Sunday, February 7, 2016

গোপন কোড

ছোকরা তখন থেকে ঘুরঘুর করছিল আমাদের পার্টি আপিসের আশেপাশে। হলুদ হাফ শার্ট আর জিন্স, হিরো সাইকেল। নিষ্পাপ অল্প গোঁফ চেহারা। আগ্রহী বলে মালুম হচ্ছিল।
- অ্যাই যে, ওই তোমাকেই বলছি। আরে এইয়ো, হলুদ টিশার্ট ভায়া। এদিকে এসো দেখি।
- আমি?
- হলুদ টিশার্ট তো আর ক্ষেন্তি পিসি পরে নেই।
- আজ্ঞে, ভিতরে আসব?
- আমিই ডাকছি তো, এসো।
- আজ্ঞে।
- বসো।
- আজ্ঞে।
- তা, কী মনে করে ঘুরঘুর করা হচ্ছিল?
- না ঠিক ঘুরঘুর নয়, ভিতরে আসতেই চাইছিলাম; শুধু সাহসে কুলোচ্ছিল না।
- নাম কী?
- আমার?
- ক্ষেন্তিপিসির নাম আমি জানি। এমনকি নিজের নামটাও।
- ওহ। আমি মদন। মদন সেন।
- তা মদনা, এদিকে কী চাই?
- আজ্ঞে আমি শুনেছি চোদ্দই ফেব্রুয়ারির আগেআগেই আপনারা রিক্রুট করেন। আমি এনরোল করাতে এসেছি।
- রেকমেন্ডেশন ছাড়া তো আমরা...।
- আজ্ঞে রেকমেন্ডেশন আছে। বামুনপাড়ার...।
- উঁহু। উঁহু। তার নাম চাই না। নাম চাই না। কোড নিশ্চই বলে দিয়েছে সে। সে'টা জানালেই তোমায় এনরোল করে নেওয়া হবে।
- কোড?
- গোপন কোড। জানো?
- আজ্ঞে।

মদন কাঁপা হাতে বুকপকেট থেকে এক পিস টসটসে সবুজ আঙুর টেবিলের ওপর রাখলে। সে আঙুর তুলে আমি মুখে পুরে দিলাম।
বিশ্রী টক আঙুর, মাথা ঝনঝন করে উঠল। বুঝলাম, ছেলেটা জেনুইন।
এক গাল হেসে বললাম "অখিল ভারত হনুমান সেনা পার্টির সদস্যপদলাভের যোগ্য তুমি। ভারতের সংস্কৃতি আর ঐতিহ্য বাঁচানোর জন্য ডাণ্ডা হাতে আগামী চোদ্দই থেকে তোমায় পথে নামতে হবে মদন"।


অমৃতেন্দু

অমৃতেন্দুর কপালটা মুখে রাখলেন বন্দুককুমার। 
স্নেহ। স্নেহ। 
কেউ স্নেহের চাঙড়টা দেখতে পেলেনা যখন বুক থেকে এক টুকরো পাঁজর খুলে অমৃতেন্দুর মনে গুঁজে দিলেন বন্দুককুমার।


**
সিঁড়িটা রোজ অমৃতেন্দুকে বেয়ে নেমে আসে অন্ধকারে। অমৃতেন্দু ছাদের রোদে সিঁড়ির হারিয়ে যাওয়া টের পায় না।

**
চাকরীটা অমৃতেন্দুকে জড়িয়ে ধরলে। চাকরীর বুক থেকে আঁচল খসে গেছিল। অমৃতেন্দু না বলতে পারেনি।

**
ট্রাম রোজ অমৃতেন্দুকে নামিয়ে উত্তরণ অনুভব করে। অমৃতেন্দু ভাবে সে কলেজমুখো হচ্ছে। অমৃতেন্দু ভাবলে এগজামিনে নম্বর, অথচ বুঝলে না যে এগজামিন তার কলার টেনে ধরেছে।

**
অমৃতেন্দুর ছাত্র ইতিহাস। মহেঞ্জোদারোরর স্বপ্ন কেসি নাগের অঙ্কের বইতে বুনেছে সে। অথচ জয়েন্ট অমৃতেন্দুতে সেঁধিয়ে একাকার ঘটালে।

সমু আর নতুন নাম

- ফাইন্যালি।
- ফাইন্যালি।
- আমরা পালাচ্ছি সমু। কাল আমাদের বিয়ে।
- টু রিফ্রেজ, আমি তোকে নিয়ে পালাচ্ছি।
- তুই ছেলে বলে?
- না। ট্যাক্সিটা আমি ডেকেছি বলে।
- বেশ। তা আমি যে তোকে আমায় চুরি করতে দিলাম, আমায় কিছু উপহার দিবি না?
- দেব। একটা নাম।
- ধ্যাত। ন্যাকা।
- নামটা ওয়ার্দি।
- কী শুনি?
- পেট্রি।
- উচ্চারণটা কিন্তু...।
- সাধে তুই ইংরেজিতে নব্বুই পেয়ে অঙ্কতে অক্কা পেতিস!

(Image Source : urnabios.com

ফ্লায়িং স্যান্টা


- থলে মে কেয়া হ্যায় সন্টা?
- বচ্চা লোগোকা রিটার্ন গিফট। ডিসেম্বর মে মিলা।
- রিটার্ন গিফট? কয়া বাত। বহুত খুব।
- শুক্রিয়া। ধনিয়াবাদ। এহি রিটার্ন গিফট মেরা স্লেজ কা জ্বালানি হ্যায়।
- স্লেজ কা জ্বালানি? উয়ো সব বরফিলা হরিণ ফির কেয়া করতা?
- উয়ো সব ফর শো হ্যায় ভায়া। হরিণ কা বাচ্চা আমাকে টানেগা? কেইসে? আমার ওজন পতা হ্যায় কিতনা? দেখিয়ে, স্লেজ মে জ্বালানি কা ট্যাঙ্কি হ্যায়, সিক্রট ট্যাঙ্কি। উসমে হম রিটার্ন গিফট কা ফুয়েল ভরতা অউর স্লেজ হুশহুশ করে উড়তা। ইয়ে থলে মে রিজার্ভ ফুয়েল স্টক রাখকে ম্যায় ঘুমতা।
- আখির ইয়ে রিটার্ন গিফট হ্যায় কেয়া? ক্যা চিজ দেতা বচ্চালোগ তুমকো?
- রিটার্ন গিফট? অঙ্কে ভুল।
- কেয়া?
- বচ্চা লোগ অঙ্ক মে ভুল করতা হ্যায়। ম্যায় জমাতা হ্যায়। ওহি গিফট। রিটার্ন গিফট। মেকস মি ফ্লাই।


Thursday, February 4, 2016

অন্যদিকে

"ওদিকের জানালাটা আমার বেশ প্রিয় জানো অপর্ণা!  জানালাটার ওপারে একটা পুরোনো বাড়ি যা এক কচি খোকা দিনরাত হাসিকান্নায় মাথায় করে রেখেছে। সে বাড়ির পাশ দিয়ে সরু ইট বাঁধানো রাস্তা গিয়ে মিশেছে আকাশে। আকাশটা অমন মরচে মাখানো সাদা কেন, তাই ভাবছ? আর সাদার গায়ে ছোপ ছোপ কেন?

ক'দিন থাকো এখানে। তারপর বুঝতে পারবে। ওই যে'টাকে ফ্যাকাশে সাদা আকাশ ভাবছ, সে'টা আসলে পুরোন বইয়ের পাতা। কালো ছোপ ছোপগুলো হচ্ছে ছাপার অক্ষর। ছাপা ছেতরে গেছে কেন তাই ভাবছ? আসলে মেয়েটা ঘুরে ফিরে এ পাতাটায় ফেরত আসে, উদ্ভ্রান্তের মত পড়ে আর ফিরে যায়। বড় মায়া আছে মেয়েটার চোখে। ভেজা। বালিশে আর বইয়ের পাতায় সে ভেজা ভাব মিশে যায় বারবার।

অবিশ্যি মায়া মেয়েটার মধ্যে না তার চোখের জলে ভেজা বালিশে তা বলতে পারিনা। তবে সে বালিশে যখন এ পাতায় খোলা বইটা উপুড় করে রাখে মেয়েটা, তখন ওই ডান দিকের লাগোয়া ছাতে বৃষ্টি নামে; আমি বেরিয়ে ভিজে আসি বেবাক। বেশ লাগে।

এখন কিনা বইটা বন্ধ করে রাখা, তাই আকাশ অমন ফ্যাকাসে। তাই হয়তো তোমার অমন গুমোট লাগছে।  মেয়েটা মন খারাপে পড়লেই এ বই বিছানায় নিয়ে এসে সপাট চলে আসে এ পাতায়। সেদিন আকাশ জুড়ে শুধু মেঘ, সে মেয়ের চোখের মেঘকালো আনচান। মন খারাপের রঙ আর মন ভালোর গন্ধ মেশানো।"

***
বারবার এ পাতায় ফিরে আসা। বারবার। তবু এদ্দিন অপুকে ডিঙিয়ে অপর্ণাকে ছুঁতে পারেনি সুমি। কিন্তু আজ কেমন করে যেন ঝরঝর করে অপর্ণা বয়ে চলে  এলো। পুরোনো ভালো লাগা বইকে নতুন করে চেনা যে কী আনন্দের। বিষন্নতা মন্দ নয়, সুমির তাই ভেবে হাসি পেলো। মন ভালো করা হাসি। ভেজা হাসি।

***
অপর্ণা বুঝলে বৃষ্টির ভিজে যাওয়ার বড় আদরের। আর বৃষ্টির আদর বড় লজ্জার। সংসারে ভেজা মাটি আর বইয়ের গন্ধ খুঁজে পায় সে। অপুর ঠোঁট আবডাল দেখে তার বৃষ্টি ভেজা গালের কাছে নেমে এলে সে ফিসফিসিয়ে ওঠে "প্রতি বৃষ্টিতে একটা করে, কথা দিয়েছ কিন্তু"।

Wednesday, February 3, 2016

কবিজন্ম

ভোর ছ'টার ঝমঝমে অ্যালার্মে সচকিত হয়ে ওঠেন শ্রী মধুসূদন মিত্র। আর পাঁচটা দিনের মতই। তারপর কলগেটে দাঁত ব্রাশ করতে করতে ছাতে যাওয়া আর ব্রাশ মুখে নিয়েই সামান্য ফ্রি হ্যান্ড। নিচে নেমে মুখ ধুয়ে ফ্রেশ হয়ে এক কাপ চা আর দু'টো ক্রিমক্র্যাকার বিসকুট খেয়ে তবে তার লিখতে বসা। প্রতিদিন। মধুসূদন মিত্রর লেখার মেহগনি টেবিলটির বয়স এ বাড়ির সমান; অর্থাৎ একশো বছরের চেয়েও বেশি। মধুসূদনের দাদু উকিল ছিলেন, কোর্টের যাবতীয় কাজকর্ম এ টেবিলে বসেই দেখাশোনা করতেন তিনি। মধুসূদনের বাবাও উকিল ছিলেন; তিনিও এ টেবিল সেভাবেই ব্যবহার করে গেছেন। কিন্তু মধুসূদন উকিল হননি। এ টেবিল তিনি ছেলেবেলা থেকে ব্যবহার করে আসছেন কবিতা লেখার জন্য। কবির জীবনে কবিতা ছাড়া যেটুকু; সেটুকুই তো অপ্রয়োজনীয়। সংসারে একে একে সক্কলে মধুসূদনকে রেখে সরে পড়েছেন। কিন্তু এই পেল্লায় বাড়ি, দারোয়ান রামদিন, চাকর উমাপদ আর কবিতা তাকে ছেড়ে যায়নি কোনদিন। এই বাষট্টি বছর বয়েসেও মধুসূদনের জগতটা কবিতায় কবিতাময়। দুনিয়াটা তাকে অবশ্য চিনল না। প্রকাশকেরা ছাপলেন না, লোকে পড়লে না। নিজে খরচ করে বার তিনেক বই ছাপিয়েও সে বই বিক্রি করাতে পারলেন না। ফলত প্রকাশকরা আর তার দিকে ফিরে তাকালেন না। লিটল ম্যাগাজিনের লোকজন তার যৌবনে তার লেখা নিয়ে কম হাসিঠাট্টা করেনি।কিন্তু মধুসূদন দমে যাননি। তিনি দমতে পারে না। কঠিন অনুশীলন আর প্রবল অধ্যবসায়কে ভর করে তিনি ক্রমে নিজেকে কবিতার কারখানায় পরিণত করেছেন। আর্টিস্ট আর্টের জন্য বাঁচবে আর আর্ট রইবে নিজের খেয়ালে। এ বিশ্বাসকে স্পর্শ করতে পেরেছেন মধুসূদন। সকালে চা খেয়ে মধুসূদন লিখতে বসেন বেলা সাতটায়। প্রতিদিন তার জন্য রাখা থাকে একটা নতুন কালো মলাটের ডায়েরি আর তার পাশে নতুন ফাউন্টেন পেন। এ খাতা আর কলম, দুইই সযত্নে অর্ডার দিয়ে বানানো। প্রতিদিন ভোরবেলা একটা করে নতুন খাতা আর একটা নতুন কলম টেবিলে এনে রেখে যায় উমাপদ। প্রতিদিন। উমাপদ বেলা ন'টা নাগাদ মধুসূদনকে জলখাবার বেড়ে দেন। সেই সামান্য বিরতি নিয়ে ফের লেখায় ফিরে আসেন কবি মধুসূদন। এগারোটা নাগাদ নিয়মিত একটা সিগারেট ধরিয়ে থাকেন তিনি। নিয়মিত। এই একটা সিগারেটের ধোঁয়ায় তার বুকের মধ্যে জমে থাকা কবিতারা ট্রাপিজ খেল দেখানেওয়ালাদের মত পাক খেতে খেতে মন বেয়ে ডায়েরীতে নেমে আসে। সিগারেটটা না খেয়ে উপায় থাকে না। তবে ওই, দিনে একটাই। এরপর ফের লেখায় ফিরে যাওয়া। পরের বিরতি বেলা একটায়। এক ঘণ্টার মধ্যে স্নান খাওয়া আর সামান্য বিশ্রাম সেরে ফের কবিতার ডায়েরীতে এসে বসেন মধুসূদন মিত্র। বসার আগে একবার রামদিনকে ডেকে মধুসূদন খোঁজ নেন, "সে কী এসেছে?"। রোজ। বছরে তিনশো পঁয়ষট্টি দিন একই প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন তিনি। আর প্রত্যেকদিনই রামদিন ঝুঁকে নুইয়ে তাকে আশ্বস্ত করে। এরপর তার ফের কবিতায় ডুব দেওয়া। কবিতার সাগর থেকে উঠে আসতে আসতে সন্ধ্যে হয়ে আসে। রোজ। রোজ নতুন কালো মলাটের কবিতার ডায়েরি প্রায় অর্ধেক ভরিয়ে দেন তিনি। মধুসূদন জানেন এই যে ডায়েরীতে কলম ছোঁয়ালেই কবিতার বন্যা বইয়ে দেওয়ার অভ্যাস, সে'টা আসলে একটা জিনিয়াসের লক্ষণ। তবে লেখা ছাপানোর জন্য তদ্বির করা বহুদিন আগেই ছেড়ে দিয়েছেন তিনি; ওই আর্ট আর্টের জন্যেই, তার কোন ডাইনে বাঁয় নেই। সন্ধ্যে বেলা কবিতা লেখা শেষ করে পেনটা ডাস্টবিনে ফেলে, ডায়েরী বগলদাবা করে সিধে উঠোনে চলে যান মধুসূদন । উঠোনের কোণে বাঁধা পাঁঠাটিকে সম্ভ্রমের সাথে "কেমন আছেন প্রকাশক মশাই?" বলে এগিয়ে যান তিনি। রোজ। প্রতিদিন। পাঁঠাটির কাছে গিয়ে তার গায়ে মাথায় হাত বুলিয়ে দেন খানিক, মাঝে মাঝেই একই প্রশ্ন ঝালিয়ে নেন "কেমন আছেন প্রকাশক মশাই?"। শেষ পর্যন্ত কবিতার ডায়রিটা সম্পূর্ণ ভাবে খাইয়ে দেন পাঁঠাটাকে। রোজ। প্রতিদিন। ডায়রি হজম করে পাঁঠাটি বড় জোর আধ ঘণ্টা পঁয়ত্রিশ মিনিট বেঁচে থাকে। বড় জোর। তারপর রামদিন তাকে কাটে, উমাপদ রান্না করে আর কবি মধুসূদন নলি হাড় চোষেন। রোজ রাত্রে কবির পাঁঠা ছাড়া ভাত রোচে না। রোজ। রোজ সকালে রামদিনের নতুন পাঁঠা আনতে যাওয়া, উমাপদর বিষের কালির পেন আর বিষ মাখানো পাতার ডায়েরী আনতে যাওয়া আর কবিতা মাখানো তৃপ্তির ঢেঁকুর নিয়ে মধুসূদনের আড়মোড়া ভাঙা। প্রতিদিন। কবির নিজেকে ফিনিক্স করে অবলীলায় ধুলোয় মিশিয়ে দেওয়া। প্রতিদিন। কবির প্রতিশোধ অঙ্ক মেনে হয় না আর সেটাই স্বাভাবিক।

Tuesday, February 2, 2016

চারমিনারের বাক্সে

চারমিনারের বাক্সে কী করে এলাম বুঝতে পারছি না। নড়তে চড়তেও পারছি না।
চারমিনারের বাক্স বুঝতে পারছি সুবাসে আর চেনা রাঙতায়। ঠাসাঠাসি অবস্থার মধ্যে রয়েছি। আমার ডাইনে সিগারেট, বাঁয়ে সিগারেট, সামনে সিগারেট। অদ্ভুত ঝামেলা। গলা দিয়ে আওয়াজও বেরোচ্ছে না। 
মুশকিল হল।

এমন সময় ঢাকনা খুলে যাওয়াতে একরাশ টিউবের আলো ঝলসে উঠলে। দু'টো আঙুল এসে আমার ঠ্যাঙ ধরে দিলে হ্যাঁচকা টান। আঙুল দু'টো চেনা হাতের; বুড়ো আঙুলের ডগার ওই পুরোনো কাটা দাগটা আমারই। কী গোলমাল। খেইমেই করে চিৎকার করতে চেয়েও লাভ হল না, নিজের আওয়াজ নিজের কানেই গোঁত্তা খেয়ে অক্কা পেল।
সর্বনাশ হল তারপর। পেল্লায় জ্বলন্ত একটা দেশলাই আমার মুণ্ডুর কাছে ভেসে এলো। পেল্লায়। নিজে নিজেকে সিগারেট ঠাউরে জ্বালিয়ে দিচ্ছি না তো? বাপ রে মা রে হাউমাউ করেও লাভ হচ্ছে না।

**

প্রত্যেকবার সিগারেট ধরানোর সাথে সাথে এই মাথার ভিতরের জ্বালা জ্বালা ভাবটা অসহ্য হয়ে উঠছে ক্রমশ। কানের মধ্যে একটা কুইকুই শব্দও হয় যেন, ঠিক ঠাহর করা যায় না। নাহ! সিগারেটটা জ্বালাতে গিয়েও জ্বালানো হলো না। অপর্ণাকে ডেকে বললাম "শুনছ, আজ থেকে দিনের একটাও বাদ দিলাম। কেমন? বলি এর জন্য একদিন এক্সট্রা মালপো হবে কি এই মাসে?"

**
"বাবা গো, তোমার সে গোপন ওষুধ ধন্বন্তরির মত কাজ করেছে বাবা। দু'দাগ ওষুধ সবে দুধে গুলে খাইয়েছি গত মাসে। হপ্তা দুইয়ের মধ্যে তিনি সে বদ নেশা ছেড়েছেন। তুমি ধন্য বাবা, তুমি ধন্য, জয় বিরিঞ্চি বাবার জয়"।

ঝগড়া ও কবিতা

ঝগড়ার গন্ধ বিটকেল। যন্ত্রণার। বুকে পেঁচিয়ে পেঁচিয়ে জ্বালা উঠে আসে। ভলকে ভলকে ব্যথার গনগনে আঁচ গলার ভিতরে জমা হয়। জিভ তেতো হয়ে আসে। মগজে কনকনিয়ে ওঠে ছুঁচের এফোঁড় ওফোঁড়। বুকের ভিতর বমিতে ভেসে যায় এমন সে বিশ্রী গন্ধ।
অন দ্য আদার হ্যান্ড।

"আর কথা বলিস না"য় বিটকেল কোন গন্ধ নেই। বরং অল্প জুঁই মেশানো আছে। অল্প মেঘ। অল্প ছাতের শ্যাওলা। অল্প দীঘির টলমল। অল্প তরকারি। অল্প দুপুরের অঙ্ক টিউশানি থেকে তৈরি হওয়া বিরক্তি। অল্প কোপানো নরম মাটি; যা ডালিয়ার জন্য। অল্প সঞ্জীবের গল্পের প্লট না থাকা তুলির স্ট্রোক। 
আর থাকে অস্পষ্ট ছুরি। অস্পষ্ট; কারণ হাতল ছাড়া বাকিটুকু হারিয়েছে বুকের আড়ালে।


- সবাই কবিতা বোঝে?
- প্রশ্নটাটা ম্যাথেম্যাটিক্যালি ফানি।
- হাউ?
- যারা বিশ্বাস করে যে সবাই কবিতা বোঝে না; তারা আসলে কবিতা বোঝে না।
- ও।
- মানে তোর সওয়ালের উত্তর হওয়া উচিৎ হ্যাঁ। কিন্তু সঠিক উত্তর হল না।
- উচিৎ একটা। সঠিক অন্যটা।
- বিউটিফুলি গ্রিপ করেছিস।
- তোকে আর জিজ্ঞেস করছি না কিছু।
- কবিতা তোকে ছুঁয়েছে।