৬৩ বছরের আগেকার কিছু অভিজ্ঞতা জানতে চেয়েছিলাম পরিচিত কয়েকজনের কাছে, সাদা-মাঠা কিছু স্মৃতি সাজিয়ে দিলেন কিছু পুরনো, ওপার বাংলা থেকে চলে আসা মানুষ:
Sunday, August 15, 2010
Thursday, June 3, 2010
আমি, আমার মন

পুরুষ অধ্যায়
অফিস ফেরত ক্লান্ত শরীরটাকে ঘেঁসটে কোনো রকমে বাড়ি পর্যন্ত নিয়ে এসে কলিং বেল টিপলাম; "টিং"! কোনো সাড়া শব্দ নেই ভিতর থেকে!
ফের টিং! চুপ!
টিং টিং! এবারও চুপ!
ঘামে চুপসে গিয়ে এবার মেজাজ চড়তে সুরু করলো! স্বামী গোটা দিন অফিসে দলাই মলাই হয়ে থেবড়ে বাড়ি ফিরছে, আর বউ এই ভর সন্ধ্যে বেলায় পড়েপড়ে ঘুমুচ্ছে! রাবিশ ইনসেনসিটিভ সংসার!
অফিস ফেরত ক্লান্ত শরীরটাকে ঘেঁসটে কোনো রকমে বাড়ি পর্যন্ত নিয়ে এসে কলিং বেল টিপলাম; "টিং"! কোনো সাড়া শব্দ নেই ভিতর থেকে!
ফের টিং! চুপ!
টিং টিং! এবারও চুপ!
ঘামে চুপসে গিয়ে এবার মেজাজ চড়তে সুরু করলো! স্বামী গোটা দিন অফিসে দলাই মলাই হয়ে থেবড়ে বাড়ি ফিরছে, আর বউ এই ভর সন্ধ্যে বেলায় পড়েপড়ে ঘুমুচ্ছে! রাবিশ ইনসেনসিটিভ সংসার!
Tuesday, May 4, 2010
নাম নবমী

আমার এক দূর সম্পর্কের দাদু আছেন, মিঠে দাদু বলে পাড়াময় ফেমাস! মাঝে মধ্যেই তিনি আমার সাথে দিন কয় কাটিয়ে যান।বিরাশি বছর বয়েস হলেও তুরীয় মেজাজের ভদ্রলোক! গোলাপ চাষ করে আর দিনে দু পেগ হুইস্কি খেয়ে প্রবল ফুর্তিতে থাকেন। কলকাতার হুরুম হারুম হই হই রই রই থেকে একটু নিজেকে ইনসুলেট করতেই তার আমার কাছে বিহারের এই ছোট্ট সহরে এসে কিছুদিন কাটিয়ে যাওয়া। ভদ্রলোকের মেমরি অতি ধারালো! নিজের বিয়ের মেনু'তে কি কি পদ ছিল এখনো কর গুনে শুনিয়ে দিতে পারেন। অথচ অদ্ভূত ব্যাপার হলো এতবার আসা সত্ত্বেও আমার ড্রাইভার ধর্মেন্দ্র সিং'এর নামটি উনি বার বার গুলিয়ে ফ্যালেন।
Friday, April 2, 2010
আই পী এল ২০১০ রিভিউ ৪ :"দাদা টু দাদু" স্পেশাল

দিব্যকান্তি দাশগুপ্ত! কসবায় বাড়ি, শখ ফটোগ্রাফি, চাউমিন বানানো এবং বস্তাপচা সমস্ত ব্লগ পড়া। আমার সঙ্গে আলাপ ব্লগ সূত্রেই। মুদ্রাদোষ হিসেবে সক্কলকে স্যার বলে ডাকেন। ভারী অমায়িক কিন্তু টেম্পরামেণ্টল মানুষ।
গতকাল, একটি বাংলা নিউজ চ্যানেলের ফুটেজে দেখি ভদ্রলোক “দাদা থেকে দাদু” ক্যাপশন লাগানো একটা সৌরভ গাঙ্গুলীর ছবি নিয়ে ইডেন গার্ডেনের সামনে দূম দাম চিল্লিয়ে চলেছেন। ভদ্রলোকের মোবাইল নম্বর কাছেই ছিল। ডায়াল করতেই হালুম গলায় ফোনে ধরলেন, “আররে বলুন সার, কি খবর”
“দাদা থেকে দাদু”এর ইস্যু তে ক্লারিফিকেশন চাইতেই দিব্যবাবু জানিয়ে দিলেন যে কলকাতার ইনসাল্ট সইতে না পেরেই তিনি দাদা হঠাও ক্যামপেনে এগিয়ে এসেছেন।
“ আরে মশাই একের পর এক হার, প্লাস এই ভদ্রলোকের ঠুকঠুক, টলারেট করা যায়? কলকাতার মান ইজ্জত বসিয়ে দিল? ক্যাপ্টেনের কি যোগদান আছে বলুন এই টিমে?শাহরুখবাবুর কাছে মাস-পিটিশন পাঠাতে হবে এই দাদা-রুপি-দাদুকে এলিমিনেট করতে”
এহেন প্রচুর কথা আবেগ নিয়ে বোঝালেন, বাঙালির ক্যারেক্টার যে এখনো সত্যি বলতে ডরায় না, সেটা প্রমাণ করতেই হবে, তা সে ন্যানো হোক কি দাদা, সত্যি বলতে গিয়ে নার্ভাস হলে চলবে না!
এত বড় একটা উদ্যোগ, ব্লগ’এ এর উল্লেখ করব কিনা জানতে চাইলে দিব্যদা জানালেন, “অবশ্যই, আমার আসল নামটাই ব্যবহার করবে তো ভাই?”
সন্ধ্যেবেলার ম্যাচে দাদার উরি-শ্লা ব্যাটিং দেখে, দুর্দিনে কে কে আর’এর জিত দেখে যখন তৃপ্ত হয়ে দিব্যদা ইস্পেশাল ব্লগ লিখতে বসবো, এমন সময় খোদ দিব্যদার ফোন।
-“স্যার, এবার বুঝতে পেরেছেন তো আসল মোটিভ টা আমাদের কি ছিল?”
-“মোটীভ?”, আমি অবাক, “ দাদা হঠানো, তাই তো?”
-“নো স্যার, এত ইনসেনসিটিভ ভাবতে পারলেন আমায়? মোদের গরব মোদের গাঙ্গুলী কে হঠাব? আসলে কি জানেন, মোটিভেশন ছাড়া দাদা ঠিক এগোতে পারেন না, আর দাদার কাছে মোটিভেশন মানেই হচ্ছে প্রোটেস্ট, গালাগালি, ‘বের করে দাও’ স্লোগান! এই সব ছাড়া দাদা নিজেকে উদ্বুদ্ধ করবেন কি করে! চ্যাপেল, বুকননের আমলে মোটিভেশনের অভাব ছিল না, কিন্তু এই হোয়াটমোর টা একটা যা-তা মেনিমুখো!আদতে অষ্ট্রেলিয়ান কিনা কে জানে! সেই জন্যেই তো আমাদের এই “দাদা টু দাদু” মিছিলের নাটক! আর তার ফল দেখেছেন? কি খেলাটাই না খেলল আজ ডেকান চার্জার’দের বিরুদ্ধে?
তাই বলছিলুম, হূট-পাট করে ব্লগে যা তা লিখে দেবেন না যেন, আমাদের উদ্দেশ্যটা যেন ভুলভাল ভাবে না প্লেস করে ফেলেন!আর ইয়ে, আমার আসল নামটাই কি ব্যবহার করছেন তাহলে? মানে দরকার আছে কি?”
Saturday, March 27, 2010
নাভির ডেপ্থ: একটি কবিতার বই
মান্তুদা ইন্টেলেকচুয়াল এনটিটি! তুফান ভাবনা চিন্তায় বেঁচে থাকে! কবিতা টবিতা লেখে, দেরিদা-ক্যাল্ভিনো এসপার-ওসপার করে দুপুর কাটায়। প্লীউরসিস থাকা সত্যেও সিগারেট ধরেছিল স্রেফ কফি হাউসে-ব্রেন'দের সাথে ওঠ-বস করতে হবে ভেবে।। বুর্জওয়া চাকরির মাথায় জুতো মেরে, দি নিউ অন্নপূর্ণা রেস্টুরেন্টে রুটি-মুরগি-কোক সেবন করতে করতে,সর্বহারা কোনো প্রফেশনাল অলি গলি খুঁজতে সর্বদা ব্যস্ত; এই হলো আমাদের মান্তুদা!
মান্তুদার এবার একটা কবিতার বই বেরোলো; "নাভির ডেপ্থ"! এর আগে মান্তুদার যে সব ফ্রেশ কবির বই চাউমিন খরচা বাঁচিয়ে কিনেছিল, সেই কবিরাই কিনলো 'নাভির ডেপ্থ'! তিরিশ টাকা ধার ছিল আমার মান্তুদার কাছে, শোধ করলাম বই কিনে!
বই বেরোবার মাস খানেক পর মান্তুদার সাথে কলেজ স্ট্রীট'এ দ্যাখা, তখন মাত্নুদা সিনেমাটিক ভঙ্গি তে সিগারেট জ্বালানোর চেষ্টা করছিল কলেজ স্কোয়ারের পাবলিক ঈউরিনালের সামনে! আমাকে দেখেই তৃপ্তির হাসি ডিসপ্লে করে বললে, "পচা, সাইত্রিশ কপি হট কেকের মত উড়ে গ্যাছে রে, আমার পাবলিশার বলেছে সেকেন্ড বেস্ট অল টাইম লিস্টে! তুই পড়লি?"
মাথা চুলকে সপাট মিথ্যে কথা চালিয়ে দিলাম, "অফ কোর্স, বিশেষ করে ওই দ্বিতীয় লেখাটা আমাকে এখনো ভাবাচ্ছে"
মান্তুদা সিগারেটের রিং বানাবার চেষ্টা করে আমার দিকে তাকিয়ে বলল, "দ্যাটস শার্প অব্সার্ভেসন, এই জন্যেই তোকে আমার ভালো লাগে পচা, 'সমস্ত ব্রেন জুড়ে' লেখাটা একমাত্তর ব্রেন-লেস উজবুকদেরকেই ভাবাবেনা! আফটার অল , তুই তো আর উজবুক নোস! ইন ফ্যাক্ট, দু একটা খবরের কাগজে সোর্স জুটিয়েছি বুঝলি, আমার বই কে রিভিউ করবে বলে আশ্বাস দিয়েছে! তারপর দেখব মেজদার আমাকে এঁড়ে পাঁকা বলে ডিসমিস করে দেওয়া বন্ধ হয় কি না"
বহুদিন আমার ব্লগে কোনো পোস্ট নেই, সুযোগ বুঝে কোপ মেরে দিলাম, " আচ্ছা তুমি একটা নিজের বই'এর ওপর একটা আলোচনা মূলক লেখা লেখ না আমার ব্লগ'এ, বেশ একটা জম্পেশ ব্যাপার হবে আমার ব্লগের জন্যে, তোমার বইয়ের কথাও দু এক জন পড়বে"
"সেল্ফ রিভিউ? হুমমম, ইন্টেরেস্টিং! বেশ, লিখে দেব", বেশ খানিকটা ভেবে বললে মান্তুদা!
"কবে দেবে লিখে?", জানতে চাইলাম।
"আজ রাত্রের মধ্যেই, দেখিস, পোস্ট করতে গন্ডগোল করিস না, প্রচ্ছদ'এর নৌকার স্কেচটা যেন আমার লেখা রিভিউটার সঙ্গে জুড়ে দিস"
বোঝো কান্ড, মান্তুদার প্রচ্ছদের স্কেচটা নৌকার? আমি ভেবছিলাম হাওড়া ব্রিজের ক্যারিকেচার! চেপে গেলাম!
সেই রাত্রেই মান্তুদার নিজের বইয়ের ওপর একটা লেখা আমায় মেল করে দেওয়ার কথা ছিল, অথচ তারপর প্রায় এক মাস কেটে গ্যালো, পাত্তাটি নেই! দু চারবার খোঁজ নিয়েছিলাম, বলে কিনা " ইন্টেলেক্ট কে ফোর্স করিস না, সময় হলে ঠিক লেখা দিয়ে দেব, এ কি আর তোর ব্লগের আগডুম বাগডুম এলিমেন্ট গুলোর মত ভাবছিস রে ব্যাটা?"
মাঝে বেশ কিছুদিন মান্তুদার দ্যাখা-সাক্ষাত না পেয়ে যখন বেশ হন্ন্যে হয়ে গেছি, তখন মান্তুদার দু কলম লেখা একটা ছোট্ট পোস্ট কার্ড পেলুম:
"ডিয়ার পচা,
বই পাবলিশ করতে গিয়ে এন্তার ধার দেনা হয়ে গেছিল,নিষ্ঠুর দেনাদারদেরকে ট্যাকেল করতে মেজদার পকেট মারতে গেছিলাম। আমার ছোটবোনের ট্রেচারী তে বামাল ধরা পড়লাম, বেদম ঠ্যাঙানি সহ মালদায় সেজপিসির বাড়িতে ছ মাস নির্বাসন! 'নাভির ডেপ্থ' শুনলেই নাড়ি কেঁপে যাচ্ছে রে ভাই,রিভিউ-টিভিউ পরে হবে খন, পারলে কটা টাকা আর কিছু মাওবাদী বই পত্তর আমায় পাঠা মালদার ঠিকানায়, যদি নার্ভ একটু ঠান্ডা হয়।
ইতি মান্তুদা"
Saturday, March 20, 2010
আই পী এল ৩- রিভিউ : ২

নাইট রাইডার্স ফের নির্ভয়ে হারের জগতে ফিরে এসেছে. ব্র্যাড হজ দিব্বি ইনিংস জুড়ে সেট হচ্ছেন, সৌরভ সেট হয়ে আউট হচ্ছেন, সাড়ে তিন কোটির বন্ড সাড়ে তিন খানা ইয়র্কার ফেলছেন না; সে এক ঝকঝকে পরিতৃপ্তি!
অতুল ওয়াসন ম্যাচ বিশ্লেষণ করছেন, মন্দিরা বেদির অভাব তাতে কিছুটা পূরণ হয়েছে বই কি।
সেট ম্যাক্সের বিশ্রী রুচিতে বিজ্ঞাপনের মাঝে ক্রিকেট গুঁজে দেওয়া! স্ট্র্যাটেজি ব্রেকের বুদ্ধিতেও কুলোচ্ছে না, এবার শুরু ওভার'এর মাঝখানে বিজ্ঞাপন! ফাটাফাটি! প্রত্যেক বল অন্তর বিজ্ঞাপন শুরু হবে বোধ হয় পরের বছর থেকে! এবং প্রত্যেক ওভার অন্তর স্ট্র্যাটেজিক টাইম আউট!

তবে এই তাবত সার্কাস মাঝেও সচিন রমেশ তেন্ডুলকার যে কি প্রবল ক্রিকেট-খিদে নিয়ে প্রতি ম্যাচে নেমে আসেন, ভাবতেও অবাক লাগে!২০ বছর..অথচ আজও বে-টাইমিং'এর একটা শট তাকে যন্ত্রনা দেয়। ভাবতে ভালো লাগে যে এই মোদী-মঙ্গুস-মন্দিরা-মাল্য'দের চিত্রহার ভেদ করে, এখনো একটা বেঁটে মারাঠির ব্যাটিং ক্রিকেট কে ক্রিকেটে বেঁধে রেখেছে!
Monday, March 15, 2010
খুঁতখুঁতে
আমার সঙ্গিনীটি ভারী খুঁতখুঁতে! রিয়ালিটি ব্যাপারটা সরেজমিনে পরখ করে নেওয়া তার অভ্যেস! কোলেস্টেরল-কন্ট্রোলে, প্রয়োজনে ড্রপার'এ মেঁপে তেল নিয়ে তিনি রাঁধেন, মোবাইল যাতে অতি-'চার্জিত' না হয়ে যায় সেই জন্যে স্টপ-ওয়াচ ধরে মোবাইল চার্জে লাগান, চোখ বাঁচাতে স্কেল সমেত টিভি থেকে দুরত্ব মেঁপে নেন; এহেন বাস্তববাদী 'খুঁত খুঁত'ইস্ট তিনি!
এই মাত্র, সোফা ত্যাগ করে তিনি তার খুঁতখুঁত আঁকড়ে রেখে একবার দেয়াল ঘড়ির দিকে চাইলেন, তারপর যত্ন করে দেখলেন নিজের হাত ঘড়িটুকু এবং তদুপুরি নিজের মোবাইলে সুইচ টিপে মোবায়ীলোস্থ ঘড়িটির দিকে স্থীর দৃষ্টিতে কিছুক্ষণ চেয়ে থাকলেন! তারপর সময়ের reliability কাঁচকলা দেখিয়ে সবেগে ছুড়ে দিলেন লাসিথ মালিঙ্গাইস্টিক প্রশ্ন: " এখন actually ঠিক কটা বেজেছে বলো তো?"
Subscribe to:
Posts (Atom)