Skip to main content

দাস কেবিনে খাবো না



- আজ মোটেও দাস কেবিনে খাবো না...। 
- অবভিয়াসলি। অবিভিয়াসলি। কোনো মতেই নয়। দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
- গড়িয়াহাট পৌঁছবো। জরুরী কেনাকাটা সারব। তারপর সোজ ট্যাক্সি ধরে বাড়ি।

- সোজা। স্ট্রেট। কোনোরকম ডায়ে বাঁয়ে না তাকিয়ে।
- নেহাত যদি খিদে পায়...।
- ঘণ্টাখানেক ঘুরঘুর করে কেনাকাটি। ফিনকি দিয়ে ক্যালরি ঝরবে; খিদের আর দোষ কী।
- রাইট। কাজেই নেহাত যদি খিদে পায় তা'হলে সামান্য ডালের বড়া। ব্যাস। 
- ওই যৎসামান্য। 
- তবে ইয়ে; খালিপেটে ডালের বড়াফড়া খেলে আবার সামান্য বুকজ্বালা হতে পারে। 
- বুকজ্বালা আদৌ ভালো ব্যাপার নয়৷ বুকজ্বালা হেলাফেলা করা উচিৎ নয়। আর খালিপেটে ওই ডালের বড়া খাওয়া তো ক্রিমিনাল অফেন্স। তাই না?
- কাজেই একট রোল দিয়ে পেট সইয়ে নিলেই হবে।
- মাত্র এক পিস রোল৷ খালিপেট ঘটিত বুকজ্বালার সমস্যা এড়িয়ে চলতে নেহাৎ মেডিসিনাল পারপাসে ব্যবহৃত হবে৷ 
- করেক্ট। বেদুইনের সামনে দু'দণ্ড জিরিয়ে নেওয়া যাবে। তারপর না হয় ওই সামান্য ডালের বড়া।
- যৎসামান্য ডালের বড় বই তো নয়৷ 
- আর তেমন গোলমাল দেখলে পুদিনহরা তো আছেই...।
- শুনেছি পুদিনহরায় নাকি কী সব কেমিক্যালটেমিক্যাল মেশানো আছে...কিছুতেই আজকাল আর ভরসা করা যায় না।
- বটেই তো। পলিটিশিয়ান টু ওষুধ, সর্বত্র ভেজাল। অগত্যা না হয় থামসআপই খাব৷ 
- অগত্যা। অসহায়। 
- তাই তো। তার বেশি কিছু নয়৷ আর হ্যাঁ, ডালের বড়া খেতে হলে কিন্তু সামনে দাঁড়িয়ে ভাজাতে হবে। 
- প্রয়োজনে ভাজতে বলে না হয় দশ মিনিট অপেক্ষা করব।
- অপেক্ষার প্রসঙ্গে মনে পড়ল, দাসকেবিনের ঠিক সামনে যে দাদা ঠেলা লাগিয়ে ডালের বড়া বিক্রি করে, তার ভাজা বড়াগুলোই মুচমুচে ম্যাক্স। 
- বেশ, তাকেই টাটকা ভাজতে বলে দশ মিনিট অপেক্ষা করব। 
- অপেক্ষা তো করতেই পারি, তবে আমার না দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে ইচ্ছে করে না। কেমন উদাস লাগে। 
- এ যে ভারী সমস্যার ব্যাপার। বড়া ভাজিয়ে দাদার ঠেলার পাশে চেয়ার পাওয়া যাবে কী করে? নিরুপায় হয়ে দেখছি আমাদের দাস কেবিনের বেঞ্চিতে বসেই অপেক্ষা করতে হবে৷ 
- নিরুপায়। হেল্পলেস। অসহায়। আহা রে।
- শুনেছি মিনিমাম মোগলাই বা কাটলেট অর্ডার না করলে নাকি দাস কেবিনের বেঞ্চিতে বসা বারণ? 
- পাষাণ ক্যাপিটালিস্টদের হাতে পড়ে শেষে আমাদের মোগলাই কাটলেট খেতে হবে?
- সত্যিই খুব অসহায় বোধ করছি। 
- নেহাৎ পরিস্থিতির চাপে পড়ে আমাদের এইসব ছাইপাঁশ গিলতে হচ্ছে আজ।
- বুক ফেটে যাচ্ছে। 
- আহা।

Comments

Popular posts from this blog

গোয়েন্দা গল্প

- কিছু মনে করবেন না মিস্টার দত্ত...আপনার কথাবার্তাগুলো আর কিছুতেই সিরিয়াসলি নেওয়া যাচ্ছে না।  - কেন? কেন বলুন তো ইন্সপেক্টর? - ভোররাতে এই থানা থেকে একশো ফুট দূরত্বে ফুটপাথে আপনাকে উপুড় হয়ে শুয়ে থাকতে দেখা যায়।  - আপনার কনস্টেবল নিজের চোখে দেখেছে তো।  - না না, সে'টাকে আমি কোশ্চেন করছি না। আমি শুধু সামারাইজ করছি। আপনার গায়ে দামী চিকনের পাঞ্জাবী, ঘড়িটার ডায়ালও সোনার হলে অবাক হব না। এ'রকম কাউকে বড় একটা ফুটপাথে পড়ে থাকতে দেখা যায় না। যা হোক। হরিমোহন কনস্টেবলের কাঁধে ভর দিয়ে আপনি থানায় এলেন। জলটল খেয়ে সামান্য সুস্থ বোধ করলেন। অল ইজ ওয়েল। নিঃশ্বাসে অ্যালকোহলের সামান্যতম ট্রেসও নেই। শরীরে নেই কোনও চোট আঘাত।  - আমার কথা আমায় বলে কী লাভ হচ্ছে? আমি যে জরুরী ব্যাপারটা জানাতে মাঝরাতে ছুটে এসেছিলাম...সেই ব্যাপারটা দেখুন...। ব্যাপারটা আর্জেন্ট ইন্সপেক্টর মিশ্র।  - আর্জেন্সিতে পরে আসছি। রাত সাড়ে তিনটে নাগাদ আপনি থানায় ছুটে এসেছিলেন। ওয়েল অ্যান্ড গুড। কিন্তু...ফুটপাথে পড়ে রইলেন কেন...।  - এ'টাই, এ'টাই আমি ঠিক নিশ্চিত নই। মাথাটাথা ঘুরে গেছিল হয়ত। আফটার অল বা

পকেটমার রবীন্দ্রনাথ

১ । চাপা উত্তেজনায় রবীন্দ্রনাথের ভিতরটা এক্কেবারে ছটফট করছিল । তার হাতে ঝোলানো কালো পলিথিনের প্যাকেটে যে ' টা আছে , সে ' টা ভেবেই নোলা ছুকছাক আর বুক ধড়ফড় । এমনিতে আলুথালু গতিতে সে হেঁটে অভ্যস্ত । তাড়াহুড়ো তার ধাতে সয় না মোটে । কিন্তু আজ ব্যাপারটা আলাদা । সে মাংস নিয়ে ফিরছে । হোক না মোটে আড়াই ' শ গ্রাম , তবু , কচি পাঁঠা বলে কথা । সহৃদয় আলম মিয়াঁ উপরি এক টুকরো মেটেও দিয়ে দিয়েছে । তোফা ! নিজের লম্বা দাড়ি দুলিয়ে ডবল গতিতে পা চালিয়ে সে এগোচ্ছিল ।   গলির মোড়ের দিকে এসে পৌঁছতে রবীন্দ্রনাথের কেমন যেন একটু সন্দেহ হল । ঠিক যেন কেউ পিছু নিয়েছে । দু ' একবার ঘাড় ঘুরিয়েও অবশ্য কাউকে দেখা গেলনা । ভাবনা ঝেড়ে ফেলে মাংসের পাকেটটায় মন ফিরিয়ে আনলেন রবীন্দ্রনাথ । বৌ নিশ্চয়ই খুব খুশি হবে আজ । খোকাটাকে যে কদ্দিন মাংসের ঝোল খাওয়ানো হয়নি ।   খাসির রান্নার গন্ধ ভেবে বড় গান পাচ্ছিল রবীন্দ্রনাথের । সে বাধ্য হয়েই একটা কুমার শানুর গাওয়া আশিকি সিনেমার গান ধরলে ।

চ্যাটার্জীবাবুর শেষ ইচ্ছে

- মিস্টার চ্যাটার্জী...। - কে? - আমার নাম বিনোদ। - আমি তো আপনাকে ঠিক...। - আমায় বস পাঠিয়েছেন। - ওহ, মিস্টার চৌধুরী আপনাকে...। - বসের নামটাম নেওয়ার তো কোনও দরকার নেই। কাজ নিয়ে এসেছি। কাজ করে চলে যাব। - আসুন, ভিতরে আসুন। - আমি ভিতরে গিয়ে কী করব বলুন। সৌজন্যের তো আর তেমন প্রয়োজন নেই। আপনি চলুন আমার সঙ্গে। চটপট কাজ মিটে গেলে পৌনে এগারোটার লোকালটা পেয়ে যাব। আমায় আবার সেই সোনারপুর ফিরতে হবে। - যা করার তা কি এ'খানেই সেরে ফেলা যায়না? - এমন কনজেস্টেড এলাকায় ও'সব কাজ করা চলেনা। চুপচাপ ব্যাপারটা সেরে ফেলতে হবে। - প্লীজ দু'মিনিটের জন্য ভিতরে আসুন বিনোদবাবু। জামাটা অন্তত পালটে নিই। - কী দরকার বলুন জামা পালটে। - দরকার তেমন নেই। তবু। ওই, লাস্ট উইশ ধরে নিন। - ক্যুইক প্লীজ। ট্রেন ধরার তাড়াটা ভুলে যাবেন না। আর ইয়ে, পিছন দিক দিয়ে পালাতে চেষ্টা করে লাভ নেই। বসের লোকজন চারপাশে ছড়িয়ে আছে। - ও মা, ছি ছি। তা নয়। আসলে মিতুলের দেওয়া একটা জামা এখনও ভাঙা হয়নি। বাটিক প্রিন্টের হাফশার্ট। একটু ব্রাইট কালার কিন্তু বেশ একটা ইয়ে আছে। ও চলে যাওয়ার পর ও জামার ভাজ ভাঙতে ইচ্ছে হয়নি। কিন্তু...আজ না হয়...। - মিতু