Thursday, April 21, 2016

দুই ভাই

- দাদা।
- ডিস্টার্ব করিস না।
- আচ্ছা।
- জরুরি কিছু বলার ছিল রে বিলু?
- তেমন কিছু না। ছাড়।
- ডিস্টার্ব করেই ফেলেছিস। বলে ফেল।
- মারা গিয়ে কেমন আছিস?
- বই পড়াটা আটকাচ্ছে না।
- শেল্‌ফ টেল্‌ফ থেকে নামাতে কোন অসুবিধে?
- নান অ্যাট অল।
- বই আছে মানে তো মেজর একটা চিন্তা দূর হল।
- তা হল। তবে কেনায় অসুবিধে রয়েছে।
- ওহ।
- সেটুকু কোঅপারেশন তোর থেকে পাব আশা করছি।
- শিওর।
- তবে তোর কলেকশন মন্দ নয় রে। আগামী ছ'মাস বোধ হয় কোন চিন্তা নেই। তারপর বলে দেব।
- গুড।
- খাওয়া দাওয়া?
- নাহ্‌। সে দরকার হচ্ছে না। জলেরও না। ফলত বাথরুমও যেতে হচ্ছে না। ইন ফ্যাক্ট এইটুকু অ্যানোমালি না থাকলে ভূত হিসেবে নিজেকে অত্যন্ত খেলো মনে হতো বিলু।
- হুঁ। তা, কী পড়ছিস রে?
- একটু আবোলতাবোল পড়ে নিজের ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ভাবনাগুলোকে কনসোলিডেট করে নিচ্ছি। দিন কয়েক যাক। আচ্ছা, তোর শেলফ থেকে পামুক কেউ ঝেড়ে দিয়েছে রে? অ্যাক্সিডেন্টের দু'দিন আগেও তো দেখেছিলাম।
- তারপর তো বিশেষ কেউ আসেনি বাড়িতে।
- দেখি খুঁজে। ভূত হয়ে একটা সুবিধে হয়েছে রে বিলু। সোফার তল, আলমারির ওপরের তাকের কোণা, যে কোন দিকে সেঁধিয়ে যেতে পারছি অনায়াসে।
- এক্সট্রিম ফ্লেস্কিবিলিটি।
- ফ্লুইডিটি। আর এই যে তুই আমার কথা শুনতে পারছিস, আমায় দেখতে পারছিস, এটাও একটা মস্ত বড় রিলিফ।
- ব্যাপারটা অদ্ভুত। মা তোকে দেখতে পারছে না। বৌদিও না।
- সে'টা প্রথমে খারাপ লেগেছিল। তবে এখন দেখছি এটাই ভালো।
- বৌদির সাথে কথা বলতে পারিস না, ব্যাপারটা অসোয়াস্তিকর লাগে না?
- মনখারাপে সঞ্জীব।  বেঁচে থাকার মতই ব্যাপার।
- দাদা। সিগারেট ধরাব?
- ধরাতে পারিস। বেশ টের পাচ্ছি যে ভূতের ব্যাপারে স্টিরিওটাইপগুলো খাটছে না। আগুনে অসোয়াস্তি এখনও টের পাইনি।
- সিগারেট ধরাতে পারিস কিনা দেখবি?
- ফুসফুস ছাড়া ফুঁকে লাভ নেই।
- তুই পড়। আমি আসি।
- বিলু।
- কিছু বলবি?
- বুক শেল্ফের পাশে একটা রেডিও রেখে যাবি?
- যাবো।
- থ্যাংকস।
- লোভ হচ্ছে।
- মরার লোভ?
- বলতে পারিস। তা ভূতের গলা টেপার টেন্ডেন্সিও কি বাজে স্টিরিওটাইপ?
- বিলু..।
- কেন ন্যাকামি করছিস দাদা?
- সরি। মাথাটা তড়াং করে গরম হয়ে গেছিল...।
- নীলা আর আমার ব্যাপারটা...।
- শাট আপ বিলু। আমার মরার পর মাসখানেকের মধ্যেই  তোদের এই বিশ্রী ইন্টিমেসি...। লজ্জা করে না? তুই আমার সামনে নীলাকে বৌদি না বলে নাম ধরে ডাকছিস?
- ভূতেদের বিশেষ লজ্জা থাকতে নেই বোধ হয়। তোর কী মনে হত রে, তুই না বললে আমি টের পাব না?
- সিগারেট ধরাতে চেষ্টা করছিলিস, ভাবলাম ঠাহর করতে পারছিস না।
- মা আর আমায় দেখতে পারে না।
- অফ কোর্স। মা আর নীলা তোকে দেখতে পারবে কী করে? আমি নিজে তোর গলা টিপেছি।
- নীলা পারে। ও আমায় দেখতে পারে।
- মিথ্যে কথা বলার অভ্যাস তোর গেল না।
- না রে দাদা। নীলা আমায় দেখতে পারে। সে কথা বলে আমার সাথে।
- শাট আপ। তুই আমার সাথে কথা বলতে পারিস কারণ তুই আমারই মত। ভূত। নীলা তোর সাথে কথা বলবে কী করে?
- ভূতের স্টিরিওটাইপে তুই আমার গলা টিপতে পারলে, আমি পারব না?
- কিন্তু তুই সে'টা করবি কেন?
- ওর সঙ্গ ছাড়া আমার চলবে না...আমার এ পাগলামিটুকু ও জানে। গলা টেপাটাও মেনে নিয়েছে।
- রাস্কেল। মিথ্যের গাছ। নীলা যদি তাই হবে সে আমায় দেখতে পায় না কেন?
- পায়। শুধু ধরা দিতে চায় না রে দাদা। ঘেন্না বড় মামুলি চিজ নয়। চলি। রেডিওটা রেখে যাব। মা আজকাল এমনিতেই রেডিও শোনে না, সে বেচারি জ্যান্ত ভূত হয়ে পড়ে রয়েছে এ বাড়িতে।

No comments:

তিব্বতি মাদুলি

- মনখারাপ? - আজ্ঞে। প্রচণ্ড। টেরিফিক লেভেলে মনখারাপ। - সে তো বুঝলাম। কিন্তু কেন? জয়েন্টে ফেল? মিনিবাসের পকেটমারিতে সত্তর টাকা জল...