Thursday, July 1, 2021

দ্য রেস অফ মাই লাইফ



গতকাল পড়লাম এই বইটা৷ এর বছরখানেক আগে লোপেজ লোমংয়ের একটা দুর্ধর্ষ আত্মজীবনী পড়েছিলাম, সে'টাও এক অদম্য অ্যাথলিটের গল্প। কিন্তু সে জীবনীতে রীতিমতো উপন্যাসের মশলা ছিল৷ গৃহযুদ্ধ,  রাজনীতি,  খিদের জ্বালা; সব মিলে টানটান৷ প্রবল মনকেমনের লেখা৷ মিলখার আত্মজীবনী ঠিক সেই ধরণের লেখা নয়৷ তবে সে'টা অভিযোগ নয়৷ সাহিত্যের উপাদান তাঁর জীবনেও কম ছিল না। দেশভাগের দাঙ্গায় পরিবার খোয়ানো কিশোর, প্রবল আর্থিক অনটন, ভেসে যাওয়ার অজস্র সম্ভাবনাকে প্রতি নিয়ত ডজ করে এগিয়ে চলা, ভালোবাসা-মায়া-মমতা-বিশ্বাসঘাতকতা, দুর্দান্ত উত্থান আর সাহেবি কেতায় যাকে বলে "মেজর হার্টব্রেক"; সবই ছিল। সবচেয়ে বড় কথা, ইতিহাসের একটা গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় সযত্নে ছুঁয়ে ফেলাই যেত এই বইয়ে৷ যে'টা লোপেজ করেছেন৷ অথবা আগাসির মত সিনেম্যাটিক ভঙ্গিমায় ফ্রেম করা যেত বায়োগ্রাফিটা। মিলখা সে পথে হাঁটেননি৷ কিন্তু সহজ সরল স্টাইলে যে ন্যারেটিভটা তৈরি হয়েছে সে'টা দিব্যি ঝরঝরে৷ মিলখা নিজের কথা বলেছেন, ইতিহাস-টিতিহাস নিয়ে বিশেষ হোঁচট খাননি৷ একটা সুবৃহৎ সাক্ষাৎকার হিসেবে এ বই চমৎকার৷ 

গতকাল থেকে মিলখা সিংয়ের একটা 'কোটেশন' সোশ্যাল মিডিয়ায় খুব চালাচালি হচ্ছে - "The track, to me, was like an open book, in which I could read the meaning and purpose of life. I revered it like I would the sanctum sanctorum in a temple, where the deity resided and before whom I would humbly prostrate myself as a devotee"।  কথাটা এই বইতেই বলেছেন মিলখা৷ আর এ কথাটা যে স্রেফ এস্যে লিখতে বসে ভারি ইংরেজি ফলানো নয়, মিলখার আন্তরিক স্টাইলেই সে'টা স্পষ্ট হয়ে ওঠে৷ মিলখা শুধু ঘাম নয়, রক্তও ঝরিয়েছেন ট্র‍্যাকে - আর মিলখার সে গল্প পড়তে পড়তে পাঠক অনায়াসে নিজের মনের মধ্যে একটা মোতি নন্দী 'Re-telling' কল্পনা করে নিতে পারবেন৷ 

কর্পোরেটে প্রায়ই একটা খেজুরে প্রসঙ্গ নিয়ে " ডোন্ট বি আ আ মিনিমাম গাই" গোছের সাহেবরা জ্ঞান ঝাড়েন - এক্সেলেন্স৷ মিলখার মজ্জায় এককণাও দেখনাই-কর্পোরেট পালিশ নেই৷ কাজেই তার জীবনীতে পাওয়ারপয়েন্ট জ্ঞান নেই, রয়েছে আদত এস্কেলেন্সের প্রসঙ্গ৷ ফুংসুক ওয়াংড়ু যে কথাটা সিনেম্যাটিক ব্রিলিয়ান্স আর "হাইক্লাস এন্টারটেনমেন্টে"র মাধ্যমে বুঝিয়েছেন, মিলখার বইয়ে সে'টাই রয়েছে একটু সাদামাটা ভাষায়, কখনও প্রায় সভাসমিতির মাইক্রোফনের সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলার ভাষায়।

দেশভাগ আর বাপ-মা হারানোর যন্ত্রণা, আর্মি ব্যারাকের নিরস ডিসিপ্লিনের ওজন বইতে বইতে নিজের প্যাশন খুঁজে পাওয়া, আকাশ ছোঁয়া সাফল্য, আর রোম অলিম্পিকের যন্ত্রণা। সবই রয়েছে৷ ব্যাক্তিগত ধ্যানধারণা আর সম্পর্কগুলোও বাদ যায়নি৷ তবে এ বইতে আর একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ রয়েছে; ভারতের স্পোর্টস 'সিস্টেম' নিয়ে মিলখার খোলামেলা মতামত এবং খানিকটা হতাশা। 

চট করে পড়ে ফেলাই যায়৷

No comments:

পুরনো লেখা