Sunday, July 6, 2014

ম্যাজিক

- ম্যাজিক দেখবেন ?

- রিয়েলি ?

- অফ কোর্স। দেখবেন ?

- আপনি মশাই জব্বর কিন্তু...কই দেখান দেখি...

- এই রেস্তরাঁয় যা বসে আছি, এটা কোথায় ?

- দেশপ্রিয়...তো ?

- দেশপ্রিয় পার্ক কোথায় ?

- ক্যালক্যাটা। 

- ক্যালক্যাটা কোথায়? 

- ধুর মশাই। 

- পেশেন্স। ম্যাজিক আসছে। কোথায় ক্যালক্যাটা ?

- পশ্চিম বাংলায়। অ্যান্ড বিফোর ইউ আস্ক...পশ্চিম বাংলা রয়েছে ভারতে।

- ওকে। ভারত কোথায় ?

- যাচ্চলে। ভারত ? পৃথিবীতে!

- আর পৃথিবী ? 

- খেয়েছে। কি কুক্ষণেই যে ম্যাজিক দেখতে চাইলাম...

- আহ! ফোকাস করুন। পৃথিবী কোথায় আছে ?

- সোলার সিস্টেমে। 

-নাইস। সোলার সিস্টেম ?  সেটা কোথায়!

-সোলার সিস্টেম রয়েছে মিল্কি ওয়ে গ্যালাক্সিতে! তাই তো ?

- আর মিল্কি ওয়ে কোথায় আছে বলুন তো ? সুপার ক্লাস্টারে। 

- সুপার ক্লা...?

-ক্লাস্টার!। অনেকগুলো গ্যালাক্সি মিলে এক একটা সুপার ক্লাস্টার তৈরি হয়..

-দাঁড়ান মশায়...এক ঢোক জল খেয়ে নি...

- আর এই সুপার ক্লাস্টার রয়েছে কোথায় ? 

- ইউনিভার্সে ?

- সমগ্র ইউনিভার্সে নয়। অবজারভেব্‌ল ইউনিভার্সে। অর্থাৎ যেটুকু মহাবিশ্ব আপনার গোচরে রয়েছে। 

- অগোচরে কিছু আছে নাকি ?

- এবার বলুন দেখি, এই অবজারভেব্‌ল ইউনিভার্সটি কোথায় আছে ? 

- হু?

- কোথায় আছে ?

- লে হালুয়া। মহাবিশ্বই তো ফাইনাল ইউনিট। 

- তাই বুঝি ?

- তাই নয় বুঝি ?

- ধরুন মাল্টিপ্‌ল মহাবিশ্ব...

- মাল্টিপ্‌ল ?

- ইয়েস স্যার...

- অনেকগুলো মহাবিশ্ব মিলে মাল্টিভার্স...এক একটি বুদ্বুদের ভেতর অনেক গুলো ইউনিভার্স...যাকে আমরা বলছি মাল্টিভার্স...

- শরীর কেমন করছে...

- এবার ধরুন সেই কয়েকটা বুদ্বুদ মিলে যদি হয় একটা মলিকিউল... 

- যা! কি হচ্ছে কি...

- এই যে আপনি..আপনার ভেতরের অক্সিজেন... দেহের কার্বন...হাড়ের ক্যালসিয়াম...রক্তে আয়রন...আরও কত কিছু! সে মলিকিউলদের স্রোত আঁচ করতে পারছেন না আপনি ? অথচ সে অগুনতি মলিকিউলদের সাথে...কত অগুনতি মাল্টিভার্স...কত অগুনতি গ্যালাক্সি...কত অগুনতি সূর্য... কত অগুনতি পৃথিবী...কত অগুনতি কলকাতা...আপনার মধ্যে বয়ে চলেছে...সম্ভবত কত অগুনতি আপনি আপনার নিজের ভেতর খাবি খাচ্ছেন...ম্যাজিক নয় বলুন ?

- আ...আ...আমার মধ্যে...আ...আ...আমি... ?

- ম্যাজিক নয়...?

- আ...আ...আলবাত। নিজেকে ভীষণ ইনকন্সপিকুয়াস মনে হচ্ছে বুঝলেন...মানে মলিকিউল তো সব জায়গাতেই...

- নিশ্চয়ই...যেমন ধরুন আপনার কাটলেটে...কত অসংখ্য মলিকিউল...কত অসংখ্য দুনিয়া...কত অসংখ্য...

- মানে কত অসংখ্য ক্যালকাটা আর কত অসংখ্য আমি...তাই তো? এই কাটলেটের মধ্যে ? উফ! সাঙ্ঘাতিক। অ্যাপেটাইট চলে গেছে বুঝলেন। টাচ করতে মন চাইছে না...খাবেন নাকি আমার পাতের কাটলেট! এঁটো হয়নি...

-দামুর কেবিনের এই কাটলেট আপনি আমায় আধ খাওয়া অবস্থায় দিলেও হ্যাপিলি অ্যাক্সেপ্ট করতাম। থ্যাঙ্ক ইউ...আর ইয়ে ম্যাজিকটা টের পেলেন তো ?

- ওই ম্যাজিক অফ দ্য মাল্টিভার্স তো ? 

- না। আদত ম্যাজিকটা...যে জাদুর বলে আপনি আপনার পাতের এ মহার্ঘ কাটলেট নির্দ্বিধায় আমায় সঁপে দিলেন...

- যা! 

Wednesday, June 18, 2014

খুচরো সিরিজ : Definitions-পর্ব ১


সত্য


চুমুর ওপরে ইলিশ সত্য তাহার ওপরে নাই।

ভালো থাকা



-    ভালো আছেন ?
-    এ সিজনে ইলিশের দামে ড্রাসটিক ফল’য়ের কোনও চান্স আছে কি ?

নাগরিক


আমার নাম অনিন্দ্য ভোটচৌধুরী। আমার বউয়ের নাম মিতা ভোটচৌধুরী। আমার ছেলের নাম পাপাই ভোটচৌধুরী। আমার দুনিয়ার নাম ডেমোক্রেসি।আমার ভগবানের নাম নেতা।

আদর


বদমাশ শব্দটা অত্যন্ত চাঁচাছোলা। বদমাইশ বললে আদরটা স্পষ্ট হয়ে ফুটে ওঠে।

মনের মতন


তুমি আমার মনের মতন। তুমি আমার মনের Mutton

নদীর ওপার


Marital Status is the most poetic manifestation of the proverbial নদীর ওপার”।

নেশা


মদ ঠিক মত চিনতে পারলে বোতল আঁকড়ে পড়ে থাকতে হবে না নেশার আশায়। যেমন শিঙাড়ার গেলাসে ফুলকপির মদ। আহা।

আরাম



বাংলায় লিখতে কি ভালোই যে লাগে। চটকে ভাত মেখে খাওয়ার যে আরাম...ঠিক তেমন।

স্লোগান


হও নিরামিষে ধীর, হও কাবাবেতে বীর

প্রেম


যদি Laugh দিলে না প্রাণে, তবে Love দিয়ে কোন ভ্যারেণ্ডা ভাজবো শুনি ?

সাফল্য



ডিসেম্বরের দুপুরে...
ভিক্টোরিয়ার ঘাসে বসে...
যদি ষ্টীলের টিফিন বাক্স খুলে লুচি-আলুভাজা-সন্দেশ নাই খেলেন, তবে আর এ জীবনে করলেন কি!  

কলকাতা


১। Results are out. He has failed in Mathematics. And He has just received his first Love Letter. On one such afternoon, God conceptualized Kolkata.

২। You can never hunt for the essence of Kolkata. Kolkata will catch you off guard and will hunt you down. Like আচমকা হাসি

আরোগ্য


Time heals. But not as beautifully as বিকেলের বৃষ্টি। 

Thursday, May 29, 2014

এগরোল ঘটিত



-              দাদা, এগরোলটা একটু মন দিয়ে ভাজবেন
-              কড়া না নরম ?
-              না কড়া না নরম
-             
-              তাই বলে আবার মাঝামাঝি ভাববেন না
-              মানে ?
-              মানে ঠিক কড়া আর নরমের মাঝামাঝি ভেজে দেবেন না কড়া ঘেঁষা ভাজবেন না নরম ঘেঁষা ভাজবেন, তবে নরম নয়
-              কি ?
-              মানে রুটির গায়ে লালচে ছোঁয়াচ জমাট বাঁধলেই ওর বুকে ডিম ছড়িয়ে দিন কালো ফোস্কা পড়তে দেবেন না
-              ধুর এমন বাতিক থাকলে নিজে বাড়িতে ভেজে খাবেন
-              তা কি হয় বাবা আমি সংস্কৃতে এম- বলে কায়স্থ হয়েও পূজো করবো ? বামুনের রোল বামুনেরই থাকবে তোমার ছোঁয়া আর এই পাবলিক চাটুর সারফেস না পেলে এগরোল যে আলুনী ডিম-রুটিতে কনভার্ট হয়ে যাবে ভাজো ভাজো আমি বলে দেব কখন থামতে হবে
-              কি মাল মাইরি আপনি
-              শিখে নাও মাল জেনুইন ব্যস ব্যস রোককে রুটি ভাজা হয়ে গেছে ডিম ফেলো এবারে
-              বড় কথা বলেন আপনি
-              আহ, রুটিতে ডিম ছড়াতে ছড়াতে আবার কথা বল কেন  ফোকাস গড়বড় হয়ে যাবে ডিমের কনসেন্ট্রেশন রুটিময় সমান না হলে টাকাটাই জলে
-              ওফ
-              ওই খুন্তির চাপের সঙ্গে সঙ্গে রুটির গায়ে ডিম আলতো ফেঁপে উঠছে টেক দ্য রুটি অফ দ্য চাটু নাউ চাটু থেকে নামিয়ে ফেলো
-              আপনি চিজ মাইরি
-              কদর কর বাবা কদর কর প্রতিভা বাঙালির কপালে সয় না শসা দেবে ? অল্প শসায় আপত্তি ছিল না কিন্তু যে টি-ট্যুয়েন্টি মেজাজে মোটা দাগের শসা কুচিয়েছ, চলবে না রোল হচ্ছে লর্ড্ টেস্টের সকাল স্কুপ-রিভার্স সুইপ নৈবচ
-              কী বকে যাচ্ছেন তখন থেকে ?
-              চটছ কেন? বলছি শসা বাদ দাও অনলি পেঁয়াজ মিহি লংকা কুচি অল্প টম্যাটো সস্ থুড়ি কুমড়ো সস্চার ফোঁটা লেবুর রস নো মোর নো লেস ব্যাস ব্যাস, আর নয় অল্প নুন। প্লাস সামান্য বিট নুন ইয়েস ইয়েস ওয়েল ডান আর অমন ভাবে রোল কাগজে মুড়ছ কেন ? তুমি সৈনিক নও, তুমি শিল্পী তুমিই এক সময় গুহাচিত্র এঁকে কাঁপিয়ে দিয়েছিলে তোমার আঙুল ছুঁয়েই কত ফ্রেসকো প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে তাই আজ তুমিই পারো এগরোল বানাতে। এবং তাই বলি শুধু কাগজে নয়, বাড়তি দু পরত ভালোবাসায় এগরোল মুড়তে হবে 
-              এই আপনার এগরোল এখন চব্বিশ টাকা ছেড়ে হাপিশ হয়ে যান দেখি তখন থেকে খালি ভ্যানতারা...

Thursday, May 1, 2014

পিতার ভোট

পিতা গতকাল ভোট দিতে গেছিলেন। এই, বেলা সাড়ে এগারোটা নাগাদ। হাসি হাসি মুখ। বুক পকেটে ভোটার আই-ডি। ডান হাতে ছাতা, বাঁ হাতে আনন্দবাজার। মাথার ওপরে ডাইরেক্ট মাঝ-বৈশাখের রোদ্দুর। বুথের সামনে প্যাঁচালো লাইন।

পিতা বুদ্ধের স্ট্যামিনা ধরেন। এ মাগ্যির যুগে সন্তান পালন করেছেন,  তাঁর কাছে রোদ্দুরে ভোটের লাইন তো নস্যি। প্রতিবেশী ও ভোটের-লাইন-অগ্রজ ভৌমিকবাবুকে “পলিটিকাল ডিসিপ্লিন”য়ের ওপর ঝাড়া চল্লিশ মিনিট ধরে দারুণ ঝকঝকে সমস্ত কথা বলে চললেন লাইনে দাঁড়িয়ে।  ভৌমিক-বাবু এক সময় মনস্থ করে ফেললেন দরকার নেই ভোট দেওয়ার। কিন্তু পিতৃদেব তাঁকে লাইন কেটে বেরোতে দিলেন না। ভৌমিক-বাবু কে সপাট জানিয়ে দিলেন “ এই আপনাদের মত আয়েসি মানুষের জন্যেই আজ দেশের কপালে নেতা জোটেনা, ফচকে নাগর অল অ্যারাউন্ড। অ্যান্ড ফিউ জোকার্‌স। খবরদার! ভোট না দিয়ে সরে পড়লে ভালো হবে না”। ব্যাজার মনে দাঁড়িয়ে রইলেন ভৌমিক-বাবু। পিতা সহাস্য মেজাজে ফিরে গেলেন “ পলিটিকাল ডিসিপ্লিনের” ক্লাস নেওয়ায়।
পাক্কা এক ঘণ্টার মাথায় ভৌমিকবাবুর দুঃখ ঘুচল। তিনি ভোট দিয়ে সরে পড়লেন। পিতা সগর্বে নির্দিষ্ট জায়গায় গিয়ে নিজের ভোটার আই-ডি মেলে ধরলেন।
-   “ইয়ে, জেঠু। আপনি ভোট দিয়ে দিয়েছেন”

পিতা আকাশ থেকে পড়লেন রাশি রাশি জং ধরা পেরেকের ওপর। মেজাজে তৎক্ষণাৎ সেপটিক।

Sunday, April 27, 2014

সুলিয়ার প্রেম

১।

গোটা দুপুর নিজেকে ছাদের ঘরে আটকে রেখে কেঁদেছে সুলিয়া। খুব কেঁদেছে। বাবা, মা’র হাজার ডাকেও সাড়া দেয়নি। খায়নি। খিদে নেই। বুকে ফেটে যাওয়া যন্ত্রণা। প্রেম ভাঙার দুঃখ যতটা, তাঁর চেয়েও বেশি দুঃখ তার নিজের বাবা এমন কাজ করলো বলে। কি করে। ছিঃ। ছিঃ।

২।

-   তুমি কি ঠিক করলে এটা ? আমাদের ওইটুকু মেয়ে, না হয় প্রেমে পড়েছে। এ বয়েসে তো এমনটা হতেই পারে। তাই বলে এমনটা –

-   সুলিয়া আমারও মেয়ে। বাবা হিসেবে কি করে মেনে নেব যে আমার মেয়ে একটা ভিন-গ্রহের কোন অজ্ঞাতকুলশীল কারোর প্রেমে পড়বে ? মানছি ছেলেটাও আমাদেরই মত মানুষ। একই হাব-ভাব। ওদেরও ভাষা আছে। সভ্যতা আছে। কিন্তু তার বাইরেও অনেক কিছু আছে সুলিয়ার মা। এই প্রেমের কোনও ভবিষ্যৎ ছিল না।

-   ওকে একটু বুঝিয়ে তো বলা যেত, তার আগেই তুমি ছেলেটার প্রতি এমন...

-   সুলিয়া বুঝতে চাইছিল না যে। দেখ সুলিয়ার মা। ব্যাপারটা বেআইনি। আমরা ওই গ্রহের মানুষজনের থেকে অনেক উন্নত। তাই আমরা ওদের অস্তিত্ব সম্বন্ধে সম্পূর্ণ ভাবে অবগত অথচ আমাদের গ্রহ বা সভ্যতা সম্বন্ধে ওদের কোনও ধারনা নেই। কিন্তু ওরা আমাদের অস্তিত্ব টের পেয়ে গেলেই মুশকিল। পৃথিবীর অধিবাসীরা ভারি সুবিধার লোক নয় গো। ওদের ওখানে এখনও যুদ্ধ’য়ের মত প্রাগৈতিহাসিক ব্যাপার-স্যাপার রয়ে গিয়েছে। ভাবতে পারো ?

Monday, April 21, 2014

অমলেট ও মামলেট

-          বাবা, কবিতা আর পদ্য কি এক ?

-          বাবু, মামলেট আর অমলেট কি এক ?

-          এক নয় ?

-          ভাব...

-          একই তো।

-          চোখ বুজে। কনসেনট্রেট করে ভাব। মামলেটে আর অমলেটে কি ফারাক ?

-          মা বলে মামলেট। মিতা মাসি বলে অমলেট।

-          গুড। আর ?

-          মিতা মাসির ফ্ল্যাট বাড়িতে গেলেই আমায় অমলেট খাওয়ায়। চিনামাটির সাদা প্লেটে কি সুন্দর ভাবে সাজিয়ে দেয়। ওপরে গোলমরিচের গুঁড়ো ছড়ানো। প্লেটের এক কোণে থাকে অল্প টমেটো সস্‌। আর থাকে কাঁটা চামচ।

Friday, April 18, 2014

কলকাতা বিরিয়ানি সিরিজ

( ছবিটি এখান থেকে নেওয়া - www.missionsharingknowledge.wordpress.com)

গল্প ১  

ঈশ্বর – ভক্ত। তোমার তপস্যায় আমি অতি খুশি। বর দিতে চাইছি।

ভক্ত  – থ্যাঙ্ক ইউ স্যার।হে হে হে হে...

ঈশ্বর - হয় তুমি জীবনভর পাবে ফ্রি বিরিয়ানি। দৈনিক এক প্লেট; সিরাজের হেঁসেল থেকে। নয়তো রম্ভা ও উর্বশী তোমায় দিনে একটি করে চুমু খাবে। জীবনভর। বিরয়ানী না চুমু ? যে কোন একটি বেছে নিতে হবে তোমায় বাপু।

ভক্ত  - মাউথ-ফ্রেশনার আর লিপ্‌-বাম’য়ের পিছনে এক গাদা খরচ করবার কোনও মানেই হয় না স্যার।

Thursday, April 17, 2014

রামকুমার ও চিঠি

রামকুমার পরনের শার্টের বুক-পকেট হাতড়ে একটা কাগজের টুকরো পেলেন। এই হচ্ছে এক মুশকিল। বাসের কন্ডাক্টর ভাড়া চাইলে, কিন্তু তাঁর মানিব্যাগ রয়েছে প্যান্টের পকেটে - তিনি বুক পকেটে হাত দিলেন কেন ? কারণ তাঁর বুক পকেটে তো কিচ্ছুটি থাকার কথা নয়। এবার কথা হচ্ছে তাঁর বুক পকেটে যদি কিছু থাকার কথা নাই থাকে, তবে এই কাগজের টুকরোটি এলো কি করে ? দু ভাঁজ করে রাখা ডায়েরির ছেঁড়া পাতা। কাগজটা ভাজ খুলতেই দেখলেন সেটা একটা চিঠি। অস্বস্তিতে পড়লেন রামকুমার। চিঠিটা পড়বার আগে বাস ভাড়া মিটিয়ে দিলেন। রাত সাড়ে নটা বেজে গেছে- বাস প্রায় ফাঁকা, পাশের সিটে কেউ নেই। কন্ডাক্টর চলে যেতেই চিঠিটা মেলে ধরলেন তিনি।

প্রিয় রামকুমার,
আমাদের জগতে আপনাকে স্বাগত জানাই। মৃত্যু’র জগত মৃত নয়; মন্দ তো নয়ই। বরং বেশ রিমঝিম পরিবেশ। আপনার সময় বেশ কেটে যাবে।