Monday, February 23, 2015

মেয়েটা



তখন আমি বেশ ছোট। প্রেম করা ব্যাপারটা তখনও ডেঁপোমি বলেই জানি। বিকেলে হন্যে হয়ে ক্যাম্বিস বলে ক্রিকেট খেলি। জ্যামিতিকে ভয় পাই। নন্টেকে ফন্টের চেয়ে বেশী ভালোবাসি। সদ্য সাইকেল চালানো শিখে মনে হয় ডানার আনন্দ বুঝি। তিনটে সিঁড়ি না টপকে পা ফেলতে পারি না। ফুল প্যান্ট পরি শুধু বিয়েবাড়ি যেতে হলে। আঁকাতে ভালোবাসি আর আঁকার মাস্টারকে ভালোবাসি না। ফড়িং ধরতে পারি, আর তার লেজে সুতো বেঁধে ঘুড়ির মত ওড়াতে পারি। গদা আর তীর-ধনুক, দু’টোতেই সমান পারদর্শী। স্কুল ফেরতা দুপুরে মাকে জড়িয়ে না ধরলে ঘুম আসে না। রবিবারে বাবার পাশে গুটিসুটি হেঁটে মাছের বাজার যাই, এই মাছ নাও-ওই মাছ নিও না বলে কাদা জলে ছপছপ করি।  সন্ধেবেলা মাঠ থেকে বাড়ি ফিরে হাত পা ধুয়ে দুধ মুড়ি খেতে বসি। অকারণে বন্ধুদের সাথে পেট ফাটিয়ে হাসতে পারি, একে অপরের টিফিন কেড়ে খেতে পারি।


সেই সময়।

কোন এক বিকেলে। কোন এক বৃষ্টির বিকেলে। কালচে মেঘলা বিকেলে। লোডশেডিং হব হব করেও হয়নি এমন বিকেলে। বাড়িতে ব্ল্যাক অ্যান্ড হোয়াইট ছোট একটা টিভি। তাতে একটা চ্যানেল। দূরদর্শন। তা রাতে বন্ধ। দিল্লী কলকাতা বাংলা হিন্দি মিলে বাকি সময়টুকু। সেই সময়।
টিভিতে একটা সিনেমা চলছিল। নজর সিনেমায় ছিল না। নজর ছিল আকাশের দিকে। বৃষ্টি কি থামবে না? আজ কী খেলা হবে না? বন্ধুরা কি ডাকতে আসবে না?


হঠাৎ। সিনেমার ফাঁকে। এক আকাশ মেঘ ভারী কলকাতা। কালচে অন্ধকারে কলকাতার সিলুহ্যেট। এমন একটা কণ্ঠস্বরের ভেসে আসা যা যেন নিশ্চিত ভাবেই মেঘে থেকে চুইয়ে পড়া, কিছুতেই তা টিভি থেকে আসা নয়। মিষ্টি অথচ গম্ভীর। নরম, ঠাণ্ডা অথচ ধারালো। অভিমানী কিন্তু সজল নয়। তিনি গাইছেন।


“এসো এসো আমার ঘরে এসো আমার ঘরে”। 
তখনও রবীন্দ্রনাথকে ঘাঁটাবার বয়স নয়। কিন্তু শিহরণ আর হেমন্তর সম্ভবত বয়স থাকেনা। অমন ভাবে কেউ কখনও ডাকেনি। আদুরে ভাবে গমগমে অথচ জাপটে ধরা সুর।

“বাহির হয়ে এসো তুমি যে আছ অন্তরে”। 
অন্তর শব্দে আটকানোর বয়স সেটা নয়। তবে উসকোখুসকো চেহারার একটা ডানপিটে মেয়ে তখন স্ক্রিনে। আচমকা নেমে আসা বৃষ্টিতে ভালোবেসে অসহায়। ওর চুলে দানা দনা বৃষ্টি, ওর হাসি উপচে পড়ছে কিন্তু হই হই করছে না। সে হাসি ঘাসে এমন ভাবে পা ফেলে যাতে ঘাসের ডগাটিরও ব্যথা না লাগে। বৃষ্টি গাড় হয়ে আসে, রিমঝিমে মেজাজে গানটা গুটিগুটি এগিয়ে যায়;

“স্বপন দুয়ার খুলে এসো, অরুণ আলোকে এসো মুগ্ধ এ চোখে, ক্ষণকালের আভাস হতে চিরকালের তরে এসো আমার ঘরে”।

শব্দের খোসা ছাড়াবার বয়স সেটা নয়, তবে সুরে ভেসে যাওয়ার বয়স নেই। আর সেই ছায়ামূর্তিটা, অন্ধকার আর বৃষ্টিতে ক্রমশ আবছা আর উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। পাশের হেঁটে যাওয়া লোকটা, সাইকেলটা, টেনে নিয়ে যাওয়া রিক্সাটা তার গোচর হয় না আর। পৃথিবীটা ফাঁকা হতে হতে মিষ্টি কালচে ক্যানভাস হয়ে ওঠে, শুধু সে, বৃষ্টি আর গম্ভীর নিরস কয়েকটা বাড়ি। মেয়েটার গা বেয়ে গানটা বেড়ে ওঠে : 
“দুঃখ সুখের দোলে এসো, প্রাণেরও হিল্লোলে এসো,ছিলে আশার অরূপ বানী ফাগুন বাতাসে, বনের আকুল নিঃশ্বাসে-- এবার ফুলের প্রফুল্ল রূপ এসো বুকের পরে”। 
মেয়েটা ভীষণ ভিজতে চাইছে কিন্তু ঝমঝমে বৃষ্টিও তাকে যথেষ্ট উপচে ফেলতে পারছে না।


সে মেয়েটিকে যে কী ভীষণ ভাবে ভালোবেসে ফেলা যায়। আমি হতবাক হয়ে সেটা বুঝেছিলাম। বুঝেছিলাম অনেকদিন আগের কোন এক বৃষ্টির বিকেলে আমার মা অমন ভালোবাসায় টাপুর টুপুর হয়ে ভিজেছিলো, অমন নরম হেসে জল ঠেলে হেঁটে চলেছিল দিক না চিনে। আমার মা। গান ছাড়া আমার মা হয়ই না। আমার মা। অমন ভালোবাসায় মজে বৃষ্টিতে হেঁটেছিল। আমার মা।  




Wednesday, February 18, 2015

প্ল্যানচেট

ফতুয়ার ওপরের বোতামটা খুললেন  অনিমেষ। হাওয়াই চটি জোড়া খুলে হাতে নিলেন। পাজামাটা হাঁটু পর্যন্ত গুটিয়ে নিলেন। ভেজা বালির ওপর দিয়ে হেঁটে গেলেন ছপাতছপ ঢেউয়ের দিকে। গোড়ালি ডোবা জলে এসে দাঁড়ালেন। ঢেউয়ের ঝটপট আর বুকে মুখে ঝড়ো হাওয়া এসে মনটা ঠাণ্ডা করে গেল। আজ অমাবস্যা। আকাশে হয়তো মেঘও রয়েছে, একটাও তারা নেই। এ অঞ্চলটা মূল শহরতলির ভিড় থেকে বেশি কিছুটা দূরে। কাছের রাস্তাতে লোকজন কেউই নেই। অনিমেষের হোটেলও অন্তত আধ কিলোমিটার দূরে, মাঝে পুরোটাই ফাঁকা। রাত্রের কালোতে শুধু সমুদ্রের ঢেউয়ের বুকের সাদা ফেনাটুকু দেখা যায়। পায়ের তলায় বালি সরে যাওয়ার ভালো লাগা শিরশিরানি। সব মিলে ভালো না লাগার কোন উপায় নেই। পাহাড়ের গুণ হল সে শ্রোতা। কিন্তু সমুদ্র আগ বাড়িয়ে দু’টো কথা নিজে বলে যায়। অন্ধকার আজ এতটাই নিকষ যে ঘড়ি দেখতে পারলেন না। মোবাইল ফোন জ্বেলে সময় দেখলেন অনিমেষ, রাত পৌনে দু’টো। এপ্রিলের রাত্রি হলেও, গভীর রাতের সমুদ্রের ধারালো হাওয়া সত্তর বছরের চামড়ায় বিঁধতে বাধ্য। কিন্তু আজ কোন কিছুই পরোয়া করার সময় নয়। অনিমেষের ভীষণ ভালো লাগতে আরম্ভ করেছিল। ভীষণ। কতদিন পর সে গোপালপুর এলে। শেষ এসেছিল বছর দশেক আগে। তখনও অপলা সাথে ছিল।

Wednesday, February 11, 2015

গান

“এসো এসো আমার ঘরে এসো আমার ঘরে”, গাইছিলেন অনন্তবাবু, “বাহির হয়ে এসো তুমি যে আছো অন্তরে”। আজ অফিস থেকে একটু বেশিই আগে বেরিয়ে পড়েছিলেন। সামান্য ফাঁকি আর কি! অনন্তবাবু তো কবিতা লিখতে পারেন না, তাই হিসেব লেখার কেরানীগিরির কাজে আলতো ফাঁকি দেওয়াটাই তার কাছে কবিতা লেখার মত আরামের।ব্যাচেলর হওয়ায় জীবনটায় একটা দরদী জেল্লা আছে। বাজারপত্তর নেই, বউয়ের ব্লাউজ কেনার বা বাপের বাড়ি যাওয়ার বায়না নেই, ছেলে-মেয়ের এটা দাও সেটা দাও নেই।  বিকেল পাঁচটার মধ্যে বাড়িতে ঢুকে লুঙ্গি আর স্যান্ডো গেঞ্জি পরে ঝুল বারান্দায় বসে পড়া। কাঠের চেয়ারে হেলান আর বেঁটে বেতের মোড়ার উপর পা। খাসা। হাতে এক কাপ লেবু চা, নিজের বানানো। এক বাটি মুড়ি মধ্যে এক পিস্‌ বেগুনী, অফিস ফেরতা নিধুর চপের দোকান থেকে আনা। আগে আনতেন দু’পিস্‌ করে। মাগ্যির বাজারে একটা বেগুনীই যথেষ্ট, তাছাড়া বয়স বাড়ছে- দু’খানা বেগুনী হজম করার দিন আর নেই।

Monday, February 9, 2015

প্রশ্নোত্তর - ১

যদি যুধিষ্ঠির কে করা যক্ষের প্রশ্ন আর উত্তরগুলো যদি একটু অন্যরকম হত? কেমন হত? এর ওপর একটা লেখা অনেকদিন আগে পোস্ট হয়েছে।  এবার একটু অন্যরকম ভাবে প্রশ্ন উত্তরগুলো গুছিয়ে নেওয়া। এখানে প্রথম কিস্তি। 

ভালো কী ?
এগরোল।

খারাপ কী ?
ডিম ছাড়া যে কোন রোল। (চিকেন/মাটন রোল বলে কিছু হয় না, হয় এগ চিকেন নয় এগ মাটন। আদর্শ - ডাব্‌ল এগ চিকেন/মটন)।  

সুখী কে ?
সদ্য ভাজা এগরোল যার হাতে এই মাত্র এলো।

দুঃখী কে ?
এগরোলের ক্যালরি মাপেন যিনি।

সবচেয়ে দ্রুত কী?
এগরোল প্রেমীর “এগরোল খেতে হবে” চিন্তা।

সবচেয়ে শ্লথ কী?
রোলের অর্ডার দেওয়া আর হাতে পাওয়ার মাঝের সময়ে ঘড়ির কাঁটা খানি।

সব চেয়ে ভারী কী?
পেঁয়াজ কম শসা বেশি এগরোলের দায়ভার।

সব চেয়ে হালকা কী?
এগরোল খাইয়ের মেজাজ।

কলঙ্কের চেয়েও কালো কী?
ভেজ রোল।

হীরের চেয়েও দামী কী?
এগরোলের ভিতর সঠিক পরিমাণে টাটকা কাঁচা লংকা কুচি আর লেবুর রসের কম্বিনেশন।

সাফল্য কী?
নিখুঁত এগরোল বানিয়ের খোঁজ পাওয়া।

ব্যর্থতা কী।
এগরোল খুঁজে না পেয়ে প্যাটিস জাতীয় কিছু খাওয়া।

দিবাকর আর লে-হালুয়া

সেদিন সকালে উঠে দিবাকর বুঝলেন যে তিনি নিজের খাটে নেই। আশেপাশে চেয়ে দেখলেন যে ঘরটাও তার বৈদ্যবাটীর বাড়ির নয়। এমন বিশ্রী হলদে দেওয়ালের ঘর আর দু’টি দেখেননি দিবাকর। তবে কী তিনি কিডন্যাপ হয়েছেন? কিন্তু তিনি কিডন্যাপ হবেন কেন? পোস্টঅফিস ক্লার্কের চাকরীতে ক’পয়সাই বা আয়। আর তিন কুলে তার আছেটাই বা কে যে তাকে ছাড়াতে কিডন্যাপারদের টাকা দেবে?

**

-   কী ব্যাপার দিবাকরবাবু? অমন হাঁকুপাঁকু করছেন কেন?

-   আপনি কে? আপনার গলাটা কোথা থেকে আসছে? আমি দেখতে পারছি না কেন আপনাকে?

-   এই ঘরের এক কোণে একটা স্পীকার লাগানো আছে। আমার কণ্ঠস্বর আপনি সেই স্পীকার থেকেই শুনতে পারছেন।

-   আমি কোথায়?

-   নিস্পারনিস্কে।

-   নিস কী?

-   নিস্পারনিস্ক। আপনি নিস্পারনিস্কে আছেন।

Saturday, February 7, 2015

সুরেলা বাপের ছিচ্‌কে ছেলে



"বাংলা আমার জীবনানন্দ", বাপ গাইছিলে মনের সুখে।

"জীবনানন্দ কে বাবা?" ছেলে জানতে চাইলে। 

"বাংলার নিট পেগ, বুঝলি?", বাপ মিচকি হাসলে।

**
সেদিন যেমন। বাপ গান ধরলে, "আমায় ডুবাইলি রে,আমায় ভাসাইলি রে"

ছেলে শুধলে "এমন গান গাইছ কেন বাবা?"

বাপ বললে "সন্দীপ রে'র সিনেমা দেখে ফেলেছি যে"।

**
বাপ গাইছিলেন "বড় একা লাগে এই আঁধারে"। 

Thursday, February 5, 2015

অমু ও অফিস

জামরুলের পাতার মত একটা ফিসফিসে ভালো লাগা গন্ধ অমুর মনে ঘুরপাক খাচ্ছিল। বসের সামনের চেয়ারে বসেই বেশ অফিস বিরোধী আরামে গা এলিয়ে আসছিল তার। কানের মধ্যে একটা নরম ঝিমঝিমকড়ে আঙুলের ডগায় এক ফোঁটা সর্ষের তেল নিয়ে কানের ভেতর আলতো করে বুলিয়ে নিলে যেমন ভালো লাগে- ঠিক তেমনটা। জিভে সামান্য শুকনো লংকার আদুরে রেশ রয়ে গেছিলোলাঞ্চে আজ অফিসের পাশের ফুচকাওলার থেকে আনা আলু কাব্‌লি ছিলোডাল,ভাতঅমলেটের পাশাপাশি। জিভের ঝালটাও ভালো লাগায় এসে মিশছিলো।

টেবিলের উলটো দিক থেকে ঝড়ের বেগে উড়ে আসছিলো খিস্তি, অফিসের পরিবেশের হিসেবে যা যথেষ্ট কাঁচা। বস আগুন। অমুর কাজ নিয়ে অবিশ্যি বস বিশেষ অনুযোগ করার সুযোগ পান না। তবে “মুখে মুখে তর্ক” করার অভ্যেসেটা যে অমুকে একদম কর্পোরেট ইতর বানিয়ে দিচ্ছে দিন দিন, এটা নিয়েই তলোয়ার শানাচ্ছিলেন ত্রিপাঠি সাহেব; অর্থাৎ বস। এটিকেট  জ্ঞানের অভাব নিয়ে এফোঁড় ওফোঁড় হচ্ছিলে অমু।

প্রথমে অমুর মেজাজ গেছিল বিগড়ে। কান দু’টোর গরম হয়ে যাওয়া সে মোক্ষম টের পাচ্ছিল। বেফালতু ওয়ার্ক এথিক্‌স নিয়ে প্রশ্ন তোলার কোন মানে হয়! অমুর দোষ বলতে বসের টাইপ করা একটা অফিস মেমোর বানান ও ব্যাকরণ ভুলগুলোর ওপর লাল কালির কলম দিয়ে গোল্লা পাকিয়ে বসের কাছেই ফেরত পাঠিয়েছিল সে “প্লিজ   এডিট” কমেন্ট জুড়ে। সেই যে ত্রিপাঠি সাহেবের মেজাজে পেট্রোল আর জ্বলন্ত দেশলাই কাঠি পড়ল, দু’ঘণ্টা পরেও সে দাউ দাউ নেভেনি।

অমুর রাগ অবশ্য সহজেই পড়ে গিয়েছিল। এরপর ঘুম পাওয়া শুরু হলো। বসের সামনে বসেও ঢুলুনিতে ভেসে যাওয়ার উপক্রম হলো। এক দিক থেকে ত্রিপাঠি সাহেবের এলোমেলো খিস্তি, আর অন্য দিকে অমুর কোদালে হাইয়ের জোরদার টক্কর।  দুপুরের ডাল, ভাত, অমলেটের বহর চলছে। অমুর ঝিমুনিতে ত্রিপাঠি সাহেবের গজরগজরের মোমেন্টাম গেল বেড়ে।

“আনপার্‌ডনেব্‌ল” বলে হুঙ্কার দিয়ে মৌখিক খামচা খামচিতে নেমে এলেন বস। অমুর চাকরিটা যে তিনি চাইলেই সামান্য অঙ্গুলিহেলনে নট করে দিতে পারেন সেটা বিভিন্ন ফরম্যাটে অমুকে জানাতে লাগলেন। ত্রিপাঠি সাহেবের নাচন কোঁদন দেখে অমুর মনে বেশ মজা হচ্ছিল। কালো কোট সাদা শার্টে ত্রিপাঠিবাবুকে অবিকল একটা পেঙ্গুইনের মত দেখায়, রাগ করার বিশেষ উপায় থাকে না।

Monday, February 2, 2015

সোমবারের জঘন্য যত জোক্‌স


-   আচ্ছা ঘোষদা, সোমবার এলেই আপনার মেজাজ এমন খিঁচরে থাকে কেন বলুন দেখি?
-   ঢপের কাজ, ভাটের প্রেশার, রোব্বারের মাটনের হ্যাংওভার আর টিফিন কেরিয়ারে আলু পটল। মেজাজ ভালো থাকবে কী করে মাইতি? আর তুমিই বা অমন দাঁত বের করে ফি সোমবার ঘুরে বেড়াও কেন শুনি। খুব পীরিত নাকি অফিসের সাথে?
-   আরে ধুর। অফিস আবার একটা জায়গা হল। ফাইল আর ফাইল আর বড় সাহেবের জুতোয় আমাদের থুতু। ধুর ধুর। আমি হাসি সোমবারের লেগ পুল করে।
-   সোমবারের লেগ পুল করে?
-   মানে সোমবার কে নিয়ে ঠাট্টা করে আর কী। নিজেই নিজেকে শুনিয়ে থাকি। সোমবারি ঠাট্টা। আর নিজেই ফিক ফিক করে হেসে থাকি। সিক্রেট টু মাই মন্ডে স্মাইল্‌স। বুঝলেন কিনা ঘোষদা?
-   মানে ? কিরকম?
-   বলি?
-   অফ কোর্স। শুনি।
-   আচ্ছা বলুন দেখি, যে সোমবার কে মীর ভালোবাসেন, তাকে তিনি কী বলে ডাকেন?