Sunday, January 3, 2016

ইনসমনিয়ার ঘটনা

শাল জড়িয়ে উঠতে হল। বেশ ঠাণ্ডা। মোবাইলে সময় দেখলেন সমীরণ; রাত পৌনে দু'টো।

ইনসমনিয়ায় চানাচুরের খরচ বাড়ে। রান্নাঘরে গিয়ে বয়াম খুলে বাটি ভরে সোফায় এসে বসা। রোজকার মত। রোজকার মত আনন্দবাজার খুলে বসা। এক ঘেয়ে খুনখারাপির খবরে যদি চোখ লেগে আসে।

- ঘুম আসছে না রে?
- এটাই তো রোগ বাবা। তুমি আবার এত রাত্রে এদিকে কেন?
- তোর রোগ। আমার বয়স।
- বৌমা?
- কাদা।
- মা?
- লাইকওয়াইজ।
- বড় মুশকিল হল।
- মুশকিল কেন?
- রাতের পর রাত।  এই ভাবে ঘুম না আসা। ফ্রাস্ট্রেটিং নয়?
- সমু। হোমিওপ্যাথি ট্রাই কর।
- আনন্দবাজারে কাজ হচ্ছে না। তায় হোমিওপ্যাথি।
- ডাজ দ্য চানাচুর হেল্প?
- রিডিউসেস দ্য পেইন।
- গুড। গুড। 
- লুডো খেলবে বাবা?
- আপত্তি নেই। দাঁড়া বোর্ডটা আনি।

***

- অবিনাশ।
- বলো ডাক্তার।
- কদ্দিন চালাবে এটা? 
- যদ্দিন তদ্দিন। তোমার হোমিওপাতির ওষুধ তো..সাইড এফেক্ট যখন নেই...।
- তাই বলে সমীরণ রাতের পর রাত না ঘুমোলে...।
- ঘুমোচ্ছে। ভোরের দিকে ঘুমিয়ে পড়ে। তোমার বড়ির জবাব নেই হে ডাক্তার। ঠিক ভোর চারটে পর্যন্ত জাগিয়ে রাখে ওকে।
- না মানে...।
- অপরাধ বোধ প্লান্ট করতে চাইছ মনে? লাভ নেই। শোন। ছেলের তিন বছর বয়স পর্যন্ত নিয়ম করে রাত জেগেছি; ওর শ্বাসের অ্যাকিউট প্রবলেম ছিল। ওর স্কুল কলেজের কোনও ইম্পর্ট্যান্ট ফাংশন মিস করিনি। ক্লাস টুয়েলভ পর্যন্ত অঙ্ক ইংরেজি পড়িয়েছি। অথচ গত বছর পাঁচেক ধরে...মানে যবে থেকে ওই চাকরীতে ঢুকেছে সমু, যবে থেকে বিয়ে করেছে; উই হার্ডলি স্পীক। হার্ডলি। আই মিস হিম। ডু নট ব্লেম মি ফর মিসিং মাই সন।
- অবিনাশ। 
- ডাক্তার।
- মনে রেখ।  এক বয়াম চানাচুরে মাত্র দু'টো বড়ি গুঁড়ো করে মিশিয়ে দেওয়া। ওভারডোজ হলে কী হয় বলা যায় না।
- আরে এতদিনে মাপ বুঝে গেছি ডাক্তার। চিন্তা নেই। থ্যাঙ্ক ইউ। আজ আসি।

No comments:

বাইশের দুই বিনোদ দত্ত লেন

- কাকে চাই? - ম্যাডাম, এ'টা কি অমলেশ সমাদ্দারের বাড়ি? - ওই ঢাউস নেমপ্লেটটা চোখে পড়েনি? ও'টায় কি অমলেশ সমাদ্দার লেখা আছে?...