Thursday, November 14, 2019

রেখার গল্প


উসমানের লেখা তিন নম্বর বায়োগ্রাফি পড়লাম; সঞ্জয় দত্ত, রাজেশ খন্নার পর রেখা। এর আগে ওঁর লেখা ভালো লেগেছে কারণ ভদ্রলোক সোর্স-নিষ্ঠ এবং মশলাবাজ চমকের আড়ালে নিজের রোয়াক-কাঁপানো মতামত পাঠকের কাঁধে চাপানোর তেমন চেষ্টা করেননা। রিসার্চ করে তুলে আনা ঘটনা এবং সে'সবের সোর্স "গ্রিপিং" স্টাইলে সাজিয়ে দিয়ে তাঁর কাজ শেষ, ইনফারেন্সের দায় মূলত পাঠকের ওপরই বর্তায়; বায়োগ্রাফির ক্ষেত্রে যেমনটা হওয়া উচিত বলেই আমার ব্যক্তিগত ভাবে মনে হয়।

বইয়ের ভূমিকায় উসমান একটা ব্যাপার খোলসা করেছেন; রেখার সম্বন্ধে রিসার্চে একটা বড় সমস্যা হল বলিউডে রেখার সম্বন্ধে খোলতাই ভাবে (এবং সৎসাহস নিয়ে) কথা বলার লোকের একান্ত অভাব। তা পড়ে মনের মধ্যে সামান্য খটমট তৈরি হয়েছিল বটে; তবে কি গোটা লেখাটাই গসিপ ম্যাগাজিন কোট করে দাঁড়াবে? অনস্বীকার্য যে গসিপ-পত্রিকার বহু কোটেশন 'খানে ব্যবহৃত হয়েছে কিন্তু তা বইটাকে কখনই কুয়াশাচ্ছন্ন করে তোলেনি। অর্থাৎ তিনি চেষ্টা করেছেন একই ঘটনাকে একাধিক 'সোর্স' থেকে যাচাই করে কন্টেক্সচুয়ালাইজ করতে৷

বইটা আদৌ হ্যাগিওগ্রাফি যেমন নয়, তেমনই নিশ্চিন্তে বলতে পারি যে বইয়ের যাবতীয় মশলাদার উপাদান পেরিয়েও ভানুরেখার সম্বন্ধে #রেস্পেক্ট বাড়ে বই কমে না। বইটা পড়তে গিয়ে 'বার একটা ব্যাপার নিজ-আগ্রহে ট্র‍্যাক করেছি; রেখার যে যে সাক্ষাৎকার উসমান কোট করেছেন বা অন্য যে সব সাক্ষাৎকারের উল্লেখ বইতে আছে এবং যেগুলো রেকর্ডেড ইউটিউবে রয়েছে, সেগুলো দেখার চেষ্টা করেছি। সে সব দেখে বিশ্বাস দৃঢ় হয়েছে যে দুম করে ন্যাজা কোট করে মুড়ো সম্বন্ধে ওপিনিওন ভাসিয়ে দেওয়ার মানুষ উসমান নন; 'টা বাঁচোয়া। আর এর আগেও বলেছি আর আবারও বলি; অজস্র 'ফিল্মি' অ্যানেকডোট চমৎকার ভাবে সাজিয়ে দিতে উসমানের জুড়ি মেলা ভার।

রেখার জন্ম, বড় হয়ে ওঠা, বলিউডে পদার্পণ থেকে খুবসুরত হয়ে উমরাওজান পেরোনো সফর; নিয়ে বোধ হয় অসামান্য একটা উপন্যাস বাঁধা যেতে পারে। উসমান সাহিত্যরস নিয়ে মাথা ঘামালে বায়োগ্রাফি নষ্ট হত, কিন্তু সাহিত্যরস ফলানোর সু্যোগ যে কম ছিল না তা বলাই বাহুল্য। আবারও বলি, রগরগে উপাদান 'তে নেহাত কম ছড়িয়ে নেই কিন্তু এই বইয়ের সার্থকতা অন্য জায়গায়; সেই আপাত চমকের বাইরে গিয়ে রেখা মানুষটাকে নিয়ে দু'দণ্ড ভাবার সুযোগটুকু এখানে পাওয়া যায়৷

মিডিওক্রিটি থেকে এক্সেলেন্সের দিকে এগিয়ে যাওয়ার এমন চমৎকার 'গল্প' খুব বেশি জোটেনা। সমস্ত তীর্যক দৃষ্টি, ব্যঙ্গবিদ্রূপ এবং বাঁকা মন্তব্যের বাইরে গিয়ে মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড়ানো একজন মানুষের গল্প কিন্তু আবারও বলি, কালো কে সফেদ করা হোয়াইটওয়াশের অপচেষ্টা এটা নয়৷ সমাজটা এখনও পুরুষদেরই দখলে, বলিউডও ব্যতিক্রমী নয়। সেই 'জবরদখল' হয়ত রেখা সম্পূর্ণ অগ্রাহ্য করতে পারেননি, কিন্তু ভুলভ্রান্তি সত্ত্বেও নিজের সদর্পে বেঁচে থাকার অধিকারটুকুকে পাঁচ দশক ধরে আঁকড়ে রেখেছেন তিনি। সে'খানেই তিনিইনক্রেডিবল'

'স্ক্যান্ডাল ইন বোহেমিয়া'তে বোহেমিয়ার রাজামশাই আইরিন য়্যাডলার প্রসঙ্গে বলছেন
"Would she not have made an admirable queen? Is it not a pity she was not on my level?" শার্লক হোমস মনে মনে বলছেন "না হে রাজন, সে তোমার স্তরের মানুষ নয় আদৌ৷ তাঁর স্থান তোমার অনেক ওপরে। আমি তাঁর পাশে দু'দণ্ড বসতে পারলে ধন্য হই" এই গল্পের শুরুতেই আইরিন য়্যাডলার সম্বন্ধে হোমসের সমীহ যে কতটা তার একটা গুরুতর বর্ণনা আছে। কী বই নিয়ে বলতে শুরু কী বলে ফেলছি কে জানে তবে লম্বা কোট করার লোভ সামলানো গেল নাঃ

"To Sherlock Holmes she is always The woman. I have seldom heard him mention her under any other name. In his eyes she eclipses and predominates the whole of her sex. It was not that he felt any emotion akin to love for Irene Adler. All emotions, and that one particularly, were abhorrent to his cold, precise but admirably balanced mind. He was, I take it, the most perfect reasoning and observing machine that the world has seen, but as a lover he would have placed himself in a false position. He never spoke of the softer passions, save with a gibe and a sneer. They were admirable things for the observer—excellent for drawing the veil from men's motives and actions. But for the trained reasoner to admit such intrusions into his own delicate and finely adjusted temperament was to introduce a distracting factor which might throw a doubt upon all his mental results. Grit in a sensitive instrument, or a crack in one of his own high-power lenses, would not be more disturbing than a strong emotion in a nature such as his. AND YET THERE WAS BUT ONE WOMAN TO HIM, AND THAT WOMAN WAS THE IRENE ADLER” 

প্রেমিকের অভাব রেখা কতটা বোধ করেছেন তা উসমান বা তাঁর পাঠক; কারুরই দম নেই হলফ করে বলার। কিন্তু য়্যাডলারের মত একজন শার্লক যে তাঁর ভাগ্যে জোটেনি; ঝড়ে-বক-আন্দাজে সে'টুকু বলা যায় বইকি।

No comments:

দাদার লাইব্রেরি

- দাদা। - কী ব্যাপার পিলু? এত রাত্রে? - মনে হল তুই হয়ত এখনও ঘুমোসনি। তাই ভাবলাম যাই একবার...। - আয়। বস। - কী পড়ছিস? -  ইংরেজি নভ...