Thursday, October 16, 2014

পাঁচটি মৃদু গল্প

একদিন হয়েছে কি, সল্টেড বাদামের প্যাকেটটা সবে দাঁতে ছিঁড়ে; দু চার পিস বাদাম মুখে ঢেলেছি।  
আচমকা টের পেলাম আমি বাদাম দিয়ে দাঁত চেবাচ্ছি।

**
শুনুন না, আরেকটা ঘটনা। সেদিন মুড়িঘণ্ট দিয়ে আধথালা ভাত গিলে ল্যাজায় কামড় বসাতে যাব-অমনি পেট থেকে আওয়াজ এলো-   "ওরে, আগে পেটিটা পাঠা'।

**
কত মজার ঘটনা আছে। সেবার যেমন পুরী গিয়ে নিয়মিত পুরির গায়ে টমেটো পিউরি মাখিয়ে খাওয়া দাওয়া করা।

**

আর একটা বলি। প্লিজ। শুনুন না। সেদিন হয়েছে কি অফিসে টিফিনে পাউরুটি নিয়ে গেছি এদিকে মাখন লাগাতে গেছি ভুলে।  সোজা বসকে বললাম "দু চামচ ফেরত দিন দেখি"।

**
আরো আছে।কত সব অ্যাডভেঞ্চার। সাহারায় যেবার গেলাম সর্ষে নিয়ে। সঙ্গের উটবাবাজীটিকে রৌদ্রে ভাপা-ক্যাক্টাস খাওয়াতেই সে আমার কেনা ছাগল বনে গেল।

**

Saturday, October 11, 2014

নিত্যযাত্রী

" কেউ ক্রিকেট খেলেন, কেউ রাইটার্সে ফাইল-বাজি করেন, কেউ গীটার বাজিয়ে আহা-উঁহু করেন, কেউ ভোটে দাঁড়ান, কেউ টিউশনি পড়ান। আমি করি ডেলি-প্যাসেঞ্জারি। ওইটাই হল আমার প্রফেশন বুঝলেন", সন্ধ্যে ছটা দশের আপ বর্ধমান লোকালে সদ্য আলাপ হওয়া দিলীপবাবু দীর্ঘশ্বাস ফেললেন। আলাপের শুরু খবরের কাগজ আদান-প্রদান দিয়ে। দিলীপবাবুর কোথায় না হেসে পারলাম না।
- " হাসছেন দাদা ?", পকেটের রুমাল বের করে ঘাম মুছতে মুছতে বললেন দিলীপবাবু, " আরে মশাই , " আমার তো মনে হয় মেমারি টু হাওড়াতেই জীবন বয়ে যাচ্ছে। সকালে দু বালতি জলে স্নান আর চাট্টি ডাল-ভাত, অফিসে দুটো ফাইল আর ওপরওয়ালার খিস্তি। ওদিকে বাড়ি ফিরে বাচ্চার ঘ্যান-ঘ্যান, গিন্নীর বায়না আর টেলিভিশনে গুলতানি। এ সব তো হুশ করে হাপিশ হয়ে যায়; কিন্তু প্রত্যেক দিন যেটা রয়ে যায় সেটা হচ্ছে সাড়ে দিন ঘণ্টার ট্রেন ঘষটানি। বুঝলেন ?"
- " বুঝলাম", বলতেই হল।
- " নো স্যার। বোঝা অত সহজ নয়। গত তেইশ বছর ধরে; ঝরে-জলে-রোদ্দুরে এই বর্ধমান লোকালের ঠিক এই কামরাটিতেই আমার দৈনিক সাড়ে তিন ঘণ্টা কাটে। এইটে হল আমার ড্রয়িং রুম; খবরের কাগজ পড়বার সোফা হচ্ছে এই কাঠের সিট। ক্লাবও বলতে পারেন- টুয়েন্টি-নাইন টু রামিও এইখানেই চলে। এইখানে আমার সোশ্যালিজম'য়ে হাতেখড়ি। কি ভাবে ? গত পনেরো বছর ধরে আমার ফিক্সড টুয়েন্টি নাইন পার্টনার হচ্ছে পল্টু- গড়িয়াহাটের মাছ-ওয়ালা। আর রামি'র পার্টনার হলে গিয়ে বড়বাজারের লোহার-কারবারি দেবকুমার দেব; হুগলী বর্ধমান মিলে যার একশো বিঘের ওপর জমি রয়েছে। তারপর ধরুন আমার ইয়ার-দোস্ত বলতে যারা সবাই ডেলি-প্যাসেঞ্জার। এই কামরাটাই আমার রক। সাহেব-সুবো'দের মত শরীর চাঙ্গা রাখতে আমায় জিমে ছুটতে হয় না; রোজকার ট্রেন-জার্নিতেই মেদ-টেদ ফস করে উড়ে যায়। আর নিজস্ব রুচি-টুচি গেছে বেদম চটকে"
- " রুচি চটকে গেছে মানে ?", গপ্প শুনতে মন্দ লাগছিলো না।
- " মানে এই ধরুন আলুর দমের থেকে সল্টেড বাদামে বেশি স্বাদ পাই। আমার শালাবাবু আসামের টী-এস্টেটের ম্যানেজার- তাঁর দৌলতে বাড়িতে হামেশাই এস্যাম টী'র ডিবে আসে। কিন্তু ট্রেনে দুলুনি বা মাটির ভাঁড় ছাড়া আমার মুখে চা রোচেনা। তা ছাড়া একটা অতি সাঙ্ঘাতিক অভ্যাসের কবলে পড়েছি মশাই"
- " কেমন সাঙ্ঘাতিক ?"
- " দাঁড়িয়ে ঘুমোবার"
- " মানে ?"
- " মানে হাওড়া যাওয়ার সময় রোজই বিদঘুটে ভিড়। বসার আশা তো দূর একপায়ে দাঁড়াতে পারলে সুবিধে হয়।তা সেই বিদঘুটে সময়টা কাটাতে আমি বিগত কুড়ি বছর ধরে ঘুমিয়ে আসছি; দাঁড়িয়ে। এক হাতে ট্রেনের হ্যান্ডেল, অন্য হাতে অফিস ব্যাগ আর চোখে ঘুম। ঝক্‌ঝকে আধ ঘণ্টা।
- " বলেন কি ? রোজ?"
- " ইয়েস স্যার। ইভেন অন সানডেইজ"
- " রোববারেও? কিন্তু রবিবার তো ছুটি ?"
- " আরে মশাই, জানি। কিন্তু অভ্যাস ভারি খতরনাক্‌ চিজ। দিনে আধ ঘণ্টা দাঁড়িয়ে না ঘুমোলে আমার সুগার বেড়ে যায়, গা গুলোতে থাকে, মাথা ঝিম্‌ঝিম্‌ করে। অতএব, রবিবারগুলোতে যাতে কোনও ক্রাইসিস্‌ না হয়, তার জন্যে চিলে কোঠার ঘরের কড়িকাঠ থেকে একটা কাঠের হ্যান্ডেল ঝুলিয়ে নিয়েছি। স্পেশাল অর্ডার দিয়ে বানানো; অবিকল এই কামরায় যেমন ঝুলন্ত হ্যান্ডেলগুলো দেখছেন; সেরকম। প্রতি রবিবার সকাল আটটা সতেরো হলেই দু বালতি জলে স্নান সেরে অফিসের ব্যাগ হাতে সোজা চলে যাই চিলেকোঠার ঘরে আর তারপর হ্যান্ডেল ধরে আধ-ঘণ্টা বেধড়ক ঘুম। ব্যাস, রবিবারে নেমে আসে অপরূপ প্রশান্তি"

Thursday, October 9, 2014

খুচরো তফাৎ

কলেজ স্ট্রীটে ঘুর-ঘুর করছি সস্তায় পুরনো বই সটকাবার তালে। জুন মাসের বিকেল কিন্তু সদ্য বৃষ্টি হয়ে যাওয়ায় চনমনে হাওয়া বইছে। মেজাজ শরিফ। জলের দরে খান দুই গপ্পের বই ব্যাগস্থ করে ফেলেছি। ভাবলাম বই ঘাঁটাঘাঁটি আলতো থামিয়ে রেখে একটু চা-টা খেয়ে নেওয়া যাক। মেডিক্যাল কলেজের উল্টো দিকে; ফুটপাথের একটা চায়ের দোকানের বেঞ্চিতে বসে বললাম- 

-“ এক কাপ চা আর একটা ডিম-টোস্ট”। 
আমার পাশে এক মাঝবয়স্ক ভদ্রলোক বসেছিলেন। আমার দিকে চেয়ে ভারি অমায়িক হাসলেন। হাসি ফেরত দিলাম।
ভদ্রলোক ভুরু নাচিয়ে বললেন “ ভায়া, এই যে আপনি ডিম-টোস্ট চাইলেন, আর দোকানি-ব্যাটা ঘাড় নেড়ে বললে ‘দিচ্ছি’, আপনি কিন্তু ঠকে গেলেন”
-“ মানে ?” ঘাবড়ে গেলাম।
-“ মানে  আপনি চাইলেন ডিম-টোস্ট, আপনাকে ও দেবে ডিম-রুটি
-“ তো ? তফাৎটা কি  তাতে ?”
- “ সে কি! তফাৎ নেই ?  ভ্যানিস আর হাপিশ কি এক ? কলকাতা আর ক্যালক্যাটা কি এক ? ইসবগুল আর জেলুসিল এক ?”
-“ না মানে বুঝলাম না ঠিক। ডিম-টোস্ট আর ডিম-রুটি এক নয় ?”
-“ আরে ভায়া ডিম-টোস্টে থাকবে চৌকো তুলতুলে পাউরুটি। আলতো আঁচে রিফাইন্‌ড অয়েলে ভাজা। মখমলে টেক্সচার। সখের পায়রা। টোটাল বুর্জোয়া মেটেরিয়াল। বোন-চায়নার প্লেটে সাজিয়ে; ইকনমিক টাইম্‌স পড়তে পড়তে খাওয়ার চিজ
।  
আর এইখানে আপনি পাবেন ডিম-রুটি। লম্বাটে পাউরুটি, পেছন-মোটা, খড়খড়ে। সেই মালকে সসপ্যানের মধ্যে ফেলে ডিমে-সর্ষের তেলে ভেজে নেওয়া; তারপর তা তোবড়ানো  ষ্টীলের প্লেটে রেখে, বিট-নুন ছড়িয়ে হাভাতের মত মুখে চালান করা। আদর্শ প্রলিটারিয়াট খানা।
এই দুই ব্যাপার কি এক ? যদি বলেন একই ব্যাপার; তবে তো বলতে হয় যে পাটালি আর ঝোলাগুড়ে কোনও ফারাক নেই, ইলিশ আর তেলাপিয়া ভাই-ভাই।”
-“ ইয়ে, তাহলে আমি ওই ডিম-রুটিই চাই, ডিম-টোস্ট বলা আমার ঘাট হয়েছে”
-“ অফ কোর্স ঘাট হয়েছে। আরে বাবা খিচুরি-এঁটো মুখে চিলেকোঠার চুমু আর হোয়াইট-ওয়াইনের গেলাস হাতে ফ্রেঞ্চ কিস কি এক বাত ? ম্যাকডোনাল্ডস’য়ের  ফ্রাইজ আর ঝুরো-আলু ভাজায় ফারাক নেই ?”
-“আমি সরি দাদা। এবার থামুন প্লিজ”
- “মুখে প্লিজ-মনে খিস্তি নয় তো ? সরি না দুঃখিত ?”

ডিম-টোস্ট; থুড়ি...ডিম-রুটি’র মায়া ত্যাগ করে বেঞ্চি ছেড়ে সরে পড়লাম।

পুজোর আট - ২০১৪

-   মহালয়া কি ডাইরেক্ট ক্যাচ করবেন বলে ঠিক করেছেন মিত্রবাবু?
-   কেন ?
-   না মানে অফিস রয়েছে কি না, অত ভোরে উঠলে আবার গোটা দিন গা-ম্যাজম্যাজ...বেলা বাড়লে বরং...আজকাল তো মহালয়ার সিডি পাওয়া যাচ্ছে
-   শুনুন মশাই, বাসি মহালয়া ইজ লাইক চালানি কাতলার ট্যালট্যালে ঝোল অমৃত আমার রুচবে না ভদ্রবাবু কাক ভোরে মেরুদণ্ডে পালক বুলিয়ে দেবেন, তবেই না থ্রিল

-   পুজোয় আমার আবার একটু বেড়িয়ে না আসলে চলে না মনটা আঁকুপাঁকু করে পাহাড়, সমুদ্র বা জঙ্গল নিদেন পক্ষে বোলপুরে গিয়ে চার দিন তা না হলে আমার চলে না, বুঝলেন কী না আপনার বোধ হয় তেমন বাতিক নেই, তাই না?
-   আমি ? পুজোয় আমার সমুদ্দুর বলতে খিচুড়ির বালতি, পাহাড় বলতে দুপুরের জগদ্দল ঘুম আর জঙ্গল বলতে পাড়ার মণ্ডপের ভিড়

পুজো ডায়েরি ২০১৩


প্রথম কিস্তি ঃ



মহালয়ার ব্যাপার-স্যাপার


মহালয়া। সলিড ভাবে ডেভেলপ করতে হবে। এক্কেবারে মার কাটারি লেভেলে জেগে উঠবো। তবেই না বাঙালি, তবেই না সোনার বাংলা। ছেলেবেলায় মনে আছে দাদু মহালয়ার আগের রাতে মন দিয়ে জোগাড় করে রাখতেনএই কটা জিনিষ:
-      টর্চ ( অন্ধকার থাকতে উঠতে হবে, সুইচ বোর্ড পর্যন্ত পৌঁছোবার জন্যে)
-      রেডিও
-      অ্যালার্ম ঘড়ি
-      এক প্যাকেট চানাচুর
-      চায়ের ব্যবস্থা
ভেবে দেখলাম মোবাইল ফোনে অ্যালার্ম রয়েছে। রেডিও’ও রয়েছে। এমনকি তাতে টর্চও মজুত। তোফা। চেক লিস্ট সহজ হয়ে এলো। অফিস ফেরতা এক প্যাকেট চানাচুর, গরম জলের ফ্লাস্ক আর টি ব্যাগ্‌স নিয়ে এলাম। ভোর বেলা বউকে চা বানাতে বললে আমার কোপ্তা হয়ে যাওয়ার গভীর সম্ভাবনা রয়েছে।
রাত্রি বেলা চাট্টি কাতলা ঝোল ভাত খেয়ে ফুরফুরে মেজাজে নিদ্রা গেলাম।
ব্যাটাচ্ছেলে ইমবেসাইল মোবাইল; অ্যালার্ম বেবাক ধোঁকা মেরে দিলে! এ-এম পি-এম’য়ে গড়বড় ঘটে যাওয়ায় ঘুম ভাঙল বেলার সাড়ে সাতটায়; বউ’য়ের ধমকানি তে। ধড়ফড় করে উঠে দেখি বীরেন্দ্র কৃষ্ণ ইতিমধ্যেই বাংলা তোলপাড় করে সরে পড়েছেন। বাইরে চড়া রোদ, অফিস যাওয়ার সময় চলে এসেছে।

মেহেরবানী

১ 

মেহেরের বুকটা ঢিপঢিপ করছিল। অনধিকার প্রবেশ ব্যপারটা গোলমেলে তো বটেই। অবিশ্যি পেল্লায় এই পুরনো বাড়িটা এমনিতে বেওয়ারিশ। ডিজিটাল সিকিউরিটি বলতেও তেমন কিছুই নেই; ঢুকতে বিশেষ ঝামেলা পোয়াতে হয়নি তাকে। রামেসি ঠিক যেমন ভাবে বলেছিল তেমন ভাবে এগিয়েই ঢুকে পড়তে পেরেছিল মেহের। ধরা পড়লে বেশ কিছু টাকা ফাইন দিয়ে গচ্চা যাবে এবং বাবা মাথা চিবিয়ে খাবেন, সেটাই চিন্তা। 

বাড়ির সামনের বারান্দায় দাঁড়িয়ে রইলে মেহের। রামেসি আসবে, সদর দরজা - খোলার চাবি রয়েছে তার কাছেই। রামেসি ভদ্রলোকটির এলেম আছে, এসব পুরনো ডিজিট্যাল-বাড়িগুলোর সমস্ত খবর তার নখদর্পণে। ব্যাটার ব্যবসাই হচ্ছে এ সব জায়গায় বেআইনি ভাবে লোকজনদের ঘুরিয়ে আনা। তবে মেহের ভেবেছিল যে তার মত সতেরো বছরের কচি মেয়েকে রামেসি পাত্তা নাও দিতে পারে। কিন্তু সে যে শেষ পর্যন্ত রাজি হয়েছে এটাই বড় কথা। রামেসি যা কমিশন চেয়েছে তাতে মেহেরের এ মাসের পকেট মানির অর্ধেকটাই বেরিয়ে যাবে। কিন্তু মেহেরের উপায় ছিল না। এ বাড়িতে তাকে ঢুকতেই হত। তার বংশের সাথে সবিশেষ ভাবে জড়িয়ে এই বাড়িটা, সেটা সে সদ্য জেনেছে। সরকারের কাছে দরখাস্ত করলে অবশ্য এ সব ডিজিট্যাল বাড়িতে ঢোকার অনুমতি আদায় করা যায়, কিন্তু তার জন্য সময় লাগে অন্তত এক মাস। অত ধৈর্য মেহেরের ছিল না। তাছাড়া বাবাও রাজি হতেন না। রামেসির এই পন্থাই ভালো। এখন ভালোয় ভালোয় সব কিছু মিটলে হয়।

Wednesday, September 24, 2014

প্রেম করবি?


প্রথম পর্ব

-প্রেম করবি ?
-একটা থাপ্পড় মারবো।
-ওকে ছাড়...ঘুগনি খাওয়াবি?
-হোয়াট দ্য...!! ঘুগনি খাওয়ালে তোর আর আমার প্রেমের দরকার হবে না?
-মদ খাই না। আমি ঘুগনি-দেবদাস।

দ্বিতীয় পর্ব

-প্রেম করবি ?
-এবার কিন্তু সত্যিই মেজদাকে বলে দেব।
-ছাড়। বরং এগরোল খাইয়ে দিস।
-তাহলেই তুই খুশি?
-অন্তত এগরোলে লংকাটা অপশনাল

Tuesday, September 16, 2014

বানান

অনিমেষ বুঝতে পারছিলেন যে ক্লান্তি একেই বলে। টানা দু'ঘণ্টা ফুটবল পিটিয়েও এমন ক্লান্তি কখনও শরীর জুড়ে আসেনি। তর্ক সাধতে তার জুড়ি নেই, দুর্বার তর্কের ঝড়ও তাকে কোনদিন এমন শ্রান্ত করে দেয়নি। সাংবাদিকতার পেশায় প্রায় জীবনভর কাটিয়েও এমন অসহায় ভাবে ঢলে পড়তে হয়নি কখনো তাকে। তবে এ ঠিক ক্লান্তি নয়; অবসাদ বলা ভালো – বেদনামাখা অবসাদ ঠিক বলা চলে না অবশ্য। বুকের ব্যথাটা বরং আদৌ টের পাচ্ছিলেন না যেন। তবে বুঝতে পারছিলেন হিসেব মোটামুটি গুটিয়ে আনা গেছে। বিরানব্বুই। আর কত!

-   “বিনি আছিস?”, অনিমেষ বালিশ থেকে মাথা তুলবার চেষ্টা করলেন, পারলেন না।
-   “কিছু বলবে বাবা?”
-   “তমাল এসেছিল না?”
-   “তমাল কাকু তোমার পাশেই বসে তো”
-   “ওহ, তমাল না কি ওদিকে?”
-   “ অফ কোর্স, ঠাহর করতে পারছ না? বয়েস হয়ে গেল তোমার”
-   “বিনি, একটু অন্য ঘরে যাবি? তমাল-কাকুর সাথে কিছু...”
-   “বেশি কথা বোল না বাবা...”
-   “প্লিজ বিনি”
-   “আমি আসছি, কাকু দেখো বাবা যেন বেশি...”
-   “তুই যা। আমি আছি। চেহারার অবস্থা তো বেশ ঘোড়েল বানিয়েছ অনিমেষ-দা, কি ব্যাপার বল তো। সেঞ্চুরির ইচ্ছে নেই?”
-   “তোর ইচ্ছে নেই ? সেঞ্চুরির?”
-   “ছিল। তবে লিভারের আর হার্টের যা অবস্থা, নব্বুই ছুঁতে পারব না বোধ হয়। মেরেকেটে আর বছর তিন। কি কথা বলতে ডেকে আনলে বল এবার”