Thursday, November 14, 2019

খোকার ভিটেমাটি





























- বলছিলাম খোকা, একটা অসুবিধে দেখা দিয়েছে।
- কী কেস বাবা?
- কিছুদিন আগে কৈকেয়ীকে মুখ ফসকে একটা বর কমিট করে ফেলেছিলাম..
- মেজমা ফের বিয়ে করবেন? সে কী! ভরত ভেঙে পড়বে যে।          
- আহা তা নয়, তা নয়। অন্য বর। গ্রান্টিং উইশ আর কী।
- ওহ হো। যাক, বড় চিন্তায় পড়ে গেসলাম।
- সে বর হলেই ভালো হত বাপ। বরে চিন্তা বাড়বে বই কমবে না।
- যত বয়স বাড়ছে তত আপনার হেঁয়ালি করার অভ্যাসটা মেনাসিং হয়ে উঠছে। যা হোক, খুলেই বলুন।
- হ্যাঁ মানে, তোমার রাজ্যাভিষেকটা বোধ করি।একটু উইথহোল্ড করতে হবে।
- কেন? পঞ্জিকা দেখে কোনো অসুবিধে ঠাহর হচ্ছে? আপনার নামে কোনো পৈতে বা মুখেভাত  বা গৃহপ্রবেশের নিমন্ত্রণ এসে পড়েছে?
- আহা তা নয়। শুধু...শুধু তোমায় একবার কিছুদিনের জন্য বনে যেতে হবে।
- ক্যাম্পিং? রাজ্যাভিষেকের আগে আউটবাউন্ড ট্রেনিং? মেজমার ইচ্ছে? সে তো ভালো কথা। 'দিন ধরে আমিও ভাবছিলাম যে একটু ফ্রেশ এয়ার হলে মন্দ হয় না।
- কতকটা তাই। তবে..
- লক্ষ্মণ আমার সঙ্গে যাবে কিন্তু। আমার আবার শোওয়ার আগে দু'দান দাবা না খেললে মন বসে না।
- বেশ তো। হবে'খন। সে যাবে না হয়।
- আর সীতাও সঙ্গে চলুক। এখানে বসে কীই বা করবে। ক্যাম্পে গিয়ে না হয় হপ্তাদুই হাওয়া খেয়ে আসবে। এমনিতেও অযোধ্যায় যা পলিউশন যা বেড়েছে, রাস্তায় রথের সংখ্যা এখুনি রেগুলেট না করলে ফাঁপরে পড়বেন ; এই বলে রাখলাম।
- সীতামা গেলেও আমার আর আপত্তি কী। শুধু ক্যাম্পিংটা দু'হপ্তার একটু বেশিই করতে হবে৷ মানে, কৈকেয়ীর তেমনই ইচ্ছে।
- তিন হপ্তা?
- তিন হপ্তা ঠিক নয়...ওই ধরো চোদ্দ...
- ফোর্টিন উইকস?
- ফোর্টিন। ইয়েস। তবে, হপ্তা নয়। বছর।
- চোদ্দ বছর?
- কৈকেয়ী তাই চাইছে।
- বোঝো কাণ্ড।
- খোকা, রিয়েলি ভেরি সরি।
- বাবা, এর জন্যে সরি বলবে?
- তোর জীবনের চোদ্দটা বছর...
- তা'তে কী? ভেসে তো যাচ্ছি না বাবা।
- আমি ভাবছিলাম কৈকেয়ীকে বলে কয়ে..
- কথার খেলাপ! সে কী তোমায় মানায় বাবা?
- কিন্তু খোকা..
- না বাবা। তুমি আটকিও না আমায়। এই 'দিনই তো, ঘুরেই আসিনা। বেশ হবে।
- তোর জন্ম এখানে, ভিটেমাটি এখানে, তোর ফ্যান ফলোয়ার সব এখানে.. এদের ছেড়ে এদ্দিনের জন্য তোকে দূরে ঠেলে দিই কী ভাবে খোকা..
- জন্ম, ভিটেমাটি আঁকড়ে থাকাটাই সব হল বাবা? আমার চিন্তাভাবনাকে এত ঠুনকো মনে করো তুমি? না বাবা, মেজমার মনে 'টুকুর জন্য দুঃখ দেওয়ার মত পলিটিক্স এখনও আমি আয়ত্ত করতে পারিনি।
- কিন্তু ওই ওরা...ওরা যে রেগে আগুন হয়ে উঠেবে...তারপর কিছু একটা অনর্থ ঘটলে সে দায় যে আমাকেই নিতে হবে..
- ওরা বলতে আমার ফ্যানক্লাব আর ফলোয়াররা?
- হ্যাঁ, তুই ভিটে ছাড়লে ওরা যে ভেঙে পড়বে।
- মনখারাপ হয়ত হবে, কিন্তু ভেঙে পড়বে কেন? আমি নিজেই মনের আনন্দে বাক্সপ্যাঁটরা নিয়ে বেরিয়ে পড়ছি যে। আর আমি যখন পারছি..আমার ফ্যান-ফলোয়ারদেরই বা অত ঠুনকো ভাবছ কেন বাবা? তোমার ভারী অন্যায়।
- খোকা রে, তুই যে কত বড় হয়ে গেছিস... রাজ্য, ভিটেমাটি 'সবে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র জিনিসপত্রে তোকে বেঁধে রাখার ক্ষমতা আমার সত্যিই নেই।
- আমার ফ্যান-ফলোয়ারদেরও কোনো অংশে কম ভেবোনা যেন বাবা। ধৈর্য, ত্যাগ ভালোবাসায় তাঁরা যেন তোমার খোকার চেয়েও বড় হতে পারে; সেই আশীর্বাদই কোরো, কেমন? যাই, মেজমার শুনেছি গতকাল নারকোল নাড়ু বানিয়েছে। ভরত আপাতত রাজ্যের হ্যাপা সামলাক কিছু বছর৷ আমি বরং তাঁকে ফাঁকি দিয়ে মেজমার নাড়ুর ডিবেগুলো বগলদাবা করে সরে পড়ব ভাবছি। প্ল্যানটা বেশ ডিলাগ্র‍্যান্ডি, তাই না বাবা?
(ছবিটি জাগরণ জংশন ডট কম থেকে সংগৃহীত)

No comments: