Skip to main content

ফিস্টি আর মাথা ঝিমঝিম

পিকনিক বড় কপিবুক। সাজানো, গোছানো। যাত্রাপথে ডিম পাউরুটি কলার ব্রেকফাস্ট। বাগানবাড়ি বা গঙ্গার ধারের সবুজ। লাঞ্চের সাজানো মেনু। ব্যাডমিন্টন। হাউসি। অন্তাক্ষরী। স্টেপ আউট করলে আড়াল মাপা দু পেগ। শিশু বৃদ্ধ সম্বলিত মিহি নরম পরিবেশ।

-"পিকনিক রুহআফজা, বুঝলি?", মাটির ভাঁড়ে ব্লেন্ডার্স প্রাইড ঢালতে ঢালতে বোঝাচ্ছিলেন বাপ্পাদা, "আসলি চিজ হচ্ছে ফিস্টি"।

- "তফাৎ আবার কী?", দীপু বাপ্পাদার ভক্ত। দীপু ফিজিক্সে নব্বুই চায়না। বাপ্পাদার মত ইনস্যুইং করতে চায়। বাপ্পাদার মত টপাটপ ক্যুইজ জিততে চায়। বাপ্পাদার মত গল্প লিখতে চায়। দীপু বাপ্পাদা হতে চায়।

- "তফাৎ!  পিকনিক স্পটের শৌখিনতা নেই; ছাদের নিভৃতে মেজাজ ফারমেন্ট হয়। ফিস্টি বন্ধুদের চক্রব্যূহ বস, ন্যাকামির অর্জুনপুত্র এন্ট্রি নিয়েছে কী অনস্পট কচুকাটা। অন্তাক্ষরী নয় টুয়েন্টি নাইন। জানিস খেলতে?"

- " অল্প, কল-ব্রে'টা জানি"।

- "আজ শিখিয়ে দেব"।

- "শেখাবে?"।

- " আলবাত শেখাব। আমার একটা রেস্পন্সিবিলিটি আছে না। মিঠে, আজ ট্যুয়েন্টিনাইনে দীপু আমার পার্টনার"।

- "আমি তোমার পার্টনার?"

- "অফ কোর্স"।

-" আর শোন। ঝিরি পেঁয়াজ কাটতে পারিস?"।

- "অফ কোর্স। ঝোলের পেঁয়াজ, মামলেটের পেঁয়াজ।  পারি"।

- "সাবাস। ভাবছিলাম তোকে দিয়ে বাসন ধোয়াবো। নাহ থাক। তুই বরং আমায় মাটনে অ্যাসিস্ট করবি"।

- "আচ্ছা"। দীপু নিজের মধ্যে তোপসের গন্ধ পাচ্ছিল।

- " নেহ, ঢক করে খেয়ে নে দেখি"।

- " এ, এ'টা?"।

- "হ্যাঁ। এ'টা"।

- " না মানে, এটা আমি ঠিক..."।

- "আজ বাদে কাল উচ্চমাধ্যমিক দিবি, মদ চেখে না দেখলে চলবে কী করে?"।

- " না মানে..."।

- "রাতে বরং আমার সাথেই থাকবি। তোর বাড়িতে বলে দেব"।

- "না মানে..."।

- "ট্যুয়েন্টি নাইন আর মাটনে তুই পার্টনার দীপু"।

ঢকঢক করে শেষ করেছিল গেলাসটা দীপু। তারপর আরও দুই গেলাস। ঢকঢকে।

বাপ্পাদা জিজ্ঞেস করেছিল "কী রে দীপু, মিঠে একটা মাথা ঝিমঝিম টের পাচ্ছিস?"।

মিষ্টি মাথা ঝিমঝিম টের পায়নি দীপু। একটা বিকট গা-বমি ভাব, গা গুলিয়ে উঠেছিল ওর। বিশ্রী দম বন্ধ করা একটা অনুভুতি।

"মিষ্টি মাথা ঝিমঝিম করছে না বাপ্পাদা, বমি পাচ্ছে। কষ্ট হচ্ছে", কোন রকমে বলেছিল দীপু।

"আসবে। মিষ্টি মাথা ঝিমঝিম আসবে দীপু। আসবে। ধৈর্য ধর। ধৈর্য ধর", সিগারেট ধরাতে ধরাতে বলেছিল বাপ্পাদা।

***

- কেমন লাগছে বাবু?
- মিঠে একটা মাথা ঝিমঝিম। মিঠে। ঝিমঝিম।মাথায়।
- ধ্যাত।
- মাইরি।
- চুমু। তাও গালে। এতে মাথা ঝিমঝিম?
- চুমুর জন্য মাথা ঝিমঝিম কী না জানি না। তবে বাপ্পাদা বলেছিল মিষ্টি মাথা ঝিমঝিম আসবে। ধৈর্য ধরতে।
- বাপ্পাদা বলেছিল? মানে? কবে? কী আবোলতাবোল বলছিস।
- ওর বাড়ির ছাদের ফিস্টিতে। দু'বছর আগে। তিন গেলাস হুইস্কি খাওয়ানোর পরে। বাপ্পাদা বলেছিল, মিঠে ঝিমঝিম আসবে। বাপ্পাদা ওয়াজ রাইট। এসেছে। বাপ্পাদা ক্যান নেভার বি ইনকরেক্ট।
- ক্লাস ইলেভেনে মদ খেয়েছিস বাবু?

কিচির মুখ স্বপ্নের মত নেমে এসেছিল। তবে আর গালে চুমু নয়। ডান কানে একটা বিশ্রী মোচড়ে দীপুর মাথার মিঠে ঝিমঝিম টুক করে গায়েব হয়ে গেছিল। ঠিক যেমন মিনিদির আমেরিকান বরের সাথে বিয়ে ঠিক হওয়ার পরদিনই টুক করে উধাও হয়ে গেছিল বাপ্পাদা; তারপর থেকে আর কোন ফিস্টিতে যায়নি দীপু।

Comments

Popular posts from this blog

গোয়েন্দা গল্প

- কিছু মনে করবেন না মিস্টার দত্ত...আপনার কথাবার্তাগুলো আর কিছুতেই সিরিয়াসলি নেওয়া যাচ্ছে না।  - কেন? কেন বলুন তো ইন্সপেক্টর? - ভোররাতে এই থানা থেকে একশো ফুট দূরত্বে ফুটপাথে আপনাকে উপুড় হয়ে শুয়ে থাকতে দেখা যায়।  - আপনার কনস্টেবল নিজের চোখে দেখেছে তো।  - না না, সে'টাকে আমি কোশ্চেন করছি না। আমি শুধু সামারাইজ করছি। আপনার গায়ে দামী চিকনের পাঞ্জাবী, ঘড়িটার ডায়ালও সোনার হলে অবাক হব না। এ'রকম কাউকে বড় একটা ফুটপাথে পড়ে থাকতে দেখা যায় না। যা হোক। হরিমোহন কনস্টেবলের কাঁধে ভর দিয়ে আপনি থানায় এলেন। জলটল খেয়ে সামান্য সুস্থ বোধ করলেন। অল ইজ ওয়েল। নিঃশ্বাসে অ্যালকোহলের সামান্যতম ট্রেসও নেই। শরীরে নেই কোনও চোট আঘাত।  - আমার কথা আমায় বলে কী লাভ হচ্ছে? আমি যে জরুরী ব্যাপারটা জানাতে মাঝরাতে ছুটে এসেছিলাম...সেই ব্যাপারটা দেখুন...। ব্যাপারটা আর্জেন্ট ইন্সপেক্টর মিশ্র।  - আর্জেন্সিতে পরে আসছি। রাত সাড়ে তিনটে নাগাদ আপনি থানায় ছুটে এসেছিলেন। ওয়েল অ্যান্ড গুড। কিন্তু...ফুটপাথে পড়ে রইলেন কেন...।  - এ'টাই, এ'টাই আমি ঠিক নিশ্চিত নই। মাথাটাথা ঘুরে গেছিল হয়ত। আফটার অল বা

পকেটমার রবীন্দ্রনাথ

১ । চাপা উত্তেজনায় রবীন্দ্রনাথের ভিতরটা এক্কেবারে ছটফট করছিল । তার হাতে ঝোলানো কালো পলিথিনের প্যাকেটে যে ' টা আছে , সে ' টা ভেবেই নোলা ছুকছাক আর বুক ধড়ফড় । এমনিতে আলুথালু গতিতে সে হেঁটে অভ্যস্ত । তাড়াহুড়ো তার ধাতে সয় না মোটে । কিন্তু আজ ব্যাপারটা আলাদা । সে মাংস নিয়ে ফিরছে । হোক না মোটে আড়াই ' শ গ্রাম , তবু , কচি পাঁঠা বলে কথা । সহৃদয় আলম মিয়াঁ উপরি এক টুকরো মেটেও দিয়ে দিয়েছে । তোফা ! নিজের লম্বা দাড়ি দুলিয়ে ডবল গতিতে পা চালিয়ে সে এগোচ্ছিল ।   গলির মোড়ের দিকে এসে পৌঁছতে রবীন্দ্রনাথের কেমন যেন একটু সন্দেহ হল । ঠিক যেন কেউ পিছু নিয়েছে । দু ' একবার ঘাড় ঘুরিয়েও অবশ্য কাউকে দেখা গেলনা । ভাবনা ঝেড়ে ফেলে মাংসের পাকেটটায় মন ফিরিয়ে আনলেন রবীন্দ্রনাথ । বৌ নিশ্চয়ই খুব খুশি হবে আজ । খোকাটাকে যে কদ্দিন মাংসের ঝোল খাওয়ানো হয়নি ।   খাসির রান্নার গন্ধ ভেবে বড় গান পাচ্ছিল রবীন্দ্রনাথের । সে বাধ্য হয়েই একটা কুমার শানুর গাওয়া আশিকি সিনেমার গান ধরলে ।

চ্যাটার্জীবাবুর শেষ ইচ্ছে

- মিস্টার চ্যাটার্জী...। - কে? - আমার নাম বিনোদ। - আমি তো আপনাকে ঠিক...। - আমায় বস পাঠিয়েছেন। - ওহ, মিস্টার চৌধুরী আপনাকে...। - বসের নামটাম নেওয়ার তো কোনও দরকার নেই। কাজ নিয়ে এসেছি। কাজ করে চলে যাব। - আসুন, ভিতরে আসুন। - আমি ভিতরে গিয়ে কী করব বলুন। সৌজন্যের তো আর তেমন প্রয়োজন নেই। আপনি চলুন আমার সঙ্গে। চটপট কাজ মিটে গেলে পৌনে এগারোটার লোকালটা পেয়ে যাব। আমায় আবার সেই সোনারপুর ফিরতে হবে। - যা করার তা কি এ'খানেই সেরে ফেলা যায়না? - এমন কনজেস্টেড এলাকায় ও'সব কাজ করা চলেনা। চুপচাপ ব্যাপারটা সেরে ফেলতে হবে। - প্লীজ দু'মিনিটের জন্য ভিতরে আসুন বিনোদবাবু। জামাটা অন্তত পালটে নিই। - কী দরকার বলুন জামা পালটে। - দরকার তেমন নেই। তবু। ওই, লাস্ট উইশ ধরে নিন। - ক্যুইক প্লীজ। ট্রেন ধরার তাড়াটা ভুলে যাবেন না। আর ইয়ে, পিছন দিক দিয়ে পালাতে চেষ্টা করে লাভ নেই। বসের লোকজন চারপাশে ছড়িয়ে আছে। - ও মা, ছি ছি। তা নয়। আসলে মিতুলের দেওয়া একটা জামা এখনও ভাঙা হয়নি। বাটিক প্রিন্টের হাফশার্ট। একটু ব্রাইট কালার কিন্তু বেশ একটা ইয়ে আছে। ও চলে যাওয়ার পর ও জামার ভাজ ভাঙতে ইচ্ছে হয়নি। কিন্তু...আজ না হয়...। - মিতু