Friday, July 24, 2015

সুইসাইড নোট

সুইসাইড নোট লেখা চাট্টিখানি কথা নয়। বেশি লম্বা হলে চলবে না, তাতে পাঞ্চ কমে যায়। আবার এলেবেলে 'চললাম' বললেও ঠিক চলে না। সেন্টিমেন্টের ঘায়ে পাঠককে শুইয়ে দিতে হবে; আবার ইরেস্পন্সিবল কথা ছুঁড়ে দেওয়া চলবে না। প্রতিটা শব্দ হিসেব কষে পাতায় ছাড়তে হবে। সেইসব সাতপাঁচ অনেক ভেবে চিঠিটা লিখতে বসা। 

গুছিয়ে লিখে রেখে যাওয়া যে এক্সট্রা ম্যারিটাল ব্যাপারটা নেহাতই একটা অ্যাকসিডেন্ট দিয়ে শুরু হয়েছিল কিন্তু এখন ক্রমশ নেশার পর্যায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে। এবং সুইসাইড যে সেই অপরাধ বোধ থেকেই; সেটা স্পষ্ট করে যাওয়াটা দরকারি যাতে আর পাঁচজনের হয়রানি না হয়। 
"আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়। সবাই যেন ভালো থাকে। ইতি, পল্লব"। শেষ লাইনটা লিখে বেশ নিশ্চিন্তে বসা গেল। 

এক গেলাস জল টেবিলেই রাখা ছিল। বিশেষ বড়ি দু'টো জলে ছাড়তেই মিশে গেল; জলের রঙ বদলে গেল না অথচ ওই এক চুমুকেই যুদ্ধ জয়।

**

- আহ, অনিতা কী হচ্ছে কী? রাত একটা বাজতে চলল অথচ এখনও আলো না নিভিয়ে কী সব লিখে যাচ্ছ?
- একটা চিঠি।
- চিঠি? কাকে?
- নিজের জন্য লিখছি। তুমি তো আর কোনদিন আমায় চিঠি লিখে দিলে না। তাই তোমার হাতের লেখা টুকলি করে নিজেকে চিঠি লিখছি।
- বাজে ঠাট্টার সময় এটা নয়। শুতে এস। ভীষণ ঘুম পাচ্ছে। আলোয় অসুবিধে হচ্ছে।
- লেখা হয়ে গেছে গো চিঠিটা এবার শুতে আসব। শোন পল্লব, আজ ডিনারের পর তুমি একদম ভালো করে জল খাওনি কিন্তু। এক গ্লাস জলে এনে দিচ্ছি, খেয়ে তারপর ঘুমোও। 
- এই রোজ শুতে যাওয়ার আগে তোমার জল খাওয়ানো। মায়ের কথা মনে পড়ে যায় জান? দাও দেখি এক গেলাস। আর লাইটটা নেভাও। 

No comments:

ধপাস

সাঁইসাঁই। সাঁইসাঁই। সাঁইসাঁই। পড়ছি তো পড়ছিই। পড়ছি তো পড়ছিই। পড়ছি তো পড়ছিই। পড়ছি তো পড়ছিই। বহুক্ষণ পর আমার পড়া একটা প্রবল 'ধপ...