Saturday, November 26, 2016

বলরামবাবুর শখ

নিউ ক্যালক্যাটা হার্ডওয়্যারের দোকানটা থেকে উত্তরের দিকে মিনিট পাঁচেক হাঁটলে একটা সরু গলি বাঁ দিক থেকে রাস্তায় এসে মেশে। গলিটার মুখেই একটা ল্যাম্পপোস্ট। শীত আর নিস্তব্ধতা মিলে ল্যাম্পপোস্টের বাতিটার নিভু নিভু আবেশে একটা ছন্দ এনে দিয়েছিল।

সে'খানে দাঁড়িয়ে একটা সিগারেট ধরালেন বলরাম দত্ত। হাতঘড়িতে তখন রাত পৌনে বারোটা। তবে বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হল না। মিনিট দশেকের মধ্যেই একটা রিক্সা এসে থামল তাঁর সামনে।
রিকশাচালকের নরম সুরের"উঠে পড়ুন"য়ে ভর দিয়ে রিক্সায় উঠে বসলেন তিনি।

নার্ভাসনেস, শীত আর রাত মিলে যে রিনরিন বলরামবাবু গা জুড়ে অনুভব করতে পারছিলেন, সে'টা স্তিমিত হতে মিনিট সাতেক সময় লাগল। রিক্সা ততক্ষণ অবশ্য থেমে থাকেনি। গলার শুকনো কাঠ ভাবটা কেটে যেতেই, হাওয়ার বরফ শীতলতায় মোচর দিতে কথা শুরু করলেন বলরামবাবু নিজেই।

- আপনিই তবে...?
- আজ্ঞে।
- আমরা কোথায় যাচ্ছি?
- ইলিশ জলের কত ফুট নিচে ডিম পাড়ে জানেন?
- না। কেন?
- আমরা কোথায় যাচ্ছি জেনে কী করবেন? আপনার কাজ হওয়া নিয়ে কথা।


**

পাড়ার এত কাছে এত নিরিবিলি জংলা আছে, সে'টা বলরামবাবুর জানা ছিল না। রিক্সা থেকে যখন নামলেন তখন রাত পৌনে একটা। মেঘলা আকাশ, তবুও অন্ধকার নিকষ নয়। আকাশে একটা ফ্যাকাসে ভাব। গায়ের শালটা আরও ভালো ভাবে জড়িয়ে নিলেন বলরামবাবু। আশেপাশে প্রচুর তাল গাছ। জায়গাটায় একটা মায়া মেশানো ছমছম রয়েছে। ফের বলরামবাবুই কথা শুরু করলেন;

- শুনছেন?
- হুঁ।
- রিক্সাটা এখানে দাঁড় করালেন কেন ভাই?
- এখানেই। কাজ হবে।
- এখানে, মানে... ।
- কেন? পছন্দ হল না? অনেক যন্ত্রপাতি দেখবেন আশা করেছিলেন?
- না মানে...ভেবেছিলাম পুজোঅর্চনার ব্যবস্থা থাকবে। বা অন্তত একটা সুসজ্জিত ল্যাবরেটরি।
- রিক্সাওলার ল্যাবরেটরি?হাসালেন।
- এ'টা আপনার বিনয়।
- প্রথম কন্ডিশন। আমার নাম ধরে ডাকা বারণ। তা'তে আমার কাজে অসুবিধে হয়।
- ওহ, ডাকব না?
- রিক্সাদা বলে ডাকতে পারেন।
- ওহ, সেই যে গতকাল রাত্রে আপনার সাথে আলাপ! সেই থেকে দু'চোখের পাতা এক করতে পারছি না।
- কেন?
- আপনার মত তন্ত্র-সাধকের সাথে আলাপ হওয়াটা...।
- তন্ত্র-সাধক! হুহ্‌। যদি তেমনটাই হতাম, তাহলে তো এদ্দিনে রিক্সা ঠেলে হন্যে হতে হয়? এই আপনিই একমাত্র আমার ক্ষমতায় বিশ্বাস রেখে ভেলকি দেখতে চাইলেন। নয়তো সচরাচর কেউ রাজী হয় না।
- আপনার কথাগুলো সব বুঝলাম না। তবে আপনাদের ভাবনা যে উচ্চমার্গের হতেই হবে, এবং তা সাধারণের বোধগম্য হবেই বা কেন! আচ্ছা, রিক্সা চালানোটা জাস্ট জনগণের চোখে ধুলো দেওয়া, তাই তো? এই রিক্সা হচ্ছে আপনার হিমালয়। ঠিক বুঝেছি তো?
- এই রিক্সা। এই রিক্সা আমার জেলখানা বলরামবাবু। সে কথা থাক। যে কথা দিয়ে আপনাকে এদ্দূর ধরে আনা। সে ভেলকিটা আপনাকে দেখিয়ে দিয়ে হবে।
- থ্রিলিং। গায়ে কাঁটা দিচ্ছে স্যার, আই মীন, রিক্সাদা। সত্যিই আমায় ভূত হওয়ার অভিজ্ঞতা টের পাওয়াবেন? উফ! দারুণ!
- ব্যাপারটা তেমন দারুণ নয় বলরামবাবু। যন্ত্রণারও বটে। ভাবুন। মানুষ মরে ভূত হয়। কিন্তু আপনি ভূত হতে চলেছেন মরার ব্যাপারটা উহ্য রেখে।
- যন্ত্রণা? ফিজিক্যাল পেন?
- শরীর বেচারি আর কতটুকুই বা ব্যথা ধারণ করতে পারে। আপনি প্রস্তুত?
- কোন যাগযজ্ঞের দরকার হবে না? কোনও হিংটিংছট? আর ইয়ে, ওই ব্যাপারটা মনে আছে তো?
- কোন ব্যাপার?
- ভূতের অভিজ্ঞতা হয়ে গেলেই ফের মানুষ হয়ে যেতে হবে কিন্তু আমাকে। এই দিন দুয়েকের মামলা। তারপরেই স্কুল খুলছে। আমি ইংলিশের ক্লাস নিই, গোবর্ধন মেমোরিয়াল হাইস্কুলে। কামাই করার একদম উপায় নেই, বুঝলেন?
- আপনার স্কুল কামাই হবে না বলরামবাবু। পাঁচুর যেমন রিক্সা চালানো বন্ধ হয়নি।
- পাঁ...পাঁচু কে?
- পাঁচু? রিক্সাওলা। ভূত হয়ে কেমন লাগে, সে'টা জানার লোভ ওরও হয়েছিল জানেন। এই, এতগুলো তালগাছের যে কোনও একটাতেই পাঁচুকে পাবেন। খুঁজে নেবেন কেমন? আমার আদত নাম গোকুল চ্যাটার্জী। ক্লাস নাইনে এক তান্ত্রিকের চ্যালা হয়ে ঘর ও দেশ ছাড়ি। বেয়াল্লিশ বছর বয়সে তিব্বতে গিয়ে এক লামার থেকে শিখে এসেছিলাম এ ব্যাপার। বিশ বছর কাঠ খড় পোড়াতে হয়েছিল। মুশকিল হচ্ছে একবার কোনও দেহ ছাড়লে, তাতে আর ওয়াপিস যাওয়া যায় না। দেহগুলো নষ্ট হয়। আমারটাও সে'ভাবেই গেছিল।
- আ...আপনার সে'ভাবে... কী গেছিল?
- দেহটা। পাঁচু আমার ফ্যামিলি-রিক্সাওলা ছিল। ভূত হওয়ার লোভে গিনিপিগ হতে আপত্তি করেনি। তবে তখনও ভাবিনি যে ওকে ওর দেহ ফেরত দিতে পারব না। কিন্তু কাহাতক ভালো লাগে বলুন তো রিক্সা টানতে? কাজেই এদ্দিন পর যখন কেউ ভূত হতে রাজী হলো, তাও আবার সে যখন ইংরেজির মাস্টার, লোভ সামলাতে পারলাম না। আপনাদের তো সুখের চাকরী মশাই!
- আপনি যে কী বলছেন...আমি কিছুই...।

***

কোন কিছু ঠাহর করার আগেই বলরামবাবু টের পেলেন তিনি পতপত করে হাওয়ায় উড়ছেন। প্লাস্টিকের প্যাকেটের মত রাতের হিম মাখানো আবছা আলোয় ভেসে চলেছেন কনকনে হাওয়ায়। ভাসতে ভাসতে একটা তালগাছের মাথায় চলে এসেছিলেন প্রায়। নিজের যেন কোনও ওজনই নেই। গলায় স্বরও নেই। অসীম, অমোঘ নিশ্চিন্দি। অথচ এক বিকট কাঁপুনি নির্ভার দেহ জুড়ে। অবশ্য পরক্ষণেই টের পেলেন , দেহ-টেহ কিস্যু নেই। তিনি ভাসছেন এক রাশ বেপরোয়া হাওয়ার মত। এক পশলা মন কেমন করা গন্ধের মত। বুকে ছ্যাঁত ধরানো এক মুঠো নীলচে আলোর মত।

অত ওপর থেকেও বলরামবাবু স্পষ্ট দেখতে পারছিলেন পাঁচু রিক্সাওলার নিথর দেহ মাটিতে চিৎপাত হয়ে পড়ে। আর অবিকল তাঁর চেহারার মত কেউ রিক্সা চালিয়ে রওনা দিয়েছে শহরের রাস্তা ধরে।

Thursday, November 24, 2016

অনুপ

"মিউজিক"।

একটা শব্দে বৃদ্ধ নুয়ে পড়েন। অনুপ সে'টা ভালো মতই জানে। রহিস বুড়োকে দেখভালের জন্য অবশ্য লোকের অভাব নেই। আয়া, পরিচারিকা, নার্স মিলে জনা চারেক সেবিকা চব্বিশঘণ্টা তাঁর সেবাশুশ্রূষায় মগ্ন। অনুপের কাজটা অবশ্য অন্য। তাঁকে সঙ্গ দেওয়া। বই পড়ে শোনানো। খবরের কাগজ পড়ে শোনানো। চিঠিপত্রের উত্তর দেওয়া। হুইলচেয়ারের সাথে সাথে বাগানে হাঁটতে বেরনো। ইত্যাদি। তবে অনুপের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হচ্ছে "মিউজিক"।

বৃদ্ধ আরথ্রাইটিসের ব্যথায় ককিয়ে ওঠেন মাঝেমাঝেই। সে কী অসহ্য যন্ত্রণা আর বৃদ্ধের সে কী আর্তি। যন্ত্রণা গাঢ়  হলেই বৃদ্ধ কাঁপা ঠোঁটে ফরমায়েশ করেন "মিউজিক"। অনুপ তখন রকমারি গান চালিয়ে বৃদ্ধের ব্যথা শান্ত করে।

সঙ্গীত। মেঘ মেঘ, নীল নীল, তুলো তুলো স্বপ্নের মত। গলায় বুকে কানে দানা দানা তুষার কুচির মত আদর জমে থাকে; তা'তে যাবতীয় ব্যথা জব্দ হয়। ঝর্ণার ঝুরঝুরের মত শীতল হয়ে ওঠে বুকের ভিতরটা।

অনুপ জানে। বৃদ্ধ সঙ্গীতে বেঁচে।

**

- খোকা!
- বলো বাবা।
- বলছিলাম, অনুপকে কি হসপিটাল থেকে আজ রিলীজ করবে?
- অনুপ? হসপিটাল?
- অনুপ। আমার সেক্রেটারি।
- উফ। তোমায় স্মার্টফোন কিনে দিয়ে যে কী বিপদজনক ভীমরতি ধরিয়েছি। ফোনের নাম অনুপ? কোনও মানে হয়? মাদার বোর্ডে প্রবলেম,সার্ভিস সেন্টার থেকে বলেছে দিন দুয়েক লাগবে আরও।
- আহ, সার্ভিস সেন্টার কেন বলিস! হসপিট্যাল বল। অনুপকে বড্ড মিস করছি। বড্ড।

Monday, November 21, 2016

থিওরি অফ চলে যাওয়া

- আবার।
- আবার।
- উফ।
- ধুস।
- তবে তুই বড় হয়ে গেছিস। আর নাকেরজলে চোখের জলে এক হওয়া নেই।
- কোনওদিনও হইনি।
- আচ্ছা। বেশ। হোসনি।
- আমি তোর চেয়ে বড়। দু'দিনের।
- দিব্যি। ডেঁপো। ভিতরে ঘোড়ার ডিম।
- উফ। ফের মাতব্বরি।
- সাবধানে থাকিস বাবু।
- হুঁ। তুইও।
- চোখের আড়াল হলেই সাপের পাঁচ পা দেখিস না।
- হুঁ।
- আর কথা বলবি না?
- উঁহু।
- ট্রেন। ছাড়লো বলে।
- হুঁ।
- ক্যুইক। কিছু বল।
- উঁহু।
- চলে যাওয়াদের ভয় পেতে নেই। তাই না?
- হুঁ।
- জামার ওপরের বোতাম খুলে রেখেছিস কেন? লায়েক হয়েছিস?
- ভু..। ...লে।
- উফফ!
- সিগন্যাল। দিয়ে দিয়েছে।
- জানালা ছাড়।
- হুঁ।
- ছাড়। ট্রেন..।
- নড়ছে।
- লায়েক হাবভাব নিয়েই ঘোর, তোর আর বড় হওয়া হল না।
- ও কিছু না। শার্টের বোতাম খোলা ছিল। ঠাণ্ডাটা...আচমকা। বসে গেছে।
- আসি।
- আয়।

**
সদ্য নড়তে শুরু করা প্ল্যাটফর্মটা ঝুকুর ঝুকুর শব্দে ট্রেনটাকে ফেলে রেখে এগিয়ে গেলো। লিলুয়া পেরোলেই ঝুকুরঝুকুর ছেড়ে ঝমঝমে গতি ধরে প্ল্যাটফর্মগুলো।

**

এমন দড়াম করে ঘুম ভাঙাটা অ্যালবার্টের কাছে নতুন কিছু নয়। নতুন যে'টা সে'টা হচ্ছে ঘরের ডান দিকের জানালার সামনে রাখা ইজিচেয়ারে হেলান দিয়ে বসা ভদ্রলোক। জার্মান বা আমেরিকান নন, নির্ঘাত ভারতীয়। গায়ে কালো কোট, মাথায় টুপি, শার্ট আর প্যান্ট ধবদবে সাদা। ভদ্রলোকের মুখে একটা হতচকিত ভাব।

- হু আর ইউ?
- মী সাহেব? টিকিট চেকার। অন কালকা মেল। প্রবলেম ওয়াজ। রিকুয়েস্টেড আ ইয়ং গার্ল ফর টিকিট-শোয়িং। বাট শি সেড, ট্রেন নট মুভিং, প্ল্যাটফর্ম মুভিং, সো হোয়াই টিকিট? গেট ডাউন অ্যান্ড আস্ক টিকিট ফ্রম প্ল্যাটফর্মওলাস। আই ওয়াজ কনফিউজড। আই স্ক্র‍্যাচড মাই হেড। বাট সাডেনলি আই অ্যাম হিয়ার সাহেব। ইজ ইট আ স্বপ্ন স্যার?
- স্বপ্ন?
- ড্রীম? ইজ ইট আ ড্রীম?
- মে বি। হাউ ডু আই নো? ইউ কাম ফ্রম আ প্লেস হোয়্যার প্ল্যাটফর্মস মুভ বাট ট্রেনস ডোন্ট।
- কী ঝামেলা।
- ইউরেকা!
- সাহেব? কেয়া হুয়া? হোয়াট হ্যাপেন্ড?
- লুক ব্রাদার। ইফ দিস ইজ আ ড্রীম, আই বেটার ওয়েক আপ। আই হ্যাভ আ নিউ থিওরি টু এস্ট্যাব্লিশ। থিওরি অফ রিলেটিভিটি।

Thursday, November 17, 2016

দীপু ও ডিফারেনসিয়েশন

সাইকেলটা ঘাটের বেঞ্চিটার কাছে দাঁড় করালো দীপু। দুপুরের এ সময় এ'দিকটা বিলকুল শুনশান। শীতের নরম রোদ, গাছগাছালির ছায়া আর নদীর ভেজা হাওয়া মিলে চারদিকে একটা ছ্যাঁতছ্যাঁতে ব্যাপার। ঘাটের সিঁড়ি বেয়ে নেমে সাত নম্বর সিঁড়িতে বসে পিঠের ব্যাগটা নামিয়ে রাখলো। আর খান পাঁচেক সিঁড়ি ভাঙলেই জল।

আকাশটা সামান্য ফ্যাকাশে,তবে মেঘলা নয়। ও'পাড়ের জুটমিলের ভেঁপুতে সামান্য বিরক্ত হলো সে। নদীর ধারে গাছের পাতার খসখস আর পটাদাদার ঘটিগরম বানানোর খচরমচর ছাড়া কোনও শব্দই মানায় না। হাতঘড়িতে দেখলে; পৌনে তিন। অর্থাৎ আড়াইটে থেকে তিনটের মধ্যের যে'কোনও একটা সময়। দম দেওয়া এইচ-এম-টি'টা মেজদাদুর; সময়ের সাথে বিশেষ তাল রাখতে পারে না। কিন্তু দীপুর সয়ে এসেছে। পছন্দের কাজ থাকলে মিনিট পনেরো আগে পৌঁছে যায়। আবার বিপ্লববাবুর টিউশনিতে নিয়ম করে পনেরো মিনিট দেরী করে যায়। ঘড়িটায় ভরসা না থাকলেও, একটা বেড়াল-গোছের মায়া পড়ে গেছে।

খুব মন দিলে নদীর শান্ত স্রোতের শিরশির কানে আসে। পায়ের চটি খুলে বাবু হয় বসে বুকপকেট থেকে সল্টেড বাদামের প্যাকেট বের করে ছিঁড়লে সে। মিঠে হাওয়া আর বাদাম চিবুনো আরামে চোখের পাতা সামান্য ভার হয়ে এসেছিল। তখনই পিঠে একটা জমকালো থাপ্পড়ে ঘুরে তাকাতে হল।

- আরে, মামা? তুমি এ'খানে?
- কেন চাঁদ? নরসিমহা রাওকে এক্সপেক্ট করছিলে?
- না মানে...।
- দিদি বললো তুই জয়েন্ট স্টাডি করতে বেরিয়েছিস।
- হ্যাঁ...ওই অনিন্দ্যর সাথে। ডিফারেনশিয়েশনটা এত ভালো গ্রিপে রেখেছে ছেলেটা...।
- তা, গঙ্গার ধারে আজকাল জয়েন্ট স্টাডি হচ্ছে?
- প্রকৃতির সাথে ক্যালুকালসের নাকি নিবিড় যোগাযোগ, আইনস্টাইন না মিলটন কে একটা বলেছিল যেন।
- অনিন্দ্য, নাকি?
- পাতিপুকুরের দিকে থাকে। সেভেন থেকে আমার সাথে পড়ছে। ওর বাবার ধানবাদে প্লাইউডের ব্যবসা...।
- বসি খানিকক্ষণ..।
- উঁ।
- বাদাম দে দেখি দু'চারটে।
- এই যে।
- হ্যাঁ রে দীপু..।
- বলো।
- তুই চাকরীবাকরীতে উন্নতি করবি কী করে বল তো?
- তুমিও টেস্টের নম্বর নিয়ে খোঁটা দেবে মামা?
- নম্বর? আরে ধ্যুর। এগজ্যামিনের নম্বরের সাথে চাকরীর উন্নতির কোনও সম্পর্ক নেই। তবে মিথ্যে বলতে পারার সাথে আছে।
- মা...মানে?
- এত পুওর কোয়ালিটির মিথ্যে বলিয়ে হলে বস ম্যানেজ করবি কী করে? আর বস পকেটে না থাকলে যে তোকে বসে থাকতে হবে।
- ধুস।
- দীপু।
- মামা।
- স্টিমারে করে বা মধুকাকার নৌকায় করে কেউ কোনওদিন দিল্লী গেছে শুনেছিস?
- কী যে বলো! দিল্লী।
- এখান থেকে ট্রেনে হাওড়া, উসকে বাদ  কালকা মেল।
- তাতে আমার কী? অনিন্দ্য এসে পড়লো বলে।
- আমি যাচ্ছিলাম ক্লাবে। সমর ব্যাটার সঙ্গে ক্যারমে একটা ডুয়েল ছিল, বুঝলি? ঝড়ে বক দু'টো গুটি ফেলতে পারে বলে বড্ড মাতব্বরি বেড়েছে।
- তা ক্লাবে না গিয়ে এ'খানে এলে কেন?
- তুইও স্টেশনে না গিয়ে এ'খানে এলি কেন?
- আমি স্টেশনে গিয়ে কী করবে?
- আরে! দত্তবাড়ির ছোটমেয়ে কি মধুকাকার নৌকায় চেপে দিল্লী যাবে?
- দত্তবাড়ির...। তা'তে আমার কী?
- অনিন্দ্যর আত্মা শান্তি পাবে না রে।
- মামা!
- এ'টা রাখ।
- এ'টা কী?
- খাম। ভিতরে চিঠি হলেও হতে পারে।
- কার জন্য?
- বোধ হয় অনিন্দ্যর জন্য। ওই, যার ডিফারেন্সিয়েশনে দারুণ গ্রিপ।
- না মানে...।
- ভেবেছিল তুই আসবি।
- মানে...।
- বাড়ির লোককে ভুজুংভাজুং দিয়ে একাই প্ল্যাটফর্মে গেছিল ট্রেন ধরতে। ঢাউস দু'টো সুটকেস সমেত। এ তো আর দু'চার দিনের জন্য যাওয়া নয়।
- আসলে...।
- আজ ভজা ডুব দিয়েছে, বাড়িতে কাগজ আসেনি। স্টেশনে গেছিলাম আনন্দবাজারের এক কপি নিতে। ডাগর চোখ বুঝলি।
- ইয়ে...।
- আমি আবার ছলছল টলটল দেখতে পারি না।
- কিন্তু...।
- উপায়ন্তর না দেখে আমাকেই চিঠিটা দিয়ে দিলো।
- হয়েছে কী...।
- তুই থাক বরং ঘাটে। আমি আসি। অনিন্দ্য এলে বলিস ছোটমামার প্লাইউডের দরকার। ধানবাদ থেকে সস্তায় যদি কিছু...।
- তিনটের লোকাল ছিল। এতক্ষণে নিশ্চই...।
- তিনটের লোকাল? চলে গেছে।
- ও...।
- তবে সে আছে। বসে। একটা আনন্দমেলা মুখের সামনে মেলে; ডেফিনিটলি পড়ছে না। পরের ট্রেন চারটে দশ। তবে সে'টা মিস করার উপায় নেই, নয়তো হাওড়া থেকে কালকা মিস।
- মামা, তুমি বাইকে এসেছো, না?
- এই যে চাবি। তোর সাইকেলের চাবিটা আমায় দে।
- মানে, আসলে...।
- ডিফারেনসিয়েশনানন্দ অনিন্দ্য এলে আপ্যায়ন করতে হবে না? বাদামের প্যাকেটটাও দিয়ে যা।
- হেহ্। আসি মামা।
- গ্রিপ দীপু গ্রিপ। মেয়েটা ভালো, তুই সেমি-ভালো। সাবমিট। আর যা দিনকাল পড়েছে, প্ল্যাটফর্ম টিকিট কাটতে ভুলিস না।

ভালোবাসার যে'টুকু

চারদিকে খচরখচর।

প্রমোশনের জন্য এ ওর ঠ্যাং ধরে হকি খেলে চলেছে।
বাসের সীটের জন্য এ ওর পা মাড়িয়ে চোয়াল কিড়মিড় করে চলেছে।
দরদামের টানাটানিতে ক্রেতা বিক্রেতা দরদরিয়ে ঘেমে বিরক্তির দরিয়ায় বয়ে চলেছে।
পলিটিকাল খিস্তিখেউরে, লাল-সবুজ মিলেমিশে উলুখাগড়াদের পিঠ ঘামাচিতে ভরে যাচ্ছে।

বৌ ভাবছে বর মিচকে, বর ভাবছে বৌ বাতিকগ্রস্ত।
বাপ ভাবছে ছেলে বখে যাচ্ছে, চাবকানো দরকার। ছেলে ভাবছে 'পুওর ওল্ড চ্যাপ, ইগনোর করো'।
মা মেয়ের এসএমএস ইনবক্স ঘেঁটে বন্ড হতে চাইছেন।
মেয়ে ভাবছে 'বেচারি টিন্ডারের স্পেলিং জানেনা'।

টপাটপ যুদ্ধের জিগিরে মানুষ মৌরি-চমনবাহারের সুবাস পেয়ে চলেছে।
মাথায় কাঁঠাল ভাঙার শব্দে বাতাস হুহু।

এই গোলমালে।
এই কানে মনে বুকে ব্লেড চালানো মাতব্বরির যুগে।

এই ঝাপসায়।

রাত পৌনে একটার হাওয়ার নভেম্বরি ফুরফুর বিছানা। তার পাশে রাখা ছোট্ট টেবল।
সে টেবিলের ওপর রেডিও। ফিলিপ্সের। সাতপুরনো।

এই মচরমচর যন্ত্রণায় বোরোলিন স্নেহ বুলিয়ে যান তিনি।

এ' দগদগের যুগে নরম হয়ে ঝরে পড়েন।
এ' দাউদাউয়ের যুগে মিঠে হয়ে গলে পড়েন।
এ' মাতব্বরির যুগে বোতাম খোলা ফতুয়ার সাহসে ছাতে এসে দাঁড়ান।

ভালোবাসেন। রাখেন। ভালোবাসায়।
কাঁধে হাত রাখেন "এই যে"র আতর ঢেলে।

গেয়ে চলেন শ্যামল মিত্র;
"সেই বাসর নেই বাঁশরী নেই ভোর যে হয়ে গেলো"।

Monday, November 14, 2016

শিশু দিবস

বন্দুকটার দিকে একমনে তাকিয়ে থাকে খোকা।

কাঠের আলমারিতে হেলান দিয়ে দাঁড় করানো। কালো চকচকে নল। কাঠের পালিশ করা বাট। ট্রিগারটা অল্প আলোতেও চকমক করে ওঠে। কার্তুজ ভরা নেই। বাবা যখন ছিল, তখন ও'তে কার্তুজ ভরা হত। দাদীর কাছে খোকা শুনেছে যে বাবা ওই বন্দুক হাতে লক্ষ্যভদে অব্যর্থ ছিল।

বাবা।
বাবা।

যাদের বোমায় খোকাদের বাড়িঘর সে'বার জ্বলে ছাই হয়ে গেছিল, সাথে পুড়ে মরেছিল মা; তাদের শায়েস্তা করতে এ বন্দুক পিঠে মরুভূমি পেরিয়ে যুদ্ধে গেছিল বাবা।

বন্দুকটার দিকে এক মনে তাকিয়ে থাকে খোকা। দাদী কাঁদে।  আলমারির অন্য কোনে মায়ের কাজলের ডিবে।  বন্দুকের পালিশে আর কাজলের ডিবের চকমকে খোকা বাবা-মা'কে মনে করা চেষ্টা করে।

খোকার থেকে দু'হাত দূরে সে বন্দুক।
তার থেকে পাঁচ হাতে ডাইনে গেলে দাদীর ছোট্ট ঘরের ভাঙাচোরা বারান্দা।
সে বারান্দা পেরিয়ে আধ মাইল ধুলো মাখা পথ হাঁটলে ছোটা পাহাড়। সে পাহাড় খোকার বড় প্রিয়। স্কুল ভাঙার পর সে পাহাড়েই তার দুপুর কেটে যায়।

ছোটা পাহাড়ের ও'পারে মরুভূমি। শুখা, খটখটে। মাইলের পর মাইল। সে মরুভূমির ও'পার থেকে কারা যেন উড়ে এসে বোমা ফেলে যায়। তারা শত্রু।

শত্রু। খোকার ঠোঁট কেঁপে ওঠে। শত্রু। বাবা মরুভূমি পেরিয়ে সে দেশে গেছিল, প্রতিশোধ নিতে। ওরা মাকে মেরে ফেলেছিল।

বাবা ফেরেনি, বাবার স্মৃতিমাখানো বন্দুকটা কীভাবে যেন ফিরে এসেছিল।

ছোটাপাহাড়ের ও'পাশের মরুভূমি পেরোলেই স্বপ্নের দেশ। সে স্বপ্নের গায়ে চাপ চাপ তাজা রক্ত। সে'খানে দেশনায়ক অশ্রুসজল কণ্ঠে আশ্বাস ঘোষণা করেন;

"ওরা আমাদের অসহায় ভাইবোনেদের নির্বিচারে হত্যা করেছে। আমাদের ফুলের মত খোকাখুকুদেরও রেয়াত করেনি। সে অমানুষদের আমরা ছেড়ে কথা বলব না। তাদের উচিৎ শিক্ষা না দিয়ে আমরা জিরোব না। সহনাগরিকদের প্রতি এ আমার প্রতিশ্রুতি। তাদের আস্তানা যে ছোটা পাহাড়ের ও'পাশের গ্রামে, সে সম্বন্ধে আমাদের কাছে নিশ্চিত খবর রয়েছে। প্রতিশোধের যুদ্ধ এ'বার শুরু। আজ শিশু দিবসে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার যে এ দেশের আর একজন শিশুর জীবনও অকালে নষ্ট হবে না। হ্যাপি চিল্ড্রেন্স ডে"।

Sunday, November 13, 2016

এটিএম ও সিদ্ধার্থবাবু

বাবার ডেবিট কার্ড নিয়ে এটিএমের সামনে লাইনে দাঁড়য়েছিলেন সিদ্ধার্থ।  ইয়ং চ্যাপ। মুখে স্মিত হাসি। সম্প্রতি পাঁচশো হাজারের নোট বাতিল হওয়ায় লাইন একটু লম্বা তবে ঘাবড়ানোর কোনও কারণ নেই। মোবাইলে জিও কনেকশন ব্যবহার করে ইউটিউবে বেস্ট অফ হিমেশ রেশমিয়া চালিয়ে দিলেন তিনি।

পনেরো নম্বর গানের মাথায় সিদ্ধার্থ টের পেলেন তাঁর সামনের ভদ্রলোক অসুস্থ বোধ করছেন। মাথা ঘোরা, বমি ভাব। ভিড় আর গ্লোবাল ওয়ার্মিং মাখানো নভেম্বর সহ্য করা চাট্টিখানি কথা নয়।
বত্রিশ নম্বর গানের মাথায় লাইনে দাঁড়ানো এক ছোকরা জানালে যে গত তিনদিন ধরে অন্তত আড়াইশো এটিএমের সামনে সে হত্যে দিয়ে পড়েছে কিন্তু প্রত্যেক বারই তাঁর সুযোগ আসার আগেই এটিএম খাঁখাঁ হয়ে গেছে। এ ট্রমায় নাকি তাঁর মনের বয়স অন্তত চল্লিশ বছর বেড়ে গেছে, ডায়াবেটিস হাইপারটেনশন কলার টেনে ধরল বলে। বাড়তি ট্রমা এড়াতে লাইন ছেড়ে বেড়িয়ে গেল সে ছোকরা।
প্লেলিস্টের বেয়াল্লিশ নম্বর গানের মাথায় লাইনে দাঁড়ানো এক ভদ্রলোকের কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হল। ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়েও ক্যাশ পাব কি পাব না; সে টেনশন সহ্য করা মামুলি নয়।
চুরাশি নম্বর গানের মাথায় লাইন ত্যাগ করে যিনি বেরিয়ে গেলেন, সে ভদ্রলোকের মুখে স্মিত তৃপ্ত হাসি। "এটিএমে আমার পয়সা আছে, শান্তি তো নেই। বয়ে গেছে আমার লাইনে পচতে"। তাঁর মুখে সন্ন্যাসীসুলভ আভা।

রেশমিয়ার দু'শো বাহাত্তর নম্বর গানে পৌঁছেও জিওর ফোরজি ডেটার হাঁফ ধরেনি। এটিএমের সামনের লাইনও শুকিয়ে যায়নি।

কিন্তু ততক্ষণে সিদ্ধার্থের মনের মধ্যে তোলপাড় ঘটে গেছে। সে স্পষ্ট দেখতে পেরেছে যে এটিএম কাউন্টারের পাশের অশত্থ গাছের নিচে কে যেন পায়েসের স্টল দিয়েছে।
পায়েস। সে সুবাস নাকে আসতেই ডেবিট কার্ড, পিন নাম্বার, দু'হাজার টাকার নোট; সমস্ত কিছু সিদ্ধার্থর মাথা থেকে গেলো উবে।

মন্ত্রমুগ্ধের মত লাইন ছেড়ে পায়েশের স্টলের দিকে হাঁটা দিলেন সিদ্ধার্থ।

Tuesday, November 8, 2016

খোকার দায়িত্ব

- খোকা, শোন। সাবধানে।
- হুঁ।
- রাতে শোয়ার আগে বাড়ি দরজা জানালা বন্ধ হয়েছে কিনা ভালো করে দেখে নিস রোজ, কেমন?
- হুঁ।
- আর শোন, ছোট ভাইবোনগুলোকে দেখিস। এখন তুইই গার্জেন।
- এমন ভাবে বোলো না বাবা।
- মন শক্ত কর। বাপ মা এমনিতেই কি কারুর চিরকাল থাকে? খারাপ লাগছে এ বয়সেই তোকে ছেড়ে আমাদের দু'জনকেই চলে যেতে হচ্ছে। বড় গুরু দায়িত্ব তোর কাঁধে চাপিয়ে গেলাম বাপ। ব্যবসা, ঘরবাড়ি, বাজারঘাট; সমস্তই এখন তোর দায়িত্বে। অবশ্য তোদের জ্যাঠামশাই এসে পড়লেন বলে। কিন্তু যদ্দিন না আসছেন, তদ্দিন তোকেই ঠেলা সামলাতে হবে। হ্যাপা কিন্তু কম নয়। পারবি তো বড়খোকা?
- আমি চেষ্টা করব। কিন্তু তুমি আর মা কি কোনওদিন...?
- ফেরা হবে না রে। হুকুম তেমনই। বাবা, সাবধানে থাকিস। চারদিকে নজর রেখে, কেমন? ভুলে যাসনা একশো, তুই টাকা বংশের মাথা এখন। শক্ত হ, এ'টা ভেঙে পড়ার সময় নয়। আমরা আসি, কেমন?

Saturday, November 5, 2016

ল্যাপটপ

- আসুন। আসুন মিস্টার হালদার।
- ফাইলটা থ্রু হলো মিস্টার শাসমল?
- আরে আগে বসুন। চা টা খান।
- নষ্ট করার সময় আমার নেই শাসমল। ফাইল থ্রু হয়েছে কিনা কনফার্ম করুন। প্লীজ।
- বসুন না। রামরতন, সাব কে লিয়ে চায়ে লাও। নো মিল্ক  নো শুগার। আউর মেরে লিয়ে এক গিলাস পানি। বসুন মিস্টার হালদার।
- এবার বলুন।
- সিগারেট?
- ব্যাপারটা কী বলুন তো? কেঁচিয়েছেন?
- আসুন। ধরিয়ে দিই।
- থ্যাঙ্কস। এবার ঝেড়ে কাশুন দেখি।
- ফাইল...সানরাইজ ইলেক্ট্রিকালসের ফাইলটা তো?
- ঠাট্টা করছেন? আর কোন ফাইলের কথা হয়েছে আপনার সাথে?
- অলমোস্ট কাজ হয়ে গেছে বুঝলেন...।
- অলমোস্ট?
- অলমোস্ট।
- মিস্টার অরূপ শাসমল। দশ লাখ দিয়েছি আপনাকে। টেন ল্যাখস। আন্ডার দ্য টেবল। এ ফাইল যদি থ্রু না হয়..।
- হুইসল ব্লো করবেন?
- আঙুল বাঁকানোর অনেক বেটার টেকনিক আমার জানা আছে।
- উফ। অকারণে উত্তেজিত হচ্ছেন আপনি।
- অকারণ? অক্টোবরের মধ্যে ফাইল অ্যাপ্রুভ হওয়ার কথা। দিস ইজ নভেম্বর। লাখোটিয়া আমায় কী প্রেশারে রেখেছেন জানেন?
- জানি জানি। কিন্তু কোটি কোটি মুনাফা লুটবেন, অথচ সবুর করবেন না, তা কি হয়?
- সবুর?
- সামান্য। ডেফিনিটলি বাই নেক্সট উইকেন্ড। বড় সাহেব ছুটিতে গিয়েই গণ্ডগোলটা হলো। জার্মানিতে কী এক সাবস্টিটিউটের খবর পেলেন আর আপনার লাখোটিয়ার প্রপোজাল গেল ঝুলে। তবে সামলে এনেছি।
- শুনুন। ও'সব জার্মানির গল্পটল্প আমায় শোনাবেন না। কেমন? কাজ হলে বলুন, নয়তো আমায় অন্য রাস্তা দেখতে হবে।
- চা ঠাণ্ডা হচ্ছে মিস্টার হালদার।
- উম। দার্জিলিং। থ্যাঙ্কস।
- শুনুন। কাজ হয়ে যাবে। বাই নেক্সট বুধবার আপনার পকেটে অ্যাপ্রুভাল থাকবে। কনফার্ম।
- না হলে?
- না হলে দশ লাখ ওয়াপস। ভদ্রলোকের এক কথা, তবে...।
- তবে কী?
- ছেলেটাকে এমবিএ'তে অ্যাডমিশন করালাম। ফীস-টীজ দেওয়া হয়ে গেছে। তবে নতুন ল্যাপ্টপ কিনে দিতে হবে। বুঝতেই পারছেন..।
- শাসমল...।
- ক্যাশ না। ল্যাপটপ ডায়রেক্ট অনলাইনে কিনে দিলেই হবে। লেনোভোর, আমি লিঙ্ক পাঠিয়ে দেব। আর ডেলিভারির ঠিকানা।
- লাখোটিয়া এগ্রি করবে না...।
- মুনাফা ক্লায়েন্টের, কমিশন আপনার! আর বাই নেক্সট বুধবার। সে কমিটমেন্ট আমার।
- দিস ইজ ইওর লাস্ট চান্স।
- ফ্লিপকার্টের লিঙ্কটা আমি হোয়াটস্যাপ করছি।
- বুধবারের মধ্যে কিন্তু...।
- গ্যারেন্টি। কতবার বলব!
- হলে ভালো। যদি হয় নেক্সট উইকেন্ডে আপনার জন্য একটা ইন্সেন্টিভ থাকছে শাসমল।
- ইন্সেন্টিভ?
- শীলা ইজ গোয়িং টু বি ইন টাউন।
- ওহ। সেই স্পেশ্যাল স্পা!
- আপনি স্ট্রেস নিয়ে লাখোটিয়ার কাজ করে দেবেন। আর আপনার জন্য এ'টুকু ওরা করবে না? নেক্সট স্যাটারডে ইভনিং। গ্র‍্যান্ডে। রুম নাম্বার জানিয়ে দেওয়া হবে সময়মত।
- নেক্সট স্যাটারডে? সন্ধ্যে? ও'টা ফ্রাইডে করা যায় না?
- শীলা ইজ ইন টাউন অনলি ফর স্যাটারডে শাসমল।
- যাহ শালা।
- অন্য কারুর ব্যবস্থা করতে বলি?
- অন্য কেউ শীলা নয় মিস্টার হালদার।
- শনিবারে অসুবিধেটা কোথায়?
- আমার ছেলের জন্মদিন। ওর জন্মদিনের সন্ধ্যেটা সবসময় ওর সাথেই সেলিব্রেট করেছি। একবারের জন্যেও মিস হয়নি।
- নেক্সট টাইম দেন। ফর শীলা।
- মিস্টার হালদার লাখোটিয়ার কাজ বুধের আগেই হয়ে যাবে। তবে ল্যাপটপটা টপ মডেল চাই। আর লেনোভো টেনোভো নয়, ম্যাকবুক। আই ওয়ান্ট টু মেক মাই সন ভেরি হ্যাপি। আর স্যাটারডে ইভিনিং গ্র‍্যান্ডের রুম নম্বরটা সময়মত জানিয়ে দেবেন, কেমন?

ধপাস

সাঁইসাঁই। সাঁইসাঁই। সাঁইসাঁই। পড়ছি তো পড়ছিই। পড়ছি তো পড়ছিই। পড়ছি তো পড়ছিই। পড়ছি তো পড়ছিই। বহুক্ষণ পর আমার পড়া একটা প্রবল 'ধপ...