Friday, January 26, 2018

দেশের দশের

দেশের জন্য দশের জন্য মাঝেমধ্যে ভাবতে ভালো লাগে।

মন কেমন হয়ে যায়।

বুকের মধ্যে 'বলো বলো বলো সবে'র সুবাস বয়ে যায়। একটা কিছু পাল্টে ফেলার তাগিদ টের পাই। মনে পড়ে যায় স্বামীজীর কথাগুলো। ভার্বাটিম মনে পড়ছে না তাই কোট করছি না।
বা সুভাষবাবুর সেই ইস্পাত বাণী। ভার্বাটিম মনে পড়ছে না তাই কোট করছি না।
অজান্তেই মুঠো শক্ত হয়ে আসে, সোফার হেলান কেটে যায়।

জানালার বাইরের আকাশের দিকে চেয়ে মনভার খানিকটা লাঘব হয়। আহা এমন উজ্জ্বল আসমানি রঙ কী অবলীলায় একই সঙ্গে মনভালো আর মনখারাপ মিশিয়ে দেয়।

হোক এ দেশ মিডিওক্রিটিতে ভরা।
নাচুক এ দেশ রিগ্রেসিভ হনুমানেদের লেজের তালে।
কোরাপশনের ডকে উঠুক।
তবু। আমার দেশ তো।
অরবিন্দই তো বলেই গেছিলেন সে কথা..ভার্বাটিম মনে পড়ছে না তাই পুরো কোট করছি না।

দেশ। মা। চোখের পাতা তিরতির করে কাঁপতে থাকে। মা। দেশ।

সুর আপনা থেকেই গলা বেয়ে জিভের ওপর দিয়ে গড়িয়ে বাইরে বেরিয়ে আসে। তাতে মিশে থাকে সামান্য অদৃশ্য মা মা ডাকের মিহিকান্না;
"তোমার ভয় নেই মা আমরা প্রতিবাদ করতে জানি...."।

সমস্ত কালিমাটালিমা যে আমাদেরই মুছতে হবে। আমাকেই মুছতে হবে। গানের ধাপে ধাপে হাতের মুঠো শক্ত হয়, সোফা-কুশন খামচে ধরি।

"মা গো, ভাবনা কেন"।

ঠিক তখুনি বিশ্রী চিৎকার ভেসে আসে;

"দিনের বেলাতেও লাটসাহেবের বাথরুমের আলো জ্বালা চাই।  অথচ বাথরুম থেকে বেরোনোর সময় বাতি বন্ধ করার প্রয়োজন নেই, তাই না? আর কল ভালো করে বন্ধ করলে কি ঠাকুর পাপ দেয় না পাঁজিতে বারণ"?

মায়ের গজরগজর।

মুঠো আলগা হয়ে আসে।
মাথার ভিতরের প্যাট্রিওটিক টিউনগুলো তালগোল পাকিয়ে যায়।
জননী জন্মভূমিশ্চ (পুরো মনে পড়ছে না তাই কোট করছি না) না ছাই। দেশের কথা দশের কথা ভাবার সময় যত বাথরুমের আলো নেভানো আর কলবন্ধের ফরমায়েশ।

ডিসগাস্টিং।

No comments:

তিব্বতি মাদুলি

- মনখারাপ? - আজ্ঞে। প্রচণ্ড। টেরিফিক লেভেলে মনখারাপ। - সে তো বুঝলাম। কিন্তু কেন? জয়েন্টে ফেল? মিনিবাসের পকেটমারিতে সত্তর টাকা জল...