Sunday, January 24, 2021

গ্রেভি চাউ



সে বহুদিন আগের ব্যাপার৷ মহেঞ্জোদারোও তখন এতটা বুড়িয়ে যায়নি বোধ হয়৷ বড়বাজারের একটা সস্তায় পুষ্টিকর রেস্টুরেন্টে আমি প্রথম গ্রেভি চাউমিন খেয়েছিলাম৷ সে এক্কেবারে টোটাল আরিব্বাস-আইস্লা ব্যাপার৷ হাক্কা চাউ যদি ড্যানি মরিসনের চেল্লামেল্লিতে ভরপুর সুপারওভার হয়, তা'হলে ওই গ্রেভি চাউমিন হল গিয়ে টনি গ্রেগের কমেন্ট্রি, বনসলের আঙুল আর ম্যাকগ্রাথ আউটে টেস্ট শেষ হওয়া ইডেন৷
উত্তর কলকাতার মেসবাড়িতে থাকার সময় কলেজ স্ট্রিট, হ্যারিসন রোড আর সূর্য সেন স্ট্রিটের বিভিন্ন খুচরো রেস্টুরেন্টে বসে বার বার অর্ডার করেছি গ্রেভি চাউমিন৷ আমার গ্রেভি চাউমিন-প্রেম এখনও ওই 'রাস্তার কোনও সস্তা হোটেলে' আটকে৷ বড় রেস্তোরাঁর গ্রেভি চাউমিনে 'অথেন্টিসিটি' থাকতে পারে, কিন্তু মনের মত 'কেমিস্ট্রি' খুঁজে পাই না৷
যা হোক৷ কয়েকদিন এক বন্ধুর জন্মদিন গেল, সে বিদেশবিভুঁইয়ে বসে 'ক্যালক্যাটা গ্রেভি চাউমিন' খেয়ে সেলিব্রেট করে ছবি পাঠালে৷ ব্যাস৷ অমনি প্রাণ অস্থির হয়ে উঠল সেই ক্লাসিক গ্রেভি চাউমিনের জন্য৷ কলকাতা থেকে হাজার মাইল দূরে বসে জোম্যাটো ঘেঁটে গ্রেভিচাউ-গোছের কিছ আনিয়ে নেওয়াই যায় কিন্তু ওই, তা'তে সেই ক্যালকেশিয়ান কেমিস্ট্রি পাওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে৷
অতএব? অতএব নিজের হ্যাপা-ডি-নোলা নিজেকেই সামলাতে হল। অ্যালকেমিস্টের মেজাজে নিজের হাতেই বানিয়ে নিতে হল গ্রেভি চাউমিন। আর সেই হাত দিয়েই বারবার নিজের পিঠ মোলায়েম ভাবে চাপড়ে চলেছি৷ আমার গবেট-লেভেল হেঁসেল বিদ্যায় যে এমন গাইডবই-পড়ে-বুঝে -নেওয়া-গোলমেলে-কবিতার মত ক্লাসিক আউটপুট দাঁড় করানো সম্ভব; সে'টা আগে ঠাহর করতে পারিনি।
বিগিনার্স লাক? ফ্লুক? ঝড়ে বক? আনতাবড়ি? হতে পারে৷ কিন্তু এই অসময়ে নিজেকে নিয়ে আন্তরিক গর্ব করার সুযোগ কতটুকুই বা।

No comments:

এমন একটা সোমবার

সহকর্মী মিহি সুরে ডেকে বলবেন, "ভাই, তোমার জন্য আজ পান্তুয়া এনেছি, বাড়িতে বানানো৷ তোমার বৌদির স্পেশ্যালিটি৷ লাঞ্চের পর আমার টেবিলে একবা...