Sunday, April 10, 2022

প্রিয় রেস্টুরেন্ট




আমার অন্যতম প্রিয় 'রেস্তোরাঁ'; এই বহু ঘষটানো গাড়িখানা৷ 

দোকান থেকে খাবারদাবার নিয়ে এসে ধীরেসুস্থে সাজিয়ে বসা৷ ব্যাকগ্রাউন্ডে গাড়ির স্টিরিওতে নিজের প্রিয় প্লেলিস্টের গান (মোবাইলে ক্রিকেট চললে তো কথাই নেই)৷ আর হ্যাঁ, ভ্যাপসা গরম বা ধুলোর উপদ্রব না থাকলে আর একটা সুবিধে আছে; চাইলেই জানালার কাচ নামিয়ে 'ওপেন এয়ার অ্যাম্বিয়েন্স' ৷ এর ওপর ধরুন ঘ্যাম রেস্টুরেন্টের মতই নরম হলদেটে আলো৷ আর এমন আরামদায়ক সুপরিচিত চেয়ার অন্য কোথাও পাওয়া সহজ নয়, সীটে ঠ্যাং তুলে বসলেও কেউ হা-হা করে উঠবে না৷ সুড়ুৎ-সড়াৎ করে আঙুল চাটলেও কেউ বাঁকা চোখে তাকাবেনা, এটিকেটের খোঁটা দেবে না৷ মেজাজটাই আসল রাজা, মেজাজ খোলতাই হওয়াটাই তো ফাইন ডাইনিংয়ের মূলে৷ 

সবচেয়ে বড় কথা; এই রেস্টুরেন্টের একমাত্র ওয়েটার হিসেবে আমি নিজেকে দারুণ খাতিরযত্ন করে থাকি৷ সর্বক্ষণ মুখে হাসি, সর্বক্ষণ তৎপর। সময়মত নিজেকে টিস্যু পেপার এগিয়ে দেওয়া, চেবানো হাড় ফেলবার ঠোঙা এগিয়ে দেওয়া; সব ব্যাপারেই আমি অত্যন্ত চটপটে৷ আর হ্যাঁ, গাড়িতে মৌরিমিছরি গোছের মুখশুদ্ধিরও একটা স্টক মেন্টেন করা থাকে। 

একসময় যখন সেলসের কাজে বিহারের গ্রামেগঞ্জে ঘোরাঘুরি করতাম, তখন গাড়িতে ছাতুর ডিবে আর নুনের প্যাকেটও রেখেছি৷ আর থাকত স্টিলের গেলাস, চামচ আর অবশ্যই জল। আচমকা খিদেপেটে ধাবাটাবার খোঁজ না পেলে দিব্যি ছাতুর সরবতের গেলাস হাতে, সীট রিক্লাইন করে, সিঙ্গল মল্ট-লেভেল ঘ্যাম নিয়ে গা এলিয়ে বসেছি৷ গাড়ি তখন অলিপাব। স্টিরিওতে পঙ্কজ উদাস তালে তাল দিয়ে বলতেন; "গাড়ির ঘুপচি নয় হে এ'টা এখন৷ এ'টা পানশালা। তুমিই সাকী, তুমিই নেশায় আলুথালু পথিক। থোড়ি থোড়ি পিয়া করো। ইত্যাদি৷ ইত্যাদি"।

No comments:

পুরনো লেখা