Skip to main content

চপশ্রেষ্ঠ

- এইয্যে চপ-দাদা, শুনছেন?
- কী চাই?
- চপের দোকান চালাচ্ছেন। আলপিনের বাক্স বা টুথপেস্ট চাই কী করে বলুন দেখি।
- কোন চপ চাই?
- কত রকমের চপ ভাজেন আপনি?
- অনলি আলু।
- তবে আর জিজ্ঞেস করা কেন।
- টু মেক দ্য কাস্টোমার ফীল ইম্পর্ট্যান্ট।
- আচ্ছা বেশ, আমায় আলুর চপই দিন।
- 'টা?
- এই..দু'টো।
- তার বেশি নয়?
- দুটোই ভালো। আপনি আমায় ওই দুটোই দিন।
- ভেবে দেখুন ভালো করে।
- ভেবে দেখব?
- দেখবেন না? দু'টো চপ আর বারোটা চপ কি এক? এক টিপ নুন আর এক বস্তা নুন কি এক?
- আমার দরকার ওই একটা টিপ নুন..থুড়ি...দু'টো চপ।
- দুটো আলুর চপের দাম কিন্তু আট টাকা।
- বারোটা হলে কত?
- ওই। বারো ইন্টু চার। আটচল্লিশ।
- পার চপ রেট তো একই রইল। বাল্ক ডিসকাউন্ট যখন কিছু নেই, তখন দুটোর বদলে বারোটা নেব কেন?
- দুটোর বদলে বারোটা নেওয়ার কোনো মানেই হয় না। তা, গরম চপ চাই না ঠাণ্ডা?
- ঠাণ্ডা চপ কেউ সেধে চায় নাকি?
- ইনএফিশিয়েন্ট এমএলএও তো চাইনি। তবু মালটাকে আমিই ভোট দিয়ে এনেছি। কিছুই বলা যায় না, বুঝলেন। সে যাকগে, চপের ডেজায়ারড টেম্পারেচারের ওপর নির্ভর করছে কত তাড়াতাড়ি আপনি আপনার অর্ডারের দু'টো চপ পাবেন।
- ওহ বুঝেছি। ঠাণ্ডা চপে আপত্তি না থাকলে আপনি এখুনি আমায় দিয়ে দেবেন, ইমিডিয়েট।ডেলিভারি। আবার গরমাগরম চপ চাইলে আপনি ভাজতে বসবেন এবং তা'তে বেশি সময় লাগবে।
- হল না। গরম চপ তাড়াতাড়ি পাবেন, ঠাণ্ডা চপ পেতে দেরী হবে।
- কী'রকম?
- বেসন গোলা আছে, আলু মাখা আছে। গরম চপ চাইলেই টুক করে ভেজে দেব। কিন্তু স্টকে কিস্যু নেই। তবে আপনি ঠাণ্ডা চপ চাইলে আপনাকে নিরাশ করব না। গীতা না আনন্দবাজার; কোথাও কোনো একটা কেউকেটা পইপই করে বলেছেন যে গ্রাহকই ভগবান। কাজেই আপনি ঠাণ্ডা চপ চাইলে আমি চপ ভেজে পনেরো মিনিট টেবিল ফ্যানের সামনে রেখে, ঠাণ্ডা করে; তবে আপনাকে দেব।
- ইয়ে। গরম দুটো চপই ভালো, বুঝলেন। স্বাদে ভালো প্লাস সময়ের সাশ্রয়।
- অ। তা, চপ ভাজার সময় আপনি কি দাঁড়িয়ে থাকবেন না বেঞ্চিতে বসে অপেক্ষা করবেন?
- মা, আপনার দোকানে বেঞ্চি আছে বুঝি? ভিতরে রাখা আছে? তা'হলে না হয় ওই দু'মিনিট বসেই থাকব'খন। নামিয়ে দিন বেঞ্চিখানা।
- বেঞ্চি? আমার দোকানে তো বেঞ্চি নেই।
- মা। আপনিই তো জিজ্ঞেস করলেন যে চপ ভাজার সময় আমি দাঁড়িয়ে থাকব না বেঞ্চিতে বসে অপেক্ষা করব।
- কাস্টোমার প্রেফারেন্স বুঝতে পারাটা খুব জরুরী। আপনি চাইলেন রুলটানা খাতা আর আমি গছালাম পেতলের ঘটি; তা'হলেই গণ্ডগোল।
- গণ্ডগোল?
- গণ্ডগোল নয়? আপনি চাইলেন ক্ষীরকদম দোকানি দিলো চাউমিন। আপনি চাইলেন বঙ্গলক্ষ্মী বিড়ি; পেলেন দুলালের তালমিছরি। আপনি চাইলেন বেঞ্চিতে বসে অপেক্ষা করে পাওয়া গরমাগরম এক জোড়া আলুর চপ অথচ শেষে দেখা গেল আপনার কপালে জুটেছে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করে পাওয়া গরমাগরম এক জোড়া আলুর চপ৷ দু'টো এক হল?
- এক নয়..না?
- পলিটিক্স আর মর্নিংওয়াক কি এক? ঋত্বিক ঘটক আর জন ওয়াটসনে কি কোনো ফারাক নেই?
- বটেই তো। কোথায় বেঞ্চিতে বসে থেকে গরম আলুরচপ পাওয়া আর কোথায় দাঁড়িয়ে হদ্দ হওয়া।
- তবে আর বলছি কী। জন্যেই কাস্টোমার দোরগোড়ায় এলেই পাপী প্রফিটমেকারদের মত হুঠ করে প্রডাকশনে ঝাঁপিয়ে না পড়ে আগে তাঁদের একটু বাজিয়ে দেখি। এই দেখুন না, কাগের ঠ্যাং চেয়ে বগের ঠ্যাং পেতেন; সেই স্ক্যান্ড্যালটা কাটানো গেল। আপনা কতগুলো টাকা বেঁচে গেল বলুন তো? আর 'দিকে আমার আবার আজকাল বিকেলের ঘুমের প্রতি মায়াটা বড্ড বেড়েছে, চৌকি ছেড়ে কড়াইমুখো হওয়ার গিলোটিন যন্ত্রণাটাও এড়ানো গেল। এই উইন-উইন স্ট্র‍্যাটেজিতেই তো সমাজের প্রগতি আর ব্যবসার উন্নতি। তাই না? 'বারে আসুন৷

Comments

Popular posts from this blog

গোয়েন্দা গল্প

- কিছু মনে করবেন না মিস্টার দত্ত...আপনার কথাবার্তাগুলো আর কিছুতেই সিরিয়াসলি নেওয়া যাচ্ছে না।  - কেন? কেন বলুন তো ইন্সপেক্টর? - ভোররাতে এই থানা থেকে একশো ফুট দূরত্বে ফুটপাথে আপনাকে উপুড় হয়ে শুয়ে থাকতে দেখা যায়।  - আপনার কনস্টেবল নিজের চোখে দেখেছে তো।  - না না, সে'টাকে আমি কোশ্চেন করছি না। আমি শুধু সামারাইজ করছি। আপনার গায়ে দামী চিকনের পাঞ্জাবী, ঘড়িটার ডায়ালও সোনার হলে অবাক হব না। এ'রকম কাউকে বড় একটা ফুটপাথে পড়ে থাকতে দেখা যায় না। যা হোক। হরিমোহন কনস্টেবলের কাঁধে ভর দিয়ে আপনি থানায় এলেন। জলটল খেয়ে সামান্য সুস্থ বোধ করলেন। অল ইজ ওয়েল। নিঃশ্বাসে অ্যালকোহলের সামান্যতম ট্রেসও নেই। শরীরে নেই কোনও চোট আঘাত।  - আমার কথা আমায় বলে কী লাভ হচ্ছে? আমি যে জরুরী ব্যাপারটা জানাতে মাঝরাতে ছুটে এসেছিলাম...সেই ব্যাপারটা দেখুন...। ব্যাপারটা আর্জেন্ট ইন্সপেক্টর মিশ্র।  - আর্জেন্সিতে পরে আসছি। রাত সাড়ে তিনটে নাগাদ আপনি থানায় ছুটে এসেছিলেন। ওয়েল অ্যান্ড গুড। কিন্তু...ফুটপাথে পড়ে রইলেন কেন...।  - এ'টাই, এ'টাই আমি ঠিক নিশ্চিত নই। মাথাটাথা ঘুরে গেছিল হয়ত। আফটার অল বা

পকেটমার রবীন্দ্রনাথ

১ । চাপা উত্তেজনায় রবীন্দ্রনাথের ভিতরটা এক্কেবারে ছটফট করছিল । তার হাতে ঝোলানো কালো পলিথিনের প্যাকেটে যে ' টা আছে , সে ' টা ভেবেই নোলা ছুকছাক আর বুক ধড়ফড় । এমনিতে আলুথালু গতিতে সে হেঁটে অভ্যস্ত । তাড়াহুড়ো তার ধাতে সয় না মোটে । কিন্তু আজ ব্যাপারটা আলাদা । সে মাংস নিয়ে ফিরছে । হোক না মোটে আড়াই ' শ গ্রাম , তবু , কচি পাঁঠা বলে কথা । সহৃদয় আলম মিয়াঁ উপরি এক টুকরো মেটেও দিয়ে দিয়েছে । তোফা ! নিজের লম্বা দাড়ি দুলিয়ে ডবল গতিতে পা চালিয়ে সে এগোচ্ছিল ।   গলির মোড়ের দিকে এসে পৌঁছতে রবীন্দ্রনাথের কেমন যেন একটু সন্দেহ হল । ঠিক যেন কেউ পিছু নিয়েছে । দু ' একবার ঘাড় ঘুরিয়েও অবশ্য কাউকে দেখা গেলনা । ভাবনা ঝেড়ে ফেলে মাংসের পাকেটটায় মন ফিরিয়ে আনলেন রবীন্দ্রনাথ । বৌ নিশ্চয়ই খুব খুশি হবে আজ । খোকাটাকে যে কদ্দিন মাংসের ঝোল খাওয়ানো হয়নি ।   খাসির রান্নার গন্ধ ভেবে বড় গান পাচ্ছিল রবীন্দ্রনাথের । সে বাধ্য হয়েই একটা কুমার শানুর গাওয়া আশিকি সিনেমার গান ধরলে ।

চ্যাটার্জীবাবুর শেষ ইচ্ছে

- মিস্টার চ্যাটার্জী...। - কে? - আমার নাম বিনোদ। - আমি তো আপনাকে ঠিক...। - আমায় বস পাঠিয়েছেন। - ওহ, মিস্টার চৌধুরী আপনাকে...। - বসের নামটাম নেওয়ার তো কোনও দরকার নেই। কাজ নিয়ে এসেছি। কাজ করে চলে যাব। - আসুন, ভিতরে আসুন। - আমি ভিতরে গিয়ে কী করব বলুন। সৌজন্যের তো আর তেমন প্রয়োজন নেই। আপনি চলুন আমার সঙ্গে। চটপট কাজ মিটে গেলে পৌনে এগারোটার লোকালটা পেয়ে যাব। আমায় আবার সেই সোনারপুর ফিরতে হবে। - যা করার তা কি এ'খানেই সেরে ফেলা যায়না? - এমন কনজেস্টেড এলাকায় ও'সব কাজ করা চলেনা। চুপচাপ ব্যাপারটা সেরে ফেলতে হবে। - প্লীজ দু'মিনিটের জন্য ভিতরে আসুন বিনোদবাবু। জামাটা অন্তত পালটে নিই। - কী দরকার বলুন জামা পালটে। - দরকার তেমন নেই। তবু। ওই, লাস্ট উইশ ধরে নিন। - ক্যুইক প্লীজ। ট্রেন ধরার তাড়াটা ভুলে যাবেন না। আর ইয়ে, পিছন দিক দিয়ে পালাতে চেষ্টা করে লাভ নেই। বসের লোকজন চারপাশে ছড়িয়ে আছে। - ও মা, ছি ছি। তা নয়। আসলে মিতুলের দেওয়া একটা জামা এখনও ভাঙা হয়নি। বাটিক প্রিন্টের হাফশার্ট। একটু ব্রাইট কালার কিন্তু বেশ একটা ইয়ে আছে। ও চলে যাওয়ার পর ও জামার ভাজ ভাঙতে ইচ্ছে হয়নি। কিন্তু...আজ না হয়...। - মিতু