Monday, March 2, 2020

কৈলাসের পিসেমশাই


(নীচের ছবি সম্বন্ধে
সূত্রঃ শুকতারা শারদ সংখ্যা ১৯৯১, 
মূল কবিতার নামঃ "কৈলাসপতির কলকাতা দর্শন",
কবিঃ ভবানীপ্রসাদ মজুমদার)

***
- নন্দে, ফটোশপ ব্যাপারটা কী রে?
- সে জিনিসে আপনার আবার কী দরকার গুরু?
- আরে বল না। 
- ও'সব মর্ত্যলোকের জিনিস। তা দিয়ে হবেটা কী।
- আরে ধ্যার রে বাবা খালি ফালতু কথা। প্রশ্ন করলে মাথা নুইয়ে উত্তর দিবি, অত চ্যাটাংচ্যাটাং পাল্টা প্রশ্ন আবার কেন রে নন্দে? ফটোশপ কী তা আদৌ জানিস কি?
- জানি না আবার। কাতুদা তো ওই দিয়েই নিজের গোঁফে অমন জেল্লা জুড়ে মর্ত্যে নিজের ইমেজ বানিয়েছে। এমনিতে তো দিনে বাইশবার দাড়ি কামিয়েও গোঁফ পুরুষ্টু হল না।
- বটে?
- আজ্ঞে। চুঁচড়োয় সে'বার দেখলেন না, প্যান্ডেলে প্যান্ডেলে কাতুদার ইয়াব্বড় পাকানো গোঁফ।
- ছেলেটা এখনও জ্যামিতিটা ভালো করে শিখলনা অথচ বাহারে মেজাজ রপ্ত করেছে সাড়ে ষোলআনা। যাকগে, ওই ফটোশপ ব্যাপারটা একটু হাত কর দেখি নন্দে।
- কিন্তু ফটোশপে আমাদের কাজ কী?
- সিক্স প্যাক না জুড়লে কেউ পাত্তা দিচ্ছে না রে। এই দ্যাখ না সে'দিন, আমার এক পুরনো ভক্তকে স্বপ্ন দিয়ে বললাম পাড়ার শিব মন্দিরের ত্রিশূলটায় মরচে পড়েছে, একটা নতুন কিনে দিতে৷ ও মা, নাদুসনুদুস চেহারা দেখেই ভাবল বোধ হয় মাই ডিয়ার পিসেমশাই গোছের কেউ৷ ব্যাটাচ্ছেলে সামান্য ত্রিশূল রিপ্লেস করার জন্য অফিসে প্রমোশনের বর আদায় করে ছাড়লে। কোথায় থরহরি কম্প হয়ে হুকুম তামিল করবে তা না! ব্যাটা স্বপ্নের মধ্যে নেগোশিয়েশন শুরু করলে! ভাবতে পারিস?
- অ। তা ফটোশপে আপনার ফুলকো বাইসেপ আর ঘ্যাম সিক্সপ্যাক দেখলে ভক্তরা নিঃস্বার্থ সেবা করবেন ভেবেছেন? সে গুড়ে বালি, কী জিনিস মর্ত্যলোকে ছেড়েছেন গুরু। সব এক একটি চীজ।
- এ আবার কী ভাষা নন্দে। চীজ?
- ও ছোটখাটো ব্যাপার আপনি বুঝবেন না৷ দাঁড়ান, আমি বরং একটা কল্কে সেজে দিই।
- থাম। কথায় কথায় খালি আমায় কল্কে গছিয়ে প্রসাদ পাওয়ার ধান্দা। পার্বতী ঠিকই বলে, তোদের জন্যেই আমি এই মেদ ব্যাপারটা কন্ট্রোল করতে পারছি না। আমার দরকার ডিসিপ্লিন।
- ডিসিপ্লিন গুরু?
- আলবাত। বাড়তি মেদ না ঝরলে...।
- মেদ? আপনার আবার মেদ কোথায় গুরু? ওটা তো বিউটি ফ্যাট।
- বলছিস?
- কী জেল্লা দিচ্ছে। বিষ্ণু স্যরের গ্লেজ আছে বটে, তবে আপনার ন্যাচুরাল গ্লোর ধারে কাছে লাগতে পারবে না। খামোখা আপনি মেদটেদ নিয়ে পড়লেন..। বিষ্ণু স্যর পারত হলাহলকে অমন ব্লু লেগুনের মত স্যাটাস্যাট সাফ করে দিতে?
- পারত না, তাই না?
- এক্কেবারে ছড়িয়ে একাকার করে দিত। যাক গে, কল্কেটা সাজি?
- তা সাজ। তবে ইয়ে নন্দে, কাতুকে বলে ওই ফটোশপটার একটা ব্যবস্থা কর বাবা। বিউটি ফ্যাট নিয়ে কৈলাসে বসে থাকি ক্ষতি নেই, কিন্তু মর্ত্যে একটু ইমেজ মেকওভারের দরকার আছে। নয়ত স্বপ্নাদেশ দিতে গেলেই ভক্তগুলো অকারণ গপ্প জুড়ে দেয়, যেন গুপ্তিপাড়ার পিসেমশাই এসেছে মাখাসন্দেশের হাঁড়ি হাতে। 
- তা নিয়ে আর চিন্তা কীসের। সিক্স প্যাক ঠ্যাক জুড়ে এখুনি আপনাকে ক্যাপ্টেন আমেরিকা করে দিচ্ছি।
- ক্যাপ...ক্যাপ্টেন আ...আমেরিকা? সে'টা আবার কী? ধ্যেত্তোরি, ও'সব বাড়াবাড়ি ভালো নয় নন্দে। 
- যেয়াজ্ঞা। ভাববেন না, কাজ হয়ে যাবে।
- ইউ আর আ গুড বয় নন্দে। এ কাজ করতে পারলে তোকে আমি নিজের হাতে লুচি ভেজে হালুয়ার সঙ্গে খাওয়াবো।
- কে বলবে আপনি গুপ্তিপাড়ার ন'পিসে নন।
- কী বললি রে ব্যাটাচ্ছেলে?
- ও কিছু নয়। এই নিন কল্কে, প্রসাদ দিয়ে ধন্য করুন।

No comments:

বাইশের দুই বিনোদ দত্ত লেন

- কাকে চাই? - ম্যাডাম, এ'টা কি অমলেশ সমাদ্দারের বাড়ি? - ওই ঢাউস নেমপ্লেটটা চোখে পড়েনি? ও'টায় কি অমলেশ সমাদ্দার লেখা আছে?...