Monday, October 26, 2015

দ্যাবা দেবী

দেবী ডিমের ঠিক তালুতে টকাস করে চামচের এক টোকা দিলেন। টুপ করে খোলা আলগা হয়ে বেড়িয়ে এল কুসুম-অন্তর, গড়িয়ে পড়ল স্টিলের গেলাসে।

দ্যাবা দারোগা-দেবীর পিছনে হাবিলদারের মত ফ্যালফ্যাল করে দাঁড়িয়ে ছিলেন। ডিম গেলাস বন্দী হতেই দ্যাবা ড্যাবড্যাব চোখে থুঁতনি রাখলেন দেবীর কাঁধে, দু হাতে জড়ালেন দেবীর কোমর। বুকে চাপা উত্তজেনা, রোজরোজ একই প্রসেস; তবু জলো ডিমের ওমলেটত্ব লাভের স্পাইন চিলিং প্রসেস দ্যাবাকে বেবাক অবাক করে ছাড়ে।

এরপর দেবী ছুপুত করে দেড় চামচে পেঁয়াজ লঙ্কা কুচি, হাফ চামচ নুন আর একচামচ দুধ ডিম ফাটানো গেলাসে ফেলে দেন। দ্যাবার যে কী অপূর্ব লাগে সে দৃশ্য, যেন সৃষ্টিকর্তা মহাকাশের ফোঁদলে একমুঠো তারা ছড়িয়ে দিলেন। 
তারপরে দেবী সমেজাজে ঘটঘট শব্দে গেলাসে চামচ নাড়িয়ে ডিম পেঁয়াজ লঙ্কা নুন দুধের সলিউশন ফেটাতে থাকেন। গোলার তালেতালে দেবীর কাঁধে রাখা দ্যাবার থুঁতনি ভাইব্রেট করতে শুরু করে, ঐশ্বরিক আমেজে চোখ বুজে আসে দ্যাবার।


ওদিকে ওভেনের ওপর নন-স্টিক চাটুতে তখন চিড়বিড় করছে গরম হওয়া সর্ষের তেল দু'চামচ। শিল্পী যেভাবে অতর্কিতে ক্যানভাসে আঁচর হানেন, সেভাবেই গেলাসটাকে এক মনোরম এঙ্গেলে রেখে চাটুময় সার্কুলার প্যাটার্নে ডিম গোলা ছড়িয়ে দেবেন দেবী। চাটুতে ডিমে ভাজার ফটফট শব্দে দ্যাবার প্রাণ ফুর্তির স্প্রীংয়ে পড়ে লাফিয়ে উঠবে; কিন্তু হাত দু'টো দেবীর কোমরে জড়ানো বলে হাততালিটা এক্সেকিউট করা যাবে না।

আধ নরম আধ ভাজা অবস্থায় যখন অমলেটের ফিটাসকে অক্ষত রেখে দেবী একদিক উল্টে অমলেট ভাজ করবেন তখন "আরি শালা কী স্কিল" বলে দেবীর কোমর খামচে ধরবেন দ্যাবা। দেবী আগুন চোখে ঘুরে থাকবেন, দ্যাবা লেতকে গিয়ে "হ্যা হ্যা" হেসে দেবীর কাঁধ ঠোঁট পালিশ করবেন; দেবী ওয়াপিস আসবেন ওমলেটে।

ওমলেট তখন লালচে; ভালোবাসা মেদুর যৌবনা। চাটু থেকে থালায় নামিয়ে দেবী সপাটে হুকুম দেবেন "এবারে ফ্যান গেলে গিলতে আস, জলদি"।

মিইয়ে দ্যাবা বলবেন "তুমি মামলেট বানানোর সময় আমি যেমন কোমর জড়িয়ে দাঁড়িয়ে ছিলাম; আমি ভাতগালার সময় একটু থাকো না প্লীজ। বুকে বল পাব"।

দেবীর ডিসমিস করার ভাষা অতি সহজ ; " ন্যাকা ভূত"।

No comments:

ধপাস

সাঁইসাঁই। সাঁইসাঁই। সাঁইসাঁই। পড়ছি তো পড়ছিই। পড়ছি তো পড়ছিই। পড়ছি তো পড়ছিই। পড়ছি তো পড়ছিই। বহুক্ষণ পর আমার পড়া একটা প্রবল 'ধপ...