Friday, July 9, 2021

মিটিংবাজ



কারণে অকারণে মিটিং ডাকাটা একটা রোগ৷ স্যাটাস্যাট কাজকর্ম ফিনিশ হচ্ছে৷ তরতর করে সবকিছু এগোচ্ছে৷ এমন সময় কারুর কারুর মিটিং-মিটিং মনকেমন শুরু হবে। অমনি চারদিকে দৌড়ঝাঁপ৷ সক্কলে সন্ত্রস্ত৷ মিটিং হবে! হাবিজাবি প্রিন্ট আউট বেরোচ্ছে, দুদ্দাড় করে কেউ এজেন্ডা দাঁড় করাচ্ছে, কেউ কফি বিস্কুটের অর্ডার দিচ্ছে, কেউ "উই মাস্ট বি অন টাইম" বলে খামোখা চেল্লামেল্লি করছে, কেউ "আমি তাহলে ভোট অফ থ্যাঙ্কসটা দেব'খন"? বলে নব্য-কফিহাউস কবি মাফিক মিউমিউ করছে;মিটিং হবে! এককথায় রথের মেলা বসে যাবে৷ অবশ্য নিউনর্ম্যাল জমানায় আবার কনফারেন্স রুম ঝেড়েপুছে সাফ করারও দরকার পড়েনা৷ সোজা জুম লিঙ্কের চাক্কুতে এফোঁড়ওফোঁড়৷ মোদ্দা কথা হল মিটিং শুনলেই পাবলিককে বুলেট-প্রুফ জ্যাকেট গায়ে চাপিয়ে ইয়ারবাড হাতে যুদ্ধ শুরু করতে হবে৷ 

"ওগো শুনছো" দিব্যি পাশ কাটানো যায়৷ কিন্তু মিটিংয়ে আপত্তি মহাপাপ৷ কাজকর্ম দু'চার আনা কম-বেশি হলে ক্ষতি নেই, কিন্তু মিটিং ডেকে মার্তণ্ড-মার্তণ্ড-মার্তণ্ড স্টাইলে এক্সেলেন্স-এক্সেলেন্স-এক্সেলেন্স না করলে দুনিয়াটাই জলে। 

আর আউটপুট? যে কথা দিব্যি ফোন করে আড়াই মিনিটে সেরে নেওয়া যায়, তার জন্য বসবে আড়াই ঘণ্টার মোচ্ছব৷ ব্রেন-স্টর্মিং- অর্থাৎ একে অপরকে রকমারী কর্পোরেট ক্লীশের মুগুর দিয়ে পিটিয়ে শায়েস্তা করা৷  আড়াই ঘণ্টা ধ্বস্তাধস্তিতে সেই আড়াই মিনিটের সহজ-সরল ব্যাপারটা এমন গুবলেট হবে যে আগামী আড়াই হপ্তাতেও সে জট ছাড়বে না; মিটিংয়ের সার্থকতা সেখানেই৷

No comments:

পুরনো লেখা