এলেন অলোক দত্ত।

গৌরহরি জুয়েলার্স থেকে সুমির জন্য এক জোড়া কানের দুল আর মাইতি মিষ্টান্ন ভাণ্ডার থেকে ছ’টা ক্ষীরকদম কিনে বাড়ি ফিরতে ফিরতে পৌনে দশটা হয়ে গেল। দরজায় তালা, দরজার সামনের পাপোশের নীচে সুমির চিরকুট।
“মেজদির বাড়ি যাচ্ছি, রাতে ফিরব না। ফোন করতে যেও না, ফোন স্যুইচ অফ রাখব। তোমার সঙ্গে আজ আর কথা বলতে ইচ্ছে করছে না। খাবার চাপা দেওয়া আছে; গিলে উদ্ধার কোরো”।   

হাত পা ধুয়ে, জামা কাপড় বদলে ডাইনিং টেবিলে বসলেন অলোকবাবু। বড্ড ক্লান্ত লাগছিল তাঁর, জিভে অরুচি। মাথা ব্যথা। গায়ে সামান্য জ্বর আছে বোধ হয়। কোনোক্রমে খাওয়াদাওয়া সেরে শোওয়ার ঘরে এসে বাতি নিভিয়ে লম্বা হলেন বিছানায়। উত্তরের জানালাটা খোলা, স্ট্রিট ল্যাম্পের আলো এসে পড়ছে ঘরে। সেই আলোয় দেওয়ালে টাঙানো ছবিতে মায়ের মুখটা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে।

মা। কী অদ্ভুত, চোখ বুঝতে যেন মায়ের মুখটা আরও স্পষ্ট হল। মা, মাগো। ছোটবেলার গন্ধে ভরে গেল ঘরটা। শনিবার রাত্রে মা সামান্য বেশি ভাত নিতেন, সেই বাসি ভাত একটা থালায় নিয়ে মা ব্যাটা পরের দিন সকালে একসঙ্গে জলখাবারে বসত। বাসি ভাতের পাশে কুমড়ো ফুলের বড়া আর মৌড়লা বা চুনো মাছ ভাজা। নুন, লেবু, লঙ্কা দিয়ে মা ভাত মাখতেন জম্পেশ করে। তারপর একদলা ছেলের মুখে, আর এক দলা মায়ের। মা অবশ্য মাছভাজা আর কুমড়োফুলের বড়াটুকু বেশির ভাগটাই খোকাকে খাইয়ে দিতেন। হাপুসেহুপুসে অল্প সময়ের মধ্যেই থালা সাফ হয়ে যেত।

স্পষ্ট দেখতে পারছিলেন অলোকবাবু; মায়ের হাসি মুখ, নীল ছাপার শাড়িতে হলুদ ফুল, সরু সরু আঙুল দিয়ে মাখা ভাত, ছোট্ট বাটিতে মাছ ভাজা আর একটা ছোট স্টিলের থালায় কুমড়ো ফুলের বড়া। বেঢপ পুরনো সেগুন কাঠের টেবিল। পাশের ঘরে পুরনো টেপরেকর্ডারে বাবা মান্নাবাবুর গান শুনছেন; “কবে আর আসবে সময়, বাসবে ভালো, ভাসবে ময়ূরপঙ্খী ভেলা”।

মাথা ব্যথা কমে যাওয়ায় অলোকবাবুর ঘুমিয়ে পড়তে বিশেষ অসুবিধে হল না। অবিশ্যি বালিশের কতটা তাঁর চোখের জলে ভিজেছে আর কতটা জিভের জলে; তার সদুত্তর তিনি নিজেও দিতে পারবেন না।

ছাতু আর ফলিডল

- বিট্টা! অ্যাই বিট্টা!
- আমায় ডাকছ বাবা?
- ন্যাকাউদ্দিন বুরবক্! এ বাড়িতে ক'টা বিট্টা আছে?
- হয়েছেটা কী?
- তোর লজ্জা করে না জিজ্ঞেস করতে? ব্যাটা রাস্কেল।
- পার্ট ওয়ানে কম নম্বর? সে'টা হঠাৎ মনে পড়ল? তবে মাসখানেক আগে বেরোনো রেজাল্ট নিয়ে এখন আবার...।
- শাট আপ। দ্য গ্রেট হারু ডাকাতের রক্ত রয়েছে আমার  মধ্যে, আমি কি মার্কশিটকে ডরাই?
- বাজারে করে না হয় বাইশ টাকা সরিয়েছি, তার জন্য এই রাতদুপুরে এত তোলপাড়?
- চোপ ব্যাটাচ্ছেলে। বাসমতির কাঁকর তুই। এগরোলের কুমড়ো সস। তোকে দেখলেই গা রিরি করছে। ইশ, তোকে বেদম জুতোলে যদি শান্তি পাই।
- আরে! তোমার ব্যাঙ্কের কাজ আজ করিনি, একটা ভালো বই পড়ছিলাম। কাল করে দেব। এত ঝ্যামেলার কী আছে।
- টাকা রাবড়ি, রাবড়ি টাকা। ব্যাঙ্কফ্যাঙ্ক নিয়ে আমি ভাবিনা। তবে তোর মত এমন হাড়বজ্জাত আমি আগে দেখিনি।
- আরে আমি করেছিটা কী?
- কী করেছিস? এরপরেও জিজ্ঞেস করতে সাহস পাচ্ছিস? কী করেছিস?
- মাইরি, কিছুতেই ধরতে পারছি না।
- তা কী করে ধরতে পারবে; গবেটেন্দ্র গাম্বাট বাহাদুর। আমার কপালেই জুটেছে এমন আপদ।
- বলবে কী হয়েছে?
- আজকের দিনটার কথা খেয়াল আছে?
- আজ? সোমবার!
- তারিখটা কত? সে'টা খেয়াল আছে?
- ষোলোই। জুলাই। তা'তে কী?
- তা'তে কী? মুখ ভেঙে দেব ইডিয়ট।
- ষোলোই...ষোলোই...ওহ হো! আজ তো..আজ তো তোমাদের বিবাহবার্ষিকী! বলা হয়নি তোমায়; কঙ্গ্র‍্যাচুলেশনস পিতা!
- তোর শুভেচ্ছাকে দলা পাকিয়ে থুতু মাখিয়ে ডাস্টবিনে ছুঁড়ে ফেল।
- আরে...হয়েছেটা কী?
- কুলাঙ্গার!  হয়েছেটা কী? লজ্জা করে না? তোর উচিৎ ছিল না আমায় সময় থাকতে রিমাইন্ড করা?
- আমার উচিৎ ছিল?
- হ্যাঁ হ্যাঁ তোর! বাপের পয়সায় মিতার সঙ্গে বসে মিত্র কেবিনের কবিরাজি সাঁটাতে পারো, আর এটুকু মনে করাতে পারো না?
- মিতা নয়, স্মিতা। আর বিবাহবার্ষিকীর কথা তোমার বুঝি এই মনে পড়ল?
- জাস্ট! সকাল থেকে তোর মায়ের মেজাজটা গোলমেলে ছিল, ঠিক গ্রিপ করতে পারিনি..এই জাস্ট কিছুক্ষণ আগে...।
- কিছুক্ষণ আগে?
- কার্পেট বম্বিং।
- অতএব?
- ড্রয়িং রুমে শুতে যাচ্ছি। ডিনারে ছাতুর সরবত।
- এহহে। তবে মিতা মাকে উইশ করেছে। সকালেই। রিলেশনশিপ বিল্ডিং।
- মিতা? স্মিতা নয়?
- এহহে, মানে ইয়ে...স্লিপ অফ টাং। স্মিতা।
- আমার না হয় ছাতু জুটেছে, তোর কপালে বোধ হয় ফলিডল নাচছে রে।

অঙ্কের মাস্টার আর পেপারওয়েট

- শোনো।
- আবার কী?
- জরুরী।
- রাত দুটোর সময় এমন জরুরী ডাকের মিনিমাম লেভেল হওয়া উচিৎ হার্ট অ্যাটাক। আশা করি তার চেয়ে কম কিছু নিয়ে হুজ্জুতি করবে না।
- মিতুল, তুমি বৌ না হারপুন?
- তুমি বর না দাঁতব্যথা?
- রিয়েলি। জেনুইন প্রশ্ন।
- ধ্যাত।
- ডিসকাস না করলে ঘুম আসবে না।
- কী?
- জানো, আজ বিকেলে...টিভি দেখতে দেখতে..চানাচুরের প্যাকেট কেটে চানাচুরের ঝর্না পার্লপেটে ঢালতে ঢালতে...হঠাৎ মনে হলো...।
- কী?
- মনে হলো..।
- বলবে না কান মুলব?
- তুমি বৌ না অঙ্কের মাস্টার?
- তুমি বর না পেপারওয়েট?
- মরুক গে। বলব না।
- ন্যাকামো না করে বলে ফ্যালো।
- বলতাম না। নেহাত তুমি ঝুলোঝুলি করছ বলে বলছি।
- আজ বিকেলে...টিভি দেখতে দেখতে..চানাচুরের প্যাকেট কেটে চানাচুরের ঝর্না পার্লপেটে ঢালতে ঢালতে...হঠাৎ তোমার কী মনে হল?
- মনে হল তোমার অভিরূপে সঙ্গে বিয়ে হলেই ভালো হত। অন্তত তোমার ইন্টেলেকচুয়াল ইকুয়াল হল। আমার সঙ্গে ভ্যাবলামি করে দিন গুজরান করতে হত না।
- হয়েছে?
- আরো মনে হল...।
- কী?
- তোমাদের ব্যালকনিতে দু'টো নয়নতারা গাছ থাকত। দু'টো বেতের চেয়ার। থুড়ি। মাদুর।
- বেশ। আর কিছু?
- না। এ'টুকুই। কী ভিষণ রিয়েল মনে হল। আর কেমন দুম করে সব কিছু ফাঁকা হয়ে গেল।
- এ'বার ফোন রাখতে হবে। ঘুম পাচ্ছে।
- হুঁ।
- শোনো।
- আবার কী?
- চানাচুর খাওয়াটা এ'বার একটু কমাও। বয়স হচ্ছে তো।

ফোন রেখে শুতে যাওয়ার সময় 'তুমি যে আমার' গানটা গুনগুন করছিল মিতুল। সামনের সপ্তাহে অভিরূপকে বলে ব্যালকনির চেয়ার দু'টো সরাতে হবে৷ মাদুরই ভালো; তা'তে বেশ হাত-পা ছড়িয়ে গল্পগুজব করা যায়। আর দু'টো নয়নতারার টবও জোগাড় করতে হবে। হবেই।

পুজোবার্ষিকী।

অ্যাডাল্ট-পুজোবার্ষিকীর সূচিপত্র:

//উপন্যাস//

"ফাইলগঞ্জে নাস্তানাবুদ" - বস মুখোপাধ্যায়।

"ওয়েটলিস্টের আর্তনাদ" - আইআরসিটিসি গাঙ্গুলি।

"পরাজিত আনন্দ" - ট্র‍্যাফিক নন্দী।

"গল্পজুড়ে কেলো" - পোড়াতেল ঘোষ।

"মানিব্যাগ হত্যা রহস্য" - শপিং কর।

"কৌরব গোয়েন্দা" - ছেলেপিলেরদাবী চট্টোপাধ্যায়।

"প্যান্ডেল কত দূর" - এনার্জিশেষ মজুমদার।

//বড়গল্প//

ইতি শরৎ - পলিউশন চট্টোপাধ্যায়।

ধুর মশাই - পাহাড়নাসমুদ্র ভৌমিক।

//অপ্রকাশিত গল্প//

প্রফেসর প্রতিবেশি আর জ্ঞানের গাছ - পুজোপ্ল্যানার রায়।

ল্যাদবাবুর হাহুতাশ - হতাশাপূর্ণা দেবী।

//ম্যাজিক//

হরেকরকম্বা - পিসি সরকার।

//খেলাধুলো//

ডন আর লাইনে বডি - অচ্ছেদিন সাহা।

//সম্পূর্ন কমিক্স//

অরণ্যেদেব - লি বুনিপ।

(আসিতেছে।  আসিতেছে। আপনার মেজাজের বুকস্টল আলো করে। আসছে)।

চন্দ্রগুপ্ত

- এই যে, আর কতক্ষণ এ'খানে বসবে?
- যতক্ষণ, ততক্ষণ।
- ও মা, হেঁয়ালি করছ নাকি। রাত এগারোটা বাজে। শেষ লঞ্চ চলে গেছে। জেটি ফাঁকা। দোকান বন্ধ হবে যে। বেঞ্চি উলটে রাখব। এ'বার সরে পড়ো দেখি।
- খদ্দের তাড়িয়ে দিচ্ছ গো? ধর্মে সইবে খুড়ো?
- ভারী আমার খদ্দের এলেন রে৷ গোটাদিন বেঞ্চি আটকে কী নিলে? দু'কাপ চা আর তিনটে বিড়ি। কত করে বললাম; নাও একবাটি ঘুগনি, নয়তো একজোড়া ডিম সেদ্ধ। সে বালাই নেই। ধুত্তোর। আর এই শোনো, আমায় ধর্মকর্ম শেখাতে এসো না বুঝলে। আমার বৌয়ের ঠাকুরের আসনে শিবে, কালীতে, যীশুতে এক ঘাটে জল খায়, অথচ এত গদগদ ভক্তি ফলিয়েও লাভ কী হয়েছে? সে বেচারি গোটাদিন বাতের ব্যথায় জেরবার।
- তুমি কমিউনিস্ট নাকি খুড়ো?
- লেনিনপুজোর নিয়মকানুন তো সন্তোষীমার ব্রতকেও হার মানায় হে। নাহ্, পুজোঅর্চনা আমার জন্য নয়। তবে হ্যাঁ, কোয়ালিটি চা আর আলমগঞ্জের সেরা ঘুগনি খেতে চাইলে নদীর ধারে আমার এই ভাঙাচোরা দোকানে না এসে উপায় নেই।
- বাবাহ্ খুড়ো। তোমার কী দেমাক।
- দেমাকের আর কী দেখলে হে। দেমাক দেখেছি হরেন মাছওলার। নতুন খদ্দের কাতলার কানকো তুলে কোয়ালিটি চেক করতে যেতেই সে কী মুখচোপা। তার কাছে বাজে মাছ পাওয়া গেলে সে নাকি ক্ষতিপূরণ হিসেবে সোনার আংটি দেবে, এমন নোটিস টাঙিয়ে মাছ বিক্রি করত সে।
- বলো কী।
- তবে আর বলছি কী। ভেজালের যুগে কোয়ালিটি চাইলে সামান্য মেজাজ সহ্য করতে হবে বইকি। তা তুমি তো এ পাড়ায় নতুন মালুম হচ্ছে।
- আমার নাম চন্দ্রগুপ্ত। আমার ঘরদোর নেই। যে'দিন যেমন। আজ খুড়োর বেঞ্চি পেলাম। অমৃতসমান চা খেলাম। পকেটে দু'টো টাকা বেশি থাকলে ঘুগনিও খেতাম।
- ভিখিরির নাম চন্দ্রগুপ্ত। বটে। তা বাবা চন্দ্রগুপ্ত,  তোমার হাবভাব তো ভিখিরির নয়? বয়সও কলেজে পড়ার।
- খুড়োর চোখে তো নয়, ছুরি। নিজেকে স্রেফ একতাল মাখন মনে হচ্ছে।
- বাপের প্যাঁদানি?
- আসলে...।
- প্রেমের গাঁট্টা?
- আমি কোন হনু খুড়ো, আমি কী আর প্রেমট্রেম বুঝি।
- ওহ্, ন্যাকাও বটে। তা শোনো, পত্রপাঠ বেঞ্চি খালি করো। আর ওই উনুনের পিছন দিকে ডেকচিতে ঘুগনি পড়ে আছে। রাতের খাওয়া হয়ে যাবে। ডিম আছে, সেদ্ধ বসালেও পারো। উনুন নেভেনি এখনও। সঙ্গে ওই পাউরুটি। খেয়ে উদ্ধার করো। আর দোকানের মেঝেতে আজকের রাতটা কাটিয়ে দাও। একটা মাদুরও আছে। বালিশ চাইলে পুলিশে দেব। খবরদার যদি আর বেঞ্চে বসেছ, এখুনি বেঞ্চ উলটে রাখো। দোকান বন্ধ মানে বেঞ্চি উলটো। 
- তুমি জোর করছ যখন আজ রাতটা এখানেই কাটিয়ে দিই। কিন্তু জানো খুড়ো, ব্যাপারটা ঠিক প্রেমের গাঁট্টা নয়। মেয়েটা বড় ভালো, আমিই অপদার্থ।
- সে আমি বুঝেছি। আর শোনো ভোরবেলা আমি না আসা পর্যন্ত দোকান ছেড়ে বেরোবে না। সকাল সাড়ে ছ'টায় প্রথম লঞ্চ, আমি ছ'টার আগে এসে উনুন ধরাবো। কেমন? ও কী জেটির কাছে গোলমাল কীসের? এখন আবার লোক জড়ো হয়েছে কেন?
- এত রাত্রে আবার গোলমাল কেন? চোরটোর নাকি?
- আমি গিয়ে দেখে আসি। তুমি খাওয়াদাওয়া কর গে। খবরদার, ফিরে এসে যেন বেঞ্চি সোজা না দেখি।

জেটিতে এসে খুড়ো টের পেলেন কাণ্ডটা। কাছেই একটা দিনতিনেকের পুরনো মড়া ভেসে উঠেছে, জলপুলিশের একটা নৌকা সেই লাশ তুলে এনেছে। লাশটা চন্দ্রগুপ্তের। ও'দিকে দূরে তার দোকানটা তখনও হ্যারিকেনের আলোয় আবছা দেখা যায়; একটা আবছায়ার মত মানুষ বেঞ্চি উলটে রেখে ঘুগনির ডেকচির দিকে এগিয়ে গেলো।

মৃদু হাসলেন খুড়ো। এখন ফিরে গিয়ে চন্দ্রগুপ্তের খাওয়ায় ব্যাঘাত ঘটানোর কোনো মানে হয়না।  তিনি বুঝলেন প্রেম আস্বাদন না করে ব্যর্থ প্রেমিকের আত্মা এ পৃথিবী ছাড়তে চাইবে না। তবে নিজের রান্না ঘুগনির ওপর সম্পূর্ণ আস্থা আছে খুড়োর।