Wednesday, November 13, 2019

আমেরিকায় টিনটিন


সাধারণত টিনটিনের সে বইগুলোই বারবার পড়া হয় যে'গুলোতে ক্যাপ্টেন হ্যাডক আর প্রফেসর ক্যালকুলাসের জমজমাট উপস্থিতি রয়েছে৷ কাজেই বাদ পড়ে যায় শুরুর দিকের বইগুলো।
এ'বারে বেশ ডিসিপ্লিন নিয়েই শুরু করলাম 'টিনটিন ইন আমেরিকা' থেকে (ইন দ্য ল্যান্ড অফ সোভিয়েতসটাকে কিছুতেই যেন এই সিরিজের অংশ বলে মনে হয়না)। যেমনটা হয় আর কী; বরাতজোর আর দুঃসাহস মিশিয়ে জবরদস্ত টনিক। প্রতি দু'মাস অন্তর একবার করে পড়লেও 'আরিব্বাস' গোছের ব্যাপার মনে হবেই।
ভাবছি প্রতিটা বই পড়ে সেগুলোর নন-টিনটিন হাইলাইটগুলো (যা আমার মনে ধরেছে তা নোট করে রাখব)৷ এই বইতে যেমনঃ
১। তেলের খোঁজ আমেরিকান ব্যবসায়ীদের মাথা যে কী খতরনাক ভাবে ঘুরিয়ে দেয়, তার একটা absurd অথচ ট্র‍্যাজিক ছবি আঁকা আছে বইতে। তেলের খোঁজ পাওয়ার মিনিটখানেকের মধ্যে তেল কোম্পানির লোকজন ছুটে এলো, ঘণ্টাখানেকের মধ্যে তাঁদের অফিস বসে গেল, বিদেয় হল ওখানকার স্থানীয় অধিবাসীরা আর পরের দিন দেখা গেল সেখানেই রয়েছে এক মস্ত শশব্যস্ত শহর। হাইক্লাস ডিলাগ্র‍্যান্ডি, ডীপ পুঁদিচ্চচেরি।
২। শার্লক হোমসের 'ডিডাকশন'-ক্ষমতা অনুকরণ করে কম গোয়েন্দাকাহিনী লেখা হয়নি৷ হয়ত সে সমস্ত গোয়েন্দাদের নিয়ে মস্করা করেই হার্জ সাহেব এক দুর্দান্ত হোটেল-গোয়েন্দার ছবি এঁকেছেন৷ ভদ্রলোকের ডিডাকশনগুলো যেমন ভুলভাল, তাঁর কনফিডেন্স-লেভেল ততটাই আকাশ ছোঁয়া। সে গোয়েন্দার গপ্প পড়ে দমফাটানো হাসির খপ্পরে পড়তে হল বটে, কিন্তু নিজেদের ফেসবুক কমেন্ট্রির সঙ্গে ভদ্রলোকের ডিডাকশন প্রসেসের খানিকটা মিল আছে দেখে কিছুটা লজ্জাও পেলাম।
৩। বইয়ে এসেছে মব-লিঞ্চিং প্রসঙ্গ৷ তৌবা। আর ইয়ে, রয়েছে অর্থনৈতিক মন্দা এবং অটোমোবাইল সেক্টরের ফাঁপরে পড়ার গল্প। তৌবা তৌবা। না না, অ্যার্জে মোটেও কাউকে খোঁটা দিয়ে কিছু লিখতে চাননি, আমাদের মনই কুচুটে হয়ে গেছে। কিন্তু এ'সব পড়ে ফিকফিকিয়ে হাসা যায়, ফিচফিচিয়ে সামান্য কাঁদলেও কারুর কিছু বলার নেই।

No comments:

ধপাস

সাঁইসাঁই। সাঁইসাঁই। সাঁইসাঁই। পড়ছি তো পড়ছিই। পড়ছি তো পড়ছিই। পড়ছি তো পড়ছিই। পড়ছি তো পড়ছিই। বহুক্ষণ পর আমার পড়া একটা প্রবল 'ধপ...