Skip to main content

গ্রেভি চাউ



সে বহুদিন আগের ব্যাপার৷ মহেঞ্জোদারোও তখন এতটা বুড়িয়ে যায়নি বোধ হয়৷ বড়বাজারের একটা সস্তায় পুষ্টিকর রেস্টুরেন্টে আমি প্রথম গ্রেভি চাউমিন খেয়েছিলাম৷ সে এক্কেবারে টোটাল আরিব্বাস-আইস্লা ব্যাপার৷ হাক্কা চাউ যদি ড্যানি মরিসনের চেল্লামেল্লিতে ভরপুর সুপারওভার হয়, তা'হলে ওই গ্রেভি চাউমিন হল গিয়ে টনি গ্রেগের কমেন্ট্রি, বনসলের আঙুল আর ম্যাকগ্রাথ আউটে টেস্ট শেষ হওয়া ইডেন৷
উত্তর কলকাতার মেসবাড়িতে থাকার সময় কলেজ স্ট্রিট, হ্যারিসন রোড আর সূর্য সেন স্ট্রিটের বিভিন্ন খুচরো রেস্টুরেন্টে বসে বার বার অর্ডার করেছি গ্রেভি চাউমিন৷ আমার গ্রেভি চাউমিন-প্রেম এখনও ওই 'রাস্তার কোনও সস্তা হোটেলে' আটকে৷ বড় রেস্তোরাঁর গ্রেভি চাউমিনে 'অথেন্টিসিটি' থাকতে পারে, কিন্তু মনের মত 'কেমিস্ট্রি' খুঁজে পাই না৷
যা হোক৷ কয়েকদিন এক বন্ধুর জন্মদিন গেল, সে বিদেশবিভুঁইয়ে বসে 'ক্যালক্যাটা গ্রেভি চাউমিন' খেয়ে সেলিব্রেট করে ছবি পাঠালে৷ ব্যাস৷ অমনি প্রাণ অস্থির হয়ে উঠল সেই ক্লাসিক গ্রেভি চাউমিনের জন্য৷ কলকাতা থেকে হাজার মাইল দূরে বসে জোম্যাটো ঘেঁটে গ্রেভিচাউ-গোছের কিছ আনিয়ে নেওয়াই যায় কিন্তু ওই, তা'তে সেই ক্যালকেশিয়ান কেমিস্ট্রি পাওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে৷
অতএব? অতএব নিজের হ্যাপা-ডি-নোলা নিজেকেই সামলাতে হল। অ্যালকেমিস্টের মেজাজে নিজের হাতেই বানিয়ে নিতে হল গ্রেভি চাউমিন। আর সেই হাত দিয়েই বারবার নিজের পিঠ মোলায়েম ভাবে চাপড়ে চলেছি৷ আমার গবেট-লেভেল হেঁসেল বিদ্যায় যে এমন গাইডবই-পড়ে-বুঝে -নেওয়া-গোলমেলে-কবিতার মত ক্লাসিক আউটপুট দাঁড় করানো সম্ভব; সে'টা আগে ঠাহর করতে পারিনি।
বিগিনার্স লাক? ফ্লুক? ঝড়ে বক? আনতাবড়ি? হতে পারে৷ কিন্তু এই অসময়ে নিজেকে নিয়ে আন্তরিক গর্ব করার সুযোগ কতটুকুই বা।

Comments

Popular posts from this blog

গোয়েন্দা গল্প

- কিছু মনে করবেন না মিস্টার দত্ত...আপনার কথাবার্তাগুলো আর কিছুতেই সিরিয়াসলি নেওয়া যাচ্ছে না।  - কেন? কেন বলুন তো ইন্সপেক্টর? - ভোররাতে এই থানা থেকে একশো ফুট দূরত্বে ফুটপাথে আপনাকে উপুড় হয়ে শুয়ে থাকতে দেখা যায়।  - আপনার কনস্টেবল নিজের চোখে দেখেছে তো।  - না না, সে'টাকে আমি কোশ্চেন করছি না। আমি শুধু সামারাইজ করছি। আপনার গায়ে দামী চিকনের পাঞ্জাবী, ঘড়িটার ডায়ালও সোনার হলে অবাক হব না। এ'রকম কাউকে বড় একটা ফুটপাথে পড়ে থাকতে দেখা যায় না। যা হোক। হরিমোহন কনস্টেবলের কাঁধে ভর দিয়ে আপনি থানায় এলেন। জলটল খেয়ে সামান্য সুস্থ বোধ করলেন। অল ইজ ওয়েল। নিঃশ্বাসে অ্যালকোহলের সামান্যতম ট্রেসও নেই। শরীরে নেই কোনও চোট আঘাত।  - আমার কথা আমায় বলে কী লাভ হচ্ছে? আমি যে জরুরী ব্যাপারটা জানাতে মাঝরাতে ছুটে এসেছিলাম...সেই ব্যাপারটা দেখুন...। ব্যাপারটা আর্জেন্ট ইন্সপেক্টর মিশ্র।  - আর্জেন্সিতে পরে আসছি। রাত সাড়ে তিনটে নাগাদ আপনি থানায় ছুটে এসেছিলেন। ওয়েল অ্যান্ড গুড। কিন্তু...ফুটপাথে পড়ে রইলেন কেন...।  - এ'টাই, এ'টাই আমি ঠিক নিশ্চিত নই। মাথাটাথা ঘুরে গেছিল হয়ত। আফটার অল বা

পকেটমার রবীন্দ্রনাথ

১ । চাপা উত্তেজনায় রবীন্দ্রনাথের ভিতরটা এক্কেবারে ছটফট করছিল । তার হাতে ঝোলানো কালো পলিথিনের প্যাকেটে যে ' টা আছে , সে ' টা ভেবেই নোলা ছুকছাক আর বুক ধড়ফড় । এমনিতে আলুথালু গতিতে সে হেঁটে অভ্যস্ত । তাড়াহুড়ো তার ধাতে সয় না মোটে । কিন্তু আজ ব্যাপারটা আলাদা । সে মাংস নিয়ে ফিরছে । হোক না মোটে আড়াই ' শ গ্রাম , তবু , কচি পাঁঠা বলে কথা । সহৃদয় আলম মিয়াঁ উপরি এক টুকরো মেটেও দিয়ে দিয়েছে । তোফা ! নিজের লম্বা দাড়ি দুলিয়ে ডবল গতিতে পা চালিয়ে সে এগোচ্ছিল ।   গলির মোড়ের দিকে এসে পৌঁছতে রবীন্দ্রনাথের কেমন যেন একটু সন্দেহ হল । ঠিক যেন কেউ পিছু নিয়েছে । দু ' একবার ঘাড় ঘুরিয়েও অবশ্য কাউকে দেখা গেলনা । ভাবনা ঝেড়ে ফেলে মাংসের পাকেটটায় মন ফিরিয়ে আনলেন রবীন্দ্রনাথ । বৌ নিশ্চয়ই খুব খুশি হবে আজ । খোকাটাকে যে কদ্দিন মাংসের ঝোল খাওয়ানো হয়নি ।   খাসির রান্নার গন্ধ ভেবে বড় গান পাচ্ছিল রবীন্দ্রনাথের । সে বাধ্য হয়েই একটা কুমার শানুর গাওয়া আশিকি সিনেমার গান ধরলে ।

চ্যাটার্জীবাবুর শেষ ইচ্ছে

- মিস্টার চ্যাটার্জী...। - কে? - আমার নাম বিনোদ। - আমি তো আপনাকে ঠিক...। - আমায় বস পাঠিয়েছেন। - ওহ, মিস্টার চৌধুরী আপনাকে...। - বসের নামটাম নেওয়ার তো কোনও দরকার নেই। কাজ নিয়ে এসেছি। কাজ করে চলে যাব। - আসুন, ভিতরে আসুন। - আমি ভিতরে গিয়ে কী করব বলুন। সৌজন্যের তো আর তেমন প্রয়োজন নেই। আপনি চলুন আমার সঙ্গে। চটপট কাজ মিটে গেলে পৌনে এগারোটার লোকালটা পেয়ে যাব। আমায় আবার সেই সোনারপুর ফিরতে হবে। - যা করার তা কি এ'খানেই সেরে ফেলা যায়না? - এমন কনজেস্টেড এলাকায় ও'সব কাজ করা চলেনা। চুপচাপ ব্যাপারটা সেরে ফেলতে হবে। - প্লীজ দু'মিনিটের জন্য ভিতরে আসুন বিনোদবাবু। জামাটা অন্তত পালটে নিই। - কী দরকার বলুন জামা পালটে। - দরকার তেমন নেই। তবু। ওই, লাস্ট উইশ ধরে নিন। - ক্যুইক প্লীজ। ট্রেন ধরার তাড়াটা ভুলে যাবেন না। আর ইয়ে, পিছন দিক দিয়ে পালাতে চেষ্টা করে লাভ নেই। বসের লোকজন চারপাশে ছড়িয়ে আছে। - ও মা, ছি ছি। তা নয়। আসলে মিতুলের দেওয়া একটা জামা এখনও ভাঙা হয়নি। বাটিক প্রিন্টের হাফশার্ট। একটু ব্রাইট কালার কিন্তু বেশ একটা ইয়ে আছে। ও চলে যাওয়ার পর ও জামার ভাজ ভাঙতে ইচ্ছে হয়নি। কিন্তু...আজ না হয়...। - মিতু