Thursday, January 28, 2016

মদন মিহির

বিড়িটা নিভিয়ে পকেটে রাখলেন মদন। আরও দু'টান দেওয়া যাবে। তবে এখন সময় নেই।
মিহির দত্ত পান চিবুতে চিবুতে বেরোলেন এইমাত্র; রাতের খাওয়ার শেষে হাঁটতে বেরোনোর অভ্যেস তার পুরোনো।
আজ এক মুহূর্তের জন্যেও চোখের আড়াল করা যাবে না মিহিরবাবুকে। মধু মল্লিক লেন পেরিয়ে সর্দার স্ট্রিটের অন্য প্রান্তে বিনোদের পানের দোকান। সেখান থেকে একটা গোল্ডফ্লেক নিয়ে বিনোদের সাথে সামান্য গুলতানি চলে তার। তারপর হেঁটে ফেরা। মদনের মুখস্ত।
বিনোদের দোকান থেকে বেরিয়ে ধিমে গতিতে ফিরতি হাঁটা শুরু করেন মিহির দত্ত। রোজকার মত। পিছু পিছু মদন, বেড়ালের মত।
মিহিরবাবু অনুভব করতে পারেন; সময় হয়ে এসেছে। সে এসেছে। নাড়ির টান। যাবে কোথায়?
**
সুমিতার চিন্তা কমে না। স্বামী মিহিরবাবুকে যমের মত ভয় পান তিনি, তাকে প্রশ্নটা করা যায় না। আবার অন্য কাউকে শুধোলেও কী না কী ভেবে বসবে। অথচ সুমিতা নিশ্চিত। একদম নিশ্চিত। মিহিরবাবু গোপনে মন্ত্রপূত বিড়ি খান। আগেই সন্দেহ হত, কিন্তু এখন নিশ্চিত। গোল্ডফ্লেক সিগারেট খাওয়া মিহিরবাবুর বহুদিনের অভ্যেস। অথচ প্রত্যেক ছ'সাত হপ্তা অন্তর তার পকেট থেকে আধ খাওয়া বিড়ির টুকরো আবিষ্কার করেন সুমিতা। গত ছয় সাত বছর ধরে এমনটাই চলছে। আর এ বিড়ি যে মন্ত্রপূত তা বেশ জানেন সুমিতা, এ বিড়ি যেদিন ফোঁকেন সেদিন থেকেই মিহিরবাবুর বারো চোদ্দ বছর পুরোনো বাতের ব্যথাটা গায়েব হয়ে যায়। কিছু হপ্তা পর অবিশ্যি সে ব্যথা ফেরতও আসে, থাকে আরও কিছু হপ্তা। তবে মন্ত্রপূত বিড়ি হয়তো সহজে মেলে না, তাই আবার কিছুদিন সে ব্যথা সহ্যও করতে হয় মিহিরবাবুকে।
সুমিতা এ'সব আন্দাজ করেন মাত্র। তবে মিহিরবাবুকে কিছু জিজ্ঞেস করার সাহস তার নেই। যা বিটকেল মেজাজ।
**
তখন থেকে অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে। ব্যাটা হাঁটতে বেরোতে আজ এত দেরি করছে কেন? যত্তসব। এদিকে বাতের ব্যথাটা না থাকলে নিজের নামটাও গুলিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। ব্যাটা বসতে পেয়ে এখন শুতে চায়। একরাশ বিরক্তি গোল্ডফ্লেকের ধুঁয়োর উড়িয়ে দিলেন মিহির দত্ত।

No comments:

বাইশের দুই বিনোদ দত্ত লেন

- কাকে চাই? - ম্যাডাম, এ'টা কি অমলেশ সমাদ্দারের বাড়ি? - ওই ঢাউস নেমপ্লেটটা চোখে পড়েনি? ও'টায় কি অমলেশ সমাদ্দার লেখা আছে?...