Tuesday, October 22, 2019

বিশ্বকর্মা


বিশ্বকর্মা পুজোর দিনটায় অন্তত কলকাতা হতাশ করেনি। বাড়ি টু অফিস আর অফিস টু বাড়ি; যাতায়াতের মধ্যে যতগুলো প্যান্ডেল পেরিয়েছি, প্রত্যেকটাই ছিল নব্বুই দশকের রঙিন গানে ভরপুর।

সবচেয়ে বড় কথা নেদু নেদু আলতো-মেজাজের শিউলি-রোম্যান্টিক গানগুলো নয়; কানে বারবার এসে ঠেকেছে 'জেহের হ্যায় কি পেয়ার হ্যায় তেরা চুম্মা'র মত মরমি সুর।

বিশেষ কৃতজ্ঞতা পুজো কমিটিগুলোর প্রতি; তাদের মধ্যে বেশিরভাগই লাউডস্পীকার ভাড়া করেছেন জনগণের কানের পর্দায় পেরেক ঠুকতে চেয়ে। স্পীকারের শব্দ যত খ্যানখ্যানে তত তার মোহময় আবেদন।

একটা মনকেমনের ঢেউ বুকের মধ্যে অনুভব করেছিলাম দুপুর দেড়টা নাগাদ যখন অফিসের অনতিদূরের একটা প্যান্ডেল থেকে ভেসে এসেছিল "উফ কেয়া রাত আয়ি হ্যায়, মহব্বত রংগ লাই হ্যায়..ডম ডম ডুবা ডুবা ডুবা ডম ডম ডুবা ডুবা"। সে সুরের কী চমৎকার বাঁধুনি, কণ্ঠের সে কী মখমলে আশ্বাস। সেই গানের মায়াজালে আষ্ঠেপৃষ্ঠে জড়িয়ে পড়তে পড়তে এক্সেলশিটে একের পর এক ভুল করা আরম্ভ করলাম; তবে ঘাবড়ে যাইনি। ম্যাথেমেটিক্স হাতড়ে খোদ আইনস্টাইনই যখন তেমন কিছু করে উঠতে পারলেন না, আমি কোথাকার কে।

বিকেলের দিকে কোনো পেছন-ভেসুভিয়াস আলিমুদ্দিন-জ্যেঠু মার্কা কেউ স্যট করে রবীন্দ্রসঙ্গীত বাজিয়ে বসেছিল; আর যায় কোথায়, গোটা অঞ্চলের মেজাজ চটকে চ'। তবে কপাল ভালো, সে ভীমরতি সিপিএমের ডাকা বনধের মতই মিনিট দশেকের বেশি চলেনি। কিছুক্ষণের মধ্যেই কালচারকাকুদের কাতুকুতু দিয়ে 'মস্ত মস্ত' পরিবর্তন ধেয়ে এসে লাউডস্পীকার ও চপের কড়াই ফাটিয়ে আকাশ বাতাস জয় করেছে। আমার ধারনা; 'ইয়ে দিল তেরি আঁখো মে ডুবা'র বিশল্যকরণী সুর-স্পর্শ থেকে বঞ্চিত হয়নি কাছের হাসপাতালটাও।

বিশ্বকর্মা জিন্দাবাদ। জয় হাতুড়ি। আসছে বছর ডবল হোক।

No comments:

"দ্য লোল্যান্ড" প্রসঙ্গে

যিনি "দ্য লোল্যান্ড" রেকমেন্ড করেছিলেন তিনি এককথায় এ উপন্যাস সম্বন্ধে বলেছিলেন; "বিষাদসিন্ধু"। বিষাদসিন্ধুতে...