Monday, December 14, 2015

বটু গোয়ন্দার দুই

জানালার ও পাশে তাকিয়ে মন উদাস হয়ে গেল বটু গোয়েন্দার।
ঘোলাটে স্ট্রীট লাইটের আলোয় মনোহর ফুচকাওলা ফুচকা খাওয়াচ্ছে কিন্তু সন্ধ্যার প্রাণ নেই।
থাকবে কী করে?
সন্ধ্যার টেম্পারেচার চব্বিশ। মিনিমাম এগারো ব্যাচ ফুচকা খেয়ে চলে গেলে ইতিমধ্যে অথচ ফুচকাম্যান মনোহরের কপালে ঘাম এক বিন্দুও নেই। অর্থাৎ আলু যথেষ্ট ভালো ভাবে মাখা হয়নি। হতে পারে না। 
বাতাসের ধোঁয়ার গন্ধে মনকেমন করা সুবাসটাও পাওয়া যাচ্ছে না। অর্থাৎ আজ গন্ধরাজও বাদ।

শিল্পীদের ক্রিমিনাল হয়ে উঠতে দেখলে শিউরে ওঠেন বটু গোয়েন্দা। জাস্ট শিউরে ওঠেন।

"না ইন্সপেক্টর। আপনার সাসপেক্ট মিথ্যে কথা বলছে। গতকাল এখানে মেঘলা ভাব ছিল, বৃষ্টি না নামলেও মিহি ঠাণ্ডা হাওয়া চলেছে", একটা স্বদেশ বিড়ি ধরিয়ে জানান দিলেন বটু গোয়েন্দা, "কাজেই তিনি স্যান্ডো গেঞ্জি পড়ে হাঁটতে বেরিয়েছিলেন সন্ধ্যেবেলা, সে থিওরি মানা যাচ্ছে না। ওনার গায়ে জামা বা ফতুয়া কিছু একটা ছিলই। সে'টা কোন এক কারণে তিনি রাস্তায় ফেলে এসেছেন। সম্ভবত রক্তের দাগ লেগেছিল বলে। এসে ফাঁপর বুঝে বাবু গরমের গল্প দিচ্ছেন"।
"কিন্তু বটূ বাবু", ইন্সপেক্টরের কপালে সন্দেহের বলিরেখা, "আপনি কী করে বলতে পারেন যে গতকাল মেঘলা ছিলই আর ঠাণ্ডা হাওয়াও চলেছে? উইটনেস্‌রা সবাই তো..."।
"উইটনেস্‌?", বটুর মিঠে হাসি, "হাসালেন দারোগাবাবু। গ্রামেগঞ্জে সামান্য ইনফ্লুয়েন্সে লোকে হাতির বিয়ের হয়ে সাক্ষী দিয়ে দেবে। শুনুন। মদন পাল, এ অঞ্চলের বেগুনী স্পেশ্যালিস্টের ডেইলি টার্নওভারের খবর রাখেন? আমি এসেই সে খবর নিয়েছি। আর বেগুনী ডাব্‌ল সেল হয়েছে গতকাল। এই মাত্র সেখান থেকে আসছি। বিটনুন চাইতে ব্যাটা বলে কী না শেষ। গতকাল এক্সপেক্টেশেনের তিনগুণ বেশি বেগুনী সেল হয়েছে। নুনের স্টক এখনও রিপ্লেনিশ করার সময় পায়নি ব্যাটা। এখনও বলবেন গতকাল মেঘ করেনি?"।

No comments:

ধপাস

সাঁইসাঁই। সাঁইসাঁই। সাঁইসাঁই। পড়ছি তো পড়ছিই। পড়ছি তো পড়ছিই। পড়ছি তো পড়ছিই। পড়ছি তো পড়ছিই। বহুক্ষণ পর আমার পড়া একটা প্রবল 'ধপ...