Skip to main content

বুলো সিং আর সর্দার সিংয়ের বাড়ি ফেরা

- বুলো সিং। থলে নিকালো।
- সর্দার। থলে? থলেতে কী হবে?
- কী হবে মানে? মালপত্তর যা আছে। থলে মে ডালো। বালিশের ওয়াড় , দাড়ি কামানোর বাক্স, তোষক, সর্ষের তেলের শিশি, হোমিওপ্যাতির বই, দস্তাবেজ, বাসনপত্তর...। 
- কেন? হল কী?
-  ওয়াপিস। ব্যাক টু প্যাভিলিয়ন। সর্দারবাবুর প্রত্যাবর্তন। বুলো সিংয়ের সাথে। 
- দেশে? ফেরতা?
- পত্রপাঠ। তুরন্ত। এখুনি। চটপট। 
- সে কী! দেশে ফেরত?
- দেশেই যেতে বলছি। কাজাকিস্তানে না। অত চিন্তা কিসের? 
- চাকরী? তার কী হবে? চাল, ডাল, রোব্বারের ব্রয়লার, টু পাইসের মানি অর্ডার; সে'সবের কী হবে?
- ধর্মতলায় গামছা বেচব! 
- তার চেয়ে মোবাইলের স্ক্রিন গার্ড বেচলে বেশি পয়সা।
- বড় বেশি কথা বলো বুলো সিং। থলি ভরো। জাহাজের সেকেন্ড ক্লাস টিকিট। ফার্স্ট ক্লাস রিটার্ন। স্ট্রেট টু আরামবাগ। জোড়া হাঁসের ডিমের মামলেট। মায়ের স্পেশাল পেঁয়াজ ফোড়ন দেওয়া মুসুর ডাল। হাপুস হুপুস দুপুরে ঘুম। 
- হবে না।
- মানে? 
- কোন মতেই হচ্ছে না। থলেটলে বের করে লাভ নেই। রাতের খাওয়ায় আলু সেদ্ধ মুলো-ঘণ্ট আর টমেটোর চাটনি। দিব্যি হয়েছে। 
- দশ বছর হয়ে গেলো বুলো সিং। বিদেশবিঁভুইয়ে আর কদ্দিন? টাকাটাই দেখলে বুলো সিং? বাড়ির ছাদের টবের কাঁচালঙ্কা ভুললে চলবে? সে সুবাসে ভাতের ঢিপিতে বসন্ত বুলো সিং। বিদেশের মুলো আর কদ্দিন? 
- সর্দার। 
- বুলো সিং।
- দশ বছর হয়ে গেল। 
- হয়ে গেল গো বুলো সিং। হয়ে গেল। 
- মাসীমা বড় ভালো ডিম ভাজেন। জোড়া হাঁসের।

- তা ভাজে। মা তো। নরমে নরমে। সর্ষের তেলে। ছাদের টাবের লঙ্কা কুচোনো। বুলো সিং। বাড়ি যাবো। আরামবাগে যাব। গামছা বিক্রির টাকায় ভাতে সুবাস আনবো। 
- আরামবাগ ফেলে আর এলে কই সর্দার। 
- বুলো সিং।
- সর্দার।
- দোতলার পশ্চিমের ঘরের জানালায় হলুদ ছোপানো পর্দা, সবুজ গ্রিল। ও পাশের ছাদের পাঁচিলে মিনুমেনি ল্যাজে রোদ নিয়ে ছিনিমিনি খেলে। বুলো সিং। থলে লাও। 
- ভাত বেড়েছি। খেতে এসো সর্দার। কাল আপিস।
- বুলো সিং। গামছা বিক্রি? স্ক্রিন গার্ড বিক্রি? ধর্মতলায়? ইডেনে খেলা থাকলে কাগজের তিরঙ্গা টুপি বিক্রি? হবে না? 
- মুলো-ঘণ্টে ঝাল দিয়েছি। বুঝেশুঝে ভাত মেখো।
- থলে আনবে না বুলো সিং? জাহাজের সেকেন্ড ক্লাস টিকিট? ফার্স্ট ক্লাস রিটার্ন? মায়ের হাতে ভাজা জোড়া হাঁসের ডিমের মামলেট? 
- পরশু মাসের পয়লা সর্দার। মানি অর্ডার পাঠানোর দিন।
- টমেটো চাটনি বুলো সিং? টমেটো চাটনি? 
- সর্দার। দশ বছরে তোমার গায়ে গন্ধ যায়নি। 
- কিসের?
- আরামবাগের ছাদের টবের লঙ্কাগাছের পাতার। 
- বুলো সিং। মুলোঘণ্ট অউর টমেটো চাটনি লাও। 
- কাল বাজার থেকে হাঁসের ডিম আনব'খন। 
- তুমি পারবে?
- আমি তো মাসীমা নই। আমি তো বুলো সিং। তবে চেষ্টা করব, নরমে ভাজার। সর্ষের তেলে।  

Comments

Popular posts from this blog

গোয়েন্দা গল্প

- কিছু মনে করবেন না মিস্টার দত্ত...আপনার কথাবার্তাগুলো আর কিছুতেই সিরিয়াসলি নেওয়া যাচ্ছে না।  - কেন? কেন বলুন তো ইন্সপেক্টর? - ভোররাতে এই থানা থেকে একশো ফুট দূরত্বে ফুটপাথে আপনাকে উপুড় হয়ে শুয়ে থাকতে দেখা যায়।  - আপনার কনস্টেবল নিজের চোখে দেখেছে তো।  - না না, সে'টাকে আমি কোশ্চেন করছি না। আমি শুধু সামারাইজ করছি। আপনার গায়ে দামী চিকনের পাঞ্জাবী, ঘড়িটার ডায়ালও সোনার হলে অবাক হব না। এ'রকম কাউকে বড় একটা ফুটপাথে পড়ে থাকতে দেখা যায় না। যা হোক। হরিমোহন কনস্টেবলের কাঁধে ভর দিয়ে আপনি থানায় এলেন। জলটল খেয়ে সামান্য সুস্থ বোধ করলেন। অল ইজ ওয়েল। নিঃশ্বাসে অ্যালকোহলের সামান্যতম ট্রেসও নেই। শরীরে নেই কোনও চোট আঘাত।  - আমার কথা আমায় বলে কী লাভ হচ্ছে? আমি যে জরুরী ব্যাপারটা জানাতে মাঝরাতে ছুটে এসেছিলাম...সেই ব্যাপারটা দেখুন...। ব্যাপারটা আর্জেন্ট ইন্সপেক্টর মিশ্র।  - আর্জেন্সিতে পরে আসছি। রাত সাড়ে তিনটে নাগাদ আপনি থানায় ছুটে এসেছিলেন। ওয়েল অ্যান্ড গুড। কিন্তু...ফুটপাথে পড়ে রইলেন কেন...।  - এ'টাই, এ'টাই আমি ঠিক নিশ্চিত নই। মাথাটাথা ঘুরে গেছিল হয়ত। আফটার অল বা

পকেটমার রবীন্দ্রনাথ

১ । চাপা উত্তেজনায় রবীন্দ্রনাথের ভিতরটা এক্কেবারে ছটফট করছিল । তার হাতে ঝোলানো কালো পলিথিনের প্যাকেটে যে ' টা আছে , সে ' টা ভেবেই নোলা ছুকছাক আর বুক ধড়ফড় । এমনিতে আলুথালু গতিতে সে হেঁটে অভ্যস্ত । তাড়াহুড়ো তার ধাতে সয় না মোটে । কিন্তু আজ ব্যাপারটা আলাদা । সে মাংস নিয়ে ফিরছে । হোক না মোটে আড়াই ' শ গ্রাম , তবু , কচি পাঁঠা বলে কথা । সহৃদয় আলম মিয়াঁ উপরি এক টুকরো মেটেও দিয়ে দিয়েছে । তোফা ! নিজের লম্বা দাড়ি দুলিয়ে ডবল গতিতে পা চালিয়ে সে এগোচ্ছিল ।   গলির মোড়ের দিকে এসে পৌঁছতে রবীন্দ্রনাথের কেমন যেন একটু সন্দেহ হল । ঠিক যেন কেউ পিছু নিয়েছে । দু ' একবার ঘাড় ঘুরিয়েও অবশ্য কাউকে দেখা গেলনা । ভাবনা ঝেড়ে ফেলে মাংসের পাকেটটায় মন ফিরিয়ে আনলেন রবীন্দ্রনাথ । বৌ নিশ্চয়ই খুব খুশি হবে আজ । খোকাটাকে যে কদ্দিন মাংসের ঝোল খাওয়ানো হয়নি ।   খাসির রান্নার গন্ধ ভেবে বড় গান পাচ্ছিল রবীন্দ্রনাথের । সে বাধ্য হয়েই একটা কুমার শানুর গাওয়া আশিকি সিনেমার গান ধরলে ।

চ্যাটার্জীবাবুর শেষ ইচ্ছে

- মিস্টার চ্যাটার্জী...। - কে? - আমার নাম বিনোদ। - আমি তো আপনাকে ঠিক...। - আমায় বস পাঠিয়েছেন। - ওহ, মিস্টার চৌধুরী আপনাকে...। - বসের নামটাম নেওয়ার তো কোনও দরকার নেই। কাজ নিয়ে এসেছি। কাজ করে চলে যাব। - আসুন, ভিতরে আসুন। - আমি ভিতরে গিয়ে কী করব বলুন। সৌজন্যের তো আর তেমন প্রয়োজন নেই। আপনি চলুন আমার সঙ্গে। চটপট কাজ মিটে গেলে পৌনে এগারোটার লোকালটা পেয়ে যাব। আমায় আবার সেই সোনারপুর ফিরতে হবে। - যা করার তা কি এ'খানেই সেরে ফেলা যায়না? - এমন কনজেস্টেড এলাকায় ও'সব কাজ করা চলেনা। চুপচাপ ব্যাপারটা সেরে ফেলতে হবে। - প্লীজ দু'মিনিটের জন্য ভিতরে আসুন বিনোদবাবু। জামাটা অন্তত পালটে নিই। - কী দরকার বলুন জামা পালটে। - দরকার তেমন নেই। তবু। ওই, লাস্ট উইশ ধরে নিন। - ক্যুইক প্লীজ। ট্রেন ধরার তাড়াটা ভুলে যাবেন না। আর ইয়ে, পিছন দিক দিয়ে পালাতে চেষ্টা করে লাভ নেই। বসের লোকজন চারপাশে ছড়িয়ে আছে। - ও মা, ছি ছি। তা নয়। আসলে মিতুলের দেওয়া একটা জামা এখনও ভাঙা হয়নি। বাটিক প্রিন্টের হাফশার্ট। একটু ব্রাইট কালার কিন্তু বেশ একটা ইয়ে আছে। ও চলে যাওয়ার পর ও জামার ভাজ ভাঙতে ইচ্ছে হয়নি। কিন্তু...আজ না হয়...। - মিতু