Tuesday, April 12, 2016

প্যারাসুট

প্যারাসুটে ঝুলে উপরের দিকে ভেসে যাচ্ছিলেন রজনীকান্তবাবু।
খাবলা খাবলা তুলোর মত মেঘ পাশ কাটিয়ে উঠছিলেন তিনি, উঠেই যাচ্ছিলেন। এত উপরে উঠে এলে আকাশের নীলটা যেন আরও মনোরম  ভাবে গায়ে চেপে বসে। আহা!

দিব্যি উড়ে ওপরের দিকে যাচ্ছিলেন, এমন সময় রজনীবাবুর চোখে পড়ল সে ভদ্রলোকের ওপর। এক ফালি মেঘের ওপর বসে নিশ্চিন্তে নিজের পৈতে চিবচ্ছিলেন।  খালি গা, কোমরে জড়ানো গামছা।

- এক্সকিউজ মি!
- আমায় বলছেন কিছু?
- এদিকে আর ক'জন আছে বলুন। ইন ফ্যাক্ট এই প্রথম দেখতে পেলাম কাউকে। এত উপরে।
- অ।
- আমি রজনী। রজনীকান্ত। আপনার নামটা?
- মলয়। মলয় মুখুজ্জে। বেলঘড়িয়ার।
- আমি এখানে প্যারাসুটে নিয়ে উড়ে এসেছি।
- আপনিও?
- আমিও মানে? ইয়ে। আমি তো জানতাম আমি ছাড়া প্যারাসুটে ঝুলে ওপরের দিকে কেউ উড়তে পারে না।
- আরে আমারও তো সেই সমস্যা হল।
- আজ্ঞে?
- গতকাল অফিস থেকে ফিরে মনে হল মাথাটা বেশ ভার হয়েছে। কলকাতায় বেয়াল্লিশ চলছে, বুঝলেন কিনা রজনীবাবু। দেখলাম তালুটা আগুন হয়ে রয়েছে। ভাবলাম যাই, কষে মাথায় তেল ঘষে  দু'মগ ঢেলে আসি।
- তো ?
- কোথায় দু'মগ জল! কোথায় কী! সবে মাথায় প্যারাসুটের নারকোল তেল রগড়েছি, অমনি মাথা ভার গায়েব।
- গায়েব?
- গায়েব। শুধু তাই নয়। মনে হল ভার কমতে শুরু করেছে।
- সে কী!
- প্যারাসুটের এফেক্ট ভাবুন। সেই ভাসতে শুরু করেছি, শেষে এসে ঠেকেছি এই মগডালে।
- বোঝো!
- ক্যালামিটি!

No comments:

ধপাস

সাঁইসাঁই। সাঁইসাঁই। সাঁইসাঁই। পড়ছি তো পড়ছিই। পড়ছি তো পড়ছিই। পড়ছি তো পড়ছিই। পড়ছি তো পড়ছিই। বহুক্ষণ পর আমার পড়া একটা প্রবল 'ধপ...