Friday, December 25, 2015

ওঁদের কথা

এ বয়সে আর হুড়মুড় সহ্য হয় না। ধড়াচূড়া খুলে কোন রকমে শরীরটা চেয়ার পর্যন্ত হেঁচড়ে নিয়ে গিয়ে বসতে হল তাকে। 

একে এই পশমের ভারী কোট, তাতে কাঁধে বস্তাভরা এই প্যাকেট, সেই প্যাকেটের বোঝা। শখের বসে কী কাজই যে নিয়ে বসে আছেন! আবার স্লেজে না গেলেও নয়, কেতায় বাঁধবে। কিন্তু এদিকে বয়স তো কম হচ্ছে না। 

আয়নায় নিজেকে দেখে রীতিমত ঘাবড়ে যেতে হল, একদিনের ধকলেই চোখ বসে গেছে। পৃথিবী জুড়ে টইটই করে বেরানো কি মামুলি ব্যাপার? তাও আবার একদিনের মধ্যে। উফ! 

এর চেয়ে হেডমাস্টারি করা অনেক সহজ! 

- কিন্তু সহজ বললেই বা ছাড়ান পাওয়া যাচ্ছে কোথায় ডাম্বলডোর?  
- এই তোমার এক বাতিক হয়েছে বিবেক। যখন তখন হুট করে উদয় হয়ে পিলে চমকে দেওয়া। 
- বলি থকে গেলে চলবে কেন? ফি বছরে একবারটি বেরোও আনন্দধারা বইয়ে আসতে, তা নিয়েও এত টালবাহানা? না না। এ চলে না। 
- বলি বয়স হচ্ছে তো। আর কদ্দিন? আর কয়েকশো বছর না হয়ে মুখে রক্ত তুলে টেনেও দেব। কিন্তু তারপর? তারপর কী হবে? ক'হাজার বছর ধরে তো জোয়াল টানলাম। আর দেহ দিচ্ছে না। 
- একটা কাজও তো করলে পার। 
- কী কাজ?
- এই যে আনন্দ বিলি করার কাজ, কয়েক হাজার বছরের আনন্দ সমস্তটাই একবারে বিলিয়ে দিয়ে এলে হয় না? তারপর থাক তুমি হগওয়ার্ট আলো করে বছরে তিনশো পঁয়ষট্টি দিন। কেউ কিচ্ছুটি আর বলবে না। আমিও জ্বালাব না, পঁচিশে ডিসেম্বর এলো গো...লাল কোটখানা পর গো...আনন্দ বস্তা কাঁধে ফেলো গো...। 
- সমস্ত আনন্দ একবারে বিলিয়ে আসা? হাজার হাজার বছরের আনন্দ এক দিনে?
- এক দিনে ঠিক নয়। তবে একবার গিয়ে যদি তুমি সত্তর আশি বছর কাটিয়ে আসতে পার মানুষের মধ্যে হে ডাম্ব্‌লডোর, তাহলে তুমি পারবে যথেষ্ট আনন্দ রেখে  আসতে সেখেনে। তখন আর ফি বছর এত হ্যাঙ্গাম করে যাওয়ার দরকার পড়বে না। 
- সত্তর আশি বছর মানুষের মধ্যে থেকে হাজার হাজার বছরের জন্য আনন্দ ছড়িয়ে আসা? কোন জাদুতে সে কাজ হবে  হে? 
- কেন? কবিতার জাদুতে! সঙ্গীতের জাদুতে। 
- আমি পারব?
- তুমি না পারলে কে পারবে বাবু? 
- আশি বছর কাটিয়ে সে জাদু ছড়িয়ে এই স্যান্টাবাজির থেকে যদি লাইফলং ছুটি পাওয়া যায় হে বিবেক, তার চেয়ে ভালো আর কী হতে পারে?
- বাহ! এই না হলে কথা। তা কবে যাবে? ছদ্মবেশই বা কেমন নেবে?
- ছদ্মবেশ আর যাই নিই না কেন, এই দাড়িটাকে ছাড়তে বলো না বিবেক। হেডমাস্টারি হোক কি স্যান্টাগিরি, এ দাড়ি ছাড়তে আমি কোনদিন পারিনি, পারার দরকারও দেখছি না। 
- বেশ। একটা কিছু ভেবে নেব। তা রওনা হচ্ছ কবে? আগামী পঁচিশে ডিসেম্বর? 
- হগওয়ার্টে ব্যবস্থা-ট্যাবস্থা করে যেতে খানিক সময় তো লাগবে। তবে পরের বছরের পঁচিশে ডিসেম্বরের অপেক্ষা করারও মানে হয় না। শুভস্য শীঘ্রম। 
- এই না হলে কথা। তা মানুষের দেশে নামবে কবে হে?
- পঁচিশেই। তবে ডিসেম্বরে নয়। আসছে বৈশাখে। 

No comments:

দ্য গ্র‍্যান্ড তুকতাক

- কী চাই? - হুঁ? - কী চাই? চাকরীতে টপাটপ প্রমোশন বাগানোর মাদুলি? শুগার কন্ট্রোলে রাখার তাবিজ? হাড়বজ্জাত মানুষজনের বদনজর এড়িয়ে চল...