Monday, September 7, 2015

চুমা

মামার চায়ের দোকানের বেঞ্চিতে বসে দু'টো ছেলে মনের সুখে গাইছিলে "সোমা চুমা দে দে, সোমা চুমা দে দে চুমা"। সুর ছিল।  পিঠে বইয়ের ব্যাগ। কলেজ। ম্যাক্সিমাম ফার্স্ট ইয়ার। আঙুলের ফাঁকে গোল্ডফ্লেক। ঠোঁটের ওপরে সুক্ষ গোঁফের রেখা।

সোমা তখন ক্লাস ট্যুয়েল্ভে। হলুদ চুড়িদার। গানের কথা থেকে জুমা হাপিশ হয়ে যাওয়ার কারণ অবশ্যই সে।  তিরিশ সেকেন্ডে সোমা হুড়মুড় করে হেঁটে চলে যেতেই গান থেমে গেল। ।

পাড়ার কেলো-পাগলা ঠিক তখনই উদয় হলেন চায়ের দোকানের বেঞ্চির সামনে। কেলো নাম আর পাঁচটা রাস্তার কুকুরের মত সেও পেয়েছে গায়ের রঙের গুনে। আর ছেঁড়া লুঙ্গি, মাথায় জটা, গায়ে গন্ধ আছে যখন পাগলা সাফিক্স জুটিয়ে নেওয়াটাও ন্যাচুরাল ছিল।  

কেউ কিছু বোঝার আগেই দু'টি ছেলের একটিকে জড়িয়ে ধরে ঝপাং করে চুমু খেলে কেলো -পাগলা। লিপ টু লিপ। ছেলেটা বোধ হয় খিস্তি মারতে গেছিল; তাই ঠোঁট ফাঁক হয়ে গিয়ে "স্মুচ"টা স্মুদ করে দিল। 

মামার চায়ের দোকানের পনেরো মিটার রেডিয়াস নিস্তব্ধ।

চুমু শেষে শুরু হল দুই রাজপুত্র মিলে শুরু করলে কেলো ক্যালানো পর্ব।

খানিকক্ষণ কিল-চড়-ঘুষি মেরে হাঁপিয়ে উঠে লুঙ্গি হারানো কেলোকে মাটিতে শুইয়ে তার বুকে চেপে বসলে দুই'জনে। 

- বল হারামজাদা, বল! শয়তান! অসভ্যতামি শুরু করেছিস? পাড়ার ছেলেদের চুমু খাওয়া? আলুর দোষ? শুয়োরের বাচ্চা! 

- যাঃ, আমি কী দোষ করলাম ? 

*ফের ঘুষি*

- কী দোষ করলাম? লজ্জা করেনা? ছেলেদের চুমু খাওয়ার শখ হয়েছে?

- বাঃ রে! তোমরাই তো ডাকলে চুমু খেতে। তাই তো খেলাম। তাও তো আরেকজনকে খাওয়া বাকি গো।

- আমরা ডেকেছি চুমু খেতে? রাস্কেল কোথাকার?

- ডেকেছ তো! ওই যে গাইছিলে সোমা চুমা দে দে। সোমা চুমা দে দে চুমা।

- তুমি কী সোমা শালা? হারামির গাছ!

- সোমাই তো।

- তুই সোমা? চামড়া খুলে নেব! ইয়ার্কি হচ্ছে?

- আমায় যারা কেলো বলে তারা হারামি। তাদের বাপ হারামি। আমি কেমিস্ট্রিতে অনার্স। ক্যালক্যাটা ইউনিভার্সিটি। সোমনাথ মালাকার, সো ডট মা ডট; সোমা! চুমু চেয়ে চেয়ে গান করা হচ্ছিল, আর দিলাম পরে ঢ্যামনামি? 

*কেলোর উপর পুনরায় কিল চড় লাথির বর্ষন*   

No comments:

ধপাস

সাঁইসাঁই। সাঁইসাঁই। সাঁইসাঁই। পড়ছি তো পড়ছিই। পড়ছি তো পড়ছিই। পড়ছি তো পড়ছিই। পড়ছি তো পড়ছিই। বহুক্ষণ পর আমার পড়া একটা প্রবল 'ধপ...