Monday, December 13, 2010

বড়া পাও বনাম আলুর চপ

আলোচনায়: ভেঙ্কট গুরু/সাম্য দত্ত

লেখক পরিচিতি:

ভেঙ্কট গুরু :
আপামর মুম্বাইকার এক তামিল বাংলা বিলাসীও বটে আদ্যোপান্ত ভারতীয় চাকুরে, ব্লগীয়ে ভালবাসেন রাস্কিন বন্ড, বিকেল বেলা ও আড্ডা

সাম্য দত্ত:
রাঁচী'র প্রবাসী বাঙালি কর্ম সূত্রে বর্তমানে চেন্নাইতে খাদ্য রসিক গাইয়ে, ব্লগীয়ে ভালবাসেন কথা বলতে এবং বন্ধুদের

Wednesday, December 8, 2010

কলেজ স্ট্রিট'য়ের খাওয়া-দাওয়া





কলেজ স্ট্রিট ঘেঁষে যে চার বছর'এর মেস-phase কেটেছে, সেই সময়কর ফুড-হ্যাবিট নিয়ে কিছু কথা ব্লগ রেকর্ডে ঢুকিয়ে রাখা উচিত। ফর ফিউচার রেফারেন্স। বিশেষ করে মমতা যদি সত্যিই কলকাতা'কে লন্ডনে কনভার্ট করতে পারেন (দিদি'র একটা প্রোগ্রেস থিম আছে না? কলকাতা কে লণ্ডন, দার্জিলিং কে সুইজারল্যান্ড এবং দীঘা কে গোয়া?), তাহলে এসব খাওয়ার-দাওয়ার'গুলো ফসিল-স্মৃতি হয়ে যাওয়ার হেভী চান্স আছে। তখন আমি গ্র্যাজুয়েসন করছি ক্যালকাটা উনিভার্সিটি থেকে। থাকছি আমহার্স্ট স্ট্রীট পোস্ট অফিসের উল্টো দিকের এক ছোট্ট গলি সীতারাম ঘোষ স্ট্রীট'এর এক মেস বাড়িতে। সেই সময় খাওয়া-দাওয়ার প্যাটার্ণ ছিল বেশ সোজা সাপটা। রাত তিন'টের আগে ঘুমতাম না, তাই বেলা এগারো'টার আগে ঘুম ভাঙ্গতো না, তাই জলখাবারের কোনও পাট কখনোই ছিল না। কখনো কখনো মেস'এর নিচের অমিত'এর চা'এর দোকান থেকে ডিম-পাউরুটি অবশ্য খাওয়া হত, তবে সাধারণত ব্রেকফাস্ট ব্যাপারটা উহ্যই থাকত। দুপুর'এর খাওয়া এবং রাত'এর খাওয়াটা মেস'য়েই হত।
অতএব কলেজ স্ট্রীট'এর ফুড-হাণ্ট চলতো শুধু সন্ধ্যে বেলার খাওয়াটুকুর জন্য। (সন্ধ্যে বেলার খাওয়া কে কি বলে? নাস্তা?টিফিন?জলখাবার?)। তখন অবশ্য পকেট মেপে চলতে হত, কাজেই বিকেলের টিফিন'এ জমিদারী করার স্কোপ থাকত না। তবে তার মধ্যেই উত্তর কলকাতার এই অঞ্চলে কম ভ্যারাইটি চেখে দেখিনি। সেইসময়কার প্রিয় দশ'টা সান্ধ্য-খাদ্য'এর লিষ্টি নীচে করলাম।

Sunday, December 5, 2010

গুগল ঠাট্টা



ইন্টারনেটে একটা মস্করা বহু প্রচলিত আছে।

প্রশ্ন: -"How do you spell God?"

উত্তর: "G-O-O-G-L-E"


রজনীকান্ত ("তুমি নির্মল কর" খ্যাত নয়, "শিবাজী" খ্যাত) নয়, মারাদোনা'র হাতও নয়, যুগ'এ ঈশ্বরত্ব যদি কাউকে গছানো যায় তবে সে হচ্ছে গুগল। কারণ স্পষ্ট।

আমার এক বন্ধু, গুগল'য়ে কর্মরত হয়েও এই ধারণা'টা শুনলেই উসখুস করে উঠতো। মাঝেই মাঝেইবলতো "টেকনোলজি কখনো ভগবান হতে পারে না ব্রাদার, মানুষের চ্যালেঞ্জ ফেস করার ক্ষমতাটেকনোলজির নেই"।

সেই বন্ধুর নাম সুহেল, সুহেল বারুজ্জ্যে। এই সেদিন সুহেল একটা ছোট্ট একটা মেল পাঠালো:

Saturday, November 20, 2010

দ্য গ্রেট কালচারাল দাদাগিরি

লিওপোল্ডএর লালচে আলো মাখা সন্ধ্যের আঁচ, আধ ঘন্টার মধ্যে যেকোনো মগজে ঝিম নামিয়ে দিতে পারে, মাতাল সহকর্মীগুলোর সঙ্গে মুম্বাইএর এই পান-তীর্থে এসে বুঝলাম যে কলকাতার দিবাকর সান্যালের জাজমেন্টটা নেহাত ফালতু নয়। টেবিলে সহকর্মীদের এক ঘেয়ে এলকহোলিক আড্ডাবাজি থেকে উঠে এসে, বার ঘেঁষে একটা আরাম-টুলে বসলুমগেলাসে মন দেব, এমন সময় কাটোয়া লোকাল ছাপ চাহিদা ভেসে এলো; “দাদা দেশলাই আছে?”

Tuesday, November 16, 2010

রোগ-সুন্দর



ভাইরাল, জ্বর-গলা ব্যথা-চোখ লাল-জ্বিভ বিস্বাদ! তবে এসব যন্ত্রণা সহ্য করেও যখন দেখি সোমবার দুপুরে; অফিসের থবড়ানি ভোগ না করে, মেডিকাল লিভের দৌলতে ঘরে বসে মন দিয়ে ভি সি ডিতে আইস এজ দেখছি, তখন দিল সুপার খুশ হয়ে যায়। সাবাস ভাইরাল, উইকেন্ডটাকে পাস কাটিয়ে ঠিক রবিবার রাত থেকে গায়ে টেম্পরেচার। কি টাইমিং মাইরি। নাহ, শুধু সেলস টার্গেটি নয়, জীবনে ভগবানও আছেন। বিকেলে বউ সলিড ঝাল ফুচকা নিয়ে আসবে, তাতে নাকি জ্বিভের টেস্ট-বাডরা জেগে উঠবে। এই বডি টেম্পরেচার আর দু দিন টানতে পারলেই হল, বিষ্যুদ-শুক্কুর অফিসে টুকি মেরেই ফের উইকেণ্ড, ক্লাস সিচুয়েশন!
অতএব কনক্লুশান?, রোগ-ভোগ মানে যে হামেশাই টেনশন-দুশ্চিন্তা-কষ্ট তা নয়। প্রাসঙ্গিক দুটি কেস:

Monday, November 1, 2010

ক্ষতিপূরণ / দেবব্রত কর বিশ্বাস


( দেবব্রত কর বিশ্বাস: কবি, বন্ধু, বিরিয়ানী প্রেমী, প্রবল ভাবে কোলকাতা বাজ, আড্ডা-বিলাসী এবং ঘোর ইস্ট বেঙ্গলিস্ট! 'মেঘজন্ম' নামক লিটিল ম্যাগাজিনের ব্রেন-পিতা ও যুগ্ম-সম্পাদক। )


******

একটা শব্দ আমাকে অনেকদিন ধরে ভাবাচ্ছে- ক্ষতিপূরণ। যেকোনো বিপর্যয় হলে সাধারণত সরকার বা প্রশাসন, যাই বলি না কেন, তাঁরাই এই ক্ষতিপূরণের সিদ্ধান্ত নেন। ক্ষতিপূরণের হার এবং প্রাপকদের সম্বন্ধেও শেষ সিদ্ধান্তটুকু সম্ভবত তাঁরাই স্থির করেন। আর কিছু বেসরকারী উদ্যোগ, স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে এসে দাঁড়ান। ক্ষতিপূরণ দেওয়ার মতো সামর্থ্য, অধিকার, কোনোটাই তাঁদের থাকে না। তাই তাঁরা শুধু পাশে এসে দাঁড়ান। অন্তত তাঁরা তেমনটাই বলে থাকেন। ক্ষতিপূরণ দেওয়ার অধিকারটুকু সবলে নিজেদের দখলে রেখেছে সরকার বা প্রশাসন বা মালিকপক্ষ। ক্ষতি করবার ক্ষমতা আছে যার, ক্ষতিপূরণ সেই দেবে।

Wednesday, September 22, 2010

Amnesiac হিজিবিজি



একটি দুর্ঘটনা।
স্মৃতির এলোমেলো হয়ে যাওয়া এক মানুষের কিছু অসংলগ্নতা, পুরনো খাতার পাতায় কিছু হিজিবিজি।
হিজিবিজি সর্বস্ব কাগজটার হাতে চলে আসা একান্তই আকস্মিক।
********
তখন থেকে রুমালের এক কোন মন দিয়ে চিবিয়ে চলেছি নোনতা, বিস্বাদ। মিডিল টার্ম ফ্যাক্টরাইজেসনে তো এর আগে কখনো থমকে যেতে হয়নি এই অঙ্কের বইটা কার? অভিরূপের?
রুমালটা থেকে ভারী বিকট গন্ধ আসছে, কতদিন ধোয়া হয়নি বোধ হয়রুমাল কে ধুতো? মা? রুমাল মাই ধুতো, স্পষ্ট মনে পড়ছে এলুমিনিয়ামের বালতি, সাদা ফ্যানা,কল ঘর। মাএর মুখ টা আবছা ভাসছে।

Sunday, August 15, 2010

১৫ আগস্ট: কথা ,স্মৃতি এবং ৬৩ বছর


৬৩ বছরের আগেকার কিছু অভিজ্ঞতা জানতে চেয়েছিলাম পরিচিত কয়েকজনের কাছে, সাদা-মাঠা কিছু স্মৃতি সাজিয়ে দিলেন কিছু পুরনো, ওপার বাংলা থেকে চলে আসা মানুষ:

Monday, June 7, 2010

A Successful Bengali Poet in 10 Steps


“এক অবাঙ্গালি বন্ধুর সঙ্গে কিছু আজে-বাজে আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে এই পোস্টসমস্তটাই বে-আক্কেলে, অতএব বেশি ভূমিকা বা সতর্কবানী নিষ্প্রয়োজনযেহেতু এই অবাঙ্গালি বন্ধুটির জন্যে মূলত এই পোস্টটি লেখা, তাই এটা ইংরেজিতেই রইল, যাতে সে পড়তে পারে পরে সময় পেলে এটার বাংলা করে ইংরেজি পোস্টের সঙ্গেই জুড়ে দেব”
The fact that I have known few Poets from close quarters hardly has anything to do with this post. It’s just out of a factually incorrect discussion inflicted with terrible political incorrectness that I had with one of my Writer Friends (Who by the way is not into Bengali Literature).
It all started with the silly question that my friend asked, “So is there any short cut to make it big as a Bengali poet?”
And then came some random, unsubstantiated conjectures about how stuff happens here at Kolkata Poetry Circle. It is just an attempt to enumerate few of those conjectures.
So here it is,
10 Generic Steps that one needs to follow to become a Successful Bengali Poet

Thursday, June 3, 2010

আমি, আমার মন




প্রাক-কথন

"'চলতে চলতে' থেকে এপিসডিক কপি নামিয়ে বিবাহোত্তর ব্লগ পোস্ট। আয় শালা কলকাতায়, তোর হচ্ছে!"

- অরিত্র সান্যাল

পুরুষ অধ্যায়

অফিস ফেরত ক্লান্ত শরীরটাকে ঘেঁসটে কোনো রকমে বাড়ি পর্যন্ত নিয়ে এসে কলিং বেল টিপলাম; "টিং"! কোনো সাড়া শব্দ নেই ভিতর থেকে!

ফের টিং! চুপ!

টিং টিং! এবারও চুপ!

ঘামে চুপসে গিয়ে এবার মেজাজ চড়তে সুরু করলো! স্বামী গোটা দিন অফিসে দলাই মলাই হয়ে থেবড়ে বাড়ি ফিরছে, আর বউ এই ভর সন্ধ্যে বেলায় পড়েপড়ে ঘুমুচ্ছে! রাবিশ ইনসেনসিটিভ সংসার!

Tuesday, May 4, 2010

নাম নবমী


আমার এক দূর সম্পর্কের দাদু আছেন, মিঠে দাদু বলে পাড়াময় ফেমাস! মাঝে মধ্যেই তিনি আমার সাথে দিন কয় কাটিয়ে যান।বিরাশি বছর বয়েস হলেও তুরীয় মেজাজের ভদ্রলোক! গোলাপ চাষ করে আর দিনে দু পেগ হুইস্কি খেয়ে প্রবল ফুর্তিতে থাকেন। কলকাতার হুরুম হারুম হই হই রই রই থেকে একটু নিজেকে ইনসুলেট করতেই তার আমার কাছে বিহারের এই ছোট্ট সহরে এসে কিছুদিন কাটিয়ে যাওয়া। ভদ্রলোকের মেমরি অতি ধারালো! নিজের বিয়ের মেনু'তে কি কি পদ ছিল এখনো কর গুনে শুনিয়ে দিতে পারেন। অথচ অদ্ভূত ব্যাপার হলো এতবার আসা সত্ত্বেও আমার ড্রাইভার ধর্মেন্দ্র সিং'এর নামটি উনি বার বার গুলিয়ে ফ্যালেন।

Friday, April 2, 2010

আই পী এল ২০১০ রিভিউ ৪ :"দাদা টু দাদু" স্পেশাল


দিব্যকান্তি দাশগুপ্ত! কসবায় বাড়ি, শখ ফটোগ্রাফি, চাউমিন বানানো এবং বস্তাপচা সমস্ত ব্লগ পড়া। আমার সঙ্গে আলাপ ব্লগ সূত্রেই। মুদ্রাদোষ হিসেবে সক্কলকে স্যার বলে ডাকেন। ভারী অমায়িক কিন্তু টেম্পরামেণ্টল মানুষ।
গতকাল, একটি বাংলা নিউজ চ্যানেলের ফুটেজে দেখি ভদ্রলোক “দাদা থেকে দাদু” ক্যাপশন লাগানো একটা সৌরভ গাঙ্গুলীর ছবি নিয়ে ইডেন গার্ডেনের সামনে দূম দাম চিল্লিয়ে চলেছেন। ভদ্রলোকের মোবাইল নম্বর কাছেই ছিল। ডায়াল করতেই হালুম গলায় ফোনে ধরলেন, “আররে বলুন সার, কি খবর”
“দাদা থেকে দাদু”এর ইস্যু তে ক্লারিফিকেশন চাইতেই দিব্যবাবু জানিয়ে দিলেন যে কলকাতার ইনসাল্ট সইতে না পেরেই তিনি দাদা হঠাও ক্যামপেনে এগিয়ে এসেছেন।
“ আরে মশাই একের পর এক হার, প্লাস এই ভদ্রলোকের ঠুকঠুক, টলারেট করা যায়? কলকাতার মান ইজ্জত বসিয়ে দিল? ক্যাপ্টেনের কি যোগদান আছে বলুন এই টিমে?শাহরুখবাবুর কাছে মাস-পিটিশন পাঠাতে হবে এই দাদা-রুপি-দাদুকে এলিমিনেট করতে”
এহেন প্রচুর কথা আবেগ নিয়ে বোঝালেন, বাঙালির ক্যারেক্টার যে এখনো সত্যি বলতে ডরায় না, সেটা প্রমাণ করতেই হবে, তা সে ন্যানো হোক কি দাদা, সত্যি বলতে গিয়ে নার্ভাস হলে চলবে না!
এত বড় একটা উদ্যোগ, ব্লগ’এ এর উল্লেখ করব কিনা জানতে চাইলে দিব্যদা জানালেন, “অবশ্যই, আমার আসল নামটাই ব্যবহার করবে তো ভাই?”


সন্ধ্যেবেলার ম্যাচে দাদার উরি-শ্লা ব্যাটিং দেখে, দুর্দিনে কে কে আর’এর জিত দেখে যখন তৃপ্ত হয়ে দিব্যদা ইস্পেশাল ব্লগ লিখতে বসবো, এমন সময় খোদ দিব্যদার ফোন।
-“স্যার, এবার বুঝতে পেরেছেন তো আসল মোটিভ টা আমাদের কি ছিল?”
-“মোটীভ?”, আমি অবাক, “ দাদা হঠানো, তাই তো?”
-“নো স্যার, এত ইনসেনসিটিভ ভাবতে পারলেন আমায়? মোদের গরব মোদের গাঙ্গুলী কে হঠাব? আসলে কি জানেন, মোটিভেশন ছাড়া দাদা ঠিক এগোতে পারেন না, আর দাদার কাছে মোটিভেশন মানেই হচ্ছে প্রোটেস্ট, গালাগালি, ‘বের করে দাও’ স্লোগান! এই সব ছাড়া দাদা নিজেকে উদ্বুদ্ধ করবেন কি করে! চ্যাপেল, বুকননের আমলে মোটিভেশনের অভাব ছিল না, কিন্তু এই হোয়াটমোর টা একটা যা-তা মেনিমুখো!আদতে অষ্ট্রেলিয়ান কিনা কে জানে! সেই জন্যেই তো আমাদের এই “দাদা টু দাদু” মিছিলের নাটক! আর তার ফল দেখেছেন? কি খেলাটাই না খেলল আজ ডেকান চার্জার’দের বিরুদ্ধে?
তাই বলছিলুম, হূট-পাট করে ব্লগে যা তা লিখে দেবেন না যেন, আমাদের উদ্দেশ্যটা যেন ভুলভাল ভাবে না প্লেস করে ফেলেন!আর ইয়ে, আমার আসল নামটাই কি ব্যবহার করছেন তাহলে? মানে দরকার আছে কি?”

Saturday, March 27, 2010

নাভির ডেপ্থ: একটি কবিতার বই



মান্তুদা ইন্টেলেকচুয়াল এনটিটি! তুফান ভাবনা চিন্তায় বেঁচে থাকে! কবিতা টবিতা লেখে, দেরিদা-ক্যাল্ভিনো এসপার-ওসপার করে দুপুর কাটায়। প্লীউরসিস থাকা সত্যেও সিগারেট ধরেছিল স্রেফ কফি হাউসে-ব্রেন'দের সাথে ওঠ-বস করতে হবে ভেবে।। বুর্জওয়া চাকরির মাথায় জুতো মেরে, দি নিউ অন্নপূর্ণা রেস্টুরেন্টে রুটি-মুরগি-কোক সেবন করতে করতে,সর্বহারা কোনো প্রফেশনাল অলি গলি খুঁজতে সর্বদা ব্যস্ত; এই হলো আমাদের মান্তুদা!

মান্তুদার এবার একটা কবিতার বই বেরোলো; "নাভির ডেপ্থ"! এর আগে মান্তুদার যে সব ফ্রেশ কবির বই চাউমিন খরচা বাঁচিয়ে কিনেছিল, সেই কবিরাই কিনলো 'নাভির ডেপ্থ'! তিরিশ টাকা ধার ছিল আমার মান্তুদার কাছে, শোধ করলাম বই কিনে!

বই বেরোবার মাস খানেক পর মান্তুদার সাথে কলেজ স্ট্রীট'এ দ্যাখা, তখন মাত্নুদা সিনেমাটিক ভঙ্গি তে সিগারেট জ্বালানোর চেষ্টা করছিল কলেজ স্কোয়ারের পাবলিক ঈউরিনালের সামনে! আমাকে দেখেই তৃপ্তির হাসি ডিসপ্লে করে বললে, "পচা, সাইত্রিশ কপি হট কেকের মত উড়ে গ্যাছে রে, আমার পাবলিশার বলেছে সেকেন্ড বেস্ট অল টাইম লিস্টে! তুই পড়লি?"

মাথা চুলকে সপাট মিথ্যে কথা চালিয়ে দিলাম, "অফ কোর্স, বিশেষ করে ওই দ্বিতীয় লেখাটা আমাকে এখনো ভাবাচ্ছে"

মান্তুদা সিগারেটের রিং বানাবার চেষ্টা করে আমার দিকে তাকিয়ে বলল, "দ্যাটস শার্প অব্সার্ভেসন, এই জন্যেই তোকে আমার ভালো লাগে পচা, 'সমস্ত ব্রেন জুড়ে' লেখাটা একমাত্তর ব্রেন-লেস উজবুকদেরকেই ভাবাবেনা! আফটার অল , তুই তো আর উজবুক নোস! ইন ফ্যাক্ট, দু একটা খবরের কাগজে সোর্স জুটিয়েছি বুঝলি, আমার বই কে রিভিউ করবে বলে আশ্বাস দিয়েছে! তারপর দেখব মেজদার আমাকে এঁড়ে পাঁকা বলে ডিসমিস করে দেওয়া বন্ধ হয় কি না"

বহুদিন আমার ব্লগে কোনো পোস্ট নেই, সুযোগ বুঝে কোপ মেরে দিলাম, " আচ্ছা তুমি একটা নিজের বই'এর ওপর একটা আলোচনা মূলক লেখা লেখ না আমার ব্লগ'এ, বেশ একটা জম্পেশ ব্যাপার হবে আমার ব্লগের জন্যে, তোমার বইয়ের কথাও দু এক জন পড়বে"

"সেল্ফ রিভিউ? হুমমম, ইন্টেরেস্টিং! বেশ, লিখে দেব", বেশ খানিকটা ভেবে বললে মান্তুদা!
"কবে দেবে লিখে?", জানতে চাইলাম।
"আজ রাত্রের মধ্যেই, দেখিস, পোস্ট করতে গন্ডগোল করিস না, প্রচ্ছদ'এর নৌকার স্কেচটা যেন আমার লেখা রিভিউটার সঙ্গে জুড়ে দিস"
বোঝো কান্ড, মান্তুদার প্রচ্ছদের স্কেচটা নৌকার? আমি ভেবছিলাম হাওড়া ব্রিজের ক্যারিকেচার! চেপে গেলাম!

সেই রাত্রেই মান্তুদার নিজের বইয়ের ওপর একটা লেখা আমায় মেল করে দেওয়ার কথা ছিল, অথচ তারপর প্রায় এক মাস কেটে গ্যালো, পাত্তাটি নেই! দু চারবার খোঁজ নিয়েছিলাম, বলে কিনা " ইন্টেলেক্ট কে ফোর্স করিস না, সময় হলে ঠিক লেখা দিয়ে দেব, এ কি আর তোর ব্লগের আগডুম বাগডুম এলিমেন্ট গুলোর মত ভাবছিস রে ব্যাটা?"

মাঝে বেশ কিছুদিন মান্তুদার দ্যাখা-সাক্ষাত না পেয়ে যখন বেশ হন্ন্যে হয়ে গেছি, তখন মান্তুদার দু কলম লেখা একটা ছোট্ট পোস্ট কার্ড পেলুম:

"ডিয়ার পচা,

বই পাবলিশ করতে গিয়ে এন্তার ধার দেনা হয়ে গেছিল,নিষ্ঠুর দেনাদার দেরকে ট্যাকেল করতে মেজদার পকেট মারতে গেছিলাম। আমার ছোটবোনের ট্রেচারী তে বামাল ধরা পড়লাম, বেদম ঠ্যাঙানি সহ মালদায় সেজপিসির বাড়িতে ছ মাস নির্বাসন! 'নাভির ডেপ্থ' শুনলেই নাড়ি কেঁপে যাচ্ছে রে ভাই,রিভিউ-টিভিউ পরে হবে খন, পারলে কটা টাকা আর কিছু মাওবাদী বই পত্তর আমায় পাঠা মালদার ঠিকানায়, যদি নার্ভ একটু ঠান্ডা হয়।

ইতি মান্তুদা"

Sunday, March 21, 2010

আই পী এল রিভিউ ৩ (Beta): অরিত্র সান্যাল

বংপেন'এ যন্ত্রনামূলক সমস্ত আই পী এল রিভিউ প্রথম দফায় সামলে নিলেও, দ্বিতীয় দফার মোচড় সামলাতে না পেরে কলকাতা থেকে কবি অরিত্র সান্যাল সাবলীল ভাষায় তার প্রতিবাদ রেজিস্টার করে ফেলেছেন। দ্বিতীয় আই পী এল রিভিউ তা এতটাই বেদনাদায়ক যে তা বংপেন'এর আগের নিম্ন মানের সমস্ত পোস্টকেও জঘন্য'ইজমে শক্ত হাতে শুইয়ে দিয়েছে (কে কে আর'এর সাথে তুলনা করে চালাকি করছি না কিন্তু)! এই বিকট রিভিউ কে চট জলদি উপড়ে ফেলার আকুতি করে আরিত্রবাবু নিজেই একটা আই পী এল মুখী লেখা পাঠিয়ে দিয়ে কাতর ভাবে অনুরোধ করলেন পাবলিক psyche কে ঘষ্টানি থেকে বাঁচাতে যাতে আমি তার লেখাটা সুট করে বংপেন'এ পোস্ট করে দি Damage Control Measure হিসেবে, ভদ্রলোক এতটাই বিব্রত ছিলেন বংপেন'এর আই পী এলের দ্বিতীয় রিভিউ তা নিয়ে যে নিজেই অফার দিয়েছিলেন যে প্রয়োজনে তার লেখাটা আমি নিজের নামেও চালিয়ে নিতে পারি। অতএব, এই রইলো অরিত্র সান্যাল'এর আই পী এল ৩ রিভিউ (তবে এ লেখা নিজের নামে চালানোর সাহস হলো না - Bongpen)


তিন এক্কে তিন

তা এই হলো তিনে তিন...বলতে পারেন আশায় মরে চাষা, সেই। নিয়ম-মাফিক বুদ্ধি ঝেড়ে আই পি এল এর দ্বিতীয় সমালোচনা টা লিখলুম না...নিজেরই লজ্জা হচ্ছে। এতোটা শিশু, এতোটা বোকা-বোকা কি কেউ হতে পারে? বিস্তর ছোবল তাক করে দূর থেকে এক নরকের জমিদার ফোন করেছিলেন হয়ত। তা ভাবলুম, মড়া গাঙ-এ বুঝি এলো বাণ।

কি লিখবো কি লিখবো। আমারে কে কে আর গাল দিবা গো?

প্রস্তুত হয়ে ফোন টি তুল্লুম। কানে গোঁজা অনুপ জালোটার ভক্তিগীতির স্মৃতি। যাকে বলে গালের ভ্যাক্সিন। খোঁচা খোঁচা গাল।।

‘হ্যালো জী। সালাম’।

‘হ্যালো’।

‘সরি। একটু হ্যাল-এ ছিলুম। বিশেষ খারাপ লাগলো, তাই এই সেকন্ড রিভিউ টা ঠিক জমলো না। হয়তো সব থেকে বাজে’।

‘ঠিক। ঠিক। তবে আমি ভাবলুম ভেবে চিন্তে করা’।

‘ক্যাম্নে’?

‘ওই দ্বিতীয় দফার আই পি এল-এও তো ওরা তলেই ছিলো। তাই’।

আমি একটু ঘাড় চুল্কে নিলুম।

‘ইয়ে। সেটা মাথায় ছিলো বটে। ওই একটু ঝলমলিয়ে গেলো ওইসব দেখে’।

তা এই তড়িঘড়ি পোস্টটি কিন্তু একটা আশাবাদ বটে। কে কে আর ভালো করবে এই বার। গুপির দেশে বাঘার দেশে হাত তালি কি হাতের মোয়া? আমরা আছি না? আশাবাদ বা কলেজস্ট্রিটের ভাষায়, উত্তর আশাবাদ। ওই মার্ক্সের মা, বিড়ালের মাটি আর চন্দ্রবিন্দু আঁটা কিছু আস্ত গয়ং-গচ্ছ রাইটার্স। তা এই হলো knight-লাইফ। knight দের দিবা রাত্রির কাব্য।। ময়দানে দিদি। আই মিন জুহি চাওলা। সত্যি একটা বয়সের পর সবাই হয়ত দিদি। আর বয়স পেরলেও কেউ কেউ দাদা ডাক ছাড়তে চান না। যাহ। যা ভাবছেন আমি কিন্তু মোটেও তা বলছি না।

আহা কি আশা।
আদর-উপ্পেক্ষিত, পাক্কা কোলকাত্তাইয়া মাঠে দাদা

Saturday, March 20, 2010

আই পী এল ৩- রিভিউ : ২

প্রাথমিক কিছু ইনারশিয়া কাঁপানো মুহূর্ত এসে ছিল বটে, তবে এইবার বেশ সব কিছু ঠিকঠাক লাগছে!

নাইট রাইডার্স ফের নির্ভয়ে হারের জগতে ফিরে এসেছে. ব্র্যাড হজ দিব্বি ইনিংস জুড়ে সেট হচ্ছেন, সৌরভ সেট হয়ে আউট হচ্ছেন, সাড়ে তিন কোটির বন্ড সাড়ে তিন খানা ইয়র্কার ফেলছেন না; সে এক ঝকঝকে পরিতৃপ্তি!

অতুল ওয়াসন ম্যাচ বিশ্লেষণ করছেন, মন্দিরা বেদির অভাব তাতে কিছুটা পূরণ হয়েছে বই কি।

সেট ম্যাক্সের বিশ্রী রুচিতে বিজ্ঞাপনের মাঝে ক্রিকেট গুঁজে দেওয়া! স্ট্র্যাটেজি ব্রেকের বুদ্ধিতেও কুলোচ্ছে না, এবার শুরু ওভার'এর মাঝখানে বিজ্ঞাপন! ফাটাফাটি! প্রত্যেক বল অন্তর বিজ্ঞাপন শুরু হবে বোধ হয় পরের বছর থেকে! এবং প্রত্যেক ওভার অন্তর স্ট্র্যাটেজিক টাইম আউট!



তবে এই তাবত সার্কাস মাঝেও সচিন রমেশ তেন্ডুলকার যে কি প্রবল ক্রিকেট-খিদে নিয়ে প্রতি ম্যাচে নেমে আসেন, ভাবতেও অবাক লাগে!২০ বছর..অথচ আজও বে-টাইমিং'এর একটা শট তাকে যন্ত্রনা দেয়। ভাবতে ভালো লাগে যে এই মোদী-মঙ্গুস-মন্দিরা-মাল্য'দের চিত্রহার ভেদ করে, এখনো একটা বেঁটে মারাঠির ব্যাটিং ক্রিকেট কে ক্রিকেটে বেঁধে রেখেছে!

Monday, March 15, 2010

খুঁতখুঁতে



আমার সঙ্গিনীটি ভারী খুঁতখুঁতে! রিয়ালিটি ব্যাপারটা সরেজমিনে পরখ করে নেওয়া তার অভ্যেস! কোলেস্টেরল-কন্ট্রোলে, প্রয়োজনে ড্রপার'এ মেঁপে তেল নিয়ে তিনি রাঁধেন, মোবাইল যাতে অতি-'চার্জিত' না হয়ে যায় সেই জন্যে স্টপ-ওয়াচ ধরে মোবাইল চার্জে লাগান, চোখ বাঁচাতে স্কেল সমেত টিভি থেকে দুরত্ব মেঁপে নেন; এহেন বাস্তববাদী 'খুঁত খুঁত'ইস্ট তিনি!

এই মাত্র, সোফা ত্যাগ করে তিনি তার খুঁতখুঁত আঁকড়ে রেখে একবার দেয়াল ঘড়ির দিকে চাইলেন, তারপর যত্ন করে দেখলেন নিজের হাত ঘড়িটুকু এবং তদুপুরি নিজের মোবাইলে সুইচ টিপে মোবায়ীলোস্থ ঘড়িটির দিকে স্থীর দৃষ্টিতে কিছুক্ষণ চেয়ে থাকলেন! তারপর সময়ের reliability কাঁচকলা দেখিয়ে সবেগে ছুড়ে দিলেন লাসিথ মালিঙ্গাইস্টিক প্রশ্ন: " এখন actually ঠিক কটা বেজেছে বলো তো?"

Saturday, March 13, 2010

আই পী এল ৩- রিভিউ : ১


আই পী এল ৩ চালু, রঙ্গ তামাশা মন্দ শুরু হয়নি! দায়িত্ববান নাগরিক হিসেবে, ব্লগে আই পী এল মুখী চিন্তা ভাবনা গুঁজে দেওয়ার দায়টুকু আমার আছে! সার্কাসে জ্যান্ত বাঘ বাতিল হয়ে যাওয়ার পর থেকে এমন হিল্লে ইভেন্ট এ দেশে আর দুটি আসেনি। থ্রী চিয়ার্স টু মোদী! থ্রী চিয়ার্স টু মন্দিরা!

দু দিন হলো আই পী এল-৩ এর,পোস্ট লেখার সময় দুটি ম্যাচ হয়ে গ্যাছে, তৃতীয় ম্যাচে প্রীতি পাঞ্জাব বনাম দিল্লিবাজদের ঘষা ঘষি চালু। সামগ্রিক কিছু বিপর্যয়মূলক কাহিনী ঘটে গ্যাছে ইতিমধ্যে:

১. এক্সট্রা ইনিংস (যা কিনা অরুনলাল-সিদ্ধু-কোচ্ছারে পাঠান-সচিন'সহ ম্যাচের থেকেও বেশি জমজমাট) মন্দিরা বেদী-হীন! মন্দিরার নুডল স্ট্র্যাপ ও বিশ্লেষণ ছাড়া ক্রিকেট? ছিঃ! এট লিস্ট ওই সোনালী নাগরানী কেও কি রাখা যাচ্ছিল না? শুধু চিয়ার লিডার দেখে সময় কাটবে?
২. নাইট রাইডার্সএর কঠিন ম্যাচ জেতা! আরে, কে কে আর ম্যাচ জিতলে মনোরঞ্জন যোগাবে কে ?
৩. রাসেল আর্নল্ড কমেন্ট্রি করছেন! আমি ভাবছি ইলেকসন লড়ব!

কি বস্তু বানিয়েছ গুরু! তবে শুধু বিপর্যয় কেন? ইনোভেশনটুকু কে স্যালুট করতে হবে না? স্ট্র্যাটেজি ব্রেক এখন নতুন আড়াই মিনিটের টুকরো টুকরো ফরমাটে! বিপণন বুদ্ধি আছে কিছু মোদিবাবুর, বাথরুম ইস্যু কে বানিজ্যিক ভাবে তরান্বিত করবার তার যে ক্রমাগত প্রচেষ্টা, সেটাকে সেলাম ঠুকতেই হয়!



পুনশ্চ:ভেতো বাঙালি আমরা, চামিন্ডা ব্যাস এবং সৌরভ গাঙ্গুলী, উভয়ের মেদ বৃদ্ধিই আমাদের আবেগের কারণ। তবু ব্যাস উইকেট পেলেন, সৌরভ রান পেলেন না! আমরা ধৈর্য্য ধরে বসে আছি, সৌরভ খেলবেন! কে কে আর'এর যে নেতা কে পূর্ণ প্রকোপে দেখলাম মাঠে (প্রথম ম্যাচ, দ্বিতীয় ইনিংস) তাকে দেখে এটুকু অন্তত আশ্বস্ত হলাম যে এখনো আগুন শেষ হয়নি! আগুনে স্কোরে বাড়ে না, তবে আশা জড়ো হয়। আর তাছাড়া স্কোর বোর্ড তো একটি গাধা, তাই না!

Tuesday, March 9, 2010

নারী ঘটিত




ছোটবেলায় ইংরেজি স্যার সুব্রতবাবু বলেছিলেন যে, "রোমান্স'এর সব চেয়ে কুইন্ট এসেনসিয়াল কম্পোনেন্ট কি জানিস পচা? আয়রনি (Irony)!"

ভারী রোমান্টিক দেশে আমাদের।
আজ, রাজ্যসভার মঞ্জুরি পেয়ে নিশ্চিত পদক্ষেপে এগিয়ে গ্যালো মহিলা সংরক্ষণ বিল।
একই দিনে বিহারে, ডাইনি সন্দেহে এক মহিলা কে গণপিটুনির চোটে মারা যেতে হলো (খবর সুত্র: NDTV)।





একটা লজিকাল প্রশ্ন না খেলালেই নয়, চাকরি যাওয়ার রিস্কটা কি পুরুষ সাংসদরা মেনে নিতে পারবেন? মন থেকে মেনে নিতে পারবেন?
বর্তমানে ৫৯ জন মহিলা সাংসদ রয়েছেন লোকসভাতে। এই সংখ্যাটা সোজাসুজি গিয়ে ঠেকবে ১৬০ এর ওপরে! অর্থাত এই বিলটির কল্যানে বর্তমানে সংসদ আছেন (পুরুষ) এমন অন্তত শ-খানেকের বেকারী নিশ্চিত।
সহজ ভাষায় প্রতি ৫ জন রাজনীতিক অন্তর একজনের কেরিয়ার কপচে যেতে চলেছে! এই অঙ্কটা কিন্তু বাস্তবিকই বিশেষ সুবিধের নয়। রাজ্যসভা পেরোলেও, এই বিল'এর যাত্রা কিন্তু নেহাত সহজ হবে না! এরপরের রয়েছে লোকসভা, এবং তারপরে থাকলো ক্রিটিকাল-কেলো রাজ্যের বিধানসভাগুলি! দ্যাখা যাক।

এইবার প্রশ্ন হচ্ছে যে এই বেকার পুরুষ রাজনীতিকদের পরবর্তী জীবিকা কি হতে পারে ? কিছু সাজেসন ভাসিয়ে দেওয়া যাক :

১. কলকাতা নাইট রাইডার্সের মিডিয়া ম্যানেজার, একের পর এক হেরো সব যুক্তিকে মিডিয়া-মুখী করে তুলতে এদের কোনো জুরি পাওয়া যাবে না। বুকাননের 'রিভলভিং' বুদ্ধি খাটাতে পারলে এক সাথে অনেকের চাকরি ম্যানেজ হয়ে যেতে পারে।
২. সমাজবাদী পার্টি এবং রাষ্ট্রীয় জনতা দলের কলকাতা অফিসে চাকরি, কলকাতা মাছি-less হয়ে যাবে।

৩. ফুটবল বা হকি কর্তা।

৪. দক্ষিনের সমস্ত বেকার রাজনৈতিকরা অবশ্যই সিনেমার জগতে ফিরে যাবেন।

৫. সি পি এম'এর বেকার রা '২৪ ঘন্টা'য় এবং তৃনমূল'এর বেকার দাদারা 'স্টার আনন্দ'তে নিজেদের টক-শো সুরু করতে পারেন।

৬.মধু কোডা জাতের আখের যদি গোছানো থাকে তবে চুপচাপ পন্ডিচেরি তে ধম্ম-কম্ম!

৭. ব্লগিং।

পুনশ্চ : তাপস পাল চলে যেতে পারেন 'নন্দিনীর রান্নাঘর'এ।

Saturday, March 6, 2010

জুতো পেটা


বুচুদা আধ বোতল Baygon Spray খেয়ে সুইসাইড করে ফেললো! ডাক্তার Stomach Cancer সন্দেহ করেছিল! Report আসা পর্যন্ত nerve ধরে রাখতে পারলো না!

Nervous Breakdown আর Baygon'এর concoction'এ রাত্তিরে নিপাট finish হয়ে গ্যালো। পুলিশ-টুলিশের ঝামেলা চুকিয়ে দু দিন'এর মাথায় যখন নিমতলা মুখো হওয়ার আগে বুচুদার বডি উঠোনে এনে শোয়ানো হলো তখন জানা গ্যালো Final Report'এ বলেছে বুচুদা'র ক্যান্সার হয়ইনি, স্রেফ পেট'এর মধ্যে mega-ulcer গজিয়ে গেছিল! ফুচকা-রোল বাদ দিলে নিশ্চিন্তে fight দিতে পারত।

সবাই দাড়িয়ে তখন বুচুদার superfine quality'গুলো কে synopsis করে হাহাকার করতে ব্যস্ত। বুচুদা ব্রিলিয়ান্ট ছাত্র ছিল, university'র center forward, ভারী সুন্দর নজরুলগীতি গাইত, পাড়ার পিকনিক'এ অর মত চিল্লি চিকেন কেউ বানাতে পারত না! এহেন বুচুদা আধ বোতল Baygon'এ মশা-মাফিক গায়েব! আমি শুধু ভাবছিলাম, বুচুদার টিউসন ছাড়া,অঙ্কে কি সুপার-কেলো আমায় face করতে হবে।

এমন সময়, দু দিন ঘাপটি মেরে থাকার পর গোলাপ জ্যেঠু, মানে গোলাপ চাষ খ্যাত বুচুদার বাবা, গম-গম শব্দে উঠোন কাঁপিয়ে দিলেন, "ব্যাটাচ্ছেলে বুচুকে জুতো পেটা করা উচিত! আমার ছেলে এমন মেনি মুখ? ক্যান্সার'এর ভয় Baygon ? বুচুর মা তুমি এমন নেকু ছেলের জন্যে কাঁদছ? Rubbish! জুতো পেটা কর ব্যাটা কে"!



সেই রাত্রেই গোলাপ জ্যেঠু চলে গেলেন, বুচুদার ফেলে যাওয়া আধ বোতল Baygon গিলে!

(ছবি: অরিত্র সান্যালের সংগ্রহ থেকে সরানো)