Thursday, November 5, 2015

ভাতের দলা

নিয়মমত যত্ন করে ভাতের প্রথম দলাটা মাখলেন নিমাই। ডাল, অল্প নুন, দু'টুকরো উচ্ছে ভাজা আর অল্প কাসুন্দি। সামান্য মাখিয়ে নিয়ে তারপর কষে দু'রাউন্ড চটকানি। তারপর খেলিয়ে খেলিয়ে গোল্লা পাকানো। পাঁচ সেকেণ্ডের খেল। 

নিয়মমত এঁটো হাতে ভাতের দলা নিয়ে নিমাই চলে গেলেন ছাতে। ছাতের পশ্চিম কোণে দলাটা রেখে দিলেন নিমাই। 

নিয়মমত কাকটা নেমে এসে দলাটা খেয়ে হাওয়া হয়ে গেল।

এমন নিয়মিত। দৈনিক। 

গত ডিসেম্বরের অ্যাক্সিডেন্টের পর থেকে। নিয়মত এমনটাই হয়ে আসছে। বুক থেকে প্রাণের এক কুচি যে তখন সট করে বেরিয়ে গেছিল; সে সন্দেহ তক্ষুনি হয়েছিল নিমাইয়ের। কাক নিমাইকে দেখে এক মূহুর্তেই আঁচ করে নিয়েছিল সে। আনন্দবাজারের খেলার পাতা নিয়ে কাক নিমাই আর মানুষ নিমাইয়ে সে কী টানাটানি প্রথমদিন। সে থেকেই নিমাই নিশ্চিত। এমনকি রমার দিকেও কেমন নরম বর বর দৃষ্টি হেনে দেখে কাকনিমাই। সেই থেকেই। 

ওদিকে উচ্ছের শেষ টুকরোটা চিবুতে চিবুতে কাকনিমাই ভাবছিল কাসুন্দির লোভে রোজ রোজ ভূতের বাড়ি বয়ে আসা কি ঠিক হচ্ছে? আর ভাতমাখা নিমাইয়েরও বলিহারি। অ্যাক্সিডেন্টে নিজের এককুচি প্রাণ বেরিয়ে কাক হল; সেটা চট করে টের পেয়ে গেল অথচ সেই দূর্ঘটনাতেই রমা ফৌত হয়ে গেল সেটা এদ্দিনেও বুঝে উঠতে পারল না? রমার দিকে তাকালেই কেঁপে ওঠে কাকনিমাই। 
শুধু কাসুন্দি উচ্ছে মাখা ভাতের দলার যে কী বিশ্রী লোভ!

No comments:

তিব্বতি মাদুলি

- মনখারাপ? - আজ্ঞে। প্রচণ্ড। টেরিফিক লেভেলে মনখারাপ। - সে তো বুঝলাম। কিন্তু কেন? জয়েন্টে ফেল? মিনিবাসের পকেটমারিতে সত্তর টাকা জল...