Wednesday, January 4, 2017

ডক্টর স্ট্যানকোভস্কির আফশোষ

ঠকঠক করে কাঁপছিলেন ডক্টর স্ট্যানকোভস্কি। গায়ে অন্তত পাঁচটা সোয়েটার, মাথা মুখ ঢাকা টুপি মাফলার, হাতে দস্তানা; এতকিছু পরেও ঠাণ্ডা কে বাগে আনা যাচ্ছে না। সুবিধে এই যে ঝোড়ো হাওয়া আদৌ নেই ,কাজেই তাঁবু খাটিয়ে ল্যাবরেটরির জিনিষপত্র গুছিয়ে নিতে কোনও অসুবিধে হয়নি। সোলার স্টোভে স্যুপের জল গরম হতে এখানে মেরুর থেকেও দ্বিগুণ সময় লাগে, সে’টা ঘড়ি ধরে মেপে নিয়েছিলেন স্ট্যানকোভস্কি।


বাতাসে হাড় নীল করা ছোঁয়াচ আছে ঠিকই কিন্তু এ দেশে অন্ধকারের দমবন্ধ ভাব নেই এতটুকু। এখানে আকাশ ঝকঝকে নীল। এমন মনপ্রাণ জুড়ানো নীল এর আগে দেখননি প্রবীণ বৈজ্ঞানিক। সে নীলের পরতে পরতে মিশে আছে রোদ্দুরের সোনালী চকমক। সে নীলে বিন্দু মাত্র মেঘের খুঁত নেই। চিররোদ্দুরের দেশ, এখানে আকাশ নীলের সমুদ্র আর মাটি তুষারের নিশ্ছিদ্র আস্তরনে সফেদ স্বপ্নময়।
                      

স্যুপের বাটিতে তৃপ্তির চুমুক দিয়ে তাঁবুতে পাতা স্লীপিং ব্যাগে ঠেস দিয়ে বসলেন ডক্টর স্ট্যানকোভস্কি। অবশেষে সাফল্য। ফিজিক্স, ন্যানোটেকনলজি আর বায়োকেমিস্ট্রি মিলে যে এমন অসাধ্য সাধন সম্ভব, সে'টা আজ থেকে বছর দশেক আগেও কেউ ভেবেছিল কী? পৃথিবীর সমস্ত প্রান্ত থেকে প্রায় সাতশো বৈজ্ঞানিকের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে এই বৈপ্লবিক কাণ্ডটা ঘটিয়ে ফেলাই গেল শেষ পর্যন্ত।


মানুষের মগজে প্রবেশ। নিজেকে একটা মলিকিউলের সাইজে পরিণত করে প্রবেশ করা মানুষের ব্রেনে আর সে’খানে ঢোকা মাত্রই মগজের ভিতরটা মুহুর্তের মধ্যে পরিণত হবে ভূদৃশ্যে। সে ভূদৃশ্য কেমন হবে তা অবশ্যই নির্ভর করবে মগজের কোয়ালিটির ওপর। সেই ল্যান্ডস্কেপ দাঁড়িয়ে একজন ব্রেন সার্জন রিসার্চ চালাবেন একজন ভূবিজ্ঞানীর মতই। মগজের যাবতীয় রহস্যের সমাধান এখন মানুষের হাতের মুঠোয়।


বাটির স্যুপ সাবাড় হয়ে গেল অথচ ঠাণ্ডায় ঠকঠক কাঁপুনি কিছুতেই যাচ্ছিল না। সাইবেরিয়ার মানুষ হয়েও এই অসহ্য শীত বরদাস্ত করতে পারছিলেন না ডাক্তার স্ট্যানকোভস্কি। শেষে শীতের চোটে রিসার্চের কাজ মুলতুবি রেখে বেরিয়ে না আসতে হয়।


আফশোষে হাত কামড়াতে ইচ্ছে হচ্ছিল স্ট্যানকোভস্কির। মহেন্দ্র সিংহের মগজটাকে প্রথম স্যাম্পল হিসেবে বেছে নেওয়াটা ঠিক হয়নি আদৌ।

No comments: