Tuesday, March 3, 2020

তাই বন্দুক নিলে হাতে


- ডক্টর চ্যাটার্জী, এমন জরুরী তলব! কী ব্যাপার বলুন দেখি। তাও এমন বিটকেল একটা চেম্বারে। ঢুকেই মনে হয় একটা কোয়্যারান্টাইন কামরা। তবে, বেশ একটা হলিউডি গা ছমছম আছে কিন্তু।  

- এ জায়গাটা ভিড়ভাট্টা থেকে বেশ খানিকটা দূরেই বটে।

- এখানে নতুন চেম্বারটেম্বার ফেঁদে বসার তাল করছেন নাকি? ডুবতে হবে, এই বলে রাখলাম। লোকালয় থেকে এত দূরে লোকজন আসবে ভেবেছেন?

- এ চেম্বারটা ঠিক নতুন নয় অনিলবাবু৷ ইনফ্যাক্ট আমার ট্রীটমেন্টের মূলপর্বটা এখানকার জন্যই তোলা থাকে।

- মানে শহরের চেম্বারটা স্রেফ দেখনাই ডক্টর? এই  পাণ্ডববর্জিত অঞ্চলের আস্তানাটাই মূল?

- না না, তা কেন। ডায়াগনোসিসটা আপনার শহরে বসেই ভালোভাবে হয় বটে। আর এই নিরবিলি চেম্বারে হয় ট্রীটমেন্ট; আদত চিকিৎসা।  

- বেশ হেঁয়ালির মেজাজে রয়েছেন দেখছি।

- সমস্ত খোলসা করতেই তো আপনাকে ডাকা।

- তা আপনার ডায়াগনোসিস কী বলছে। আমার মূল সমস্যা কোথায় বলুন তো। 

- ডায়াগোনিস স্পষ্ট। যে সমস্যায় এ শহরের সমস্ত মানুষ জেরবার; আপনার সমস্যাও তাঁদের চেয়ে আলাদা কিছু নয়। সমস্যা একটাই; বেঁচে থাকা। আপনার সমস্যা আপনি বেঁচে আছেন।

- এই শুরু হল, হেঁয়ালি থেকে ফিলোসফিতে। 

- হেঁয়ালি নয়। ফিলোসোফি নয়৷ এমন কী কোনো ঠাট্টাও নয়। আবারও বলি; আপনার অসুস্থতা একটাই অনিলবাবু। আপনার বেঁচে থাকা। ও কী.. উঠে দাঁড়ালেন কেন? 

- দেখুন। আমি রোব্বারের ছুটি নষ্ট করে এতটা পথ ঘঁষটে এলাম আপনার "আর্জেন্ট" ডাক পেয়ে। আমি আশা করেছিলাম আপনি বিচক্ষণ আর সুবিবেচক।  শহরে ঘুরে বেড়ানো আর পাঁচটা হাতুড়ের মত টাকাখেকো অকাজের ঢেঁকি নন৷ কিন্তু ব্যাপারটা আপনি যেহেতু সিরিয়াসলি নিচ্ছেন না..। 

- অধৈর্য হলে চলবে কেন অনিলবাবু? 

- অধৈর্য হব না? একটা জরুরী সমস্যা নিয়ে আপনার কাছে এদ্দিন ধরে আসছি৷ অথচ আপনার ডায়াগনোসিস কী? আমার সমস্যার মূলে হল আমার বেঁচে থাকা।  ইস ইট আ জোক?

- নট অ্যাট অল। আচ্ছা, আপনার সমস্যাটা ঠিক কী ছিল? আই মীন, কেন আপনি প্রথম আমার সঙ্গে দেখা করেছিলেন?

- নিরানন্দ। অবভিয়াসলি। শহরে আর কোনও রোগ বা সমস্যা তো নেই। 

- গোটা শহরে শুধু একটাই রোগ৷ ব্যাপারটা গোলমেলে ঠেকেনি কখনও?

- মেডিকাল সায়েন্সের এমন দুর্দান্ত প্রগ্রেস৷ সব সমস্যার সমাধানই তো হাতের মুঠোয় প্রায়। নেহাত এই নিরানন্দ ব্যাপারটা মহামারীর আকার ধারণ করেছে তাই আপনার মত ডাক্তাররা টু-পাইস করে খাচ্ছে। 

- রাইট। সেই টু-পাইসের প্রতি সততা যেহেতু আমার আছে, তাই আবারও বলছি, এ দুনিয়ায় বেঁচে থাকাটাই আপনার এই নিরানন্দের মূলে। এবং এর ওষুধ একটাই...।

- ও কী! আপনি কি উন্মাদ হলেন ডাক্তার চ্যাটার্জী? পিস্তলটা নামান৷ প্লীজ! প্লীজ ডাক্তার। 

- এ দুনিয়া না ছাড়লে আপনার মুক্তি নেই অনিলবাবু। আর ডাক্তার হিসেবে রোগীকে ওষুধ না গিলিয়ে আমি ছাড়ি কী করে বলুন। 

- ও...ও'টা বন্দুক ডাক্তার! আ...আমি...আমি আপনার পায়ে পড়ি...আমায় বাঁচতে দিন...।

- এ বেঁচে থাকা মিথ্যে অনিলবাবু...ডাহা মিথ্যে। এ বেঁচে থাকায় যত জড়াবেন, জানবেন নিরানন্দ তত বাড়বে।

- আমি বাঁচতে চাই ডাক্তার। প্লীজ।

- আলবাত বাঁচবেন। তবে এ জগত দেখে বেরিয়ে৷ 

- ভূত হয়ে বাঁচব?

- ভূত হয়েই আপনি বেঁচে আছেন, এ শহরের বাকি মানুষগুলোর মত। এই বন্দুকেই আপনার মুক্তি।

- ভূত হয়ে বেঁচে আছি?

- কারণ এই মিথ্যে শহরে বাঁচতে গিয়ে আপনি আদত বেঁচে থাকা ভুলে গিয়েছেন অনিলবাবু৷ এই মিথ্যে জীবন না ছাড়তে পারলে আপনার মুক্তি নেই। নিরানন্দের শেষ নেই। ইউ হ্যাভ টু ডাই হিয়ার সো দ্যাট ইউ ক্যান লিভ বিয়ন্ড। সুস্থ ভাবে বাঁচতে গেলে এ'খানে আপনাকে মরতে হবে অনিলবাবু। এ জগতে আপনাকে মরতেই হবে। 

- বন্দুকটা সরান। প্লীজ।

- এ বন্দুকের একটা টেকনিকাল নাম আছে অনিলবাবু; ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ডিঅ্যাক্টিভেশন বাটন। 

No comments:

বাইশের দুই বিনোদ দত্ত লেন

- কাকে চাই? - ম্যাডাম, এ'টা কি অমলেশ সমাদ্দারের বাড়ি? - ওই ঢাউস নেমপ্লেটটা চোখে পড়েনি? ও'টায় কি অমলেশ সমাদ্দার লেখা আছে?...