Sunday, February 7, 2016

সমুর দাদু

দামোদর পাড়ে ছপাত ছপাত করে ভাঙছিলে।
পাড়ের নরমে নরমে ক্ষয়ে যাওয়া টের পাওয়া যায় না।
ওদিকে রাত সবে জমাট বাঁধতে শুরু করেছিল। বাতাসে শেষ শীতের কুঁইকুঁই।
পাড়ের ঘাস বালি পাথরের নরম ভিজেভাব খালি পায়ে মন্দ লাগছিল না সুমনের। সিগারেটের প্যাকেট প্যান্টের পকেটে রয়ে গেছে বলে সামান্য উশখুশ। ধরাবস্ত্র পরার সময় খেয়াল ছিল না। খানিক আগেই ডুব দিয়ে উঠে এসেছে সে। গা ভালো করে মোছা হয়নি, শিরশিরানি গা জুড়ে। ভিড় বাঁচিয়ে একটু সরে আসতেই হত।
সমু খেয়াল করেছে তার সরে আসা। পিছুপিছু চলে এসেছে।
- বাবা!
- কী রে সমু! অন্ধকারে একা এলি?
- তুমিও তো এলে।
- আমি বড়।
- দাদু বলেছিল দাদু মারা গেলে আমি বড় হয়ে যাব।
- বটে? তাহলে আজ থেকে তুই অ্যাডাল্ট।
- তোমার কষ্ট হচ্ছে বাবা?
- হচ্ছে। তোর আম্মারও আজ বড় কষ্ট রে।
- আমারও কষ্ট হচ্ছে। দাদু আর মর্নিং ওয়াকে বেরোবে না।
- আমার সাথে বেরোস মর্নিং ওয়াকে।
- দাদু গল্প বলত। গ্রীসের। রোমের। পারস্যের। মাচ্চুপিচুর।
- বলিস কী!
- হুঁ।
- আমি পড়াশোনা করে নেব। তোর সাথে মর্নিং ওয়াকের আগে।
- বাবা, চলো। সবাই ওদিকে।
- তুই তো বড় হয়ে গেছিস আজ থেকে। তুই একা ফিরে যা।
- তুমি অন্ধকারে একা যেতে পারবে বাবা?
- আমিও বড় তো। একা যেতে অসুবিধে হবে না।
- তুমি এখনও বড়?
- মানে? বড় হলে রিভার্স গিয়ার নেই।
- না মানে, দাদু বলত...।
- কী বলত?
- দাদু বলত দাদু মারা গেলে আমি বড় হয়ে যাব আর তুমি বুড়ো হয়ে যাবে। বাচ্চা আর বুড়োদের তো একা থাকতে নেই। তুমি আমার সাথে চলো।
- এরপর আর কথা হয় না। চলো সমু সর্দার।
বাপ-ছেলে অন্ধকারে মিলিয়ে যেতে দামোদরের স্রোত ঘন হয়ে রাতকে গভীরে টেনে নিয়ে গেল।

1 comment:

Anonymous said...

Simply superb.

বাইশের দুই বিনোদ দত্ত লেন

- কাকে চাই? - ম্যাডাম, এ'টা কি অমলেশ সমাদ্দারের বাড়ি? - ওই ঢাউস নেমপ্লেটটা চোখে পড়েনি? ও'টায় কি অমলেশ সমাদ্দার লেখা আছে?...