Skip to main content

হিসেবের মিষ্টি



- এই সন্দেশটা কত করে দাদা? 
- বারো টাকা পিস।
- বারো....আটটায় ছিয়ানব্বুই। দশটায় আবার একশো কুড়ি..।

- দশটা দেব?
- বাজেট এক্সিড করছে। 
- আটটা দেব?
- আট সংখ্যাটা...কেমন যেন..খচখচ করছে জানেন। মানে..চার টাকা আন্ডারইউটিলাইজডও থেকে যাচ্ছে। যাকগে, এই সন্দেশটা কত করে?
- পনেরো টাকা পিস। 
- পত্রপাঠ ক্যান্সেল৷ ক্ষীরকদম?
- পনেরো টাকা পিস। 
- উফ! বারোর নীচে কোনগুলো?
- নীচের দিকে যেগুলো রাখা আছে। 
- এই সন্দেশটা কত করে?
- আট টাকা পিস।
- লে হালুয়া। বারো পিস, সেই আন্ডারিউটিলাইজড চারটাকা। 
- তা'হলে কি এটা দেব? বারোটা?
- কুটুমবাড়ি নেমন্তন্ন। অন্তত একশো টাকা যদি খরচ না করি, মনের মধ্যে খচখচ করবে। 
- তেরোটা নিন।
- চারটাকা বেশি খরচ হলে ক্ষতি নেই বটে। 
- তাহলে দিই?
- বেজোড় সংখ্যায় নেব? কেমন চোখ টাটাবে। 
- চোদ্দটা নিন৷ 
- বারো টাকা বেশি? এ যে আসা যাওয়ার বাসভাড়া চলে যাবে। বলছিলাম যে, দশটাকার মিষ্টি কিছু আছে কি?
- রসগোল্লা নিন।
- রসগোল্লা? গুড়ের?
- গুড়েরটা বারো টাকা পিস। চিনিরটা নিন।
- তাও নেওয়া যায়। তবে দেবেন কীসে? মাটির ভাঁড়ে?
- প্লাস্টিক কন্টেনারে। 
- অর্জুন শান্তিনিকেতনি থলেতে তীর বয়ে বেড়ালে ভালো দেখাত দাদা? এ জন্যেই আজকাল কারুর বাড়ি রসগোল্লা নিয়ে যেতে ইচ্ছে করে না। 
- এই সন্দেশটা নিন। দশটাকা পীস৷ 
- সাইজ একটু ছোট বুঝলেন...ভলিউমটা খুব ইম্পর্ট্যান্ট। খুব। শনিমন্দিরে দেওয়ার মিষ্টির মাইক্রো বাক্স হাতে তো যাওয়া যায় না৷ 
- আপনি কি মিষ্টি নেবেন আদৌ? নিলে এ'টা নিন, দশটাকার সন্দেশ। এই যে, এগুলো। নেবেন কি? 
- আলবাত। আপনি এই দশটাকার সন্দেশই দশ পিস দিন। তবে বড় বাক্সে।
- সন্দেশ গড়াগড়ি খাবে যে, ভেঙে যাবে। 
- ভায়া, নেমন্তন্ন খেতে দশ বারোজন মানুষ যাবে। অর্থাৎ দশ বারোটা মিষ্টির বাক্স; ডাইরেক্ট কম্পিটিশন। আর কম্পিটিশন মিষ্টির কোয়ালিটিতে নয়, বাক্সের সাইজে। এক কাজ করুন, ওই দশটাকার মিষ্টি আটটা দিন আর কুড়ি টাকার বোঁদে। সমস্তটাই এক বাক্সে দিলে ভল্যুম বাড়বে, কাজেই বাক্সটা আর একটু বড় দেবেন। 
- নরেন্দ্রনাথ খামোখা রামকৃষ্ণের পাল্লায় পড়ে বিবেকানন্দ হতে গেলেন। সময়মত আপনার আশীর্বাদ পেলে দিব্যি প্রধানমন্ত্রী হতে পারতেন । 
- হে হে হে।

Comments

দাদা গো দাদা, 🤣, আপনার নাম দিলাম স্বামী মেটাফোরানন্দ। একবার আড্ডা দেওয়ার ইচ্ছা রইল আপনার সাথে।

Popular posts from this blog

গোয়েন্দা গল্প

- কিছু মনে করবেন না মিস্টার দত্ত...আপনার কথাবার্তাগুলো আর কিছুতেই সিরিয়াসলি নেওয়া যাচ্ছে না।  - কেন? কেন বলুন তো ইন্সপেক্টর? - ভোররাতে এই থানা থেকে একশো ফুট দূরত্বে ফুটপাথে আপনাকে উপুড় হয়ে শুয়ে থাকতে দেখা যায়।  - আপনার কনস্টেবল নিজের চোখে দেখেছে তো।  - না না, সে'টাকে আমি কোশ্চেন করছি না। আমি শুধু সামারাইজ করছি। আপনার গায়ে দামী চিকনের পাঞ্জাবী, ঘড়িটার ডায়ালও সোনার হলে অবাক হব না। এ'রকম কাউকে বড় একটা ফুটপাথে পড়ে থাকতে দেখা যায় না। যা হোক। হরিমোহন কনস্টেবলের কাঁধে ভর দিয়ে আপনি থানায় এলেন। জলটল খেয়ে সামান্য সুস্থ বোধ করলেন। অল ইজ ওয়েল। নিঃশ্বাসে অ্যালকোহলের সামান্যতম ট্রেসও নেই। শরীরে নেই কোনও চোট আঘাত।  - আমার কথা আমায় বলে কী লাভ হচ্ছে? আমি যে জরুরী ব্যাপারটা জানাতে মাঝরাতে ছুটে এসেছিলাম...সেই ব্যাপারটা দেখুন...। ব্যাপারটা আর্জেন্ট ইন্সপেক্টর মিশ্র।  - আর্জেন্সিতে পরে আসছি। রাত সাড়ে তিনটে নাগাদ আপনি থানায় ছুটে এসেছিলেন। ওয়েল অ্যান্ড গুড। কিন্তু...ফুটপাথে পড়ে রইলেন কেন...।  - এ'টাই, এ'টাই আমি ঠিক নিশ্চিত নই। মাথাটাথা ঘুরে গেছিল হয়ত। আফটার অল বা

পকেটমার রবীন্দ্রনাথ

১ । চাপা উত্তেজনায় রবীন্দ্রনাথের ভিতরটা এক্কেবারে ছটফট করছিল । তার হাতে ঝোলানো কালো পলিথিনের প্যাকেটে যে ' টা আছে , সে ' টা ভেবেই নোলা ছুকছাক আর বুক ধড়ফড় । এমনিতে আলুথালু গতিতে সে হেঁটে অভ্যস্ত । তাড়াহুড়ো তার ধাতে সয় না মোটে । কিন্তু আজ ব্যাপারটা আলাদা । সে মাংস নিয়ে ফিরছে । হোক না মোটে আড়াই ' শ গ্রাম , তবু , কচি পাঁঠা বলে কথা । সহৃদয় আলম মিয়াঁ উপরি এক টুকরো মেটেও দিয়ে দিয়েছে । তোফা ! নিজের লম্বা দাড়ি দুলিয়ে ডবল গতিতে পা চালিয়ে সে এগোচ্ছিল ।   গলির মোড়ের দিকে এসে পৌঁছতে রবীন্দ্রনাথের কেমন যেন একটু সন্দেহ হল । ঠিক যেন কেউ পিছু নিয়েছে । দু ' একবার ঘাড় ঘুরিয়েও অবশ্য কাউকে দেখা গেলনা । ভাবনা ঝেড়ে ফেলে মাংসের পাকেটটায় মন ফিরিয়ে আনলেন রবীন্দ্রনাথ । বৌ নিশ্চয়ই খুব খুশি হবে আজ । খোকাটাকে যে কদ্দিন মাংসের ঝোল খাওয়ানো হয়নি ।   খাসির রান্নার গন্ধ ভেবে বড় গান পাচ্ছিল রবীন্দ্রনাথের । সে বাধ্য হয়েই একটা কুমার শানুর গাওয়া আশিকি সিনেমার গান ধরলে ।

চ্যাটার্জীবাবুর শেষ ইচ্ছে

- মিস্টার চ্যাটার্জী...। - কে? - আমার নাম বিনোদ। - আমি তো আপনাকে ঠিক...। - আমায় বস পাঠিয়েছেন। - ওহ, মিস্টার চৌধুরী আপনাকে...। - বসের নামটাম নেওয়ার তো কোনও দরকার নেই। কাজ নিয়ে এসেছি। কাজ করে চলে যাব। - আসুন, ভিতরে আসুন। - আমি ভিতরে গিয়ে কী করব বলুন। সৌজন্যের তো আর তেমন প্রয়োজন নেই। আপনি চলুন আমার সঙ্গে। চটপট কাজ মিটে গেলে পৌনে এগারোটার লোকালটা পেয়ে যাব। আমায় আবার সেই সোনারপুর ফিরতে হবে। - যা করার তা কি এ'খানেই সেরে ফেলা যায়না? - এমন কনজেস্টেড এলাকায় ও'সব কাজ করা চলেনা। চুপচাপ ব্যাপারটা সেরে ফেলতে হবে। - প্লীজ দু'মিনিটের জন্য ভিতরে আসুন বিনোদবাবু। জামাটা অন্তত পালটে নিই। - কী দরকার বলুন জামা পালটে। - দরকার তেমন নেই। তবু। ওই, লাস্ট উইশ ধরে নিন। - ক্যুইক প্লীজ। ট্রেন ধরার তাড়াটা ভুলে যাবেন না। আর ইয়ে, পিছন দিক দিয়ে পালাতে চেষ্টা করে লাভ নেই। বসের লোকজন চারপাশে ছড়িয়ে আছে। - ও মা, ছি ছি। তা নয়। আসলে মিতুলের দেওয়া একটা জামা এখনও ভাঙা হয়নি। বাটিক প্রিন্টের হাফশার্ট। একটু ব্রাইট কালার কিন্তু বেশ একটা ইয়ে আছে। ও চলে যাওয়ার পর ও জামার ভাজ ভাঙতে ইচ্ছে হয়নি। কিন্তু...আজ না হয়...। - মিতু