Saturday, February 13, 2016

কুড়ুলে পা

ভিজে বালিতেই বসল সৌমেন্দু। লম্বা করে মেলে দিল পা জোড়া। পায়ের গোড়ালি পর্যন্ত ঢেউ ধাক্কা দিয়ে যাচ্ছিল। অন্ধকারে ঢাকা চারিপাশ, ফেনা মাথায় ঢেউ ছাড়া কিছুই গোচরে আসে না।

কাঁধের থলে থেকে পাণ্ডুলিপিটা বের সমুদ্র তাক করে ছুঁড়লে সৌমেন্দু। হাওয়ায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে গেল বান্ডিল মুক্ত কাগজের দল। চার নম্বর কাঠিতে সিগারেটটা ধরাতে পারলে সে; যা হাওয়ার তেজ।

দু'টান দিয়ে পকেট থেকে মোবাইল বের করে ডায়াল করলে সে।

- কমলদা, আমি সৌমেন্দু বলছি।
- কঙ্গ্রাচুলেশনস। অর্ণবদার তোর বইটা ছাপাতে রাজী হওয়াটা কিন্তু হিউজ ব্যাপার।
- হ্যাঁ। তাই তো।
- অবিশ্যি, আমায় কম তোয়াজ করতে হয়নি ওকে।
- জানি।
- তোর লেখায় ডেপথ থাকলেও, কমার্শিয়াল ভ্যালু একটু কম। তাই একটু বেশিই কাঠখড় পোড়াতে হল।
- জানি।
- জানি জানি কী রে। ফিরে এসে আমাদের হয়ে তোকে কাজ করতে হবে। এসব শুকনো থ্যাঙ্ক ইউ কুড়োতে কমল রায় গডফাদাগিরি করে না চাঁদু।
- কাজ তো করবই। তবে ইয়ে...।
- ইয়ে কী? ইয়ে টিয়ে নয়। লেখাটা স্পীডপোস্টে পাঠিয়ে দে। তুই শহরে ফেরার আগে কাজটা এগিয়ে থাক।
- না মানে, তার আর দরকার হবে না। একজন বেশ বড় পাবলিশার আমার লেখাটা ছাপতে রাজি হয়েছে। পাণ্ডুলিপি সেখানেই পাঠিয়ে দিয়েছি আজ। সেটা বলতেই ফোন করেছিলাম।
- হোয়াট?
- হ্যাঁ।
- অর্ণবদার চেয়েও বড়?
- মাচ বিগার।
- ভেবে দেখ। নিজের পায়ে কুড়ুল মারছিস না তো?

নিজের ঢেউ আর বালিতে মাখামাখি খালি পা জোড়ার দিকে তাকিয়ে হাসি পেল সৌমেন্দুর।

"সমুদ্রের গর্জনে তোমার কথা অর্ধেক বুঝতে পারছি না' বলে ফোনটা কেটে দিল সে"।

No comments:

বাইশের দুই বিনোদ দত্ত লেন

- কাকে চাই? - ম্যাডাম, এ'টা কি অমলেশ সমাদ্দারের বাড়ি? - ওই ঢাউস নেমপ্লেটটা চোখে পড়েনি? ও'টায় কি অমলেশ সমাদ্দার লেখা আছে?...