Wednesday, November 13, 2019

থ্রিলিং


- কী রে!
- আরে সুশান্তদা যে..।
- কদ্দিন পর তোকে পাড়ায় দেখছি রে দীপু, ফিরলি কবে?
- আজ সকালেই।
- পুজোয় এলিনা এ'বারেও...।
- যথারীতি, ছুটিই পেলাম না।
- বাঙালিকে পুজোয় বাড়ি ফিরতে না দেওয়ার ব্যাপারটা কন্স্টিটিউশন অ্যালাউ করে?
- হেহ্।
- অবিশ্যি পুজোয় তোদের ব্যাচের কাউকেই দেখিনি এ'বার...সবাই আজকাল এক্কেবারে শশব্যস্ত..তাই না রে?
- তোমার খবর কী সুশান্তদা?
- আমি অঙ্কের টিউশনি করা মাস্টার। মাস্টারি করেই হেঁদিয়ে মরা ছাড়া আর গতি কী বল।
- মনে আছে সুশান্তদা, দামোদরের ও'দিকে যে'বার পিকনিক করতে গেছিলাম; মাংস রান্নার ফাঁকে তুমি প্রবাবিলিটি বুঝিয়েছিলে আমাদের?
- ব্যাপারটা যে তুই মনে রেখেছিস, সে'টাই বড় কথা। যাক, দেখা যখন হয়েই গেল; দু'পা এগোনো যাক। এখন রাত সাড়ে ন'টা, কাজেই রাজেনদার দোকান এখনও খোলা আছে। একটা করে রোল খাওয়া যাক বরং? নাকি মাংসের চপ?
- তোমার রোল। কিন্তু আমার রুটিনে কিন্তু হাফপ্লেট চাউমিনই পড়ে। ডিম দিয়ে। সঙ্গে এক্সট্রা লঙ্কাকুচি।
- তাই হবে।
- আর হ্যাঁ। একসময় তোমার ছাত্রদের কম রোল-চাউমিন খাওয়াওনি রাজেনদার স্টল থেকে। এখন আমরা কিছুটা হলেও লায়েক হয়েছি। আজ কিন্তু আমি খাওয়াব সুশান্তদা।
- বহুত খুব শাহজাদা দীপক, বহুত খুব।
***
সুশান্তদার এগরোল চেবানোর দৃশ্যটা দীপুর যে কী ভালো লাগছিল। লোকটা আগের চেয়ে অনেকটা বুড়িয়ে গেছে কিন্তু মেজাজটা আগের মতই দরাজ। নিজের হাফ প্লেট চাউমিন শেষ হতেই রাজেনকাকুকে খান চারেক মাংসের চপ ভাজতে বলে দিল দীপু।
বাতাসে মৃদু ঠাণ্ডার স্পর্শ এসে পড়েছে, সদ্য কড়াই থেকে তোলা মাংসের চপগুলো যখন রাজেনকাকু তাঁদের সামনে রেখে গেল তখন দীপু নিজের জিভের ডগার চনমনটা টের পেল। ছাতিমের গন্ধের সঙ্গে ওই রাজেনকাকুর স্পেশ্যাল মাংসের চপ ভাঙা ধোঁয়া মিলে তখন তার মাথার মধ্যে একটা ভালোলাগা রিমঝিমে ভাব।
সুশান্তদা ততক্ষণে সাহিত্য আর জ্যামিতির মেলবন্ধন নিয়ে কিছু একটা বলতে শুরু করেছিল; কিন্তু দীপু ব্যাপারটাকে ঠিক হৃদয়ঙ্গম করতে পারছিল না। যদিও সে সুশান্তদার কথাগুলো বেশ মন দিয়ে শোনার চেষ্টা করছিল, কথাগুলো শুনতেও খারাপ লাগছিল না। সুশান্তদার হাত নেড়ে, চোখ গোলগোল করে কথা বলার স্টাইলটাও পাল্টায়নি। দিব্যি লাগছিল দীপুর।
তবু সুশান্তদার কথার মাঝেই দীপুকে ফুট কাটতে হল।
- সুশান্তদা..।
- কী?
- একটা কথা বলার ছিল।
- বলে ফেল..। 
- তোমার কাছে পড়ার সময়..ইয়ে...মানে...মানে..আমি মাঝেমধ্যে তোমার মাসমাইনের টাকা থেকে তিরিশ বা চল্লিশ টাকা সরিয়ে নিতাম। তুমি কোনোদিন টাকা গুনে নিতেনা তাই...আমি, মন্টু, বিপুল, রণজিৎ; আমরা সবাই মাঝেমধ্যে টাকা সরাতাম...আর সেই সরানো টাকা গোটাটাই খরচ হত রাজেনকাকার রোল চাউমিনে।
- হা হা হা হা হা..।
সুশান্তদার অট্টহাসি বহুক্ষণ ধরে চলল। দীপুকেও সে হাসিতে যোগ দিতেই হল। বহুদিন ধরে এই খুচরো অপরাধবোধটা বয়ে বেড়াচ্ছিল সে; টিউশনির মাইনে থেকে টাকা সরানো তো এক ধরনের চুরিই। ছেলেবেলায় এ নিয়ে বিশেষ মাথা না ঘামালেও, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এ নিয়ে মনের মধ্যে বেশ একটা খচখচ তৈরি হয়েছে। নেহাত সুশান্তদা নিপাট ভালোমানুষ, কিন্তু তাই বলে এমনভাবে তাঁকে ঠকানো? এত বছর পরেও সে অপরাধবোধটুকু উড়িয়ে দিতে পারেনি দীপু। কিন্তু আজ সুশান্তদার ওই প্রাণখোলা হাসির ঝাপটায় দীপুর বুকের ওপরে রাখা পাথরটা সরে গেল; সুশান্তদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে সেও হেসে উঠল।
আর তখনই ভেসে এলো রাজেনকাকার কণ্ঠস্বর। রাত তখন সোয়া দশ, দোকানের বেঞ্চি আর রাস্তা দু'টোই শুনশান।
- কী ব্যাপার রে দীপু, তখন থেকে দেখছি একাএকা বিড়বিড় করছিস, এখন আবার অকারণে হাসছিস। নেশাভাংটাং করেছিস নাকি?
- ধুস। না। জানো রাজেনকাকা, আচমকা বেশ নিশ্চিন্ত বোধ করছি।
- নিশ্চিন্ত? কে জানে বাবা। তা, আর কিছু নিবি? এ'বার ঝাঁপ বন্ধ করব।
- না, কাজ হয়ে গেছে। আমিও উঠি। কত হল?
- হাফ ডিম চাউমিন, একটা ডবল এগরোল আর চারটে মাংসের চপ। সব মিলে একশো দশ।
- এই যে।
- বহুদিন পর পাড়ায় দেখলাম তোকে দীপু।
- ছুটিটুটি পাই কোথায় যে আসব। আচ্ছা রাজেনকাকা, তোমার সুশান্তদাকে মনে পড়ে?
- অঙ্ক মাস্টার? আহা, বড় ভালোমানুষ ছিল৷ সবই অদৃষ্ট। নইলে অমন জলজ্যান্ত লোকটা সাপের কামড়ে পট করে...। হাসপাতাল পর্যন্ত পৌঁছনোর আগেই সে...। ইশ্। গতবছর পর্যন্ত রোজ সন্ধেবেলা এই বেঞ্চিতে এসে গ্যাঁট হয়ে বসে কত গল্প করেছে। রোজ। আর নিয়ম করে রোজ ডবল এগরোল। রোজ।
- তোমার এগরোলের টান যে অসীম রাজেনকাকা।
হেঁয়ালিপূর্ণ কিছু নিয়ে মাথা ঘামানোর ব্যাপারে রাজেনকাকার কোনোদিনই আগ্রহ নেই। কাজেই দীপুর কাছে সে জানতে চাইল না যে "এগরোলের অসীম টান" ব্যাপারটা কী। অবশ্য জানতে চাইলেও দীপু তাকে ব্যাপারটা বোঝাতে পারত কিনা কে জানে।
রাজেনকাকার দোকান থেকে বেরিয়ে শুনশান অন্ধকার রাস্তায় এসে দাঁড়ালো দীপু। সুশান্তদার কাছে নিজের দোষ স্বীকার করতে পেরে সে সত্যিই নিশ্চিন্ত বোধ করছে আজ।
তাছাড়া; এর আগে নিশ্চয়ই কেউ কোনোদিনও এগরোলকে প্ল্যানচেটের মিডিয়াম হিসেবে ব্যবহার করে উঠতে পারেনি! প্ল্যানচেটের দুনিয়ায় একটা যুগান্তকারী ঘটনা আজ ঘটেছে তারই হাত ধরে; 'থ্রিলিং' শব্দটা বার তিনেক আউড়ে নিল সে।

দু'টুকরো

১। 
Image may contain: sky, cloud and outdoor
পৃথিবীর সবচেয়ে জরুরী দু'টো টানঃ
বহুবার পড়া কোনো বই ফের তাক থেকে নামিয়ে দু'পাতা পড়ার ইচ্ছে।
আর

শত ব্যস্ততার মধ্যেও আচমকা ছাতে থেকে ঘুরে আসার হুজুগ।

২। 

Image may contain: food

একটা শুধু ডিমরুটির ফটোর অ্যালবাম তৈরি করার বড় ইচ্ছে। ফেসবুক বা গুগলফটোজের 'না ছুঁই পানি' গোছের ফটো অ্যালবাম নয়; রীতিমতো চামড়ায় বাঁধানো অ্যালবাম যা বইয়ের তাকে রাখা থাকবে।

ডিমপাউরুটির সঙ্গে যে কত পরিচিত জায়গা, মুহূর্ত আর মানুষ জড়িয়ে আছে;
সেই অ্যালবামের স্মৃতিসুবাস শিউলিকে হার মানাবে।

Monday, November 11, 2019

রাজেশ খন্নাঃ দি ফেনোমেনন



বলিউড বিষয়ক কোনো বই পড়তে হলে আমি সোজাসুজি দীপ্তকীর্তিদার লেখা বা ওঁর রেকমেন্ড করা বই/লেখা পড়ি আজকাল৷ ওঁর কথা শুনেই ইয়াসের উসমানের লেখা সঞ্জয় দত্তর জীবনীটা পড়ি, দিব্যি লেগেছিল৷ সদ্য শেষ করলাম উসমানেরই লেখা রাজেশ খান্নার বায়োগ্রাফি৷

বলিউডি তারকাদের বিষয়ে কিছু পড়ার ক্ষেত্রে একটা বড় অসুবিধে হচ্ছে যে মাঝেমধ্যে গসিপ আর ফ্যাক্ট গুলিয়ে ব্যাপারটা একটা প্রমাণ সাইজের চুটকি হয়ে দাঁড়ায়। কপাল ভালো যে উসমানের লেখায় চমৎকার 'ফ্লো' থাকলেও তা কখনই গসিপ কলমের মত মনে হয়না৷ এর একটা বড় কারণ হচ্ছে যে ভদ্রলোক প্রবল নিষ্ঠার সঙ্গে প্রতিটা ঘটনা এবং মন্তব্যের সোর্স কোট করে যান আর সে'টা করেন এমন মুন্সীয়ানার সঙ্গে যে পড়তে পড়তে হোঁচট খেতে হয়না; বরং কোন "সোর্সের" বিশ্বাসযোগ্যতা ঠিক কতটা সে'টা পাঠক হিসেবে নিজের বোধবুদ্ধি অনুযায়ী দিব্যি বিচার করে নেওয়া যায়৷ উসমানের রিসার্চে আলস্য নেই এবং বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই তার লজিক-বোধ এবং 'ইনফারেন্স'গুলোর সঙ্গে সহজেই একমত হওয়া যায়৷

এ'বার আসি এই বইয়ের প্রসঙ্গে৷

এক৷
রাজেশ খন্না; "দি ফেনোমেনন"৷ রাজেশ খন্নার ওপর যে কোনো বই তাঁর কেরিয়ারের এই দিকটাকে কতটা সার্থক ভাবে তুলে ধরছে তার ওপর সে বইয়ের গুরুত্ব অনেকটাই নির্ভরশীল৷ এ ক্ষেত্রে ইয়াসের উসমান চমৎকার ভাবে যতীন খন্নার " রাজেশ" হয়ে ওঠার থ্রিলিং গল্পটা বলেছেন৷

দুই৷ " দ্য এনিগমা"৷ রাজেশ খন্নার মত রীল আর রিয়েল গুলিয়ে ফেলতে বোধ খুব বেশি মানুষ পারেননি৷ আর অন্ধের হাতি চেনার মত বিভিন্ন মানুষ বিভিন্নভাবে রাজেশকে দেখেছেন, সেই "দেখা" গুলোকে রিকনসাইল করতে পারা চাট্টিখানি কথা নয়; তবে উসমান জবরদস্ত চেষ্টা করেছেন৷ সঞ্জীববাবুর একটা রম্যরচনায় পড়েছিলাম প্রত্যেক মানুষ ভাবে "আমায় কেউ চিনল না, কেউ বুঝল না"৷ রাজেশ খন্নার ক্ষেত্রে এই হাহাকারটা যতটা সুগভীর , ততটাই যন্ত্রণার৷ এই হাহাকারকে যতটা সম্ভব মেলোড্রামা এড়িয়ে তুলে ধরতে পেরেছেন উসমান৷

তিন৷ আগাসির বায়োগ্রাফিতে একটা চমৎকার ব্যাপার তুলে ধরা হয়েছে৷ যে 'এক নম্বর র‍্যাঙ্ক'কে জীবনের ধ্রুবতারা বলে মনে হয়েছিল আন্দ্রের, সে'খানে পৌঁছে আচমকা বড় অসহায় আর একা হয়ে পড়েছিলেন তিনি৷ তাঁর আত্মজীবনীর একটা বড় অংশ জুড়ে রয়েছে সেই অসহায়তার গল্প৷ সেই অসহায় আগাসি বারবার অন্ধকারের মুখোমুখি হয়েছেন কিন্তু হারিয়ে যাননি৷ সে'দিন থেকে রাজেশ খন্নার কেরিয়ার কার্ভ বোধ হয় সম্পূর্ণ উলটো খাতে গড়িয়েছে৷ সাফল্য দড়াম করে এসেছে রাজেশের জীবনে আর সে সাফল্য এমন এভারেস্ট গোছের যে তা ছিল রাজেশেরও কল্পনাতীত; কারণ সেই স্তরে এর আগে কেউ কোনোদিনও পৌঁছতে পারেনি৷ এবং সেই সাফল্য ভাসিয়ে নিয়েছিল ভদ্রলোককে, সে ভেসে যাওয়া এতটাই নিদারুণ যে আর ফিরতে পারেননি তিনি৷ কিন্তু ভেসে যাওয়াটুকুই রাজেশের জীবনের শেষ কথা নয়; এ'টুকু স্বস্তির রেশ পাঠকের মনে রেখে যেতে পেরেছেন লেখক।

চার৷ যে কোনো বায়োগ্রাফিতে "অ্যানেকডোট কোয়ালিটি" খুব জরুরী৷ এ বই সে'দিক থেকে হতাশ করেনা৷ রাজেশবাবুর জীবনের যাবতীয় সম্পর্ক আর তাঁর একাকিত্ব সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে এই জীবনীতে৷ রাজেশ খন্নার জীবনের বিভিন্ন সম্পর্কের টানাপোড়েন থেকে সিনেমা বিষয়ক খুব চমৎকার কিছু ট্রিভিয়া রয়েছে এ বইতে৷ কী ভাবে একটা ইন্ডিয়ান আইডল মার্কা ট্যালেন্ট হান্ট রাজেশের জীবন পালটে দিয়েছিল? শুটিং শুরুর আগেই আরাধনা ভেস্তে যেতে বসেছিল কী ভাবে? বাওয়ার্চি ছবির শুটিংয়ের সময় জয়া ভাদুড়ি রাজেশবাবুর প্রতি বিরক্ত বোধ করেছিলেন কেন? নমকহারাম সিনেমার ক্লাইম্যাক্স কীভাবে পাল্টাতে হয়েছিল রাজেশ খন্নার জেদের বশে আর তা কী ভাবে 'ব্যাকফায়্যার' করেছিল? অঞ্জু মহেন্দ্রু কেন সোবার্সকে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন? বিভিন্ন ছোটছোট ঘটনা মিলিয়ে মিশিয়ে দিব্যি দাঁড় করানো হয়েছে এই বায়োগ্রাফি যা যে কোনো বলি-ফ্যানের উপাদেয় মনে হতে বাধ্য।

পাঁচ। বল্কির নির্দেশনায় একটা বিজ্ঞাপন তৈরী করে হ্যাভেলস, তাদের ফ্যানের জন্য; বিজ্ঞাপনটা খানিকটা বিতর্কের সৃষ্টি করেছিল। সে'টাই রাজেশবাবুর শেষ শুটিং। বইয়ের প্রায় শেষের দিকে এসে সেই বিজ্ঞাপন শুটিংয়ের ঘটনাটা বিশদভাবে বলা আছে। বইয়ের এই অংশটা পড়ে আমি ইউটিউবে বিজ্ঞাপনটা বার কয়েক দেখি আর ব্যক্তিগত ভাবে বলি; আমার গায়ে কাঁটা দিয়েছে।

রাজেশ ভক্তরা চট করে এ বই পড়ে ফেলতেই পারেন।

আনএথিকাল

পুজোর আদত ক'টা দিন পাণ্ডববর্জিত এলাকায় কাটিয়ে সবে এসে পৌঁছেছি দিল্লীতে।
পাড়ার পুজো মণ্ডপে থেবড়ে বসার শখ অপূর্ণ থাকল বলে দেবীদর্শন করব না, তা কি হয়? মনস্থ করলাম এ'খানেই এ প্যান্ডেল সে প্যান্ডেল ঘুরে প্যারামাউন্টের ডাব-সরবতের স্বাদ গড়িয়াহাটের বরফলেবুজলে মেটাব।

সবে পুজো দেখতে বেরোব এমন সময় শ্বশুরমশাই গদগদ সুরে জানতে চাইলেন;
"ডিনারটা তো বাড়ি ফিরেই সারবে নাকি"?

এমন আনএথিকাল প্রশ্ন শুনে থমকে গেলাম। মুখের মধ্যে একটা বিশ্রী তিতকুটে স্বাদ ছড়িয়ে পড়ল। এই বয়সের একজন নিপাট ভালোমানুষ পুজোয় ঘুরতে বেরোনোর কন্সেপ্ট সম্বন্ধে অবহিত নন?
ঠাকুর দেখে বাড়ি ফিরে ডিনার করব?
এরপর কি আলুপোস্ত দিয়ে পাউরুটি খাব?
প্যারামাউন্টে গিয়ে মশলা দোসার খোঁজ করব?
বর্ষা কেটে গেলে আনন্দমেলা পুজোসংখ্যা পড়ব?
লর্ডসের ব্যালকনিতে জোব্বা পরা সৌরভকে দেখে বাহবা দেব?

Tuesday, October 22, 2019

সহদেবের আশীর্বাদ

বৈঠকখানার ঢাউস মানুষ সমান জানালাটার শিকে মাথা ঠেকিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন সহদেব৷ ঘরের বাতি নেভানো ছিল, তা'বলে অবশ্য ঘরের মধ্যে আলোর অভাব ছিল না৷ জানালার ও'পাশে বড় রাস্তা, এমনিতেই কলকাতায় রোশনাই আর হৈচৈয়ের অভাব নেই আর এই পুজোর দিনগুলোয় তো শহরের সমস্ত রাস্তাঘাট আলো আর অজস্র শব্দের ঢেউয়ে ভেসে যায় যেন৷
বছরের এই সময়টাতেই বাড়ির সকলে ঘুরতে বেরোয়; কোনোবার পাহাড়, কোনোবার সমুদ্র, কখনও জঙ্গল৷ তাঁরা ফিরে এলে সে'সব জায়গার চোখ ধাঁধানো সমস্ত ছবি দেখেন সহদেব; মনের ভিতর থেকে আপনা হতেই বেরিয়ে আসে "বাহ্, জব্বর"! গৃহকর্তা সুব্রতবাবু সহদেবকে সবিশেষ স্নেহ করেন, তাঁদের সম্পর্কটা ঠিক বাবু আর পরিচারকের নয়; সে'টা সহদেবও বুঝতে পারে৷ তাঁদের সম্পর্কটা তো আজকের নয়; একসময় সুব্রতবাবুর মা একসঙ্গে দু'জনকে হর্লিক্স গুলে খাইয়েছেন, সুব্রতবাবুর বাবা কম চেষ্টা করেননি সহদেবকে লেখা পড়া শেখাতে৷ কিন্তু স্বভাবে চটপটে হলেও লেখাপড়ার ব্যাপারটায় কোনোদিনই ঠিক সুবিধে করে উঠতে পারেননি সহদেব৷ সবার কি সব হয়? এই না হওয়াগুলো নিয়ে কোনো দু:খ পুষে রাখেননি তিনি৷
সুব্রতবাবু মাঝেমধ্যেই অবশ্য ইচ্ছে প্রকাশ করেন পুজোর ছুটিতে সহদেবকে বগলদাবা করে ঘুরতে বেরনোর৷ কিন্তু এত বড় বাড়ি এতদিনের জন্য ফাঁকা ফেলে যাওয়াটা বেশ ঝুঁকির ব্যাপার৷ অবশ্য এ বাড়ি ছেড়ে অন্য কোথাও এক রাতের বেশি কাটাতে সহদেবেরই কেমন অসোয়াস্তি লাগে৷ চোদ্দে বছর বয়সে বাবা মারা যাওয়ার পর মনসাপুর গ্রাম ছেড়ে এ বাড়িতে এসে উঠেছিলেন, তারপর থেকে এ বাড়ির বাইরে দিন দুয়েকের বেশি কখনও কাটিয়েছেন বলে মনে পড়ে না৷ ছুটি কাটিয়ে ফিরে সুব্রতবাবুর নয় বছরের ছেলে টিপু চোখ বড় করে হাত পা নেড়ে তাঁকে ঘোরার গল্প করবে আর খুন্তি নাড়তে নাড়তে সহদেব সে'সব গল্প গিলবেন; সে'টাই বরং বেশি মজার৷
বাড়ি ফাঁকা থাকলে অবিশ্যি রান্নাবান্নার দিকেও বিশেষ মন থাকেনা সহদেবের৷ ভাতেভাত খেয়েই বেশির ভাগ দিন কেটে যায়৷ তার চেয়ে রাস্তার দিকে তাকিয়ে থাকতেই তাঁর ভালো লাগে৷ কত মানুষ, কত হাসি, কত আনন্দ৷ বাতাস ভারী হয়ে থাকে ভাজাভুজির গন্ধে৷ বাড়ি থেকে কয়কশো পা হেঁটেই খান দুয়েক পেল্লায় পুজো৷ দিনে একবার সে'খান থেকে ঘুরে আসেন সহদেব, এমন ভীড় তাঁর নেহাত মন্দ লাগে না৷ এত মানুষ একসঙ্গে আনন্দ করছে, তাদের হাসি হৈহৈ, লাইন দিয়ে প্যান্ডেলে ঢোকা, তাদের মোবাইল ক্যামেরা খচরখচ, খাওয়ার দোকানের স্টলগুলোর সামনে জমাটি ভীড়; এ'সব কিছুই বড় ভালো লাগে সহদেবের৷ সহদেব মনে মনে ভাবে; আহা রে, এ'দের কতজনের মনের মধ্যে কত রকমের দু:খ; কারুর টাকার অভাব, কারুর সম্পর্ক ভেঙেছে, কারুর প্রিয়জনের বিষম অসুখ, কারুর ভাগ্যে অনবরত শনি ঘুরপাক খাচ্ছে; কিন্তু এই পুজোর যাবতীয় রোশনাই আর শব্দে কেউ ঝাঁপিয়ে পড়তে কসুর করছে না৷
টিপুর একটা কথা সহদেবের কানে বড় মিঠে সুরে ঠেকে; পুজোর প্ল্যান৷ পুজোর মাস তিনেক আগে থেকেই ডাইনিং টেবিলের আড্ডায় তাদের জোরদার পুজোর প্ল্যান চলে, নিজের মতের দিকে ঝোল টানতে টিপু মাঝেমধ্যেই সহদেবের সমর্থন আদায় করতে চায়.." তাই না স'দেবকাকা"? অথবা "আমি ঠিক বলছি তাই না স'দেবকাকা? বলো না বাবা মাকে...এ'বার পুজোয় আমরা প্রতিদিন শুধু চাইনিজ খাব"৷ সহদেব বরাবর না হেসে সমর্থন জানান৷

রাস্তায় উপচে পড়া মানুষের ভিড় দেখে "পুজোর প্ল্যান" কথাটা মাঝেমধ্যে মনের মধ্যে আউড়ে থাকেন সহদেব৷ এই সমস্ত মানুষের "পুজোর প্ল্যান" আছে৷ সহদেব নিজে ভক্ত মানুষ, সকালে ঠাকুরকে প্রসাদ না দিয়ে নিজে জলস্পর্শ করেন না৷ কিন্তু এই জানালার শিকে মাথা রাখতে রাখতে সহদেবের মাঝেমধ্যে মনে হয় 'পুজোর প্ল্যান' ব্যাপারটা বোধ হয় ভক্তির চেয়ে কম গুরুতর নয়৷

রাস্তার ভিড়ে খুড়কুটোর মত ভাসতে থাকা প্রতিটি মানুষের পুজোর প্ল্যান আছে, সমস্ত জ্বালা যন্ত্রণা পেরিয়েও কত মানুষ পুজোর প্ল্যান কষার ধক রাখেন৷ সংসারহীন সহদেবের চোখ স্নেহে ছলছল আসে, "আহা রে, দু'চারদিন বই তো নয়"৷

এক সপ্তমীর দিন বিকেলে মা মারা গেছিলেন, তখন অবিশ্যি সহদেব বেশ ছোট, বয়স বছর পাঁচ হবে৷ দু:খের চেয়েও বুকে বেশি বেজেছিল ভয়; কীসের ভয় তা সে বয়সে ঠিক ঠাহর করতে পারেননি৷ সাদা চাদরে মোড়া মায়ের সে চেহারা আজও তাঁর চোখের সামনে ভেসে ওঠে মাঝেমধ্যে, আর বুকের মধ্যে ভেসে ওঠে সেই অজানা ভয়ের গন্ধ৷ সেই পুজোর বাকিদিনগুলো সহদেব বাবার গায়ের সঙ্গে নিজেকে মিশিয়ে রেখে কাটিয়েছিলেন৷
বাবা৷ বাবার স্মৃতি বরং সহদেবের মনে অনেকটা স্পষ্ট৷ বাবার ময়লা ফতুয়া, গায়ের সেই মাটি মাখানো গন্ধ, সেই সশব্দ আকাশ কাঁপানো হাসি; সে সবকিছুর মধ্যেই ফেলে আসা মনসাপুর মেশানো৷ যদিও তখন সহদেব " পুজোর প্ল্যান" কথাটা ঠিক শেখেননি, তবে পুজোর চারদিন বাবার হাত ধরে শালিকগঞ্জের মেলায় ঘোরাটা প্রায় নিয়মের পর্যায় পড়ত৷

বাবা৷ সহদেবের সমস্ত আগডুম বাগডুম গল্প মন দিয়ে শোনা বাবা৷ সহদেবের প্রিয় কচুর শাক রান্না করে এক থালা ভাত মেখে দেওয়া বাবা৷ সহদেবকে ঘুড়ি ওড়াতে শেখানো বাবা৷ মায়ের মত বাবা৷ সেই বাবাও মাত্র আড়াই দিনের জ্বরে চলে গেছিলেন পুজোর মধ্যে, অষ্টমীর রাত্রে৷ জ্বলন্ত চিতার মধ্যে থেকেও বাবার গায়ের মেটো গন্ধ এসে সহদেবের বুকে মিশেছিল, বহুদূর থেকে ভেসে আসছিল নবমীর সকালের ঢাকের শব্দ। সহদেবের দিব্যি মনে আছে৷

এই ঢাকের শব্দের ছ্যাঁকার জন্যেই নিজের জন্য কোনোদিনই কোনো 'পুজোর প্ল্যান' ভেবে উঠতে পারেননা সহদেব। শুধু এই ফাঁকা বাড়ির ঢাউস জানালার শিকে মাথা ঠেকিয়ে তাকিয়ে থাকেন রাস্তার দিকে। শালিকগঞ্জের মেলার ভীড়ের স্মৃতি চলকে ওঠে; পাঁপড়ভাজা আর চপের সুবাস, নাগোরদোলার ক্যাঁচরক্যাঁচর শব্দ বুকের মধ্যে তাজা হয়ে ওঠে।
হঠাৎ রাস্তার মাইকে হিন্দীর সিনেমার গান থেমে ঢাকের শব্দ বেজে ওঠে। জানালার শিকটাকে খামচে ধরেন সহদেব। রাস্তার মানুষগুলোর জন্য মনকেমন করে; কত না পাওয়া, কত যন্ত্রণা, কত ছটফট পুজোর প্ল্যানের মলমে শান্ত করে মানুষ বেরিয়ে পড়ে। ভীড়ে হেঁটে হদ্দ হয়, খাওয়াদাওয়ার ছক কষে, নিজের খোকাখুকুর হাত শক্ত করে ধরে এগিয়ে চলে; প্রবল ক্লান্তিতেও দমে যায়না।

হঠাৎ টিপুবাবুর জন্য মনকেমন করে ওঠে সহদেবের, জানালা ছেড়ে ফোনের কাছে এসে নম্বর ডায়াল করে। টিপুবাবু তার ফোন পেলে বড্ড খুশি হয়। সহদেব মনেপ্রাণে ঠাকুরকে ডাকেন, ঢাকের বাদ্যি যেন টিপুবাবুর কানে কোনোদিনও গরম লোহার টুকরো হয়ে না ঢোকে।

ফোন সেরে ফের জানালার সামনে এসে দাঁড়ান সহদেব, ভীড়ের প্রত্যেকটা অজানা মানুষকে আশীর্বাদ করতে ইচ্ছে হয়; "কারুর পুজোর প্ল্যান যেন কোনোদিনও ফুরিয়ে না যায়, কোনোদিনও না"।
আজও ছ্যাঁতছ্যাঁতে ঢাকের শব্দের সঙ্গে বাবার গায়ের মেঠো সুবাস বাতাসে মিশে সহদেবকে অবশ করে ফেলে। জানালার শিকে ফের মাথা রেখে চোখ বোজেন সহদেব।

পথের পাঁচালী


পথের পাঁচালীকে গো-টু-বই হিসেবে এতদিন কেন ব্যবহার করিনি কে জানে। এক বন্ধু (সম্ভবত উজান) বলেছিল বুক-ক্রিকেটের মত র‍্যান্ডম পাতা উলটে যে কোনো প্যারা পড়ে ফেললেও আরাম হয়। বিভূতিবাবুর ভাষায় বৃষ্টির গল্প পড়লে খটখটে আকাশে নিচেও গায়ে জলের ছিঁটে এসে লাগে। অমন গদ্য একবার পড়া শুরু করলে আমার মত কাব্য-গাম্বাট মানুষও কবিতা আত্মস্থ করার সাহস পায়। প্লটে চালাকি চলে, কিন্তু অনুভূতি প্রকাশে চালাকি ফলালে তা হয় মাতব্বরির দিকে গড়িয়ে যায় নয়ত ন্যাকাপনায় এসে থামে। সংবেদনশীলতা, স্নেহ আর স্মার্টনেসে; "পথের পাঁচালী" অনন্য। বার বার পড়েও এক ঘেয়ে ঠেক না, অপুদের জন্য মন কেমন এতটুকুও হ্রাস পায় না।
বহুদিন পর এ বইয়ে ফেরত গেলাম। শেষ পড়েছিলাম ছেলেবেলায়; তখন অপুর দৃষ্টির বাইরে গিয়ে কোনো কিছু মাপতে পারার কথা নয়। পয়সা থাকলে অপু দিদির জন্য একটা রবারের বাঁদর কিনে দিত; এই সামান্য হাহাকার যে কী প্রবল ভালো লাগা আর মনখারাপের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল সে সময়৷ আর রথের মেলার নাম করে বাপের থেকে পয়সা নিয়ে দুর্গা তা দিয়েছিল অপুকে; জিলিপি খাওয়ার জন্য। অমন মায়ের মত দিদির কথা ভেবেও যে কী ভালো লাগে, মনকেমন করে। বইয়ের কিছু কিছু পাতা সে বয়সে যে কতবার করে
পড়েছি।

এ বয়সে ফের সে বই পড়তে বসে আলাদা করে নজরে পড়ল সর্বজয়ার কান্না, হাসি, বকুনি, আশঙ্কা আর স্নেহ। বাপ-মা হওয়ার পর এ বই পড়লে অন্য পার্স্পেক্টিভ গোচর হবে সে'টাই স্বাভাবিক। ভর সন্ধেবেলা নিজের ছেলেমেয়ের নামে শাপশাপান্ত শুনে সর্বজয়ার বুক হিম হয়ে যাওয়া আর সেই দমবন্ধ করা কষ্টটুকু এ'বারে যেন আলাদা করে দাগা দিয়ে গেল। সর্বজয়া বিশেষ লেখাপড়া করেননি, গ্রামবাংলার সারল্যে ভরপুর ; কিন্তু আধুনিক অবিশ্বাস আর শহুরে ধান্দাবাজির ডিপো হয়েও আমার মনেও সে কু-ডাক ডেকেছিল বৈকি; "এই ভর সন্ধেবেলা অমন শিশুদের নামে অমন কথা কেউ বলে? সে কুকথা যদি তাদের গায়ে লাগে"; আমারও মনে হয়েছিল। নিজের খোকার মুখ মনে পড়েছিল।
এ'বারের পড়া এখনও শেষ হয়নি। তবে পুজোর আগেই দুর্গা চলে গেলো। বছরের এই সময়ে এসে এ বই পড়াটা বেশ দলাপাকানো একটা ব্যাপার বটে।

বিশ্বকর্মা


বিশ্বকর্মা পুজোর দিনটায় অন্তত কলকাতা হতাশ করেনি। বাড়ি টু অফিস আর অফিস টু বাড়ি; যাতায়াতের মধ্যে যতগুলো প্যান্ডেল পেরিয়েছি, প্রত্যেকটাই ছিল নব্বুই দশকের রঙিন গানে ভরপুর।

সবচেয়ে বড় কথা নেদু নেদু আলতো-মেজাজের শিউলি-রোম্যান্টিক গানগুলো নয়; কানে বারবার এসে ঠেকেছে 'জেহের হ্যায় কি পেয়ার হ্যায় তেরা চুম্মা'র মত মরমি সুর।

বিশেষ কৃতজ্ঞতা পুজো কমিটিগুলোর প্রতি; তাদের মধ্যে বেশিরভাগই লাউডস্পীকার ভাড়া করেছেন জনগণের কানের পর্দায় পেরেক ঠুকতে চেয়ে। স্পীকারের শব্দ যত খ্যানখ্যানে তত তার মোহময় আবেদন।

একটা মনকেমনের ঢেউ বুকের মধ্যে অনুভব করেছিলাম দুপুর দেড়টা নাগাদ যখন অফিসের অনতিদূরের একটা প্যান্ডেল থেকে ভেসে এসেছিল "উফ কেয়া রাত আয়ি হ্যায়, মহব্বত রংগ লাই হ্যায়..ডম ডম ডুবা ডুবা ডুবা ডম ডম ডুবা ডুবা"। সে সুরের কী চমৎকার বাঁধুনি, কণ্ঠের সে কী মখমলে আশ্বাস। সেই গানের মায়াজালে আষ্ঠেপৃষ্ঠে জড়িয়ে পড়তে পড়তে এক্সেলশিটে একের পর এক ভুল করা আরম্ভ করলাম; তবে ঘাবড়ে যাইনি। ম্যাথেমেটিক্স হাতড়ে খোদ আইনস্টাইনই যখন তেমন কিছু করে উঠতে পারলেন না, আমি কোথাকার কে।

বিকেলের দিকে কোনো পেছন-ভেসুভিয়াস আলিমুদ্দিন-জ্যেঠু মার্কা কেউ স্যট করে রবীন্দ্রসঙ্গীত বাজিয়ে বসেছিল; আর যায় কোথায়, গোটা অঞ্চলের মেজাজ চটকে চ'। তবে কপাল ভালো, সে ভীমরতি সিপিএমের ডাকা বনধের মতই মিনিট দশেকের বেশি চলেনি। কিছুক্ষণের মধ্যেই কালচারকাকুদের কাতুকুতু দিয়ে 'মস্ত মস্ত' পরিবর্তন ধেয়ে এসে লাউডস্পীকার ও চপের কড়াই ফাটিয়ে আকাশ বাতাস জয় করেছে। আমার ধারনা; 'ইয়ে দিল তেরি আঁখো মে ডুবা'র বিশল্যকরণী সুর-স্পর্শ থেকে বঞ্চিত হয়নি কাছের হাসপাতালটাও।

বিশ্বকর্মা জিন্দাবাদ। জয় হাতুড়ি। আসছে বছর ডবল হোক।