Skip to main content

সুকুমার

১।



২। 

- এই লেদার জ্যাকেটটা দেখেছ সোনা? সাড়ে তিন।

- শো?

- ধুর। হাজার। মাও বললে, আউটরাইট হ্যান্ডসাম লাগছে। পিসি বললে ক্লুনি।

- যতসব আবোলতাবোল।

- যা, শালা। 
- হ্যান্ডসাম বলতে আমি পাতি বাংলায় সুকুমার বুঝি। দ্যাট ইজ মাই ওপিনিওন, আমার রায়।


৩।

- মদনা! অ্যাই মদনা।
- স্যার! আসছি স্যার।
- কনসাইনমেন্ট রেডি?
- কন...কোন কনসাইনমেন্ট?
- যাব্বাবা...দেখ কাণ্ড, আজ বাজে কাল পৃথিবীর উদ্বোধন। মানুষ লঞ্চ করতে হবে। মানব মানবীকে প্রেমে চেজ্‌ করবে। আর তুই ব্যাটা বলছিস কোন কনসাইনমেন্ট? হারামজাদা! চাবকে সিধে করে দেব। বলি প্রেমের যন্ত্রপাতিগুলোর কনসাইনমেন্ট, তৈরি আছে তো? 
- ও প্রেমের টুলবক্সের কনসাইনমেন্ট? সে তো কব্বে থেকে রেডি। সে আপনি আজ্ঞা করলেই মর্তে ডেলিভার করে দেব।
- গুড। তা ইয়ে, সমস্ত জাতি উপজাতির প্রেমের টুল-বক্স কিন্তু আলাদা!
- তা আর বলতে কত্তা! তবে সবচেয়ে হিমশিম ওই বাঙালির প্রেমের টুলবক্স জড়ো করতে। যা ডিএনএ'র নমুনা দেখলাম; ঢ্যাঁটা জাত। প্রেম-ট্রেম ইনসার্ট করা মামুলি না এদের মধ্যে। সবকিছুতেই এদের ধানাইপানাই। 

- কই দেখি বাঙালির প্রেম টুলবাক্সে কী কী রেখেছিস!
- জিনিষ কী আর একটা কত্তা। পার্কের বেঞ্চি থেকে রেস্তোরাঁর কেবিন, কিছুই বাদ রাখিনি। নলবন দিয়েছি, ছাতা দিয়েছি... ।
- আরে হাইয়ার ফর্ম অফ প্রেমের জন্য কী কী দিয়েছিস।
- বসন্ত আছে। সঙ্গীত আছে। কবিতা আছে।
- তবু যেন হচ্ছে না রে মদনা। কিছু একটা কম পড়ছে।
- আজ্ঞে চিন্তা করবেন না মদনা থাকতে আপনার চিন্তা নেই। সবচেয়ে মোক্ষম দাওয়াইটাও দিয়ে রেখেছি।
- সেটা কী?
- শেষের কবিতা। যে কোন সিচুয়েশনে মাখনে ছুরি।
- হুঁ। মন্দ নয়। তবে তাও যদি ফেল করে?
- এক্সেপশনাল কেস্‌ স্যার। অত ফেউ সামলানো যাবে না। যে মানবী শেষের কবিতাতেও ঝুলে পড়বে না, মানবদের উচিৎ তাদের থেকে দূরেই থাকা। সোজা কথা।
- না না না। তা বললে কী হয়? এ জিনিষে চান্স নেওয়া যাবে না। দে আমার হোমিওপাতির বাক্সটা দে। একটা মিক্সচার বানিয়ে দিচ্ছি, টুলবক্সে সেটাও রেখে দে।
- এই নেন।

**দু'মিনিট পর**

- এই নে মদনা, এই মিক্সচার খালি বাঙালি প্রেমের টুল বক্সে রেখে দে। প্রেমিকের আর গাড্ডু খাওয়ার চান্স রইল না।
- এটা কীসের মিশেল কত্তা?
- আরে পার্বতী কে এই মিশেলেই...।
- আপনার স্টোরি শুনে কাজ নেই কত্তা, মিক্সচারে কী আছে সেটা বলেন।
- সিম্পল রে। এক দাগ বিকেল, দুই দাগ ছাদের কোণ, দেড় দাগ মন-কেমন আর চার দাগ হঠাৎ আবোলতাবোল। ম্যাজিক। নিশ্চিন্দি।



Comments

Popular posts from this blog

গোয়েন্দা গল্প

- কিছু মনে করবেন না মিস্টার দত্ত...আপনার কথাবার্তাগুলো আর কিছুতেই সিরিয়াসলি নেওয়া যাচ্ছে না।  - কেন? কেন বলুন তো ইন্সপেক্টর? - ভোররাতে এই থানা থেকে একশো ফুট দূরত্বে ফুটপাথে আপনাকে উপুড় হয়ে শুয়ে থাকতে দেখা যায়।  - আপনার কনস্টেবল নিজের চোখে দেখেছে তো।  - না না, সে'টাকে আমি কোশ্চেন করছি না। আমি শুধু সামারাইজ করছি। আপনার গায়ে দামী চিকনের পাঞ্জাবী, ঘড়িটার ডায়ালও সোনার হলে অবাক হব না। এ'রকম কাউকে বড় একটা ফুটপাথে পড়ে থাকতে দেখা যায় না। যা হোক। হরিমোহন কনস্টেবলের কাঁধে ভর দিয়ে আপনি থানায় এলেন। জলটল খেয়ে সামান্য সুস্থ বোধ করলেন। অল ইজ ওয়েল। নিঃশ্বাসে অ্যালকোহলের সামান্যতম ট্রেসও নেই। শরীরে নেই কোনও চোট আঘাত।  - আমার কথা আমায় বলে কী লাভ হচ্ছে? আমি যে জরুরী ব্যাপারটা জানাতে মাঝরাতে ছুটে এসেছিলাম...সেই ব্যাপারটা দেখুন...। ব্যাপারটা আর্জেন্ট ইন্সপেক্টর মিশ্র।  - আর্জেন্সিতে পরে আসছি। রাত সাড়ে তিনটে নাগাদ আপনি থানায় ছুটে এসেছিলেন। ওয়েল অ্যান্ড গুড। কিন্তু...ফুটপাথে পড়ে রইলেন কেন...।  - এ'টাই, এ'টাই আমি ঠিক নিশ্চিত নই। মাথাটাথা ঘুরে গেছিল হয়ত। আফটার অল বা

পকেটমার রবীন্দ্রনাথ

১ । চাপা উত্তেজনায় রবীন্দ্রনাথের ভিতরটা এক্কেবারে ছটফট করছিল । তার হাতে ঝোলানো কালো পলিথিনের প্যাকেটে যে ' টা আছে , সে ' টা ভেবেই নোলা ছুকছাক আর বুক ধড়ফড় । এমনিতে আলুথালু গতিতে সে হেঁটে অভ্যস্ত । তাড়াহুড়ো তার ধাতে সয় না মোটে । কিন্তু আজ ব্যাপারটা আলাদা । সে মাংস নিয়ে ফিরছে । হোক না মোটে আড়াই ' শ গ্রাম , তবু , কচি পাঁঠা বলে কথা । সহৃদয় আলম মিয়াঁ উপরি এক টুকরো মেটেও দিয়ে দিয়েছে । তোফা ! নিজের লম্বা দাড়ি দুলিয়ে ডবল গতিতে পা চালিয়ে সে এগোচ্ছিল ।   গলির মোড়ের দিকে এসে পৌঁছতে রবীন্দ্রনাথের কেমন যেন একটু সন্দেহ হল । ঠিক যেন কেউ পিছু নিয়েছে । দু ' একবার ঘাড় ঘুরিয়েও অবশ্য কাউকে দেখা গেলনা । ভাবনা ঝেড়ে ফেলে মাংসের পাকেটটায় মন ফিরিয়ে আনলেন রবীন্দ্রনাথ । বৌ নিশ্চয়ই খুব খুশি হবে আজ । খোকাটাকে যে কদ্দিন মাংসের ঝোল খাওয়ানো হয়নি ।   খাসির রান্নার গন্ধ ভেবে বড় গান পাচ্ছিল রবীন্দ্রনাথের । সে বাধ্য হয়েই একটা কুমার শানুর গাওয়া আশিকি সিনেমার গান ধরলে ।

চ্যাটার্জীবাবুর শেষ ইচ্ছে

- মিস্টার চ্যাটার্জী...। - কে? - আমার নাম বিনোদ। - আমি তো আপনাকে ঠিক...। - আমায় বস পাঠিয়েছেন। - ওহ, মিস্টার চৌধুরী আপনাকে...। - বসের নামটাম নেওয়ার তো কোনও দরকার নেই। কাজ নিয়ে এসেছি। কাজ করে চলে যাব। - আসুন, ভিতরে আসুন। - আমি ভিতরে গিয়ে কী করব বলুন। সৌজন্যের তো আর তেমন প্রয়োজন নেই। আপনি চলুন আমার সঙ্গে। চটপট কাজ মিটে গেলে পৌনে এগারোটার লোকালটা পেয়ে যাব। আমায় আবার সেই সোনারপুর ফিরতে হবে। - যা করার তা কি এ'খানেই সেরে ফেলা যায়না? - এমন কনজেস্টেড এলাকায় ও'সব কাজ করা চলেনা। চুপচাপ ব্যাপারটা সেরে ফেলতে হবে। - প্লীজ দু'মিনিটের জন্য ভিতরে আসুন বিনোদবাবু। জামাটা অন্তত পালটে নিই। - কী দরকার বলুন জামা পালটে। - দরকার তেমন নেই। তবু। ওই, লাস্ট উইশ ধরে নিন। - ক্যুইক প্লীজ। ট্রেন ধরার তাড়াটা ভুলে যাবেন না। আর ইয়ে, পিছন দিক দিয়ে পালাতে চেষ্টা করে লাভ নেই। বসের লোকজন চারপাশে ছড়িয়ে আছে। - ও মা, ছি ছি। তা নয়। আসলে মিতুলের দেওয়া একটা জামা এখনও ভাঙা হয়নি। বাটিক প্রিন্টের হাফশার্ট। একটু ব্রাইট কালার কিন্তু বেশ একটা ইয়ে আছে। ও চলে যাওয়ার পর ও জামার ভাজ ভাঙতে ইচ্ছে হয়নি। কিন্তু...আজ না হয়...। - মিতু