Monday, January 2, 2017

কলকাতার মেসিয়াহ্ : তৃতীয় পর্ব

- আসুন।
- না মানে...।
- আসুন। বসুন।
- -আসলে...।
- আগে বসুন। তারপর না হয় আসল নকল শোনা যাবে।
- থ্যাঙ্কস।
- আমি বিপাশা।
- ও।
- ভালো?
- হুঁ?
- নামটা। ভালো?
- দিব্যি।
- পিপাসার সাথে ছন্দে মেলে।
- ঠিক। বিপাশার সাথে ছন্দে। পিপাসা কুয়াশা হতাশা আমাশা...।
- থামো। কী বিটকেল গো তুমি। সোহাগ করতে এসে আমাশা?
- আসলে আমি...।
- কী? আসলে কী?
- আমি ঠিক সে কারণে আসতে চাইনি।
- হুঁ? ইয়ার্কি হচ্ছে?
- না। সত্যি।
- টাকা দেবে তো?
- মাসী পাঁচশো বলেছিল। দিয়ে ঢুকেছি।
- তুমি বড় ডেঁপো। দু'শো ছাড়ো। আলাদা করে।
- এই যে।
- ও। রহিস মাল।
- মাল?
- বাবু বলব?
- আচ্ছা, মালই থাক।
- দু'শোর কথা আবার মাসীকে বলতে যেও না।
- আন্ডার দ্য টেবল। সেটা বুঝেছি।
- এবার বলো...।
- আমার নাম বিশ্বরূপ গঙ্গোপাধ্যায়।
- এই দ্যাখো। এখানে আবার কেউ নামধাম বলতে আসে নাকি। কাজ করো, করে ভাগো। দেখে তো মনে হয় কচি..।
- থার্ড ইয়ার।
- এসো, জলদি করো। বসিয়ে রাখলে রেট বাড়বে।
- শুনুন, আমি এসেছি অন্য দরকারে।
- ঠ্যাং ভেঙে দেব। ইয়ার্কি হচ্ছে?
- শুনুন। খুব জরুরী কাজ। আমার কাছে আরও একশো বাহান্ন টাকা আছে।
- কী দরকার?
- শম্পা মণ্ডলকে চেনেন?
- শম্পা মণ্ডল? সে কে?
- ওহ। আপনিও চেনেন না। আমার কাছে একটা ছবি আছে। দেখবেন? যদি চিনতে পারেন?
- তুই পুলিশের ছেলে নাকি? হারামজাদা লাশ ফেলে দেবো...।
- মাইরি বলছি সে'সব না। আমি কলকাতায় পড়াশোনা করছি। আমার কলেজে আইকার্ড দেখবেন?
- বেরো। এখুনি বেরো।
- পায়ে পড়ি দিদি। একটু হেল্প করবেন প্লীজ? বড় দরকার আমার শম্পাকে। আর মেয়েটাও বিপদে, ওর আমাকে দরকার।
- তোকে দেখে তো ভদ্র বলেই মনে হয়।
- শম্পার আমাকে বড় দরকার।
- শম্পা কে?
- ঝুড়িমতি গ্রামের মেয়ে। বীরভূম জেলা। আমাদের গ্রাম।
- তোর কে হয়?
- বিয়ে করার কথা ছিল। মানে। চাকরী পেলে। কিন্তু...।
- কিন্তু?
- আমরা বামুন। বাবার অনেক পয়সা। ওরা ছোট জাত। বাপ নেই। অভাব। কোনও বাজে বদনামে মা সুইসাইড করল। তারপর সব কেমন হুড়মুড় করে পালটে গেল। এই, বছরখানেক আগেই। না বলে কয়ে ও পালিয়ে গেল। গাঁয়ের কেউ আর ওকে দেখেনি। ঝুড়িমতির দারোগা খবর দিয়েছিল ও কলকাতায় এসে...এসে...।
- এসে?
- এসে...।
- লাইনে নেমেছে?
- এই প্রেমচাঁদ বড়াল স্ট্রিটেই আশেপাশেই নাকি কোথাও এসে...।
- ও। আমাদের মত। লাইনের মেয়ে।
- ও বাধ্য হয়েছে। বিশ্বাস করুন। গাঁয়ে থাকলে ওরা ওকে ছিঁড়ে খেত।
- কে স্বেচ্ছায় আসে রে আপদ? তা, তুই ওকে খুঁজছিস কেন?
- ওই। বিয়েটা বাকি আছে।
- বাপ মা হুড়কো দিলে হিম্মত উড়ে যাবে।
- টিউশন করে মাসে হাজার টাকা পাই। সে টাকায় মাসে দু'বার এ পাড়ায় আসি। যদি দেখতে পাই ওকে। বা কেউ যদি খবর দিতে পারে। এক জায়গায় দু'বার আসি না। তবে জায়গাটা এত বড়...। বেশিরভাগ সময়ই সবাই টাকা নিয়ে খেদিয়ে দেয় পাগল ভেবে, আপনি তবু শুনলেন।
- শোন, এখানে এসে সবাই নতুন নাম নেয়, শম্পা আর নেই। ছবিটা দেখা।
- এই..এই যে। দেখেছেন একে?
- নাহ, চেনা ঠেকছে না। তবে...ছবিটা রেখে যাবি?
- যাব। মাঝে মাঝে আসব? খবর নিতে?
- নয়তো কি আমি যাব তোর বাড়ি বয়ে খবর দিতে?
- থ্যাঙ্ক ইউ বিপাশাদি। আমি টাকা দেব...।
- ঠ্যাং ভেঙে দেব।
- না মানে...।
- ওর খোঁজ পেলে কী করবি?
- পড়াশোনা ছেড়ে দেব। প্রচুর টিউশানি করব।  আমি খুব ভালো পড়াই গো। ক্লাস এইট থেকে ট্যুয়েলভ। তারপর একটা মাথা গোঁজার জায়গা। আর মন্দিরে বিয়ে।
- তুই পাগল।
- শম্পাও বলত।
- যদি ওর দেখা পাস, আমায় ডাকবি তোদের বিয়েতে?
- গড প্রমিস।
- বেশি ইংরেজি মারাস না। এই দু'শো টাকা রাখ। আর দু'হপ্তা পর আসিস। আর শোন, সন্ধ্যে বেলা বিজনেস। তুই দুপুরে আসিস।
-বেশ।

**

- আচ্ছা অজয়দা, বিশ্বরূপদার সাথে মেসের কেউ কথা বলে না কেন?
- আমি বলি তো।
- হ্যাঁ, কিন্তু তুমি ছাড়া আর কেউ...।
- তোকে দেখলাম পড়া বোঝাচ্ছে সেদিন। মানে তুইও কথা বলিস।
- বিশ্বরূপদা আমাদের যে কোন প্রফেসরের চেয়ে ভালো পড়া বোঝায়, জানো?
- দ্যাখ অরূপ, ছেলেটা ব্রিলিয়ান্ট।
- আর কী নম্র। কিন্তু মেসের বাকি ছেলেরা কেন বলে বিশ্বরূপদা অত্যন্ত খারাপ ছেলে? মিশলে গোলমাল হতে পারে?
- বিশ্বরূপের অত্যন্ত গোলমেলে জায়গায় নিয়মিত যাতায়াত রয়েছে। সে সম্বন্ধে নিশ্চিত খবর আছে। আর খুব শীগগির ওকে মেসছাড়া হতে হলেও অবাক হব না।
- গোলমেলে জায়গা?
- প্রেমচাঁদ বড়াল স্ট্রিট। রেগুলার ওকে ওদিকে যেতে দেখা যায়। চার্জ করলে অস্বীকারও করে না।
- প্রেমচাঁদ...বড়াল। ওই ব্র...ব্রথে...ব্রথে..।
- বৌয়ের বাজার।
- ওহ হো। বৌবাজার। কিন্তু বিশ্বরূপদা যে গোলমেলে...তা বিশ্বাস করতে কিছুতেই মন সরছে না।
- বিশ্বাস আমারও হয় না। তবে বিপুলা এ মেসের কতটুকুই বা জানি....বাদ দে। শিউলি মাসীকে একবার হাঁক দে,  ডিনার রেডি হল কিনা দেখ।

(চলবে)

1 comment:

arijit said...

besh egochhe.

Biswarup r Arup ki alada byakti?