Friday, January 19, 2018

বিভূতি

বিভূতি এক্সপ্রেসের জেনারেল কামরায় কী প্রচণ্ড ভিড়। প্রতিদিনই থাকে, কিন্তু আজ যেন অস্বাভাবিক রকম বেশি। এক দাড়িয়াল ভদ্রলোকের নির্মম থুতনি কাঁধে বিশ্রি ভাবে ঠুসে পড়ছিল বারবার। ভদ্রলোকের অবশ্য কিছু করার নেই, আমার কাঁধ বেয়ে মাঝেমধ্যে উঠে না এলে অক্সিজেনের সাপ্লাইয়ে টান পড়তে পারে। পায়ের ওপর পা আর পায়ের পাতার টনটন মাথা পেতে নেওয়াটাই যুক্তিযুক্ত। আমার জুতোর তলে খান তিনেক পায়ের পাতা থাকলেও অবাক হওয়ার কিছু নেই, আবার জুতোর ওপরে খান দুই ওজনদার পা।

এক চা-ওলা বদ সাহসে ভর দিয়ে ট্রেনে উঠেছিল, এখন ভিড়ে জব্দ হয়ে অপেক্ষা করছে কেটলি উঁচিয়ে, বর্ধমান এলেই নেমে হাঁপ ছাড়বে। এই ভিড়ে চায়ের কাপ সামলানো দূরের কথা, সল্টেড বাদামের প্যাকেট ছেঁড়াও অসম্ভব।

আর এই ভিড় বাঁচিয়ে বাঙ্কে এক বাপ তার বছর দুই বয়সের খোকাকে নিয়ে গ্যাঁট হয়ে বসেছে। বসেছে বটে, তবে খোকার ধড়ফড়ানিতে সোয়াস্তিতে বসার যো নেই। খোকার কথা স্পষ্ট ফোটেনি, কিন্তু মুখে হিজিবিজির ফুলঝুরি। তবে বাপের মুখে অবিরাম হ্যা-হ্যা ভাব সেঁটে আছে, খোকার শত ঘ্যানঘ্যানেও সে হাসি পরাস্ত হওয়ার নয়। খানিক পর বাপ একটা সবুজ প্লাস্টিকের টিফিন বাক্স খুলে রুটি সবজি বের করে খোকাকে খাওয়াতে শুরু করলে, সঙ্গে আগডুম বাগডুম গল্প। খোকা রুটি খায় কম, গল্প গেলে বেশি।

দেহাতি ভাষায় সে বাঘভল্লুকের গল্প বেশ জমে উঠেছিল। মিনিট তিনেক গল্প শুনলে খোকা এক গেরাস মুখে নেয়। বাপের মুখ থেকে হ্যা-হ্যা'র দাপট এক ইঞ্চিও এ'দিক ও'দিক হয় না। ভিড়ের চাপা গমগম ছাপিয়ে কার মোবাইল স্পীকারে তখন কিশোরকুমারের গান বাজছিল; "এক বার ইয়ু মিলি, মাসুম সি কলি..."।

টের পেলাম ভদ্রলোক নিজের বাপসুলভ হ্যা-হ্যা দিয়ে নিজের চোখের মা-মা ভাব ঢেকে রেখেছে। এ'দিকে পায়ের টনটন বেশ কমে আসছে। ইচ্ছে করছে গন্তব্যে না নেমে আরও দু'চার স্টেশন যাই বাপ-ছেলের সঙ্গে। খোকা ঘুমোনোর সময় বাপে গান গাইবে না?

No comments:

ধপাস

সাঁইসাঁই। সাঁইসাঁই। সাঁইসাঁই। পড়ছি তো পড়ছিই। পড়ছি তো পড়ছিই। পড়ছি তো পড়ছিই। পড়ছি তো পড়ছিই। বহুক্ষণ পর আমার পড়া একটা প্রবল 'ধপ...