Sunday, January 24, 2021

বড়দিন আর রাত্রিবেলার হাওয়াখাওয়া



- এই যে৷ ট্যাক্সিভায়া। বেহালা যাবে?
- না৷
- শেয়ালদা?
- কাকা, আপনি বেহালা যাবেন না শেয়ালদা?
- বেহালা নিয়ে গেলেও যাব৷ শেয়ালদা নিয়ে গেলেও যাব৷ নেহাত ঝুলোঝুলি করলে গড়িয়া যেতেও আপত্তি নেই।
- ইয়ার্কি করছেন না তো?
- ক্রিসমাসের দিন ভায়া৷ এই সময় পার্কস্ট্রিটের পুণ্যভূমিতে দাঁড়িয়ে ফাজলামো করব? না না ভায়া৷ নেভার। তা'হলে কী ঠিক হল? কোথায় যাব?
- টালিগঞ্জের প্যাসেঞ্জার পেলে ভালো হত কাকা৷ ও'দিকেই বাড়ি কিনা।।
- আহা বেশ তো৷ টালিগঞ্জই সই৷ চলো।
- উঠে আসুন।
- থ্যাঙ্ক ইউ ভায়া৷ মিটার চালু করো দেখি৷
- কেসটা কী বলুন তো কাকা? এত রাত্তিরে হাওয়া খেতে বেরিয়েছেন নাকি? তা বয়সে ঠাণ্ডাফান্ডা লেগে গেলে মুশকিল তো।
- এই সময়টা আমি একটু ঘোরাঘুরি করি বটে৷ তবে ঠাণ্ডা লাগার ভয় আমি পাইনা ভাই৷ এর চেয়ে অনেক কড়া শীত আমি দিব্যি ম্যানেজ দিয়ে থাকি৷ আর আমার এই ঘোরাঘুরি আমি শুরু করি পার্ক স্ট্রিট দিয়ে৷
- হ্যাঁ, এ সময়টা পার্ক স্ট্রীটের ইয়েই আলাদা।
- হ্যাঁ৷ সত্যিই হাইক্লাস ইয়ে।
- তা টালিগঞ্জের হয়ে কোথায় যাবেন কাকা?
- টালিগঞ্জের পর ভাবছি চট করে একটু গিয়োথোনবিনে ঢুঁ মেরে আসব।
- গিয়ো..কী?
- গিয়োথোনবিন।
- বারাসাতের দিকে কোনও হাউসিং কম্পলেক্স কি?
- না হে৷ গিয়োথোনবিন একটা হদ্দ গ্রাম। বার্মায়৷
- নেশাটেশা করা হয় নাকি? কাকা?
- নেশার টানেই তো ফি-বছর পার্কস্ট্রীট থেকেই যাত্রা শুরু করি হে। প্রথমেই কুসুমের রোলের দোকানের সামনে গিয়ে খানিকক্ষণ দাঁড়িয়ে রোলের সুবাসে মনপ্রাণ ভরে ফেলি৷ তারপর শুরু অভিযান।
- অভিযান?
- এই ডিবেটায় কী আছে বলো দেখি ভায়া?
- কেকের ডিবে তো৷
- ফ্লুরিজের প্লাম৷ তুমি তো কেক খুব ভালোবাসো, তাই না ট্যাক্সিভায়া? ফ্লুরিজের আলো সুবাস মায়া তোমায় বড্ড টানে, তাই না?
- কাকা! আপনি কি তান্ত্রিকটান্ত্রিক নাকি?
- হলেই বা! এ কেকের স্বাদ তো আর কমছে না৷ চলো, কেকটা ভাগ করে সাবাড় করে ফেলা যাক৷ রাতের ফাঁকা রাস্তায় টালিগঞ্জ পৌঁছতে সময় বেশি লাগবে না৷ কাজেই, ক্যুইক৷ আমার আবার গিয়োথোনবিন ছুটতে হবে।
- আপনি কে বলুন দেখি কাকা?
- কেক মুখে না দিয়ে খামোখা প্রশ্নে সময় নষ্ট করার কোনও মানে হয়? হো হো হো।

***
সনাতন দত্ত যখন বাড়ি ফিরলেন তখন রাত পৌনে একটা৷ বহুচেষ্টা করেও কেক-তৃপ্ত ট্যাক্সিভায়াকে ভাড়ার টাকাটা গছানো যায়নি৷
প্রতি বড়দিনে এক ধরনের ছেলেমানুষি তাঁকে পেয়ে বসে - পার্ক্সস্ট্রিটে কাউকে হুট করে পাকড়াও করে কেক না খাওয়ালে তার মন ভরে না৷ তাছাড়া কেক-পিপাসু চোখ আর টালিগঞ্জের দিকে যেতে চাওয়া ট্যাক্সি ড্রাইভারদের একনজরে চিনতে পারার একটা দুরন্ত ক্ষমতা রয়েছে তাঁর৷ ধেড়েখোকাদেরও গোপন-স্যান্টার প্রয়োজন পড়ে, এ সত্যটি বিলক্ষণ জানেন সনাতনবাবু৷

No comments:

এমন একটা সোমবার

সহকর্মী মিহি সুরে ডেকে বলবেন, "ভাই, তোমার জন্য আজ পান্তুয়া এনেছি, বাড়িতে বানানো৷ তোমার বৌদির স্পেশ্যালিটি৷ লাঞ্চের পর আমার টেবিলে একবা...