Sunday, July 5, 2015

জানালা

খড়াক!

এই নিয়ে তৃতীয় বার অনিন্দ্যর মাথার কাছের জানালাটা সশব্দে খুলে গেল। প্রত্যেকবারই শশব্যস্ত হয়ে তাকে মশারি ঠেলে উঠতে হয়েছে। একটানা ঝড় বাইরে; জানালাটা তৎক্ষণাৎ বন্ধ না করলে ঠাণ্ডা লেগে ছেলেটার শরীর আরও বিগড়ে যেতে যেতে পারে। জানালার ছিটকানিতে নিশ্চয়ই কোন গণ্ডগোল হয়েছে।
অনিন্দ্যর চার বছরের ছেলে মিলুকে নিয়ে ক’দিন ধরে যমে মানুষে টানাটানি; রক্তে কিছু সাংঘাতিক ইনফেক্‌শন। রিমা মিলুকে বুকে চেপে বিছানায় ঘুমিয়ে।রিমারও কিছুদিন ধরে যা ধকল যাচ্ছে; ছেলে বুকে অসাড় হয়ে ঘুমোচ্ছে সে। সে জন্যেই প্রত্যেকবার অনিন্দ্যকে হুড়মুড় করে উঠতে হচ্ছে জানালা বন্ধ করতে। তৃতীয়বারের জন্য জানলা বন্ধ করে, বিছানার পাশের টেবিলের ওপর থেকে জলের বোতলের ছিপি খুলে দু’ঢোক মুখে নিলে সে। নাইট ল্যাম্পের আবছা আলোতে রিমার ক্লান্তি মাখা ঘুমন্ত মুখের দিকে তাকিয়ে কী ভীষণ মন খারাপ হয়ে গেল অনিন্দ্যর। কী দুশ্চিন্তাতেই না কাটছে এ ক’দিন। মিলু ভালো হয়ে উঠবে তো? কোন চেষ্টারই ত্রুটি রাখা হচ্ছে না অবশ্য। মোবাইলের স্ক্রিন অন করে সময় দেখলে অনিন্দ্য; ঠিক রাত তিনটে বাজে। 

**
ঝড় কমছে না এই একটা সুবিধে। এই নিয়ে চতুর্থ বার জানালা খুলতে জোর লাগাল মিলু। এত আনন্দ হচ্ছে; কতদিন পর তার গায়ে আর জ্বর নেই। কিন্তু মুস্কিলটা অন্য জায়গায়। সেই যে মিলু দু’ঘণ্টা আগে ঘরের বাইরে চলে এলে; এখন আর চাইলেও ঘরের ভিতরে আসতে পারছে না সে। বারবার হুড়মুড় করে ঠেলে জানালা খুলে দেখতে হচ্ছে বিছানায় মা শুয়ে তার ঠাণ্ডা শরীরটা জাপটে। বাবাটা বিচ্ছিরি; এত কষ্ট করে মিলু জানালাটা খুলছে আর অমনি বাবা প্রত্যেকবার ধড়ফড়িয়ে উঠে জানালাটা বন্ধ করে দিচ্ছে। মিলুর হাঁকডাকও বাবা বা মা ; কেউই শুনতে পারছে না। এর কোন মানে হয়?

No comments:

তিব্বতি মাদুলি

- মনখারাপ? - আজ্ঞে। প্রচণ্ড। টেরিফিক লেভেলে মনখারাপ। - সে তো বুঝলাম। কিন্তু কেন? জয়েন্টে ফেল? মিনিবাসের পকেটমারিতে সত্তর টাকা জল...