Wednesday, May 3, 2017

নজরুল ও এয়ারকন্ডিশনিং

- ভাগ্যিস এয়ার কন্ডিশনিং মেশিনটা খারাপ ছিল! দেড় মাস মিটার কম উঠলো। কড়কড়ে কতগুলো টাকা বেঁচে গেল বলো তো!

- অসহ্য!

- গরমটা! তাই না?

- তুমি! তুমি অসহ্য!

- সঞ্জীব বলে গেছেন কষ্ট না করলে উঁচু মানুষ হওয়া যায় না।

- বেশ। তাহলে উঠোনে গিয়ে আধঘণ্টা ওঠবস করো। বেশ কষ্ট হবে। হাইট দু ইঞ্চি বেড়েও যেতে পারে।

- গরমকালে তোমার মেজাজটা চিরকালই একটু ইয়ে..।

- ইয়ে?

- চিড়বিড়ের দিকে থাকে। বৃষ্টি ছাড়া তোমার চলবে না। ঝমঝমে পাওয়ারপ্লে নয়। ঝিরেঝিরে পোস্ট লাঞ্চ সেশন।

- এত কথা বলো কেন?

- অবিশ্যি ওয়েদার আমার হাতে নেই।  তবে নজরুল আছে। শুনবে?

- বাবা গো!

- অরুণ রাঙা গোলাপ কলি,  কে নিবি সহেলী আয়..। সুরের চলকে ওঠাটা নোটিস করেছ? বাতাসে আতরের সুবাস ছড়িয়ে পড়ে যেন।

- কাল অফিস ফেরতা আমি বাপের বাড়ি যাবো।।

- ওই বুর্জোয়াতন্ত্রের আখড়ায়? যে'খানে পাশাপাশি দু'খানা এয়ার কন্ডিশনারের শনশন?

- দুরছাই! এসি চুলোয় যাক। কিন্তু সব সমস্যায় নজরুল ছুঁড়ে মারলে কাহাতক সহ্য হয়? বাথরুমের কলে জল আসছে না, বাবু গাইছেন নয়নভরা জল। মাসকাবারির লিস্ট বানাচ্ছি আর তুমি গ্লুকনডি গোলা গেলাস হাতে গাইছ "শুনি সাকি তোমার কাছে ব্যথা ভোলার দারু আছে"। আর নয়।

- আমায় ছেড়ে ইকনমিক টাইমসে মলাট দেওয়া পঞ্জিকা রাখা বাড়িতে যাবে?

- ভগবান, আমার যে মরণ কেন হয় না।

- জন্মিলে মরিতে হবে, অমর কোন ব্যাটা কবে। মরণ ইস  অমোঘ অ্যান্ড অবিচল। ভগবানের কাছে কিছু চাইতেই হলে নজরুলে ভেসে যাওয়ার সুযোগ চাও!

- উফ মা গো!

- ভেসে যাওয়ার সুযোগ চাও।

- গাইব। কিন্তু খবরদার যদি তুমি টেবিল ঠুকে তাল দিয়েছ। ওই বেতাল ঘামের প্যাচপ্যাচের চেয়েও খারাপ।

- তোমায় ঠিক পারসুয়েড করেই ফেলি। দেখো, এমনভাবেই একদিন ঠিক এসির মেকানিক ডেকে ফেলব, ঝপাৎ করে! আজ বরং আমার গহীন জলের নদীটা ধরো। সে সুরে গায়ে দিব্যি বাতাস লাগে।

No comments: