Sunday, July 19, 2015

সলমান



ইচ্ছে ছিল বজরঙ্গী ভাইজান দেখতে যাওয়ার। শেষ মুহূর্তে অমুদা টেনে নিয়ে গেল অন্যত্র।
অমুদা বললে "সলমানকে দেখতে চাস?"


-"অফ কোর্স, পয়সা উসুল একক্সপিরিয়েন্স", আমি বললাম, "কে না চায়?"।


-"আমি তোকে বেটার সলমান এক্সপিরেয়েন্স অফার করছি। বাইসেপ, ছাতি, হ্যান্ডসাম চেহারা, মন ভোলানো হাসি, নায়িকাদের নিয়ে অবলীলায় লোফালুফি, মাথা ঘুরিয়ে দেওয়া স্টান্ট; এক কথায় যাকে বলে ভাই-লাইক প্যাকেজ। সবচেয়ে বড় কথা; এত সমস্ত ক্যারিস্মাটিক ডিসপ্লে দেখতে পাবি লাইভ। নিজের চোখের সামনে। বুক চিতিয়ে ক্যামেরার আড়াল ছাড়া হৃদয় কাঁপিয়ে যায় এই সলমান"।


-বলছ?



-কমিট করছি।


যা হোক। একরকম বাধ্য হয়ে অমুদার পিছু পিছু গেলাম নয়া সলমান দেখতে। ফেমাস সার্কাসে। সেখানে সত্যিই দর্শন হল অন্য সলমানের। অমুদা কী ভাবে যে এই সুপারস্টারের নাম জানতে পেরেছিল কে জানে। ট্র‍্যাপিজ থেকে শুরু করে জাগলিং থেকে ছুরির রোমহর্ষক খেল; এ সলমান সর্বত্র অনবদ্য। সহ-জিমনাস্টিনি নায়িকার হাত ধরে যখন কোন বেল্টের সুরক্ষা ছাড়াই সে তাঁবুর ছাতে উঠে একের পর এক রোম্যান্টিক ডিগবাজি খেয়ে চলেছে তখন উন্মত্ত গ্যালারির সাথে তাল মিলিয়ে আমিও ফ্যাস ফ্যাস শব্দে শিস দেওয়ার জবরদস্ত চেষ্টা করছি। তিন চারটে গা কাঁপানো খেলার শেষে যখন সলমান গ্যালারির দিকে চেয়ে হাত নাড়লে, তার মুখে তখন বলিউড গলানো হাসি।

সলমানের খেল শেষ হতেই আমি আর অমুদা বেরিয়ে এলাম। অমুদা কে থ্যাঙ্ক ইউ বলার আগেই অমুদা পিঠে হাত রেখে বললে, "সবচেয়ে বড় কথা কী জানিস? তোর মনে যে সলমান কে প্লেস করে দিলাম আজকে, সে কোন জঙ্গলে বা ফুটপাথে চোরাগোপ্তা শিকার করে বেড়ায় না। জেল ফাঁকি দিয়ে বক্স অফিসের ব্লেডে তোর পকেট কেটে তোর রক্তে গাঁজা ইঞ্জেক্ট করে না। ইওর মানি ফর সার্কাস টিকিট ওয়াজ ওয়েল স্পেন্ট। হিরো চিনতে শেখ। রিয়েল হিরো তৈরির প্রসেসে কন্ট্রিবিউট করতে শেখ। কাল বিকেলে আবার আসিস। সাতটার শোয়ের আগে। সলমানের সঙ্গে আলাপ সেরে রেখেছি। একটা অটোগ্রাফ ম্যানেজ করে দেব তোকে। ওকে?"

No comments:

তিব্বতি মাদুলি

- মনখারাপ? - আজ্ঞে। প্রচণ্ড। টেরিফিক লেভেলে মনখারাপ। - সে তো বুঝলাম। কিন্তু কেন? জয়েন্টে ফেল? মিনিবাসের পকেটমারিতে সত্তর টাকা জল...