Tuesday, January 7, 2020

মামার বাড়ি


- এই দ্যাখ...।

- মামা...মামা গো..এ'টা?...মানে...মামা...!

- দো'তলা। দেড়হাজার স্কোয়্যারফুট নীচে, দেড়হাজার স্কোয়্যার ফুট ওপরে। মার্বেল ফ্লোরিং। দু'টো মডিউলার কিচেন। টোটাল চারটে বাথরুম, একটায় আবার নীল রঙের বাথটাব। দু'টো চমৎকার ব্যালকনি..।

- মামা...কিন্তু এ'টা তো...।

- সাউথ ওপেন রে। আহা, বড় ব্যালকনিতে বসলে চানাচুরের স্বাদ ডবল হয়ে যায়, মাদুরে পশমের ছোঁয়া পাওয়া যায়..।

- কিন্তু মামা, এ যে...।

- জানি। এত সস্তায় এমন দাঁও মারতে পারব ভাবিনি। 

- তুমি কিনে নিয়েছ? 

- নয়ত কী? শ্যামনগরের জমিটা বেচে দিলাম....।  

- তোমার কি মাথা খারাপ হয়েছে মামা?

- জিনিয়াসকে পাগল বলার বদ অভ্যাসটা সমাজ আর ত্যাগ করতে পারবে বলে মনে হয়না রে ভাগ্নে। 

- মামী জানে?

- মামী কি এমন ব্যালকনি মূল্য বুঝবে রে? নাহ্।  শ্যামনগরের জমিতে টমেটো চাষ করার বিটকেল স্বপ্ন নিয়েই সে মরল। ধেত্তেরি। 

- মামা গো...কিন্তু তাই বলে এই...।

- তবে বগলাকে ক্রেডিট না দিলে পাপ হবে৷ রাতে তান্ত্রিক হলে কী হবে, দিনেদুপুরে ওর মত করিতকর্মা রিয়েলএস্টেট এজেন্ট মেলা ভার।  খবরটা চোরাগোপ্তা সেই জোগাড় করে এনেছিল। ইনফ্যাক্ট,রাতারাতি শ্যামনগরের জমি বেচার ব্যবস্থাও সেই করে দিয়েছে।  একটু সস্তায় ছাড়তে হল বটে, তা যাকগে। নয়ত এই প্রাসাদটা হাতছাড়া হয়ে যেত রে।

- তোমার মাথায় পোকা পড়েছে না চোখে ঠুলি?

- শাট আপ। কলেজে গিয়ে তোর বড় চ্যাটাংচ্যাটাং কথা হয়েছে ভাগ্নে। খুব লায়েক হয়েছিস, তাই না? দু'পাতা ইংরেজি পড়ার কনফিডেন্সে মামাকে ইনসাল্ট করা? এমন হাইক্লাস বাড়ি আশপাশের পাঁচটা পাড়া ঘুরে একটাও পাবি রে ইডিয়ট? মানছি এখন আশেপাশে জঙ্গল রয়েছে। কিন্তু বগলা মিউনিসিপালিটির ফাইল ঘেঁটে গোপন খবর বের করে এনেছে। ওই দক্ষিণের দিকে যে জঙ্গল দেখছিস? ও'টা সাফ করে শপিং মল বসবে; চারতলা, সিনেমা হল সহ। উত্তরের দিকে আগাছা সাফ করে তৈরি হবে মাল্টিস্পেশ্যালিটি হসপিটাল। পূর্বে থাকবে চিল্ড্রেন্স পার্ক আর পশ্চিমে একটা পেল্লায় জলাশয় না বে অফ বেঙ্গল কিছু একটা বসাবে। আরে গোটা রাজারহাট এসে বসবে এখানে...।

- বগলার মত একজন ফোরটুয়েন্টির কথা বিশ্বাস করে শ্যামবাজারের জমি জলে দিলে মামা?

- তবে রে রাস্কেল?

- এ'টা দোতলা বাড়ি? চোখ কচলে দেখো দেখি।  এ'টা যে বগলার মগজধোলাই যন্ত্র, জঙ্গলের মধ্যে এনে লুকিয়ে রেখেছে। সে ব্যাটা তোমায় এ যন্ত্রের মধ্যে নিয়ে গেছিল বুঝি?

- তুই একটা আস্ত শয়তান। গুরুজনের সঙ্গে ওপরচালাকি? আমি তোর নামে মামলা করব, গুণ্ডা লাগাব তোর পিছনে।  এ'টা যন্ত্র? স্পষ্ট দেখতে পারছি দোতলা বাড়ি..।

- উফ মামা...। এটা বাড়ি?

- আলবাত বাড়ি। দোতলা প্রাসাদ। ওই যে, ওইদিকে দ্যাখ বাড়ির দেওয়ালের গায়ে মার্বেল ফলকে লেখা আছে বাড়ি নাম..।

- বাড়ির নাম...?

- ভালো করে দেখ। স্পষ্ট লেখা আছে; "ডেমোক্রেসি"।

Monday, January 6, 2020

পথের দাবী ও ভারতী

 ২০১৯ শেষ করেছি আর একটা রী-রীড দিয়ে। "পথের দাবী" ফের পড়ার মূল কারণ ছিল গোরার পাশাপাশি পথের দাবীর অপূর্ব আর সব্যসাচীকে যাচাই করে নেওয়া। তা দেখা গেল সনাতন ভারত সম্বন্ধে কিছু আলগা ধারণা ছাড়া অপূর্বের সঙ্গে গোরার বাস্তবিকই কোনো যোগাযোগ নেই। 

ইদানীং একটা বড় শিক্ষা আত্মস্থ করার চেষ্টা করছি; কন্টেম্পোরারি সামাজিক ফিল্টারে বসিয়ে ঐতিহাসিক চরিত্রদের বিচার করার দুরূহ কাজটা যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলাই উচিৎ। কাজটা সহজ নয়, সবসময় সম্ভবও নয়; তবে চেষ্টা করতে ক্ষতি নেই৷ গোরা আর অপূর্বর মধ্যে বেশ কয়েক দশকের তফাৎ রয়েছে; সে অর্থে একই ছাঁচে ফেলে তাদের ধর্ম-বিশ্বাসের তুলনা চলে না। তাছাড়া চারিত্রিক দৃঢ়তায় গোরা পালঙ্ক হলে অপূর্ব হল ক্যাম্পখাট। অপূর্বর ধর্ম বিশ্বাস এবং আচারবিচারে নিষ্ঠা তলোয়ারহীন নিধিরামের হাতের ঢালের সঙ্গে তুলনীয় কিন্তু গোরার বিশ্বাসের আগুনে লোহা গলানো যায়। তবে গোরার সে বিশ্বাস যে নেহাৎ  অন্ধ এবং নিরেট নয় তা প্রমাণ করতে এক প্রকাণ্ড নভেল ফাঁদতে হয়েছে রবীন্দ্রনাথকে।

 বরং গোরা আর সব্যসাচীর তুলনা করে চমৎকৃত হতে হয়৷ কোনো নির্দিষ্ট মতবাদের গণ্ডীর মধ্যে থেকে  ভারতবর্ষকে একটা 'কনক্রিট ডেফিনিশনে' বাঁধতে যাওয়া যে কী অদরকারী; তা এই দুজনের মগজ ঘেঁটে দেখলেই মালুম হয়। নওরোজির ভারত, ভগত সিংহের ভারত, রামমোহনের ভারত আর মোহনদাসের ভারত; কোনোটাই মিথ্যে নয় এবং প্রত্যেকটা ভারতকেই অল্পবিস্তর বুঝে নেওয়ার চেষ্টা করাটা দরকারী। গোরার ভারতবর্ষ এবং সব্যসাচীর ভারতবর্ষ; দুটোর কোনোটাই হয়ত পুরোপুরি আমার ভারতবর্ষ নয় কিন্তু তাঁদের চোখ দিয়ে ভারতবর্ষের ইতিহাসের দিকে তাকাতে সমীহ-বোধ হয় বৈকি। বিশ্বাস, দেশাত্মবোধ ও মতবাদের দৃঢ়তায় দুজনেই ইস্পাতের ফলার মত ধারালো কিন্তু দুজনেই কিছুটা হলেও ভালোবাসার নরমকে স্বীকার করে নিয়েছেন। তাঁদের সেই ভালোবাসার স্বীকারোক্তির মূলে অবশ্য 'শেষের কবিতা' মার্কা প্রেম নেই। গোরার ক্ষেত্রে সে ভালোবাসার উৎস হল তাঁর প্রাণের বন্ধু বিনয়। সব্যসাচীর ক্ষেত্রে তাঁর সহকর্মী ও নিজের ছোটবোনটির মত প্রিয় ভারতী। 

স্বীকার করে নিই যে পাঠক হিসেবে; গোরা উপন্যাসের বিনয় আর পথের দাবীর ভারতীকেই আমার সবচেয়ে 'ইন্ট্রিগিং' দুটি চরিত্র বলে মনে হয়েছে। দুজনেই সৎ কিন্তু কেউই অবিচল নন; তাঁরা ভালোবাসাকে মতাদর্শের শূলে চাপাতে সর্বদা ব্যগ্র হয়ে বসে নেই। গোরার তীক্ষ্ণ বুদ্ধি আর উজ্জ্বল আইডিয়ালিজম বিনয়কে ইন্সপায়্যার করছে কিন্তু তাঁকে অন্ধ রোবট করে তুলছে না। ঠিক যেমন সব্যসাচীর মতাদর্শ ও আত্মত্যাগে মুগ্ধ হয়েও ভারতী তাঁর 'মেথড'কে প্রশ্ন করতে কসুর করছেন না। আর সবচেয়ে বড় কথা, বিনয় এবং ভারতী কখনোই নিজেদের নিরেট কনফিডেন্সে মুড়ে রাখছেন না। তাঁরা ভাঙছেন,  মুষড়ে পড়ছেন, তর্ক করছেন, অভিমান করছেন, জড়িয়ে ধরছেন, প্রয়োজনে ক্ষমাও চাইছেন কিন্তু কিছুতেই মানুষের ভালোবাসাকে অবজ্ঞা করছেন না। 

গোরা এবং সব্যসাচী সত্যিই নায়ক, তাঁদের সুপারহিরো বললেও অত্যুক্তি হবে না। কিন্তু আমায় সবচেয়ে বেশি টেনেছে বিনয় এবং ভারতীর চরিত্র। এবং পুরনো বই "রী-রীড"-এর অভ্যাসটা না থাকলে, এ'দুজনকে নতুন করে আবিষ্কার করতে পারতাম কি?

Sunday, January 5, 2020

বিটকেল ছাত্রের দল

শিক্ষা এবং তারুণ্যর মিশেল বড় বিরক্তিকর। ইতিহাস নির্মমভাবে বারবার প্রমাণ করেছে যে ধান্দাবাজির স্বর্ণযুগে বারবার আলকাতরা হয়ে ঝরে পড়েছে এই আপদ ছাত্ররা। যুগে যুগে ধান্দাশ্রেষ্ঠদের অনাবিল স্বপ্নে রাক্ষসের মত ধেয়ে এসেছে এই বিটকেল ছাত্ররা। রাক্ষুসে এই ছাত্রছাত্রীগুলোর নখের ডগায় যুক্তির বিষ আর তাদের দাঁতে প্রশ্নের ধার ; এরা মেগা-ডেঞ্জারাস। অদরকারী মানুষজনের মাথায় কাঁঠাল ভেঙে নির্ভীক ভাজা-মাছ-উল্টোতে-না-পারা ধান্দাবাবুরা দু'দণ্ড আয়েশ করবেন, রাক্ষসগুলোর জ্বালায় তারও কি ছাই উপায় আছে?

ছাত্ররা টপাটপ পাশ দেবে আর চটাপট চাকরীতে ঢুকবে; এই সামান্য ডিসিপ্লিনটুকু থাকলেই ল্যাঠা চুকেবুকে যেত। তা না, এরা প্রশ্ন করে। 

প্রশ্ন করে। 

আরে বাবা পিকনিক কর, ফেস্টে ব্রেকডান্স কর, ক্যান্টিনে গান  কর...কিন্তু প্রশ্ন করবি কেন? 

প্রশ্ন; কী বিতিকিচ্ছিরি ব্যাপারটা। আর প্রশ্ন করছিস কর, তার আবার জবাবও দিতে হবে? মেধা আছে যখন; তা দিয়ে সওদাগরি অফিসে লেজার লিখলেই হয়, তাই বলে ধান্দাধর্মে ব্যাঘাত? 

ছাত্রদের এই বজ্জাত প্রশ্নগুলোকে জুতোর তলে না রাখতে পারলে ধান্দা-দুনিয়া অন্ধকার আর সে দমবন্ধ করা অন্ধকারে ধান্দা-প্রাণ ভালোমানুষদের অহেতুক হয়রানি৷ 

তবে এই রাক্ষুসে ছাত্রদের বিষাক্ত প্রশ্নের ঝরে যে আমরা বয়ে যাইনি, এ'টা ভাবতে ভালো লাগছে। আর গর্ব লাগছে এই ভেবে যে ইতিহাসের থেকে আমরা আদত শিক্ষাটুকু গ্রহণ করতে পেরেছি;

ধান্দাবাজির কাছে যদি প্রতিবাদের অধিকারটুকুকে নতিস্বীকার করানো না যায়, তাহলেই অকারণ খরচ বাড়ে।

বুক-ফাটা হুহু

এমন টনটনে 'বুক হুহু' না থাকলে সমস্ত গান আর কবিতাই মিথ্যে হয়ে যেত বোধ হয়। তবে শুধু প্রেমে হোঁচট খেলেই বুঝি বুকে এমন 'হুহু' সুরের সানাই বাজবে? নাহ্ তা নয়। 

বুকফাটা 'হুহু'র অন্যান্য কারণগুলোঃ

১। সাধের বিরিয়ানিতে কড়াইশুঁটি-সবুজের উঁকি। 

২। প্লেট আলো করা ফিশফ্রাইতে মেগা-কামড় বসিয়ে টের পাওয়া যে তাতে ভেটকির বদলে রয়েছে বাসা।

৩। শৌখিন এগরোলে টমেটো কুচি আবিষ্কার।

৪। রবিবারের বাতাসে পাশের বাড়ির লুচি ভাজার সুবাস আর নিজের জলখাবারে কর্নফ্লেক্সের বাটি। 

৫। ক্যাসুয়াল লীভ-সকালের সোফা-সাধনা বিগড়ে দেওয়া বসের ফোন। 

৬। "একবার বলো উত্তমকুমার"য়ের উত্তরে "ন্যাকা হনুমান কোথাকার" শোনা।

৭।  ট্রেনের টিকিট না পেয়ে পুরী প্ল্যান ক্যানসেল করে ব্যান্ডেলে পিকনিক করতে যাওয়া।

৮। মৌজ করে ক্রিকেট দেখতে বসার দু'মিনিটের মধ্যেই শচীনের আউট হওয়া  ('৯০ দশক স্পেশ্যাল)।

৯। নেমন্তন্ন-বাড়িতে খেতে বসে টের পাওয়া যে মাছ-মাংসের ভালো পিসগুলো পড়ছে পাশে বসা হাড়-জ্বালানো বন্ধুটির পাতে। 

১০। বিনে পয়সায় নেটফ্লিক্স সাবস্ক্রিপশন পাওয়ার লোভে অচেনা নাম্বারে মিসড কল দিয়ে জানতে পারা যে এ'সবই আদতে পলিটিকাল কানমলা।

Saturday, January 4, 2020

ব্লু লোটাস


এ'টা পোস্ট করার উদ্দেশ্য একটাই৷ গোটা টিনটিন সিরিজ যে ফের একবার মন দিয়ে পড়ব বলে ঠিক করেছিলাম, সে'টা ভুলিনি। বরং দেখলাম বাড়তি সময় নিয়ে টিনটিন পড়ার সুবিধে হল এই যে ইচ্ছেমত গুগল করে ছোট ছোট কনটেক্সগুলো নিয়ে নতুন ভাবে ভেবে দিব্যি মাথা চুলকোনো যায়। দুঃসাহসী টিনটিনের বুদ্ধির ঝিলিক ও আর থমসন-থম্পসনকে নিয়ে পাঠকের ফুর্তিটুকুই যে এই বইগুলোর শেষ কথা নয় তা মোটের ওপর সর্বজনবিদিত কিন্তু প্রতিবারই অত কনটেক্সচুয়াল জাবর না কেটে সুটসাট বই শেষ হয় যায়৷ কিন্তু এ'বার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ; টিনটিন পড়ার সময় আর তাড়াহুড়ো নয়। 

'৩৩য়ে লীগ অফ নেশনস থেকে জাপানের হুট্ করে বেরিয়ে যাওয়ার ব্যাপারটা মোটের ওপর অ্যাকিউরেটলি দেখানো হয়েছে '৩৬য়ে প্রকাশ হওয়া 'দ্য ব্লু লোটাস'য়ে। তবে মাঞ্চুরিয়া দখলে রাখার ব্যাপারটা অবশ্যই সোজাসুজি আলোচিত হয়নি। 

এই প্রসঙ্গ ধরে ইউপিআই-য়ের আর্কাইভ থেকে একটা বেশ মশলাদার নিউজরিপোর্ট পড়া গেলো।  তা থেকে সোজা কোট করি বরং;

"The stunned international conclave, representing almost every nation on earth, sat in silence while the delegation, led by the dapper Yosuke Matsuoka, clad in black, walked from the hall. The crowded galleries broke into mingled hisses and applause.

Japan's formal resignation from the league is expected to be filed later.

"We are not coming back," Matsuoka said simply as he left the hall.

The assembly's report, recommending that Japan withdraw her troops occupying Manchuria and restore the country to Chinese sovereignty, was adopted, 42 to 1, Japan voting against itpossible.".

Matsuoka, usually typifying the placid oriental diplomat, was nervous before he began his speech, and abandoned the text before he finished. He shouted from the rostrum:

"Japan will oppose any attempt at international control of Manchuria. It does not mean that we defy you, because Manchuria belongs to us by right.

"Read your history. We recovered Manchuria from Russia. We made it what it is today."

He referred to Russia, as well as China, as a cause for "deep and anxious concern" for Japan.

"We look into the gloom of the future and can see no certain gleam of light before us," Matsuoka declared.

He reiterated that Manchuria was a matter of life and death for Japan, and than no concession or compromise was possible."

(সম্পূর্ণ রিপোর্ট এই লিঙ্কেঃ https://www.upi.com/Archives/1933/02/24/Japan-stuns-world-withdraws-from-league/2231840119817/) 

"ম্যাটার অফ লাইফ অ্যান্ড ডেথ"; মাঞ্চুরিয়া। মাইরি। আর এই দামামা-বাজিতে নাভিশ্বাস উঠেছিল চীনের। জাপানিরা যে চীনে অকথ্য অত্যাচার চালিয়েছে; এ'ব্যাপারটা মোটের ওপর যাকে বলে ওই 'ওয়েল-ডকুমেন্টেড'। যা হোক, সেই অত্যাচারের একটা ছবি ব্লু লোটাসে আছে বটে।  
আর ওই টিনটিনের চ্যাংয়ের সঙ্গে প্রথম দেখা হওয়ার পর তাদের কথোপকথনটুকু; চলতি ভাষায় আওয়াজ দিয়ে বলতে হয় "গোল্ড"। অথচ যেটুকু যা বুঝছি তা'তে অপরের সম্বন্ধে এমন টোটাল-অ্যান্টি-ধন-ধান্য-পুষ্প-ভরা সেন্টিমেন্ট পোষণ না করতে পারলে বোধ হয় নিজেদের দেশকে যথেষ্ট ভালোবাসা যায়না।

গোস্বামী


বহুদিন পর গোস্বামীবাবুর 'ডিবেট' শুনলাম কিছুক্ষণ। মুগ্ধ না হয়ে থাকা যায়না।

প্যানেলিস্ট ১- আমার কথা..।

গোস্বামীবাবু - শেষ।

প্যানেলিস্ট ১- শেষ..।

গোস্বামীবাবু - আমিও তো বলছি, শেষ।

প্যানেলিস্ট ১- হয়নি।

গোস্বামীবাবু - কী হয়নি?

প্যানেলিস্ট ১- আমার..।

গোস্বামীবাবু - এত আমার আমার করছেন কেন? সেই তখন থেকে শুধু আমার আমার আমার..।

প্যানেলিস্ট ২ - আমার মনে হয়..।

গোস্বামীবাবু - আপনার মনে হয় না।

প্যানেলিস্ট ১ - আমার কথাটা..।

গোস্বামীবাবু - কী ভেবেছেনটা কী? সেই শুরু থেকে একটানা বকে চলেছেন...এবার চুপ করে আমার কাউন্টার কোশ্চেন শুনুন..।

প্যানেলিস্ট ১- আমি কী বলেছি যে আপনি কাউন্টার করবেন?

গোস্বামীবাবু - সে'টাই তো আপনাদের মত মানুষ চায়, আপনারা বলে যাবেন আর সাধারণ মানুষ মুখবুজে সব শুনবে। 

প্যানেলিস্ট ১- কিন্তু আমি যে..।

গোস্বামীবাবু -  সেই "আমি" "আমি" রোগ৷ দেশকে তো চিনলেন না, চিনতে চাইলেনও না। 

প্যানেলিস্ট ১৭ - আশ্বিনের শারদ প্রাতে...।

প্যানেলিস্ট ১ - কথাটা তো শুনুন..।

গোস্বামীবাবু - সাধারণ মানুষের বুকে পা রেখে আর কদ্দিন কথা শোনাবেন? আর কদ্দিন? আজ দেশের হয়ে আমি আপনাকে কথা শোনাবো..।

প্যানেলিস্ট ১ - তবু আমার কথাটা কাইন্ডলি যদি...।

প্যানেলিস্ট ৩২ - হাওড়া ময়দান হাওড়া ময়দান হাওড়া ময়দান...।

গোস্বামীবাবু - ভেবেছেনটা কী? আমি আপনাকে ভয় পাই? 

প্যানেলিস্ট ১ - কই না তো...।

গোস্বামীবাবু - না! না ছাড়া তো আর কিছু বলতে শিখলেন না। কিন্তু দেশের মানুষকে এমন না-না বলে চিরকাল নাকাল করতে হবে না। ওরা জানতে চায়...।

প্যানেলিস্ট ১ - আমিও বলতে চাই..।

গোস্বামীবাবু- থামুন। আমায় আপনি বোকা পেয়েছেন? 

প্যানেলিস্ট ৫৭ - ইয়ে, বকুলকথার সময় হয়ে এসেছে ভাই..।

পলিটিক্স

- দেশলাই?

- আছে। 

- সিগারেট?

- সোজা সিগারেট চাইলেই হত। 

- খারাপ দেখায়।  

- তাতেই বা কী। ফ্রি সিগারেট তো আর রিফিউজ করবেন না। 

- সিগারেটই চেয়েছি,এক গেলাস দুধ তো নয়। আপনার উপকারই করছি। 

- আপনি পলিটিক্সে আসুন না। 

- ইউ মীন, পার্লামেন্টে আসুন, তাই তো? পলিটিক্সে কে নেই বলুন।

চুপ

- অ্যাই প্রজা! চুপ করে বসে যে বড়?

- আজ্ঞে, দুপুরবেলা কিনা। ভাতটাত খেয়ে একটু জিরোচ্ছিলাম মন্ত্রিমশাই!

- মহারাজ দেশের জন্য দশের জন্য খেটে মরছেন আর তুই সিডিশাস কাজকর্ম করছিস?

- আমি? ও মা! কই,কিছুই করিনি তো! আমি তো চুপটি করে বসে!

- আজ মহারাজের প্রশংসা না করে চুপটি বসে। কাল আড়ালে নিন্দে করবি, পরশু রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করে গলা ফাটাবি। আমি কিছু বুঝি না ভেবেছিস? শালা ট্রেটার!