হারানো জিনিষ

- বড় স্টিলের টিফিন ক্যারিয়ার। তিনটে বাটি, একটার পর একটা বসানো। সবচেয়ে উপরের বাটিতে ভাত। বাঁশকাঠি। চুয়াল্লিশে কিলো। সরু, লম্বা, ধবধবে। টিফিন বাটির আমোদিনী বাঁধুনিতে জমজমাট। উষ্ণতা রয়ে গেছে।পরের বাটিতে প্রটোপ্লাজম; মাছের ঝোল। রুই। এক পিস মাছ। দু'পিস আলু। হাফ বাটি ঝোল। কালো জিরে কাঁচা লঙ্কা দেওয়া। শেষের বাটিতে ডাই করে রাখা স্বপ্নের স্তূপ। নিটোল পেটের এক জোড়া পাটিসাপটা, আবেদনে সপসপে।

- অ।

- ঠিক করে লিখেছেন তো?

- তিন বাটির টিফিন কেরিয়ার। ঠিক আছে।

- আহ। একটু যত্ন করে লিখুন। ওই যে। তিনটে বাটি। মাথায় ভাত, পেটে মাছ আর ন্যাজায় পাটিসাপটা।

**
রোজ। রোজ। অফিস রিসেপশনের লস্ট অ্যান্ড ফাউণ্ড সেকশনে ঠিক লাঞ্চের আগে নেমে আসেন শ্যামল দত্ত। রোজ। প্রতিদিন। রোজ স্টিলের টিফিন হারানোর কমপ্লেইন লেখান। রিসেপশনের মধু সান্যাল এদ্দিনে জেনে গেছেন। বুঝে গেছেন। নিয়মিত রেজিস্টারে লিখে রাখেন মধু। শ্যামল দত্তের হারানো টিফিন বাক্সের কথা।

কমপ্লেইন লিখিয়ে শ্যামলবাবু ফিরে আসেন নিজের টেবিলে। ড্রয়ার থেকে বের করে আনেন নীল রঙের ছোট প্লাস্টিকের টিফিন বাক্স। তাতে রোজ থাকে একটা সাদামাঠা লো ক্যালরি স্যান্ডউইচ আর আপেল কুচি।
রোজ। রোজ। প্রতিদিন।

Comments

Popular Posts